16/06/2026
প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে পিইউডিএস আন্তঃবিভাগ বিতর্ক প্রতিযোগিতা-২০২৬-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত
প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি (পিইউডিএস) আয়োজিত পিইউডিএস আন্তঃবিভাগ বিতর্ক প্রতিযোগিতা-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০টি বিভাগ থেকে মোট ২৪টি দল এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বিভিন্ন পর্ব শেষে আইন বিভাগ ও ইংরেজি বিভাগ ফাইনালে উন্নীত হয়। ফাইনালে ইংরেজি বিভাগ বিজয়ী এবং আইন বিভাগ রানারআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
এ উপলক্ষে ১৫ জুন ২০২৬, সোমবার, বিকেল ৩টায় প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির জিইসি মোড়স্থ ক্যাম্পাসে সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর এস. এম. নছরুল কদির। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার জনাব মোহাম্মদ ইফতেখার মনির, ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স অফিসের ডিরেক্টর জনাব সাদাত জামান খান, প্রক্টর জনাব মোহাম্মদ সোলাইমান চৌধুরী ও আইন বিভাগের চেয়ারম্যান জনাব অনুপ কুমার বিশ্বাস। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিইউডিএস-এর চিফ মডারেটর জনাব জুলিয়া পারভীন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর এস. এম. নছরুল কদির বিতর্কের গুরুত্ব ও উপকারিতা তুলে ধরে বলেন, বিতর্কের মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করা হয়, যুক্তিবোধ সৃষ্টি করা হয় ও সত্য উন্মোচন করা হয়। তিনি উল্লেখ করেন, বিতর্ক কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়; এটি যুক্তি, বিশ্লেষণ, সহনশীলতা এবং নেতৃত্ব বিকাশের অন্যতম কার্যকর মাধ্যম। একজন শিক্ষার্থীর বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে বিতর্কের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান বিশ্বে তথ্যের প্রাচুর্যের পাশাপাশি সমালোচনামূলক চিন্তা ও যুক্তিনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণের দক্ষতা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। বিতর্ক চর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ভিন্নমতকে সম্মান করতে শেখে, নিজেদের মতামত সুসংগঠিতভাবে উপস্থাপন করতে পারে এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে। প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি সবসময় শিক্ষার্থীদের সহশিক্ষা কার্যক্রমে সম্পৃক্ততার মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমি আশা করি, পিইউডিএস ভবিষ্যতেও এমন আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বুদ্ধিবৃত্তিক ও নৈতিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার জনাব মোহাম্মদ ইফতেখার মনির বলেন, বিতর্ক শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে এবং যৌক্তিক চিন্তার বিকাশ ঘটায়। শ্রেণিকক্ষের পাঠের পাশাপাশি এ ধরনের সহশিক্ষা কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম করে তোলে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সবসময় গঠনমূলক উদ্যোগকে উৎসাহিত করবে।
ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স অফিসের ডিরেক্টর জনাব সাদাত জামান খান বলেন, ভাষা ও যুক্তির সমন্বয়েই একটি সুন্দর বিতর্ক গড়ে ওঠে। বিতার্কিকরা কেবল বক্তব্য উপস্থাপন করে না, বরং সমাজ ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে চিন্তার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই চর্চা অব্যাহত থাকুক।
আইন বিভাগের চেয়ারম্যান জনাব অনুপ কুমার বিশ্বাস বলেন, আইন ও বিতর্ক উভয়ের ভিত্তিই হলো যুক্তি ও বিশ্লেষণ। বিতর্ক শিক্ষার্থীদের ন্যায়বোধ, যুক্তিশীলতা এবং নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ পেশাগত জীবনেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সভাপতির বক্তব্যে পিইউডিএস-এর চিফ মডারেটর জনাব জুলিয়া পারভীন বলেন, পিইউডিএস শিক্ষার্থীদের মধ্যে যুক্তিবাদী, মানবিক ও প্রগতিশীল চিন্তার বিকাশে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আন্তঃবিভাগ বিতর্ক প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। ভবিষ্যতেও আরও বৃহৎ পরিসরে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে আমরা আশাবাদী।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পিইউডিএস-এর মডারেটর জনাব সঞ্জয় বিশ্বাস, জনাব সাইফুদ্দিন মুন্না, জনাব ফারিয়া হোসেন বর্ষা, পিইউডিএস-এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক জনাব মু. মেহেদী রহমান, পিইউডিএস এর সভাপতি ফজল আল মাহমুদ অয়ন এবং সাধারণ সম্পাদক সিফাত নূর চৌধুরী।
অনুষ্ঠানের শেষে বিজয়ী ও রানারআপ দলের হাতে ট্রফি, ক্রেস্ট এবং সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়। প্রাণবন্ত আয়োজন ও উৎসবমুখর পরিবেশে আন্তঃবিভাগ বিতর্ক প্রতিযোগিতার সফল সমাপ্তি ঘটে।