24/03/2026
যদিও দিন শেষে ঈদ আনন্দের... ঈদ খুশীর..., তবুও বারবার.. বারংবার.. ঈদের আগে ও পরে এমন কি পবিত্র ঈদের দিনেও যাদের জীবন থেকে ঈদের খুশী চিরতরে হারিয়ে যায়, কিংবা জীবনটাই চলে যায়... তাদের কথা কেনো জানি মনের ভেতরে গহীন ক্ষত সৃষ্টি করে! পরিবারের সাথে ঈদ-আনন্দের সাম্রাজ্যে থেকেও মাথার ভেতর থেকে সরানোই যাচ্ছেনা অবিসৃতির স্মৃতিগুলো..!
সেই বিয়ে করে বউ নিয়ে ফিরতি পথের ১৪ জন বরযাত্রীর চিরতরে অন্তর্যাত্রা.. কিংবা..
মুহুর্তে জীবন ওলটপালট হয়ে যাওয়া উল্টে যাওয়া ট্রেনের যাত্রীগুলো.. অথবা..
সেই লঞ্চের পাটাতনে পিষ্ট হওয়া মানুষগুলো... বা..
ঈদের দিনে সলীল সমাধির শিকার হওয়া ৫ শিশু...
আর...
তাদের সবার পরিবারের হাহাকার.. আর্ত চিৎকার...!!
ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ঘটনাগুলো বারবার মস্তিষ্কে ঠকঠক করে বলছে... আমিও তো হতে পারতাম তাদের দলে.. কিংবা আমার পরিবার...! হতে পারতাম, কিন্তু হইনি.. আমরা মহাভাগ্যবান..! সৃষ্টিকর্তা তাদেরকে নিয়ে আমাদের জীবনদান করে বোনাস দিলেন..! তবুও কেনো সেই চলে যাওয়া মানুষগুলোকে এমন হতভাগ্যের শিকার হতে হয় জানিনা..! মৃত্যু কি আরেকটু স্বাভাবিক হতে পারেনা..?! মহান আল্লাহই ভাল জানেন..!
হয়তো তিনি আমাদের শিক্ষা দেন... সময়ের সমষ্টিই যেখানে জীবন, সেখানে ক্ষণিক সময়কে প্রায়োরিটি দিতে গিয়ে জীবনটা হারাতে নেই..!
আমাদের মতো স্ট্রাগল করে জীবন চালানো মানুষজনের কাছে ঈদের উপলক্ষটা অনেক বড় সুখের খোরাক, তাই শত বেদনার মাঝেও ঈদকে কেন্দ্র করে আনন্দরাশি ভরে নিই নিজেদের ঝুলিতে..! ঝুলিতে ভরা এই আনন্দটুকুই হয়তো রসদ যোগাবে আবারো কিছুদিন জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাবার..! আমরা যুদ্ধ করি তো জীবনটাকেই বাঁচিয়ে রাখতে!
এই যে সুখ-দুঃখের, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির, স্বপ্ন-সফলতার দোলাচলে ভরা আমাদের এতো আয়োজনের এতো সাধের জীবন....সে কি কয়েকদন্ড সময়ের কাছে ঠুনকো..??
না,.... এই যে বেঁচে থাকা.. এই যে এখনও বেঁচে আছি... এটাই তো জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি..!
বেঁচে থাকা... বড় আশ্চর্য সুন্দর...!!
©️ মোঃ আফসারুল ইসলাম (পলাশ)
২৪ মার্চ ২০২৬