ওয়াসিম ভাই

ওয়াসিম ভাই ধৈর্য্য সাফল্যের চাবিকাঠি।

29/05/2026

ঈদ মোবারক

কোরবানি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত।এটি আদায় করা ওয়াজিব।সামর্থ থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি এই ইবাদত পালন করেনা তার ব্যাপারে হ...
19/05/2026

কোরবানি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত।এটি আদায় করা ওয়াজিব।সামর্থ থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি এই ইবাদত পালন করেনা তার ব্যাপারে হাদীস শরীফে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন,যার কোরবানির সামর্থ্য রয়েছে,কিন্তু কোরবানি করে না,সে যেন আমাদের ঈদগাহে না আসে।
"[মুস্তাদরাক হাকেম হাদিস নম্বর- ৩৫১৯,,আত তারগীব ওয়াত তারহীব ২য় খন্ড,১৫৫]"

★কার উপর কোরবানি ওয়াজিবঃ-

প্রাপ্তবয়স্ক,সুস্থমস্তিষ্ক সম্পূর্ণ প্রত্যেক মুসলিম নর-নারী,যে ১০ জিলহজ্ব ফজর থেকে ১২ জিলহজ্ব সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হবে তার উপর কুরবানী করা ওয়াজিব।টাকা-পয়সা,স্বর্ন -রুপা, অলংকার,বসবাস ও খাবারের প্রয়োজন আসে না এমন জমি, প্রয়োজন অতিরিক্ত বাড়ি, ব্যবসায়িক পণ্য ও প্রয়োজনীয় সকল আসবাবপত্র কোরবানির নেসাবের ক্ষেত্রে হিসাবযোগ্য।
আর নিসাব হল স্বর্ণের ক্ষেত্রে সাড়ে সাত(৭.৫) ভরি,রুপার ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন (৫২.৫) ভরি,টাকা পয়সা ও অন্যান্য বস্তুর ক্ষেত্রে এর মূল্য সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার মূল্যের সমপরিমাণ হওয়া।আর সোনা-রূপা কিংবা টাকাপয়সা এগুলোর কোনো একটি যদি পৃথকভাবে নেসাব পরিমাণ না থাকে কিন্তু প্রয়োজন অতিরিক্ত একাধিক বস্তু মিলে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার মূল্যের সমপরিমাণ হয়ে যায় তাহলেও তার উপর কুরবানী করা ওয়াজিব।
"[আল মুহিতুল বুহানী--৮/৪৫৫,,ফাতাওয়ায়ে তাতারখানিয়া--১৭/৪০৫]"

★নেসাবের মেয়াদঃ-

কোরবানির পূর্ন বছর থাকা জরুরি নয়,বরংকোরবানির তিন দিনের মধ্যে যেকোনো দিন থাকলেই কোরবানি ওয়াজিব হবে।
"[বাদায়েউস সানায়ে ৪র্থ খন্ড/১৯৬,,রুদ্দুল মুহতার ৬ষ্ঠ খন্ড/৩১২]"

★কোরবানির সময়ঃ-

মোট তিন দিন কোরবানি করা যায়।জিলহজ্বের ১০,১১ ও ১২ তারিখ সূর্যাস্ত পর্যন্ত।তবে উত্তম হল ১০ তারিখে কুরবানী করা উত্তম।
"[মুয়াত্তা ইমাম মালেক ১৮৮, ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া ৫ খন্ড ৯৫]"

★নাবালকের কোরবানিঃ-

নাবালেগ শিশু-কিশোর তদ্রুপ যে সুস্থ মস্তিষ্ক সম্পন্ন নয়,নিসাবের মালিক হলেও তাদের উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়।অবশ্য তার অভিভাবক নিজ সম্পদ দ্বারা তাদের পক্ষে কোরবানি করলে তা জায়েজ হবে।
"[সূত্র:- বাদায়েউস সানায়ে ৪র্থ খন্ড/ ১৯৬]"

★মুসাফিরের জন্য কোরবানিঃ-

যে ব্যক্তি কোরবানির দিনগুলোতে মুসাফির থাকবে (অর্থাৎ ৪৮ মাইল বা প্রায় ৭৮ কিলোমিটার দূরে যাওয়ার নিয়তে এলাকা ত্যাগ করেছে) তার উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়।
"[ফতুয়ায়ে কাযীখাঁন ৩ খন্ড ৩৪৪ পৃষ্ঠা]"

★নাবালকের পক্ষ থেকে কোরবানিঃ-

নাবালেগের পক্ষ থেকে কুরবানী দেওয়া অভিভাবকের ওপর ওয়াজিব নয়,বরং মুস্তাহাব।
"[সূত্র:-ফতুয়ায়ে কাযীখাঁন ৩য় খন্ড/৩৪৫ পৃষ্ঠা]"

★গরিব ব্যক্তির কোরবানির হুকুমঃ-

গরিব ব্যক্তির উপর কুরবানী করা ওয়াজিব নয়,কিন্তু সে যদি কোরবানির নিয়তে কোন পশু কিনে তাহলে তা কোরবানি করা ওয়াজিব হয়ে যায়।
"[সূত্র:-বাদায়েউস সানায়ে ৪র্থ খন্ড/১৯২ পৃষ্ঠা]"

★প্রথম দিন কখন থেকে কোরবানি করা যাবেঃ-

যেসব এলাকার লোকদের ওপর জুমা ও ঈদের নামাজ ওয়াজিব তাদের জন্য ঈদের জামাতের আগে কোরবানি করা জায়েজ নয়। অবশ্যই বৃষ্টি বা অন্য কোন ওজর যদি প্রথম দিন ঈদের নামাজ না হয় তাহলে ঈদের নামাজের সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর প্রথম দিন ও কুরবানী করা জায়েয।
"[সূত্র:-সহীহ বুখারী শরীফ ২য় খন্ড, ৮৩২ পৃষ্ঠা]"

★কোন কোন পশু দ্বারা কোরবানি করা যাবেঃ-

উট,গরু,মহিষ,ছাগল,ভেড়া ও দুম্বা দ্বারা কুরবানি করা জায়েয,এসব গৃহপালিত পশু ছাড়া অন্যান্য পশু যেমন হরিণ বন্যগরু ইত্যাদি দ্বারা কুরবানি করা জায়েয নয়।
"[ফতোয়ায়ে কাযীখাঁন ৩য় খন্ড ৩৪৮ পৃষ্ঠা]"

★নর ও মাদি পশুর কোরবানিঃ-

যেসব পশু কোরবানি করা যায় সেগুলোর নর-মাদি দুটোই কোরবানি করা যায়।
"[সূত্র:-কাযীখাঁন ২য় খন্ড, ৩৪৮ পৃষ্ঠা]"

★কোরবানির পশুর সময়সীমাঃ-

উট কমপক্ষে পাঁচ বছর হতে হবে। গরু ও মহিষ কমপক্ষে দুই বছর হতে হবে।আর ছাগল ভেড়া কমপক্ষে এক বছর হতে হবে।তবে ভেড়া ও দুম্বা এক বছরের কিছু কমে হয় কিন্তু এমন হৃষ্টপুষ্ট হয় যে দেখতে এক বছরের মতো মনে হয় তাহলে তা দারাও কোরবানি করা জায়েজ। অবশ্যই এক্ষেত্রে কমপক্ষে ছয় মাস বয়সের হতে হবে। উল্লেখ্য,ছাগলের বয়স এক বছরের কম হলে কোনো অবস্থাতেই তা দ্বারা কুরবানি জায়েজ হবে না।
"[সূত্র:-কাজীখাঁন ৩য় খন্ড, ৩৪৮ পৃষ্ঠা]"

★এক পশুতে শরীকের সংখ্যাঃ-

একটি ছাগল,ভেড়া ও দুম্বা দ্বারা শুধু একজনই কোরবানি দিতে পারবে। এমন একটি পশু কয়েকজন মিলে কোরবানি করলে কারো হবে না। আর উট,গরু-মহিষ সর্বোচ্চ ০৭(সাত) জন শরিক হতে পারবে। ০৭ এর অধিক শরীক হলে কারও কোরবানি সহীহ হবে না।
"[সহীহ মুসলিম শরীফ, হাদিস নং- ১৩১৮,মুয়াত্তা মালেক ১খন্ড,৩১৯ পৃষ্ঠা]"

*সাতজন মিলে কুরবানি করলে সবার অংশ সমান হতে হবে‌।কারো অংশ এক সপ্তমাংশের কম হতে পারবে না।যেমন কারো আধা ভাগ, কারো দেয় ভাগ।এমন হলে কোন শরীকের কোরবানি সহীহ হবেনা।
"[সূত্র:-বাদায়েউস সানায়ে ৪র্থ খন্ড, ২০৭পষ্ঠা]"

উট,গরু, মহিষ সাত ভাগে এবং হাতের কমে যেকোন সংখ্যা যেমন ২, ৩, ৪, ৫, ও ৬ ভাগে কুরবানী করা জায়েয
"[সহীহ মুসলিম--১৩১৮]

★কোন অংশীদারের ভুল নিয়ত হলেঃ-

যদি কেউ আল্লাহ তাআলার হুকুম পালনের উদ্দেশ্যে কোরবানি না করে শুধু গোশত খাওয়ার নিয়তে কোরবানি করে তাহলে তার কোরবানি সহীহ হবে না।তাকে অংশীদার বানালে শরিকদের কারো কোরবানি হবে না।তাই অত্যন্ত সতর্কতার সাথে শরিক নির্বাচন করতে হবে।
"[সূত্র:-বাদায়েউস সানায়ে ৪র্থ খন্ড, ২০৮ পৃষ্ঠা]"

★কোরবানির পশুতে আকিকার অংশঃ-

কোরবানির গরু, মহিষ ও উঠে আকিকার নিয়তে শরিক হতে পারবে এতে কোরবানি ও আকিকা দুটোই সহীহ হবে।
"[সূত্র:-তাহতাবী আলাদ্দুর ৪খন্ড,১৬৬ পৃষ্ঠা,,রদ্দুল মুহতার ৬ষ্ঠ খন্ড,৩৬২ পৃষ্ঠা]"

*শরীকদের কারো সামান্য,সম্পূর্ণ বা অধিকাংশ উপার্জন যদি হারাম হয় তাহলে কারো কোরবানি হবে না।

যদি কেউ গরু,মহিষ,উট একা কোরবানি দেওয়ার নিয়তে কিনে আর সে ধনী হয় তাহলে ইচ্ছা করলে অন্যকে শরিক করতে পারবে। তবে এক্ষেত্রে একা কোরবানি করাই শ্রেয়। শরিক করলে সে টাকা সদকা করে দেওয়া উত্তম। আর যদি ওই ব্যক্তি এমন গরিব হয়, যার উপর কুরবানী করা ওয়াজিব নয়, তাহলে সে অন্যকে শরিক করতে পারবে না। এমন গরীব ব্যক্তি যদি কাউকে শরিক করতে চায় তাহলে পশু ক্রয় এর সময় নিয়ত করে নেবে।"[কাযীখান--৩৩৫০,৩৫১]"

★কোরবানির উত্তম পশুঃ-

কোরবানির পশু স্পষ্ট হওয়া উত্তম।"[মুসনাদে আহমদ সকল ৬ষ্ঠ খন্ড,১৩৬ পৃষ্ঠা]"

★রুগ্ন ও দুর্বল পশুর কোরবানিঃ-

এমন শুকনো দুর্বল পশু,জবাইয়ের স্থান পর্যন্ত হেঁটে যেতে পারেনা তা দ্বারা কুরবানী করা জায়েয নয়।
"[সূত্র:-জামে তিরমিজি,১ম খন্ড, ২৭৫ পৃষ্ঠা,,ফতোয়ায়ে আলমগীরী,৫ম খন্ড,২৯৭ পৃষ্ঠা]"

★দাঁত নেই এমন পশুর কোরবানিঃ-

যে পশুর একটি দাঁতও নেই বা এত বেশি দাঁত পড়ে গেছে যে ঘাস বা খাদ্য চিবাতে পারেনা এমন পশু দ্বারা কুরবানী করা জায়েয নয়। "[বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৫]

★যে পশুর শিং ভেঙ্গে বা ফেটে গেছেঃ-

যে পশুর শিং একেবারে গোড়া থেকে ভেঙ্গে গেছে যে কারণে মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সে পশুর কোরবানি জায়েজ নয়। পক্ষান্তরে যে প্রচুর অর্ধেক বা কিছু শিং ভেঙ্গে গেছে বা শিং একেবারে উঠে নি সে পশু কোরবানি করা জায়েজ।
"[জামে তিরমিজি ১/২৯৬, সুনানে আবু দাউদ হাদিস নং ৩২৮]"

★কান বা লেজকাটা পশুর কোরবানিঃ-

যে পশুর লেজ বা কোন কান অর্ধেক বা তারও বেশি কাটা সে পশুর কুরবানী জায়েয নয়। আর যদি অর্ধেকের বেশি থাকে তাহলে তার কোরবানি জায়েজ তবে জন্মগতভাবেই যদি কান ছোট হয় তাহলে অসুবিধা নেই।"[জামে তিরমিজি ১/২৭৫, মুসনাদে আহমদ ১/৬১০]"

★অন্ধ পশুর কোরবানিঃ-

যে পশুর দুটি চোখে অন্ধ বা একচোখ পুরো নষ্ট সে পশু কোরবানি করা জায়েজ নয়।
"[জামে তিরমিজি১/২৭৫]"

★গর্ভবতী পশুর কোরবানিঃ-

গর্ভবতী পশু কোরবানি করা জায়েজ। জবাইয়ের পর যদি বাচ্চা জীবিত পাওয়া যায় তাহলে সেটাও জবাই করতে হবে। তবে প্রসবের সময় আসন্ন হলে সে পশু কোরবানি করা মাকরুহ। "[কাযীখান ৩/৩৫০]"

★পশু কেনার পর দোষ দেখা দিলেঃ-

কোরবানির নিয়তে ভালো পশু কেনার পর যদি তাতে এমন কোনো দোষ দেখা দেয় যে কারণে কোরবানি জায়েজ হয় না তাহলে ওই পশুর কোরবানি সহিহ হবেনা। এর স্থলে আরেকটি পশু কোরবানি করতে হবে। তবে ক্রেতা গরীব হলে ত্রুটিযুক্ত পশু কোরবানি করতে পারবে।"[রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৫]"

★বন্ধ্যা পশুর কোরবানিঃ-
বন্ধ্যা পশুর কোরবানি জায়েজ।"[রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৫]"

★নিজের কোরবানির পশু নিজে জবাই করাঃ-

কোরবানির পশু নিজে জবাই করা উত্তম। নিজে না পারলে অন্যকে দিয়েও জবাই করতে পারবে। এক্ষেত্রে কোরবানি দাতা পুরুষ হলে জবাইস্থলে তার উপস্থিতি থাকা ভালো।"[মুসনাদে আহমদ--২২৬৫৭]"

★কোরবানির পশুর দুধ পান করাঃ-

কোরবানির পশুর দুধ পান করা যাবে না। যদি জবাইয়ের সময় আসন্ন হয় আর দুধ দোহন না করলে পশুর কষ্ট হবে না বলে মনে হয় তাহলে দহন করবে না। প্রয়োজনে ওলানে ঠান্ডা পানি ছিটিয়ে দেবে এতে দুধের চাপ কমে যাবে। যদি দুধ দোহন করে ফেলে তাহলে তা সদকা করে দিতে হবে। নিজে পান করে থাকলে মূল্য সদকা করে দিবে। "[মুসনাদে আহমদ ২/১৪৬]"

★কোন শরীফের মৃত্যু ঘটলেঃ-

কয়েকজন মিলে কোরবানি করার ক্ষেত্রে জবাই এর আগে কোন শরীকের মৃত্যু হলে তার ওয়ারিশরা যদি মৃত্যুর পক্ষে থেকে কোরবানি করার অনুমতি দেয় তবে তা জায়েয হবে। নতুবা ওই শরিকের টাকা ফেরত দিতে হবে। অবশ্য তার স্থলে অন্যকে শরিক করা যাবে। "[বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৯]"

★কোরবানির পশুর বাচ্চা হলেঃ-

কোরবানির পশু বাচ্চা দিলে ওই বাচ্চা জবাই না করে জীবিত সদকা করে দেওয়া উত্তম। যদি সদকা না করে তবে কোরবানির পশুর সাথে বাচ্চাকেও জবাই করবে এবং গোস্ত সদকা করে দেবে।
"[কাজী খান ৩/৩৪৯, আলমগীরী ৫/৩০১]"

★মৃতের পক্ষ থেকে কোরবানিঃ-

মৃতের পক্ষ থেকে কুরবানি করা জায়েয। মৃত ব্যক্তি যদি ওসিয়ত না করে থাকে তবে সেটি নফল কোরবানি হিসেবে গণ্য হবে কোরবানির স্বাভাবিক গোশতের মতো তা নিজেরাও খেতে পারবে। এবং আত্মীয়স্বজন কেউ দিতে পারবে। আর যদি মৃত ব্যক্তি কোরবানীর ওসিয়ত করে গিয়ে থাকে তবে এর গোশত নিজেরা খেতে পারবে না গরীব মিসকিনদের মাঝে সদকা করে দিতে হবে।"[ মুসনাদে আহমদ ১/১০৭, কাযীকান ৩/৩৫২]"

★কোরবানির গোশত জমিয়ে রাখাঃ-

কোরবানির গোশত তিনদিনেরও অধিক দিন জমিয়ে রেখে খাওয়া জায়েজ।
"[বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৪]"

★কোরবানির গোশত বন্টনঃ-

শরিকে কোরবানি করলে ওজন করে গোশত বন্টন করতে হবে। অনুমান করে ভাগ করা জায়েয নয়।
"[সূত্র:-কাযীখাঁন ৩য় খন্ড,৩৫১ পৃষ্ঠা]"

কোরবানির গোশতের এক-তৃতীয়াংশ গরিব-মিসকিনকে এবং এক-তৃতীয়াংশ আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশী কে দেয়া উত্তম অবশ্যই যদি নিজেরা রেখে দেয় তাতেও কোনো অসুবিধা নেই।"[বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৪]"

★জবাইকারীকে চামড়া গোশত দেওয়াঃ-

জবাইকারী কসাই বা কাজে সহযোগিতা কারীকে চামড়া বা কোরবানির পশুর কোন কিছু পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়া জায়েজ হবে না,অবশ্যই পূর্ণ পারিশ্রমিক দেওয়ার পর পূর্ব চুক্তির ছাড়া হাদিয়া হিসাবে গোশত বা তরকারি দেওয়া যাবে।

★কোরবানির গোশত বিধর্মীকে দেওয়াঃ-

কোরবানির গোশত হিন্দু ও অন্য ধর্মাবলম্বী কি দেওয়া জায়েজ।
"[সূত্র:-ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া,৫ম খন্ড,৩০০ পৃষ্ঠা]"

*অন্যের ওয়াজিব কুরবানী দিতে চাইলে ওই ব্যক্তির অনুমতি নিতে হবে নতুবা ওই ব্যক্তির কুরবানী আদায় হবে না অবশ্যই স্বামী বা ফিতা যদি স্ত্রী বা সন্তানের বিনা অনুমতিতে তার পক্ষ থেকে কুরবানী করে তাহলে তাদের কুরবানী আদায় হয়ে যাবে তবে অনুমতি নিয়ে আদায় করা ভালো

★নিজের কোরবানির গোশত খাওয়াঃ-

কোরবানি দাতার জন্য নিজে কোরবানির গোশত খাওয়া মুস্তাহাব। "[সূরা হজ্জ আয়াত নম্বর- ২৮]"

★ঋণ করে কোরবানি করাঃ-

কোরবানি ওয়াজিব এমন ব্যক্তিও ঋণের টাকা দিয়ে কোরবানি করলে ওয়াজিব আদায় হয়ে যাবে।তবে সুদের উপর ঋণ নিয়ে কোরবানি করা যাবে না।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পক্ষ থেকে কোরবানী করাঃ-

সামর্থ্যবান ব্যক্তির রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পক্ষ থেকে কুরবানী করা উত্তম। এটি বড় সৌভাগ্যের বিষয় বটে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুকে তাঁর পক্ষ থেকে কুরবানী করার ওসিয়ত করে ছিলেন।তাই তিনি প্রতিবছর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পক্ষ থেকেও কোরবানি দিতেন।
"[সূত্র:-সুনানে আবু দাউদ,২য় খন্ড,২৯ পৃষ্ঠা]"

★খাসি কৃত ছাগল দ্বারা কোরবানিঃ-

খাসি ছাগল দ্বারা কোরবানি করা উত্তম।
"[সূত্র:-ফাতহুল কাদির ৮ম খন্ড ৬৯৮ পৃষ্ঠা]"

★জীবিত ব্যক্তির নামে কোরবানিঃ-

যেমনি ভাবে মৃতের পক্ষ থেকেই ইসালে সওয়াব এর উদ্দেশ্যে কুরবানী করা জায়েয।জীবিত ব্যক্তির পক্ষ থেকেও তার ঈসালে সাওয়াবের জন্য নফল কোরবানি করা জায়েজ।কোরবানির গোশত দাতা ও তার পরিবার ও খেতে পারবে।বিদেশে অবস্থানরত ব্যক্তির কুরবানী অন্যত্রে করা যাবে বিদেশে অবস্থানরত ব্যক্তির জন্য নিজেদের সেবা অন্য কোথায়ও কোরবানি করা জায়েজ।

★কোরবানির চামড়া বিক্রির অর্থ সদকা করাঃ:-

কোরবানির চামড়া কুরবানীদাতা নিজেও ব্যবহার করতে পারবে।তবে কেউ যদি নিজে ব্যবহার না করে বিক্রি করে তবে বিক্রিলব্ধ মূল্য পুরোটা সাদকা করা জরুরি।
"[রদ্দুল মুহতার ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া,৫খন্ড,৩০১ পৃষ্ঠা]"

কোরবানির গোশত দিয়ে খানা শুরু করাঃ-

ঈদুল আযহার দিন সর্বপ্রথম কোরবানির গোশত দিয়ে খানা শুরু করা সুন্নাত।অর্থাৎ সকাল থেকে কোন খাবার না খেয়ে প্রথমে কোরবানির গোশত খাওয়া সুন্নাত। এই সুন্নাত শুধু ১০ ই জিলহজ্বের জন্য,১১ বা ১২ তারিখের গোশত দিয়ে খানা শুরু করা সুন্নাত নয়।
"[সূত্র:-জামে তিরমিজি,১ম খন্ড, ২০ পৃষ্ঠা]"

★কাজের লোককে কোরবানির গোশত খাওয়ানোরঃ-

কোরবানির পশুর কোন কিছু পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়া জায়েজ নয়,গোশত ও পারিশ্রমিক হিসেবে কাজের লোককে দেয়া যাবে না, অবশ্যই এ সময় ঘরের অন্যান্য সদস্যদের মতো কাজের লোকদের কে গোশত খাওয়ানো যাবে।
"[সূত্র:- আহকামুল কুরআন, ৩য় খন্ড,২৩৭ পৃষ্ঠা]"

★জবাইকারীকে পারিশ্রমিক দেওয়াঃ-

কোরবানির পশু জবাই করে পারিশ্রমিক দেওয়া-নেওয়া জায়েজ, তবে কোরবানির পশুর কোন কিছু পারিশ্রমিক হিসেবে দেয়া যাবেনা।
"[সূত্র:-কিফায়াতুল মুফতি, ৮ খন্ড, ২৬৫ পৃষ্ঠা]"

★মোরগ কোরবানি করাঃ-

কোন কোন এলাকায় দরিদ্রদের মাঝে মোরগ কোরবানি করার প্রচলন আছে,এটি নাজায়েজ। কুরবানীর দিনে মোরগ জবাই করা নিষেধ নয়,তবে কোরবানির নিয়ত করা যাবে না।
"[সূত্র:-ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া,৫ খন্ড, ২০০ পৃষ্ঠা]"

18/05/2026
বলৎকার আর ধর্ষণের কারখানা নামকতথাকথিত 'কওমী' মাদ্রাসাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হোক!!আপনিও কি একমত??
05/05/2026

বলৎকার আর ধর্ষণের কারখানা নামক
তথাকথিত 'কওমী' মাদ্রাসাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হোক!!
আপনিও কি একমত??

মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কেউ জামায়াত করতে পারে না'ফজলু ভাইকে ১০০ তে কত দিবেন ?
29/04/2026

মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কেউ জামায়াত করতে পারে না'
ফজলু ভাইকে ১০০ তে কত দিবেন ?

ইসলাম সুন্দরতম একটি আদর্শের নাম। ইসলামের শিষ্টাচারিতা অতি চমৎকার। ছোট-বড় সকলের প্রাপ্য অধিকার, সম্মান, স্নেহ, আদব, ভালবা...
10/04/2026

ইসলাম সুন্দরতম একটি আদর্শের নাম। ইসলামের শিষ্টাচারিতা অতি চমৎকার। ছোট-বড় সকলের প্রাপ্য অধিকার, সম্মান, স্নেহ, আদব, ভালবাসা, সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও সুন্দর আচরণের যে শিক্ষা ইসলামে দেয়া হয়েছে-তা অন্য কোন ধর্মে দেখা যায় না। বড়দের সম্মান এবং ছোটদের স্নেহ সম্পর্কে মহানবী সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন- مَنْ لَّمْ يَرْحَمَ صَغِيرِنَا وَلَمْ يُوَقِّرُ كَبِيرَنَا فَلَيْسَ مِنَّا যে বড়কে সম্মান করেনা এবং ছোটকে স্নেহ করেনা সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়। সুতরাং বড়দের প্রতি সম্মান প্রদর্শন নবী-ই করীমের শিক্ষা। সম্মান প্রদর্শন বিভিন্নভাবে হতে পারে। যেমন সালাম প্রদান, দেখলে সম্মানার্থে দাঁড়িয়ে যাওয়া, কাজকর্মে সহযোগিতা করা, প্রয়োজনীয় বস্তু এগিয়ে দেয়া, পর সাক্ষাৎ হলে কিংবা কোন গুরুত্বপূর্ণ কাজে যাওয়ার প্রাক্কালে কদমবুচি করা। বড়দের মধ্যে রয়েছে- মা-বাবা, শিক্ষকমণ্ডলী, দাদা-দাদী, নানা-নানী, খালা-খালু, ফুফা-ফুফু, চাচা-চাচী, মামা-মামী, বড় ভাই, বড় বোন ইত্যাদি মুরব্বীদের কাছ থেকে দো'আ নেয়ার অন্যতম পন্থা হল সালাম বিনিময়ের পর কদমবুচি করা। এ কাজটি অত্যন্ত চমৎকার একটি শিক্ষা, যাতে করে শিশুরা মুরব্বীদের প্রতি অধিক শ্রদ্ধাশীল ও বিনয়ী হয়ে গড়ে উঠে। অনেকে এ কদমবুচি নাজায়েয মনে করে, এমনকি মুরব্বীদেরকে কদমবুচি করা হারাম, শির্ক ইত্যাদি ফতোয়া দিতেও দ্বিধাবোধ করেনা। মূলত পবিত্র কোরআন-হাদীসের দলীল ছাড়া এ ধরনের লাগামহীন বক্তব্য দ্বারা নতুন প্রজন্ম বিভ্রান্তির শিকার হয়। আর সমাজ হয় শিষ্টাচার বঞ্চিত, ছোটদের মনে বড়দের। প্রতি শ্রদ্ধা কমতে থাকে। তাই যুগ যুগ ধরে চলে আসা সুন্দরতম আদব-কায়দার অন্যতম পন্থা যে কদমবুচি ইসলামী শরীয়তে কতটুকু অনুমোদিত তা পাঠকসম্মুখে উপস্থাপনই এ প্রয়াস। নিম্নে কদমবুচির বৈধতার উপর আরো কয়েকটি দলীল উপস্থাপন করা হল: হযরত ওয়াযে ইবনে আমের রদ্বিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন একদা আমরা হুজুর সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম'র খিদমতে উপস্থিত হলাম فاخذنا بِيَدَيْهِ وَرَجُلَيْهِ نُقَبْلُهَا অর্থাৎ আমরা হুযুরের পবিত্র হাত এবং চরণযুগল ধরে চুম্বন করলাম। -আদাবুল মুফরাদ: ১৪৪ পৃষ্ঠা হযরত বুরাইদা রদ্বিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বলেন- سَأَلَ أَعْرَابِي النَّبِي ﷺ آيَةً فَقَالَ لَهُ قُلْ لِتِلْكَ الشَّجَرَةِ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَدْعُوكِ فَقَالَ فَمَالَتِ الشَّجَرَةُ عَنْ يَمِينَهَا وَشِمَالُهَا وَبَيْنَ يَدَيْهَا وَخَلْفِهَا فَقَطعَتْ عُرُوقَهَا ثُمَّ جَانَتْ يَتَّخِدُ الْأَرْضَ تَجْرٌ عُرُوقَهَا مغبرة حتى وَقَعَتْ بَيْنَ يَدَى رَسُولِ الله ﷺ السلام عَلَيْكَ يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ الْأَعْرَابِي مُرُهَا فَلْتَرْجِعُ إِلَى مَنْبَتِهَا فَرَجَعَتْ فَدَلَتُ عُرُوقَهَا فَاسْتَوَتْ فَقَالَ الْأَعْرَابِي ائْذَنْ لِي أَسْجُدُ لَكَ قَالَ لَوْ أَمَرْتُ أَحَدٌ أَنْ يَسْجُدَ لِأَحَدٍ لَا مَرْتُ الْمَرَاةَ أَنْ تَسْجُدَ لِزَوْجِهَا قَالَ فَاذَنُ لِي أن أقبل يَدَيْ وَرِجْلَيْكَ فَاذِنَ لَهُ অর্থাৎ- একজন বেদুঈন হুযুর সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম'র কাছে। মু'জিযা চাইল। হুযুর সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম বেদুঈনকে এরশাদ করলেন, ওই বৃক্ষটাকে বলো আল্লাহর রসুল তোমাকে ডাকছেন। সে যখন বললো, বৃক্ষটা তার ডানে-বামে, সম্মুখে, পেছনে ঝুঁকল, তখন ওটার শেকড়গুলো ভেঙ্গে গেলো। তারপর তা মাটি খোদাই করে শিকড়গুলো টেনে ও বালি উড়িয়ে হুজুর সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম'য়া সম্মুখে এসে দাঁড়াল এবং বলল-আসসালামু আলায়কা এয়া রসুলাল্লাহ। বেদুঈন বললো, আপনি তাকে আদেশ করুন যেন এটা ওখানে ফিরে যায়। তাঁর নির্দেশে ওটা ফিরে গেল এবং তার শেকড়গুলোর উপর গিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ালো। বেদুঈন বললো, আমাকে অনুমতি দিন আমি আপনাকে সাজদা করবো। তিনি এরশাদ করলেন, যদি কাউকে সাজদাহ করার হুকুম দিতাম তাহলে নারীকে হুকুম দিতাম সে যেন তার স্বামীকে সাজদা করে। বেদুঈন আরজ করলো- হুযুর তাহলে আমাকে আপনার হস্ত ও পদদ্বয় চুম্বন করার অনুমতি দিন। তিনি তাকে অনুমতি প্রদান করলেন। -শিফা শরীফ, দালাইলুহুযুয়‍্যাহ, আবু না'ঈম পৃষ্ঠা-৩৩২ কসীদায়ে বুরদা শরীফে আছে- جاءت لِدَعْوَتِهِ الاشْجَارُ سَاجِدَةً تَمْشِي إِلَيْهِ عَلَى سَاقٍ بِلا قَدَم অর্থাৎ- হুযুর সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর আহবানে বৃক্ষরাজি সাজদাকারী অবস্থায় চলে আসলো। তাঁর দিকে, পা ছাড়া, গোচা (কান্ড)'র পর উপর ভর করে চলে আসলো। (কসীদায়ে বুরদা) হযরত সোহাইব রদ্বিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বলেন- رَأَيْتُ عَلِيًّا يُقَبَلِ يَدَ الْعَبَاسِ وَ رَجُلَيْهِ অর্থাৎ আমি হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুকে দেখেছি, তিনি হযরত আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু'র হাতে ও পায়ে চুমু দিচ্ছেন। -বুখারী ফিল আদাবিল মুফয়ান, পৃষ্ঠা-১৪৪।

নবীজী (ﷺ) এর পিতামাতা কি জান্নাতি???✍️আমাদের মধ্যে অনেক মুসলমান আছেন যারা বলে থাকেন ছারকারে দু’জাহান রাহমাতুল্লিল আলামিন...
08/04/2026

নবীজী (ﷺ) এর পিতামাতা কি জান্নাতি???
✍️আমাদের মধ্যে অনেক মুসলমান আছেন যারা বলে থাকেন ছারকারে দু’জাহান রাহমাতুল্লিল আলামিন হাবিবুল্লাহ হুজুর পাক (ﷺ) এর পিতা মাতা উনারা নাকি ঈমানদার ছিলেন না। উনারা নাকি মুশরেক ছিলেন (নাউজুবিল্লাহ)।
আবার যারা এই কথা বলেন তারা ২/১ টি হাদিস শরীফের কথাও উল্লেখ করেন ! কিন্তু উনারা যেই হাদিস গুলাকে দলিল হিসেবে উল্লেখ করেন সেখানে নবীজি ﷺ এর পিতা মাতা যে মুশরেক তা প্রমান করেনা বরং সহিহ হাদিস শরীফের ৫০ টিরো বেশি কিতাবের কোন জায়গায় একটাও হাদিস নেই নবীজির পিতা মাতা উনারা মুশরেক ছিলেন | বরং কোরআন ও হাদিস স্পষ্ট প্রমান করে উনারা ঈমানদার ছিলেন |
যদিও নবীজির পিতা মাতা উনারা নবীজি ﷺ এর হাতে কালেমা পড়ে ঈমানদার হওয়ার সুযোগ পাননি কিন্তু উনারা মুশরেক ছিলেন না। উনারা ছিলেন মিল্লাতে ইব্রাহিমের উপর বিশ্বাসী অর্থাৎ এক আল্লাহয় বিশ্বাসী ছিলেন | নূর নবীজি ﷺ এর নবুয়্যাত প্রাপ্তির পূর্বেও আরবের কিছু লোক এক আল্লাহর উপর বিশ্বাসী ছিলেন। এমন কি উনাদের উভয়ের পূর্ব পুরুষ ও মহিলাগণ তৌহিদে বিশ্বাসী ছিলেন। আর হাদিসের বর্ণনায় আল্লাহর হাবিব ﷺ যে রক্তধারায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন , সে ধারায় অর্থাৎ উনার পিতা , পিতামহ হতে উর্ধতন পুরুষের মধ্যে কেউ মূর্তি পূজক বা মুশরেক ছিলেন না। উনাদের কেউ কোন দিন গোলাম হননি বা কেউ কোন দিন ব্যভিচার করেননি | আর আল্লাহর হাবিব ﷺ এর পবিত্র নূর মোবারক পবিত্র পুরুষগণ ও পবিত্র মহিলাগনের ঔরসের মাধ্যমেই দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন। অতএব কাফের মুশরেক কখনই পবিত্র এবং এমন সৌভাগ্যবান হতে পারেনা।
√ পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন ,

وتقلبک فی السجدین

(ওয়া তাক্বাল্লুবাকা ফিস্‌সাজিদীন)
অর্থ : হে নবী!আমি আপনাকে সিজদাকারীদের পৃষ্ঠের মাধ্যমে (ঔরসে)স্থানান্তরিত করেছি |
এই আয়াতে কারিমা থেকে স্পষ্ট প্রমানিত হচ্ছে যে – হজরত আদম আলাইহিস সালাম থেকে শুরু করে হজরত আব্দুল্লাহ রাদ্বি আল্লাহু তাআলা আনহু পর্যন্ত সকল পূর্ব পুরুষই মু’মিন (ঈমানদার) ছিলেন |

(তাফসীরে মাদারিক )
√ আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আরো ইরশাদ করেন ,

لقد جاءکم رسول من انفسکم عزیز علیہ ما عنتم-الایۃ

( লাক্বাদ জা’আকুম রাসূলুম মিন আনফুসিকুম আযীযুন আলাইহি মা’আনিত্তুম )
অর্থ : নিশ্চয় তোমাদের নিকট তাশরিফ আনয়ন করেছেন, তোমাদের মধ্যে থেকে ঐ রাসূল, যাঁর নিকট তোমাদের কষ্টে পড়া কষ্টদায়ক |

[সুরা তাওবা : ১২৮ ]
এ আয়াতের انفسکم শব্দটির আরবী অক্ষরটিতে ‘যবর’ ও বর্ণিত হয়েছে | তখন আয়াতের অর্থ দাড়ায় , সর্ব-উৎকৃষ্ট, অভিজাত ব্যক্তিবর্গ থেকে এক মহান রাসূল তাশরীফ আনয়ন করেছেন

[খাসায়িসুল ক্বুবরা,তাফসীরে-ই-নঈমী ]
হজরত আনাস রাদ্বি আল্লাহু তাআলা আনহু হতে বর্ণিত, রাসুল পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেও এই আয়াতে কারিমা তিলাওয়াতের সময় ‘ف’ তে যবর দিয়ে তিলাওয়াত করার পর ইরশাদ করেন , انا انفسکم

( আনা আনফাসুকুম ) অর্থাৎ আমি তোমাদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা উত্তম বংশদ্ভুত |
এই প্রসঙ্গে খাসায়িসুল ক্বুবরার মধ্যে এসেছে , হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পূর্ব পুরুষদের মধ্যে হজরত আদম আলাইহিস সালাম থেকে হজরত আব্দুল্লাহ রাদ্বি আল্লাহু তাআলা আনহু পর্যন্ত কেউ মন্দ ও অশ্লীল কর্মে লিপ্ত হননি |
√ পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফের আল্লাহ পাক আরো ইরশাদ করেন ,

انما المشرکون نجس

( ইন্নামাল মুশরিকুনা নাজাসুন )

অর্থ : নিঃসন্দেহে মুশরিকরা অপবিত্র |
পবিত্র কোরআন শরীফে যেহেতু আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন ঘোষণা করেছেন , মুশরিকরা অপবিত্র। তাই এটা নিঃসন্দেহে বলা যায় আল্লাহ পাক উনার প্রিয় হাবিবের পবিত্র নূর মোবারককে কোন মুশরিক নারী পুরুষের ঔরসে রাখবেন না কখনো।
এর সমর্থনে একটা হাদিস শরীফ আছে, “আল্লাহ তায়ালা আমাকে সর্বদা পূত-পবিত্র পৃষ্ঠদেশ থেকে পবিত্র গর্ভেই স্থানান্তরিত করেছেন। পবিত্র পরিচ্ছন্ন-দুটি বংশীয় ধারার উভয়টির মধ্যে আমি উত্তম বংশের অন্তর্ভূক্ত।”

[ খাসাইসুল ক্বুবরা ]
পবিত্র হাদিস শরীফে ইরশাদ হয়েছে , হুজুর পাক ﷺ বলেন , আমি সর্বদা পবিত্র পৃষ্ঠদেশ সমূহ থেকে পবিত্র মাতৃগর্ভ সমূহে স্থানান্তরিত হয়ে ভূ-পৃষ্ঠে আবির্ভূত হয়েছি | [ দালায়েলুন্‌ নবুয়্যত ]
পবিত্র হাদিস শরীফে রাসুল পাক ﷺ ইরশাদ করেন, আমি প্রতিটি যুগে মানবজাতির সর্বস্তরের সর্বশ্রেষ্ঠ বংশে আবির্ভূত হয়েছি |

[বুখারী শরীফ, সীফাতুন্নাবী ﷺ শীর্ষক অধ্যায় ]
হাদিস শরীফে রাসুল পাক ﷺ ইরশাদ করেন, আল্লাহ তায়ালা ধারাবাহিকভাবে পবিত্র পৃষ্ঠদেশ ও পবিত্র গর্ভে স্থানান্তরিত করে ভূ-পৃষ্ঠে আমার বরকতময় আবির্ভাব ঘটিয়েছেন | [ কিতাবুশ্‌ শেফা ]
রাসুল পাক ﷺ ইরশাদ করেন , জাহেলি যুগে “সিফাহ” নামে যেসব অপকর্ম চলত সেগুলোর কোনটার মাধ্যমেই আমি দুনিয়াতে আসিনি | [ বায়হাকী শরীফ ]
উপরোক্ত হাদীসে “সিফাহ” শব্দটির অর্থ হচ্ছে-ব্যাভিচার। ইসলামী পরিভাষায় সেটাকে যিনা বলা হয়।
হুজুর পাক ﷺ ইরশাদ করেন, হযরত আদম আলাইহিস সালাম-এর যুগ থেকে অদ্যাবধি আমার পিতা-মাতা ও পূর্ব পূরুষগনের ঔরসে পবিত্র নিকাহ এর মাধ্যমেই আমার আগমন হয়েছে। অপবিত্র সিফাহ এর মাধ্যমে নয়।আমার পিতৃ পূরুষগন আজীবন “সিফাহ” থেকে পবিত্র ছিলেন | [ তাবরানী শরীফ ]
হযরত জিব্রাঈল আলাইহিস সালাম স্বয়ং বর্ণনা করেছেন,আমি সমগ্র জাহান তদন্ত করে দেখলাম, আমি কোথাও হযরত মুহাম্মদ ﷺ অপেক্ষা উত্তম পূরুষ দেখিনি, তাঁর বংশ ও গোত্র অপেক্ষা উত্তম কোন বংশ বা গোত্র আমার নজরে পরেনি, আর বনূ হাশেম অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ কোন গোত্রই আমি দেখিনি | [ তাবরানী শরীফ ]
হযরত জিব্রাঈল আলাইহিস সালাম যেই বনূ হাশেম গোত্র সম্পর্কে “সেটাই সর্বোচ্চ বংশ ও গোত্র” বলে মন্তব্য করেছেন, বাস্তবতাও যে বংশের পক্ষে সাক্ষ্য দেয়।
১৫ই সাবানের রজনীতে যখন হুজুর পাক ﷺ জান্নাতুল বাকি জেয়ারত করে হুজরা শরীফে ফিরে আসলেন তখন আম্মাজান আয়েশা রাদ্বি আল্লাহু তাআলা আনহা রাসুল পাক ﷺ কে জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ আপনি এই জিয়ারতের মাধ্যমে কি কোন খোশ খবর পেয়েছেন ? জবাবে রাসুল পাক ﷺ বলেন , হ্যাঁ আয়েশা এই জিয়ারত ও দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহ পাক আমাকে ৫ টা খোশ খবর দিয়েছেন | তার মধ্যে একটি হলো , আমার পিতা মাতা আমার কালেমা পড়ে ঈমানদার হতে পারেন নি কিন্তু উনারা মুশরেক ছিলেন না , উনারা মিল্লাতে ইব্রাহিমের উপর বিশ্বাসী ছিলেন | আমি যখন জিয়ারত করি তখন আল্লাহ পাক আলমে বারজখের পর্দা তুলে দিয়ে আমার পিতা মাতাকে দেখার সুযোগ করে দেন , আমি উনাদেরকে আমার কালেমা পড়িয়ে ডবল মুসলমান বানিয়ে দিলাম।
অতএব পবিত্র কোরআন ও হাদিস শরীফ থেকে স্পষ্ট প্রমানিত হয় যে, নবীজির ﷺ এর পিতা মাতা মুশরেক ছিলেন না। উনারা খাটি ঈমানদার ছিলেন এবং উনাদের মৃত্যুও হয়েছে ঈমানের উপর |✅

 #নামাজশিক্ষা নামাজ আপনাকে সকল অপবিত্র থেকে মুক্ত রাখবে।
28/03/2026

#নামাজশিক্ষা
নামাজ আপনাকে সকল অপবিত্র থেকে মুক্ত রাখবে।

Address

Chandpur

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when ওয়াসিম ভাই posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share