24/10/2019
গল্পটা প্রাণবন্ত ছাব্বিশ এর
----------------------------------------
বিবিএ, ২৬ ব্যাচ।
জুন ২০১৫, বিদ্যানিকেতন...
অরিয়েন্টেশন ক্লাস....
প্রচন্ড বৃষ্টির এক সকাল! বিজিসির পথে আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছিলো বৃষ্টির এক সকাল দিয়ে। সেই থেকেই শুরু...
বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, বিদ্যানিকেতন...
ক্লাস শুরু হওয়ার পর থেকেই রোজকার ক্লাস, এসাইনমেন্ট,পড়াশুনা,ক্লাস টেস্টের চাপেও হৈ-হুল্লোড়ের ছিলোনা কোন কমতি। ক্লাসের ব্রেকে কিংবা ছুটির পরে "এ ব্লক- বি ব্লক" এর সামনে যে জায়গাটুকুতে হাতের রঙিন ছাপ রেখে গিয়েছে সিনিয়র ভাইয়া আপুরা, সে জায়গাটুকুতেই জমে উঠতো আড্ডা৷ ছোট ছোট ধাপের সিড়ি গুলোতে সারিবদ্ধ হয়ে সবাই আড্ডা দিতো৷
আড্ডা, নতুন বন্ধুত্ব, ক্যাম্পাস এগুলোকে যখন ধীরে ধীরে মজবুত করে আকড়ে ধরছিলাম সবাই! ঝড়টা এলো ঠিক তখনই।
"ক্যাম্পাসটা ছাড়তে হবে"
অনেকেই গুজব ভেবে পাত্তা দিলোনা৷ অনেকেই ভাবলো হয়তো আমাদের ছাড়তে হবেনা প্রিয় ক্যাম্পাস৷
হঠাৎ একদিন ভিসি স্যারের জরুরী মিটিং...স্টুডেন্ট দের নিয়ে। বুঝতে বাকি রইলোনা৷ এবার ক্যাম্পাসটা ছাড়তেই হবে৷
সেদিন স্যার অনেক ভালোবাসা দিয়ে বুঝিয়েছেন আমাদের৷ অনেক সুযোগ সুবিধা পেতে যাচ্ছি আমরা! এ ক্যাম্পাস ছাড়তে হলেও, বিদ্যানগরে থাকবেনা আমাদের জন্য কোন কমতি৷ বিদ্যানগর এক সবুজে ঘেরা বিশ্ববিদ্যালয়। বিদ্যানিকেতন থেকে অনেক গুণ বিশাল...!
কিন্তু সেই সবুজে ঘেরা বিশাল ক্যাম্পাসের সৌন্দর্যের লোভ আমাদের কারোরই হয়নি, কারন ভালোবাসা আর হাজার স্মৃতি জমে গিয়েছিলো বিদ্যানিকেতনের সাথেই৷
এ ব্লক,বি ব্লক, সেই ক্যান্টিন, সেই গুছানো লাইব্রেরী....কিছুই স্মৃতির পাতা থেকে এখনো মুছে যায়নি৷
তৃতীয় সেমিস্টারের মিড টার্ম পরীক্ষার আগেই আমরা বড় ভাইদের ফেয়ারওয়েলের মাধ্যমে সে ক্যাম্পাস ত্যাগ করি। সেদিনের অনুভূতি কারো ভাষায় প্রকাশের মত ছিলোনা৷ প্রিয় ক্যাম্পাসের প্রতিটা ইট পাথর ও আপন লাগছিলো....!
সত্যি বলতে সেদিন বড় ভাইদের বিদায় দেয়া হয়নি৷ বিদায় আমরা সকলেই নিয়েছিলাম আমাদের প্রিয় ক্যাম্পাস থেকে৷ প্রতিদিন ছেলে মেয়েদের হাসি,আড্ডায় মেতে থাকা ক্যাম্পাসটি সেই একদিনেই নিরব হয়ে গেলে ভুতুড়ে বাড়ির মত....!
...............
..বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, বিদ্যানগর...
সবুজে ঘেরা একটি ক্যাম্পাস। যেমনটা স্যার বলেছিলেন, তেমনটাই সবুজে ঘেরা...প্রতিটি ডিপার্টমেন্টের আলাদা আলাদা বিল্ডিং...সবুজ বৃক্ষ...লেক...! সব মিলিয়ে বুঝার ই উপায় ছিলোনা যে এটি কোন "প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়"৷ এত বিস্তৃত জায়গা জুড়ে কোন প্রাইভেট ভার্সিটি হয় না....! কিন্তু আমরা পেয়েছি৷ আমাদের সৌভাগ্যে।
এক দিকে সিটি ক্যাম্পাস হারানোর ব্যাথা, অন্য দিকে নতুন ক্যাম্পাসে নিজেদেরকে মানিয়ে নিয়ে সিটি ক্যাম্পাসের চেয়েও বেশি ভালোবাসতে পারার চেষ্টা...সব মিলিয়ে সবাই এলোমেলো ছিলাম বেশ অনেকটা দিন...কারন আমাদের নতুন ক্যাম্পাসের শুরুর দিনটাই ছিলো মিড টার্ম পরীক্ষা দিয়ে...!
ধীরে ধীরে মানিয়ে নিয়েছিলাম নিজেদের...
লম্বা বাস জার্নি, এসাইনমেন্ট, ক্লাস টেস্ট, ক্লাস শেষে আড্ডা, লেকের পাড়ের শীতল বাতাসে বাস জার্নির ক্লান্তি দূর করে নেওয়া, ক্যান্টিনে আড্ডা সব মিলিয়ে আবারো জেগে উঠেছিলো আমাদের চাঞ্চল্য, আড্ডা....!
সিটি আর মেইন ক্যাম্পাস মিলিয়ে এভাবে চারটি বছর আমরা পার করে দিলাম কখন তা টেরই পেলামনা৷
বিদ্যানিকেতনকে তো সেই আড়াই বছর আগেই বিদায় দিয়েছিলাম৷ বিদ্যানগরকেও ছাড়তে হলো হাজার হাজার স্মৃতি মনের মধ্যে জমিয়ে রেখে...
............
স্মৃতিময় চারটি বছর আর ভার্সিটি থেকে পাওয়া বন্ধুদের কখনোই ভুলার নয়৷
শেষ দিনটিতে একে অপরকে বিদায় জানিয়ে দিনটিকে ক্যামেরার ফ্রেমে আবদ্ধ করে রাখতেই স্মৃতিময় আরেকটি দিনের সৃষ্টি হয়ে গেল......!
SIGNATURE DAY OF BBA 26 BATCH
19.10.2019
Caption credit goes to Afsan Ara