18/02/2024
আসসালামু আলাইকুম।
আশা করি সবাই অনেক ভালো আছেন।
মহান সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪ আমরা সফলভাবে সম্পন্ন করলাম আমাদের অতি আকাঙ্ক্ষিত "রজতজয়ন্তী"।
সাধারণত যেকোন বিভাগের রজতজয়ন্তী / সুবর্ণজয়ন্তী সম্পন্ন করার জন্য ৬-৭ মাস বা তার অধিক সময়ের প্রয়োজন হয়। সেক্ষেত্রে দীর্ঘ কয়েকমাস ধরে একাডেমিক কমিটি মিটিং এ আলোচনার পর ২০২৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর সিদ্ধান্ত হয় ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪ আমরা রজতজয়ন্তী পালন করবো। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার কারণে তারিখ নির্ধারণ সংকটে পড়ি আমরা এবং মিটিং এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ১৬ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠান হবে। সেই হিসেবে ১ মাস ২৮ দিন মাত্র সময় পেয়েছি আমরা প্রস্তুতি নেওয়ার। এত স্বল্প সময়ে অনুষ্ঠান করাটা ভীষণ চ্যালেঞ্জিং ছিল। আমি নিজে ভেবেছিলাম, এত স্বল্প সময়ে এই অনুষ্ঠান অসম্ভব। কিন্তু বিভাগের বেশ কয়েকজন শিক্ষক এবং এলামনাই আমাকে আশ্বাস দিলেন এই অসাধ্য সাধণ করা সম্ভব। সবাই প্রস্তুত এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণের জন্য। তারপরও আমার দ্বিধা কাটেনি। কারণ, প্রোগ্রামের যেকোন ব্যর্থতার ভার অবশ্যই আমাকে এবং পুরো অর্গানাইজিং কমিটিকে বহন করতে হবে। রজতজয়ন্তীর মতো অনুষ্ঠান একজন শিক্ষার্থীর জীবনে শুধু একবারই আসে....Once in a lifetime.
কেউ যদি অখুশি হয়, মনে কষ্ট পায় ( অবশ্যই যৌক্তিক কারণে, ব্যক্তিগত ঈর্ষার কারণে নয়), তাহলে এই অনুষ্ঠানের সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যাবে।
সেই বোঝাটা মাথায় নিয়েই আমি আমার প্রিয় সহকর্মী, বর্তমান ছাত্রছাত্রী এবং এলামনাইদের সাথে নিয়ে মাঠে নেমে পড়লাম।
পদে পদে অনেক বাঁধা, অনেক বিপত্তি, অনেক প্রতিকূলতা। ফেব্রুয়ারী মাস ভাষা আন্দোলনের মাস। আমার মনে হচ্ছিল এত অল্প সময়ে, এত প্রতিকূলতা পেরিয়ে অনুষ্ঠান করার উদ্যোগ, সেই ভাষা আন্দোলনের চেয়ে কম নয়। কিন্তু আমার অসম্ভব মেধাবী, পরিশ্রমি, আন্তরিক, চ্যালেঞ্জ গ্রহণকারী সহকর্মী, বর্তমান ছাত্রছাত্রী এবং এলামনাইরা সবাই মিলে এই প্রায় অসাধ্য কাজটিকে তাদের অক্লান্ত, অমানসিক পরিশ্রম দিয়ে বাস্তবে রুপ দিল।
বিদেশে অবস্থানরত আমাদের প্রাক্তন শিক্ষকরা এবং এলামনাইরা আমাদের ডাকে ভীষণভাবে সাড়া দিয়ে এগিয়ে আসলো। তাদের সবার প্রতি আমি এবং আমরা ভীষণ ভীষণ কৃতজ্ঞ।
অনুষ্ঠানের দুটো প্রধাণ অংশ পাবলিকেশন এবং কালচারাল প্রোগ্রাম।
একটা বিরাট কালচারাল প্রোগ্রাম দাড় করানো রজতজয়ন্তীর মতো অনুষ্ঠানের জন্য বর্তমান ও প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদেরকে নিয়ে এবং একটা পাবলিকেশন ( ভুলত্রুটি মুক্ত) দাড় করানো, প্রায় ৮৭৭ জন বর্তমান এবং প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীর ডাটাবেইজ সহ সবার লেখা, বানী,ছবি, আরো আনুষাঙ্গিক বিষয় নিয়ে মাত্র পনের থেকে বিশ দিনের মধ্যে..... এক ভীষণ কঠিন বিষয়। যদিও আগে থেকেই কিছু গ্রাউন্ড ওয়ার্ক করে রাখা ছিল পাবলিকেশন এর, মাঠে নেমে দেখা গেল, সেটাও খুব বেশি না। এমন পরিস্থিতিতে এই কঠিন, প্রায় অসাধ্য বিষয়টি কে অবশেষে সম্পন্ন করে সফলতার রুপ দিল সবাই। আমি সত্যি সত্যিই অভিভূত, আবেগে আপ্লুত ।
আমাদের ডিপার্টমেন্টের ফাউন্ডার চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. নুরুল আনোয়ার স্যার আমাদের ডাকে সাড়া দিয়েছেন অত্যন্ত উদারতার সাথে, আনন্দের সাথে।
তিনিই ছিলেন আমাদের অনুষ্ঠানের প্রাণ। স্যার অনুষ্ঠানের দিন বক্তৃতায় প্রথমেই বলেছেন রজতজয়ন্তীর এই অনুষ্ঠান তিনি দেখে যেতে পারবেন, তিনি কখনো ভাবেননি। আমাদের স্বার্থকতা সেখানেই, স্যারকে আমরা এমন একটা দিন উপহার দিতে পেরেছি, আলহামদুলিল্লাহ। আমরা স্যারের প্রতি ভীষণভাবে কৃতজ্ঞ।
এবার আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই বিভিন্ন কমিটি ও সাবকমিটির সমন্বয়কারী ও সদস্যবৃন্দকে। আমি তাদেরকে পদ মেনশন করে বলবোনা, কারণ তারা আসলে ছিল প্রতিটি কাজে, প্রতিটি উদ্যোগে। তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টা ছাড়া এই অনুষ্ঠান ছিল অসম্ভব।
শিক্ষকদের মধ্যে :
Md Nuruddin Mahmud
Kamrun Islam
Ferdausi Ali
Jannatul Shumee
Sujon Dey
Rasel Barua
Kamal Uddin
এলামনাইদের মধ্যে :
Micro Aids Aworongojeb Sumon bhai
Saiful Islam Titu
Md Ershadul Huq
Romel Chakma
Ibrahim Khalil
Mohammad Amayan Hossain
Shahidul Amin Nawaj
Mohammad Atahar Chowdhury Sunny
জুলকারনাইন মেহেদী
Mahfuz Mithun
Fatema Tuz Zohora
Rezaul Karim
Abdullah Al Mamun Mashuk
Fahmida Tasfiia
Yasin Arafat
Onindita Talukder
বর্তমান ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে অনেকেই যাদের নামের তালিকা এই ছোট পরিসরে লেখা কিছুটা কঠিন , তাদের সবাইকে একসাথে ধন্যবাদ জানাই। অনুষ্ঠানটিকে সার্বিকভাবে সুন্দর করতে তাদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তারা এত সুন্দর একটি থিম সং লিখেছে এবং সুর দিয়েছে, আমি অভিভুত। আমার এক মিউজিশিয়ান বন্ধু সৃজনকে ধন্যবাদ জানাতেই হয় সেইসাথে যে সে আমার ছাত্রছাত্রীদেরকে স্টুডিও ব্যবহার করে থিম সং টি রেকর্ডিং এর সুযোগ করে দিয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের অনুষ্ঠান সন্চালনা,গান, নাচ, নাটিকা, সব পারফর্মেন্স ছিল অসাধারণ।
দেশ - বিদেশের এলামনাই যারা নিজেরা ব্যাক্তিগতভাবে ও স্পন্সর কালেকশনের মাধ্যমে সামগ্রিকভাবে আর্থিক অনুদান দিয়ে সহযোগিতা করেছেন, যাদের অবদান ছাড়া এই অনুষ্ঠান পরিচালনা অসম্ভব ছিল,তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।
আর আমি বিদেশে অবস্থানকারী এলামনাই যাদের কাছেই লেখা চেয়েছি, তারাও দ্রুততম সময়ের মধ্যে, শত ব্যস্ততার মধ্যেও তাদের তথ্যসমৃদ্ধ, কোয়ালিটিফুল লেখা পাঠিয়েছেন।
ইউএস এ অবস্থাণকারী আমাদের তিনজন শ্রদ্ধেয় প্রাক্তন শিক্ষক ড. Mizanur Rahman স্যার উনার শত ব্যস্ততার মধ্যেও একটি বানী, মহামারী নিয়ে একটি লেখা ( মাত্র দুইদিনের মধ্যে) এবং শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন। ড. ওয়াসিমুল কাদের স্যার শুভেচ্ছা ভিডিও বার্তা এবং ড. সুব্রত স্যার শুভেচ্ছাবানী পাঠিয়েছেন বলার সাথে সাথেই। এগুলো আমাদের জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি।
ধন্যবাদ জানাই আমাদের রজতজয়ন্তী কমিটির যুগ্ম আহবায়ক প্রফেসর ড. Mohammad Seraj Uddin
ভাইকে। তিনি প্রথম থেকেই মাইক্রোবায়োলজি এলামনাই এসোসিয়েশন এর সংবিধানের ড্রাফট তৈরি থেকে শুরু করে এলামনাই এসোসিয়েশন গঠনের প্রক্রিয়াতে সম্পৃক্ত থেকে এবং রজতজয়ন্তীর বিভিন্ন কার্যক্রমে পাশে থেকে সহযোগিতা করেছেন।
আমি আরো আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই আমাদের বিভাগের বর্তমান সিনিয়র মোস্ট শিক্ষক প্রফেসর ড. Mohammed Abul Manchur স্যার কে তাঁর শত ব্যাস্ততার মধ্যে ও প্রতিটি ক্ষেত্রে আমাদেরকে গাইডলাইন ও সহযোগিতা দেওয়ার জন্য। আমি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করতে চাই আমাদের প্রিয় শিক্ষক প্রফেসর ড. Shafiqur Rahman স্যারকে, আমাদের পাশে থেকে সবসময় সহযোগিতা ও সাহস দেওয়ার জন্য। আমি কৃতজ্ঞতা জানাই প্রফেসর ড. তৌহিদ হোসেন স্যারকে আমাদেরকে বায়োলজিকাল সায়েন্স ফেকাল্টির মাঠ ব্যবহার করার এবং পোস্টার টাঙানোর অনুমতি দিয়ে আমাদের অনুষ্ঠান সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করার জন্য।
ধন্যবাদ জানাই ইমরানুল হক ভাইকে অনুষ্ঠানে পাশে থাকার জন্য।
কারো নাম বাদ পড়ে গেলে আমি আন্তরিক ভাবে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।
এছাড়াও আমাদের ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তা -কর্মচারীবৃন্দের
ভুমিকাও অনস্বীকার্য।
পরিশেষে বলতে চাই, এই মাইক্রোবায়োলজি বিভাগটি কারো একার নয়, এই বিভাগের সম্মানিত শিক্ষক মন্ডলী, প্রাক্তন ও বর্তমান ছাত্রছাত্রী, কর্মকর্তা - কর্মচারী প্রত্যেকের। আমি শুধুমাত্র এই ২৫ বছর অতিক্রমের সময়টিতে সভাপতি পদে দায়িত্ব গ্রহণের কারণে, এই গুরুভারটি আমার কাঁধে এসে পড়ে। আমার দায়িত্ব পালনের প্রথমদিকে এই অনুষ্ঠান করার কথা থাকলেও বিভিন্ন কারণে সেটি সম্ভব হয়ে ওঠেনি। কিন্তু যখন বিভাগ ২৫ অতিক্রম করে ২৮ বছরের দিকে ধাবিত, তখন আসলে অনেকেই দাবী করছিল এই অনুষ্ঠানের জন্য। কারণ, সময়ের অনুষ্ঠান অসময়ে করলে তার আবেদন এবং তাৎপর্য অনেকটাই কমে যায়। আর সেকারণেই অনেক প্রতিকূলতার মধ্যেও ১৬ ফেব্রুয়ারীর আমাদের এই উদ্যোগ।
আশা করি, আমাদের শিক্ষকমন্ডলী, প্রাক্তন ও বর্তমান ছাত্রছাত্রীরা অনুষ্ঠানটি প্রাণভরে উপভোগ করেছেন। কারণ, অনুষ্ঠান সম্পাদনে আর কিছু না হোক, যারা নিবেদিতভাবে কাজ করেছেন, তাদের অকৃত্রিম ভালোবাসা ছিল।
আমাদের শিক্ষকদের যারা বিভিন্ন কারণে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি, তাদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে হয়তো আরো অনেক সুন্দর ও সমৃদ্ধ করে তুলতে পারতো।
অনুষ্ঠানে হওয়া যেকোন অনিচ্ছাকৃত ভুলত্রুটির জন্য আমি সকলের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।
সবার দীর্ঘায়ু এবং সুস্হতা কামনা করছি।
আবারো হয়তো সবার সাথে দেখা হবে ভবিষ্যত কোন এক মিলনমেলায়।
সবাই ভালো থাকবেন।
প্রফেসর ড. শারমিন সুলতানা
আহবায়ক
রজতজয়ন্তী উদযাপন কমিটি ২০২৪
মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।