24/05/2025
মোস্তফা সরোয়ার ফারুকি বাংলাদেশের ‘সংস্কৃতি উপদেষ্টা’ হননি তিনি হয়েছেন নিজের পরিবার, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজনের ব্যক্তিগত সংস্কৃতির উপদেষ্টা। এই পদটা যদি Netflix Family Plan-এর মতো হতো, তাহলেই হয়তো মানাতো কারণ তিনি উপকার করছেন নিজের সার্কেলের। দেশের নয়।
এই মানুষটির হৃদয়ের ছোট রুমে জায়গা থাকলেও দরজা বন্ধ। এক বেলা খাবার যদি অতিরিক্ত থাকে, সেটাও হয়তো নিজের চাচাতো, মামাতো, বন্ধুত্বের ভোকাবুলারির ভেতরেই ভাগ হবে।
ক্ষুধার্ত মৃত্যুপথযাত্রী যদি চিৎকার করে, তার ভাগে জুটবে না কারণ সে ‘crew list’-এ ছিল না।
নির্মাতা হিসেবে ফারুকি ভালো, তার সিনেমায় আছে গল্প, ছন্দ, সংলাপ। কিন্তু রাষ্ট্রের স্ট্র্যাটেজিতে ছন্দ কাজ করে না, সেখানে লাগে বাস্তব, বহুমাত্রিকতা আর অন্তর্দৃষ্টি যা তার রচনা বইতে নেই।
তিনি কখনো কল্পনাও করেননি এই দায়িত্ব তার কাঁধে আসবে।
এখনো হয়তো রাতে তিশাকে বলেন “তিশা, একটু চিমটি কাটো না। আমার বিশ্বাস হচ্ছে না, আমি উপদেষ্টা!”
আগামীতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার আসছে যদিও এটি তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে, তবুও এখানে তার হাত থাকবে। যখন আপনি পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম দেখবেন আপনি পাবেন “ফারুকি ক্লাব লিমিটেড” এর পদচিহ্ন।
ফারুকি ভাইয়ের নিজের ফেসবুক পোস্টেও সাধারণ মানুষ কমেন্ট করতে পারে না। কমেন্ট সেকশন উন্মুক্ত কেবল তার পরিবার ও ঘনিষ্ঠ বৃত্তের জন্য। একটা জাতীয় উপদেষ্টার কথার নিচে যদি দেশের জনগণ নিজের কথা বলতে না পারে, তাহলে বোঝা যায় তিনি আসলে “জনগণের উপদেষ্টা” নন “মনোনীত মোহরযুক্ত উপদেষ্টা! তার কথা হলো আমি সৃষ্টিশীল ইংরেজিতে ক্রিয়েটিভ মানুষ। আমি চাইলে যে কারো সমালোচনা করতে পারি। কিন্তু তুমি আমার সমালোচনা করতে পারো না। সেই যোগ্যতা তোমার নেই।
যখন আপনি জনগণের চেয়ারে বসেন, তখন প্রশ্ন আসবেই। আপনার বেতন যদি জনগণের টাকায় হয়, তাহলে উত্তরটাও দিতে হবে জনগণের ভাষায়, নিজের গোষ্ঠীর বারান্দায় নয়।
পুনশ্চ: আমার কথা কেউ সিরিয়াসলি নিবেন না।সামারে আমি পাগল থাকি। মাথায় ডিস্টার্ব।