24/07/2026
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কিভাবে প্রতিষ্ঠা হলো?
শেয়ার না করে পারলাম না!
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ইতিহাস
➡️ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা কেবল একটি প্রশাসনিক ইতিহাস নয়; এটি চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের শিক্ষাবঞ্চনা দূর করার আকাঙ্ক্ষা, বুদ্ধিজীবী সমাজের উদ্যোগ এবং ধারাবাহিক গণদাবি ও আন্দোলনের ফল। দেশের বন্দরনগরী চট্টগ্রাম বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও দীর্ঘদিন উচ্চশিক্ষার জন্য এ অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের ঢাকাসহ দূরবর্তী শহরের ওপর নির্ভর করতে হতো। ফলে চট্টগ্রামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি ধীরে ধীরে একটি শক্তিশালী সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ নেয়।
➡️ প্রাথমিক দাবি: ১৯৪০–১৯৪২
চট্টগ্রামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার চিন্তা ১৯৬০-এর দশকে হঠাৎ সৃষ্টি হয়নি। এর শিকড় আরও আগে। ১৯৪০ সালের ২৮ ডিসেম্বর কলকাতায় অনুষ্ঠিত অল ইন্ডিয়া জামিয়াতে উলামায়ে হিন্দের সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা মুনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী চট্টগ্রামে একটি ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করেন। তিনি আনোয়ারা উপজেলার দিয়াং পাহাড় এলাকায় এ উদ্দেশ্যে জমিও সংগ্রহ করেছিলেন।
➡️ মুনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী, আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ, চট্টগ্রামের সমাজকর্মী ইউসুফ আলী (পূর্বকোণ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা) ১৯৪০ সাল থেকে বারবার ঢাকার পরেই চট্টগ্রামে একটা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার যৌক্তিকতা তুলে ধরে তার জন্য ব্রিটিশ সরকারের কাছে দাবী জানিয়ে আসছিলেন।
এরপর ১৯৪২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বঙ্গীয় আইন পরিষদের সদস্য নুর আহমদ চট্টগ্রামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে আইন পরিষদে উত্থাপন করেন। এটি ছিল চট্টগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবির অন্যতম প্রাথমিক প্রাতিষ্ঠানিক প্রকাশ।
➡️ ১৯৬০-এর দশকে দাবি নতুন গতি পায়
পাকিস্তানের দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (১৯৬০-৬৫)-এর সময় তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে একটি ‘সায়েন্স ইউনিভার্সিটি’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে চট্টগ্রাম সরকারি কলেজের এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কথা বিবেচনা করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে স্থান নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিলে চট্টগ্রামের শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়।
➡️ এই প্রেক্ষাপটে ১৯৬১ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আন্দোলন পরিষদ গঠিত হয়। বিশিষ্ট সমাজসেবী বাদশাহ মিয়া চৌধুরী ছিলেন এর সভাপতি এবং চট্টগ্রাম সিটি কলেজের অধ্যাপক আহমদ হোসেন ছিলেন আহ্বায়ক। চট্টগ্রামের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বুদ্ধিজীবী ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, ড. মুহম্মদ এনামুল হকসহ অনেকে এ আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
➡️ ১৯৬১ সনের ২০ জুলাই তৎকালীন স্বরাষ্ট্র সচিব ও আইজিপি জাকির হোসেন চট্টগ্রাম সফরে এসে চট্টগ্রাম কোর্ট ভবনের একপাশে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য পছন্দ করেন। উল্লেখ্য, কোর্ট বিল্ডিং এরিয়া তার মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত ছিল। আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র চট্টগ্রামের ছেলে জাকির হোসেন এ বিশ্ববিদ্যালয়টিকে আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ধাঁচে প্রতিষ্ঠার কথা বলেছিলেন।
➡️ ১৯৬২: আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ বাঁক
১৯৬২ সালে চট্টগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলন তীব্র রূপ নেয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত ও স্থান নির্বাচন নিয়ে অসন্তোষের পর চট্টগ্রামের নাগরিক সমাজ, শিক্ষাবিদ ও ছাত্রসমাজ একত্রিত হয়। চট্টগ্রাম মুসলিম হলে একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এবং চট্টগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবির পক্ষে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করেন।
এই সময় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আন্দোলন পরিষদ আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে। একই বছরের ৩০ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র আন্দোলন পরিষদ গঠিত হয়। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি শুধু বুদ্ধিজীবী ও নাগরিক সমাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ছাত্রসমাজেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলনে পরিণত হয়।
➡️ এদিকে ১৯৬২ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় এ কে খান, ইস্পাহানী, ফজলুল কাদের চৌধুরীসহ চট্টগ্রামের সকল রাজনৈতিক নেতারা চট্টগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন।
➡️ ১৯৬২ সালে পূর্ব পাকিস্তানের জনশিক্ষা বিভাগের উপপরিচালক মোহাম্মদ ফেরদৌস খান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার একটি প্রাথমিক পরিকল্পনা প্রস্তুত করেন। ১৯৬৩ সালে ফেরদৌস খানের পরিকল্পনার উপর ভিত্তি করে একটা feasibility study হয়। ব্রিটিশ আমল থেকেই বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির দুটো অঞ্চল শিক্ষা দীক্ষায় সবচেয়ে বেশী অগ্রসর ছিল। এর একটি ঢাকার বিক্রমপুর, অন্যটি চট্টগ্রামের পটিয়া। চট্টগ্রামে বিভাগীয় সদর দপ্তর, বিরাট সামুদ্রিক বন্দর ও কর্মব্যস্ত শিল্পাঞ্চল থাকায় চট্টগ্রাম জেলায় প্রতিষ্ঠার সুপারিশ হয়, কুমিল্লাকে বিকল্প হিসেবে রাখা হয়।
➡️ ১৯৬৩ সালের ডিসেম্বরে, মন্ত্রীপরিষদের বৈঠকে, তৎকালীন পাকিস্তান সরকার পূর্ব পাকিস্তানের চট্টগ্রাম অঞ্চলে (চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা) একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করার জন্য নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নেয়। চট্টগ্রামে ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের আন্দোলন তীব্রভাবে চলমান। তাছাড়া কুমিল্লার কোর্টবাড়িকেও সম্ভাব্য স্থান হিসেবে তখন বিবেচনা করা হচ্ছিল। সিলেট অঞ্চলটি তুলনামূলক অনগ্রসর হওয়ায় শুরুতেই বাদ পড়ে যায়।
চট্টগ্রামের দাবী অবশ্যম্ভাবী হওয়া সত্ত্বেও সেসময় বিশ্ববিদ্যালয়টি কুমিল্লায় স্থাপনের জোর প্রচেষ্টা হয়েছিল, চট্টগ্রামে না করে কুমিল্লায় করার জন্য জোর তদ্বির করেন প্রাদেশিক শিক্ষামন্ত্রী মফিজ উদ্দিন।
স্বরাস্ট্র সচিব ও পুলিশের আইজিপি জাকির হোসেন সেসময় আমলা হিসেবে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, তিনি feasibility study এর বিভিন্ন দিক তুলে ধরে চট্টগ্রামে প্রতিষ্ঠা করার যৌক্তিকতা তুলে ধরেন।
➡️ পরবর্তীতে, পাকিস্তানের মন্ত্রিপরিষদে সিদ্ধান্ত হয় পূর্ব পাকিস্তানের যেই জেলা চলমান মাসের ৩০ তারিখের ভিতরে ৩০ লক্ষ রুপি সরকারি কোষাগারে জমা করতে পারবে, সেই জেলায় পাকিস্থান গভর্নমেন্ট বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করবে (সূত্রঃ চট্টগ্রামের সাবেক মন্ত্রী এবং শিল্পপতি জনাব একে খান স্মারক বইতে বিস্তারিত লেখা আছে)।
চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী এবং সাংবাদিক এবং রিয়াজউদ্দিন বাজারের স্বত্বাধিকারী রফিক উদ্দিন সাহেব এবং এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়, এবং সেই কমিটি ১৩ লক্ষ রুপির মত ফান্ড কালেকশন করে, তারপরে কমিটির নেতৃবৃন্দ জনাব একে খান সাহেবের সাথে দেখা করে, খান সাহেব সবার কথা শুনে তাৎক্ষণিক ১৭ লক্ষ রুপির চেক কমিটির নেতৃবৃন্দের কাছে হস্তান্তর করেন, এবং নির্দেশ দেন আগামীকাল বারোটার ভিতরে যেন সরকারি কোষাগারে এই রুপি জমা করে দেন। ৩০ লক্ষ রুপি জমা দেয়ার পর পরের সপ্তাহেই মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক কল করে প্রস্তাবটি পাস করে। যারা যারা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদনের জন্য অর্থ সহযোগিতা করেছেন সেসকল সম্মানিত লোকদের নাম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা স্মারক বইতে লেখা আছে।
🛑 অনেকেই বলেন বা বলার চেষ্টা করেন, পাকিস্তানের স্পীকার ও প্রেসিডেন্ট বিদেশ থাকায় ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট কুমিল্লার নাম কেটে চট্টগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করার আদেশ দিয়েছিলেন। এটা একটা হাস্যস্কর যুক্তি। feasibility study ছাড়া কারো কলমের এক খোঁচায় একদিনে ভার্সিটি প্রতিষ্ঠা হয় না। তাছাড়া, তিনি ১৯৬২ সালের মাঝামাঝি আইয়ুব খানের কনভেনশন মুসলিম লীগে যোগ দেন। তার আগের সময়ের কর্মকাণ্ডে তার জড়িত থাকার কোন কারণই নেই।
➡️ ১৯৬৪: অর্থ বরাদ্দ ও ভিত্তিপ্রস্তর
আন্দোলন ও রাজনৈতিক উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়টি কেন্দ্রীয় সরকারের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের দিকে এগোয়। ১৯৬৪ সালের ৯ মার্চ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের সভায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ অনুমোদিত হয়। ভাগ্যক্রমে, ওই সময়ে প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান দেশের বাইরে থাকায় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের সভাপতি হিসেবে সভাপতিত্ব করেন তৎকালীন স্পিকার ফজলুল কাদের চৌধুরী।
এরপর ১৯৬৪ সালের ২৯ আগস্ট পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি স্থাপিত হয়।
➡️ ১৯৬৫: নির্মাণ ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে এগিয়ে নিতে ১৯৬৫ সালের ৩ ডিসেম্বর অধ্যাপক এ আর মল্লিককে প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। চট্টগ্রাম শহরের নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটির একটি বাড়িতে মাত্র তিনজন কর্মচারী, একটি টাইপরাইটার ও একটি ফটোকপিয়ার নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমের সূচনা হয়।
এটি ছিল এক অর্থে প্রতীকী সূচনা-বিশাল পাহাড়, বন ও প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে যে বিশ্ববিদ্যালয় পরবর্তীকালে গড়ে উঠবে, তার প্রশাসনিক যাত্রা শুরু হয়েছিল অত্যন্ত সীমিত পরিসরে।
পরবর্তীতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মানের জন্য সরকার হাটহাজারির ফতেপুর এলাকায় কিছু জমি হকুম দখল ও অধিগ্রহণ করেছেন। এছাড়া এখানে প্রচুর খাস জায়গা ছিল, বন বিভাগেরও জমি ছিল যা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়। যার আয়তন বর্তমানে প্রায় ২৩০০ একর।
➡️ ১৯৬৬: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠা
১৯৬৬ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ জারি করা হয়। একই দিনে অধ্যাপক এ আর মল্লিককে উপাচার্যের দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং তিনি ৯ অক্টোবর ১৯৬৬ তারিখে প্রথম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
সুদীর্ঘ আন্দোলনের পর অবশেষে ১৯৬৬ সালের ১৮ নভেম্বর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয় ২৮ নভেম্বর ১৯৬৬ সালে। প্রথম দিকে কলা অনুষদের অধীনে বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস ও অর্থনীতি বিভাগে এমএ (প্রিলিমিনারি) শ্রেণিতে মোট ২০০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে পাঠদান শুরু হয়।
➡️ সবশেষে:
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা ছিল দীর্ঘদিনের একটি জনদাবির সফল পরিণতি। ১৯৪০-এর দশকে উত্থাপিত প্রাথমিক চিন্তা থেকে শুরু করে ১৯৪২ সালের আনুষ্ঠানিক দাবি, ১৯৬১ সালের আন্দোলন পরিষদ, ১৯৬২ সালের ছাত্র ও নাগরিক আন্দোলন, রাজনৈতিক উদ্যোগ, সরকারি অর্থ বরাদ্দ এবং অবশেষে ১৯৬৬ সালের প্রতিষ্ঠা-প্রতিটি ধাপ মিলেই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মের ইতিহাস গড়ে উঠেছে।
তাই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে শুধু একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে দেখলে এর পূর্ণ ইতিহাস ধরা পড়ে না। এটি চট্টগ্রামের মানুষের দীর্ঘ শিক্ষাবঞ্চনার বিরুদ্ধে একটি ঐতিহাসিক দাবি, সেই দাবিকে বাস্তবায়নের জন্য বুদ্ধিজীবী ও নাগরিক সমাজের উদ্যোগ এবং ছাত্রসমাজের আন্দোলনের সম্মিলিত ফসল। আজকের বিস্তৃত ক্যাম্পাস ও বিপুল একাডেমিক পরিসরের পেছনে রয়েছে এই দীর্ঘ সংগ্রাম ও ঐতিহাসিক পথপরিক্রমা।
সোর্সঃ বিভিন্ন জার্নাল, সরকারের ওয়েবসাইট, একে খান স্মারক বই, চট্টগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আদ্যপ্রান্ত, চবি ওয়েবপোর্টাল।
ছবিঃ AI জেনারেটেড।
সাবেক শিক্ষার্থি, চবি।
#বাংলাদেশ #চট্টগ্রাম #চট্টগ্রামবিশ্ববিদ্যালয় #চবি