18/07/2026
প্রেস রিলিজ
কুবিতে শিক্ষকদের ফাউন্ডেশন ট্রেনিং শুরু
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে এবং ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স সেলের ব্যবস্থাপনায় শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, আধুনিক শিক্ষাদান পদ্ধতি এবং একাডেমিক মানোন্নয়নের লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো ‘ফাউন্ডেশন ট্রেনিং ফর টিচার্স’ শীর্ষক ৭ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে, যা শেষ হবে আগামী ২৪ জুলাই।
শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল ৯টায় বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে (বার্ড) প্রশিক্ষণ কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল, মাননীয় ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান এবং আইকিউএসি’র পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সৈয়দুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফাউন্ডেশন ট্রেনিং কোর্স কো-অর্ডিনেশন কমিটির কোর্স পরিচালক ও অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাকির ছায়াদউল্লাহ খান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম বলেন, “বর্তমান বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন, উদ্ভাবন ও আন্তঃবিষয়ক গবেষণার যুগ। এ বাস্তবতায় শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা, নৈতিকতা, নেতৃত্বগুণ ও আধুনিক শিক্ষণ পদ্ধতিতে নিজেদের আরও সমৃদ্ধ করতে হবে। একজন শিক্ষক কেবল জ্ঞানদানকারী নন; তিনি শিক্ষার্থীদের আদর্শ ও অনুপ্রেরণার উৎস। তাই নিরপেক্ষ মূল্যায়ন, সময়ানুবর্তিতা, পেশাদারিত্ব এবং শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, “আমরা ‘স্টুডেন্ট ফার্স্ট’ দর্শনকে সামনে রেখে ‘স্টুডেন্ট সাপোর্ট সার্ভিস ইউনিট’ চালু করতে যাচ্ছি। এই ইউনিটের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সেবা দ্রুত সময়ে নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে খাবারের নিরাপত্তা ও গুণগত মান নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে শিক্ষার্থী-সংশ্লিষ্ট সেবা ইউনিটগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় এনে একটি সুশৃঙ্খল ব্যবস্থার মধ্যে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা আমাদের নতুন ক্যাম্পাসকে একটি ‘গ্রিন ক্যাম্পাস’ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি যাত্রা। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি আধুনিক, শিক্ষণ-শেখনকেন্দ্রিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করতে সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় কেবল জ্ঞান বিতরণের স্থান নয়; এটি জ্ঞান সৃষ্টি, উদ্ভাবন, মুক্তচিন্তা ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের কেন্দ্র। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্যপ্রযুক্তি, চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ও বৈশ্বিক পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষকদের গবেষণামুখী, প্রযুক্তি-সচেতন, নৈতিক ও শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক হতে হবে। তিনি আরও বলেন, একজন শিক্ষক শুধু পাঠদান করেন না; বরং ন্যায়পরায়ণতা, সততা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আদর্শ হিসেবে গড়ে তোলেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ ফাউন্ডেশন ট্রেনিং প্রোগ্রাম নবনিযুক্ত শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা, গবেষণা সক্ষমতা, নৈতিক নেতৃত্ব ও আধুনিক শিক্ষণ পদ্ধতিতে সমৃদ্ধ করবে এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিক্ষক হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়ক হবে।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাননীয় ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, বর্তমান সময়ের চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষকদের পাঠদান, গবেষণা ও প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক, সৃজনশীল ও সমস্যা সমাধানভিত্তিক শিক্ষাদানে গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষককে আজীবন শিক্ষার্থী হিসেবে নিজেকে নিয়মিত হালনাগাদ রাখতে হবে এবং একাডেমিক মূল্যায়নে সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা, পেশাগত সততা ও আর্থিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে। তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে নিয়মানুবর্তিতা ও আর্থিক কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা প্রতিটি শিক্ষকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। নবনিযুক্ত শিক্ষকরা এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পেশাগত উৎকর্ষ অর্জন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আইকিউএসি’র পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সৈয়দুর রহমান বলেন, উচ্চশিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে প্রাতিষ্ঠানিক অঙ্গীকার, দক্ষ শিক্ষক এবং পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা—এই তিনটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, শিক্ষকদের পেশাগত উৎকর্ষ অর্জনে ফাউন্ডেশন ট্রেনিং একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ, যা আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষাদান, গবেষণা এবং একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও বলেন, একজন শিক্ষককে পেশাদারিত্ব, সময়ানুবর্তিতা, নিরপেক্ষ মূল্যায়ন, কোর্স প্রোফাইল ও কোর্স ফাইল হালনাগাদ এবং মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নবনিযুক্ত শিক্ষকরা আরও দক্ষ, দায়িত্বশীল ও গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে সক্ষম হবেন বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মো. জাকির ছায়াদউল্লাহ খান বলেন, নবনিযুক্ত শিক্ষকদের পেশাগত উৎকর্ষ ও উচ্চশিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে ফাউন্ডেশন ট্রেনিং একটি সময়োপযোগী ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মানোন্নয়নের মূল ভিত্তি হলো প্রাতিষ্ঠানিক অঙ্গীকার, দক্ষ শিক্ষক এবং পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা। তাই শিক্ষকদের পেশাদারিত্ব, সময়ানুবর্তিতা, মানসম্মত পাঠদান, নির্ভুল মূল্যায়ন এবং কোর্স প্রোফাইল ও কোর্স ফাইল নিয়মিত হালনাগাদ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রশিক্ষণের প্রতিটি সেশন নবনিযুক্ত শিক্ষকদের দক্ষতা ও পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সফল করতে সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।
উল্লেখ্য, প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের মোট ৩০ জন শিক্ষক অংশগ্রহণ করেছেন। তন্মধ্যে ২৬ জন প্রভাষক, ৩ জন সহকারী অধ্যাপক এবং ১ জন সহযোগী অধ্যাপক রয়েছেন।
মোহাম্মদ এমদাদুল হক
ডেপুটি রেজিস্ট্রার
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়