16/08/2026
সময় দিতে না পারলে একজন জনপ্রিয় বক্তাকে বক্তব্যর মঞ্চে ডাকেন কেন??
আমরা ভদ্রতা আর কবে শিখব? এ কেমন শিষ্টাচার??
আল জামিয়া আল ইসলামিয়া পটিয়ার সিনিয়র মুহাদ্দিস ও খতিব, প্রখ্যাত ওয়ায়েজ আল্লামা কাজী আখতার হোসাইন আনোয়ারী দা.বা. যখন বক্তব্য শুরু করেন, তখন বক্তব্যের মাত্র দেড় মিনিট অতিবাহিত হওয়ার পর থেকেই দেখা যায়, উত্তরার মুফতি কেফায়েত উল্লাহ সাহেব তাঁর পিঠে বারবার হাত দিয়ে বক্তব্য শেষ করার ইঙ্গিত দিতে শুরু করেন। অথচ তখনো হুজুরের জন্য নির্ধারিত চার মিনিট সময়ের প্রায় দুই মিনিট বাকি ছিল। এরকম আরো কয়েকজন বক্তার ক্ষেত্রেও ঘটেছে।
ওনার স্টেজ পরিচালনার দক্ষতা সম্পর্কে যার ধারনা নেই সে তো এমন করবেই।।
সম্ভবত মুফতি কেফায়েত উল্লাহ সাহেব জামিয়া পটিয়া ও আল্লামা কাজী আখতার হোসাইন আনোয়ারী দা.বা.এর মঞ্চ পরিচালনা ও উপস্থাপনা দক্ষতা সম্পর্কে অবগত নন। জামিয়া ইসলামিয়া পটিয়া বাংলাদেশের একটি সুপ্রতিষ্ঠিত ও বৃহৎ কওমি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শৃঙ্খলা, ব্যবস্থাপনা ও নিয়ম-কানুনের ক্ষেত্রে এ প্রতিষ্ঠানের সুনাম সর্বজনবিদিত।
মাওলানা কাজী আখতার হাসাইন জামিয়া পটিয়ার বার্ষিক আন্তর্জাতিক সম্মেলন সহ প্রায় সকল বড় প্রোগ্রাম গুলোতে যুগযুগ ধরে মঞ্চ পরিচালনা করে আসছেন জামিয়ার মুহাদ্দিস, খতিব ও দক্ষ উপস্থাপক আল্লামা কাজী আখতার হোসাইন আনোয়ারী দা.বা.। মঞ্চ পরিচালনা, সময় ব্যবস্থাপনা ও উপস্থাপনার ক্ষেত্রে তাঁর সচেতনতা ও দক্ষতা সম্পর্কে চট্টগ্রামসহ দেশের প্রায় সকলেই অবগত।
এবং তিনি পুরো বাংলাদেশের একজন জনপ্রিয় ওয়ায়েজ। এবং জনপ্রিয় বক্তা।।
অতএব, এমন একজন অভিজ্ঞ ও সচেতন উপস্থাপক যখন নিজেই বক্তব্য দিচ্ছেন, তখন তাঁকে পেছন থেকে বারবার এভাবে হস্তক্ষেপ করা শুধু দৃষ্টিকটু নয়;
বক্তার নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত কোনোভাবেই এমন আচরণ কাম্য নয়। আর সময় শেষ হয়ে গেলেও প্রকাশ্যে পেছন থেকে হাত দিয়ে ইঙ্গিত না করে, আদবের সঙ্গে লিখিত সংকেত দেওয়া যেতে পারে। এটাই মঞ্চের শিষ্টাচার ও ভদ্রতার দাবী রাখে।
একটি সুন্দর মঞ্চ কেবল বক্তার বক্তব্যে নয়, বরং উপস্থাপকের আচরণ, ধৈর্য, প্রজ্ঞা ও শিষ্টাচারের মাধ্যমেও সৌন্দর্যমণ্ডিত হয়। তাই যারা স্টেজ ম্যানেজমেন্টের পূর্ণ জ্ঞান রাখেন না, তাদের উচিত এ দায়িত্ব গ্রহণের আগে প্রয়োজনীয় আদব ও দক্ষতা অর্জন করা।
মঞ্চের মর্যাদা রক্ষা করা যেমন উপস্থাপকের দায়িত্ব, তেমনি মঞ্চের আদব রক্ষা করাও তাঁর অন্যতম প্রধান যোগ্যতা।
একটা অনুষ্ঠানে ১০০ জনকে বক্তব্য দিতে হবে কেন? যারা সুন্দর করে গুছিয়ে কথা বলতে পারেন তাদের মধ্য থেকে ১০/১৫ জন বক্তব্য দিলে তো হয়। তাহলে তো আর উপস্থাপককে বক্তাকে বক্তব্য শেষ করার জন্য পিঠে হাত বুলাতে হবে না। ঘাড় মালিশ করে দিতে হবে না! এসব দেখকে খুবই বিশ্রী লাগে!
#কাজী আখতার হোসাইন আনোয়ারী হযরতের প্রতি আমরা এই দৃষ্টিকুটু আচার-আচরণের জবাবদিহিতমূলক বক্তব্য চাই। একজন আখতার হোসাইন এই উম্মহরের সম্পদ, হয়তো আপনারা চিনেন নাই।। আমরা এর তীব্র নিন্দা প্রস্তাব করছি।।
দুঃখজনক বিষয় হলো, আমাদের জাতীয় পর্যায়ের অনেক সভা-সম্মেলনেই এমন অসৌজন্যমূলক আচরণ দেখা যায়। বক্তা কথা শুরু করার কিছুক্ষণ পরই তাঁকে শেষ করার জন্য তাগাদা দেওয়া হয়, তাও অভদ্র সিস্টেমে।