22/02/2025
অরূপ দেবনাথ
Batch: 35th
তোমাকে প্রথম দেখি সরস্বতী পূজার এক মায়াবী সকালে, যেখানে রোদের নরম আলো তোমার মুখ ছুঁয়ে যাচ্ছিল। চারদিকে উলুধ্বনি, শঙ্খের ধ্বনি, আর তার মাঝেই তুমি—শান্ত, স্থির, অথচ যেন এক অনির্বচনীয় আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। তোমাকে দেখে মনে হলো, তুমি কোনো সাধারণ মানুষ নও; তুমি যেন জীবনানন্দের কবিতার সেই 'অপরূপ পুরুষ'—যার অস্তিত্বে মিশে আছে রহস্য, আলো, এবং এক গভীর ব্যঞ্জনা।
তোমার সবুজ পাঞ্জাবি যেন প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হয়ে গিয়েছিল। তুমি হাসছিলে, আর তোমার সেই হাসির মধ্যে ছিল রবীন্দ্রনাথের কবিতার মতো এক স্বর্গীয় প্রশান্তি, যেন 'ওগো তুমি, সুন্দর, অতুল'। আমি দূর থেকে তোমাকে দেখছিলাম, আর আমার মনে হচ্ছিল, তুমি নজরুলের 'সিন্ধু-পারের ওগো বন্ধু', যে দূর থেকে আকর্ষণ করে, কিন্তু কাছে আসতে দিলেই হারিয়ে যায়।
সেদিন তোমাকে দেখে বুঝেছিলাম, সৌন্দর্য কেবল চেহারায় থাকে না, সে থাকে ব্যক্তিত্বে, এক অনন্য উপস্থিতিতে। তোমার চোখের গভীরতায় ছিল সুকান্তের সেই আগুন, যা কখনো বিদ্রোহী, কখনো প্রেমিক, কখনো কবি। আর তোমার কণ্ঠস্বর? যেন শরতের বাতাসে বাজতে থাকা এক অলৌকিক সেতার—শান্ত, অথচ হৃদয়-ছোঁয়া।
আমি চেয়েছিলাম তোমার সামনে গিয়ে কিছু বলি, কিন্তু কী বলব? আমার মনে হচ্ছিল, তুমি শুধু একজন মানুষ নও, তুমি এক 'চিরন্তন কবিতা', যার প্রতিটি ছন্দ আমি পড়তে চাই, অনুভব করতে চাই। আমার হৃদয়ের কল্পনার জগতে তুমি কবে যে 'অমর কবিতার' নায়ক হয়ে গেলে, আমি জানি না।
আজও সেই পূজার দিন আমার মনে পড়ে। আজও মনে হয়, তুমি ছিলে আমার মনের এক অজানা চাওয়া, এক অসমাপ্ত কবিতার প্রথম পঙক্তি। হয়তো তুমি কখনোই জানবে না, কিন্তু আমি জানি—তুমি আমার হৃদয়ের এক মায়াবী অধ্যায়, যা কোনোদিন মুছে যাবে না।
তুমি কি জানো, এমন কিছু মানুষ থাকে, যাদের দিকে একবার তাকালেই হৃদয়ের কোনো এক কোণে চিরস্থায়ী একটি নাম লেখা হয়ে যায়? তুমি তেমনই একজন…