06/09/2026
প্রতিষ্ঠাতা পরিচালকের কথা
সকল প্রশংসা সেই পরম করুণাময় আল্লাহ তা'আলার যিনি মহাবিশ্বের পরম স্বত্বাধিকারী, হিকমতের অফুরন্ত উৎস, আহকামুল হাকিমিন। যিনি মানুষকে আশরাফুল মাখলুকাত হিসেবে সম্মানিত করেছেন এবং জ্ঞান, বুদ্ধি ও নৈতিকতার অলংকারে ভূষিত করে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। অফুরান দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক মানবতার মুক্তিদূত, শেষনবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র সত্ত্বার ওপর-তাঁর স্নিগ্ধ পরিবারবর্গ ও আত্মোৎসর্গী সাহাবিদের প্রতি।
প্রায় দুই যুগ আগে পর্যটন নগরী কক্সবাজারের প্রাণকেন্দ্রে, এক দীপ্ত আশার আলো নিয়ে জন্ম নিয়েছিল "ইমাম মুসলিম ইসলামিক সেন্টার কক্সবাজার" নামক একটি আত্মিক জ্ঞানের প্রদীপ, যেখানে দ্বীনের মহত্ত্ব ও আধুনিক জ্ঞানের শুভ্রতা এক মোহময় ঐক্যে মিলিত হয়েছে। ২০০০ সালের প্রথম সূর্যোদয়ের সাথে সাথে এই প্রতিষ্ঠান তার অভিযাত্রা শুরু করে-শিক্ষা, দা'ওয়াহ ও মানবসেবার পবিত্র পথরেখা ধরে নিরবিচারে এগিয়ে চলেছে।
মানবমনে আলোর ঝলক তুলতে, দ্বীনি চেতনায় আত্মার জাগরণ ঘটাতে এবং নৈতিক ও চারিত্রিক নির্মাণে সচেষ্ট হতে "ইমাম মুসলিম ইসলামিক সেন্টার কক্সবাজার" নিজেকে প্রতিনিয়ত নবউদ্যমে আবিষ্কার করেছে। প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে, যেখানে মূল্যবোধের ক্ষয় চলছে, সেখানে দ্বীনি ও আধুনিক শিক্ষার সম্মিলিত প্রয়াস হিসেবে ২০২৩ সালে এই বিদ্যাপীঠ নতুন পরিচয়ে আত্মপ্রকাশ করে-“জামিয়াতুল ইমাম মুসলিম (রহ) কক্সবাজার" নামে।
বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানে দাওরায়ে হাদীস, তাখাসসুস এবং অনার্স পর্যায়ের পাঠক্রম সুচারুরূপে পরিচালিত হচ্ছে। সূচনা থেকেই উদ্ভাবনী চিন্তা, পবিত্র নীতিশীলতা এবং এক গভীর দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি ধাপ অগ্রগতির পথে অঙ্গীকারবদ্ধ থেকেছে।
আলহামদুলিল্লাহ, ২০২২-২৩ এবং ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে সৌদি আরবসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞ আলেম, পিএইচডি ডিগ্রিধারী ডক্টর ও ভিজিটিং প্রফেসরগণের সরাসরি তত্ত্বাবধানে ও প্রশিক্ষণে জামিয়ার শিক্ষার মান বহুগুণে সমৃদ্ধ হয়েছে। স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞ শিক্ষকদের নিরলস প্রচেষ্টায় ছাত্র ও শিক্ষক উভয়ের মধ্যেই আরবি ভাষা ও দ্বীনী বিজ্ঞানের প্রতি অনন্য এক উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে।
হাদীস বিভাগ ছাড়াও ধর্মতত্ত্ব-ভিত্তিক আরও চারটি অনুষদের সঞ্চালনা ও প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জামিয়া এখন আন্তর্জাতিক জ্ঞানভিত্তিক পরিমণ্ডলে তার শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছে। আরবি, ইসলামি ও আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানে সুদক্ষ ও প্রাজ্ঞ শিক্ষকগণের নিরলস প্রচেষ্টা ও সরাসরি তত্ত্বাবধানে কওমি ও আলিয়া ধারার এক চমৎকার সমন্বয় প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়েছে। আমাদের শিক্ষার্থীরা আজ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও সাফল্যের দ্যুতি ছড়াচ্ছে।
এই ধারাবাহিক অভিযাত্রার এক গৌরবোজ্জ্বল মাইলফলক হলো- ২০২৪ সালে মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে "শিক্ষাসনদ সমতা” (মুআদালা) স্বাক্ষর, যা এ জামেয়ার গৌরবময় ইতিহাসে এক উজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
এর ফলস্বরূপ, ২০২৫ সালে জামিয়ার প্রথম দল হিসেবে অনার্স পর্যায়ের একঝাঁক প্রতিভাবান শিক্ষার্থী মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের উদ্দেশ্যে রওনা হবে, ইনশাআল্লাহ।
এই দীপ্ত অগ্রযাত্রায় যাঁরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অবদান রেখেছেন- তাঁদের সকলের প্রতি আমি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। বিশেষভাবে স্মরণ করছি- জননন্দিত মুরব্বী প্রখ্যাত আরবি সাহিত্যিক আল্লামা মুহাম্মদ সুলতান যওক নদভী (রহ), নিবেদিতপ্রাণ দিকনির্দেশক, সর্বজন শ্রদ্ধেয় আল্লামা মুহাম্মদ ফুরকানুল্লাহ খলীল, দিকপাল আলেমে দ্বীন আল্লামা আব্দুল হালিম বুখারী (রহ), মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রফেসর, প্রাজ্ঞ গবেষক ড. জায়েদ বিন মুহাম্মদ আল-জুহানী, আল্লামা ওবায়দুল্লাহ হামজা, প্রাজ্ঞ মুফতি আল্লামা শামসুদ্দিন জিয়া, মাওলানা মুহাম্মদ সোহাইব, মাওলানা আসাদুজ্জামান, ড. মুসলিম আব্দুস সাত্তার, শায়খ আমিন নাসের আহমদ আব্দুল আলী, শায়খ আহমদ সাঈদ মাদানী, মাওলানা আবসার উদ্দিন চৌধুরী প্রমুখকে।
তাঁদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা, সহযোগিতা ও সদিচ্ছার ফলেই আজকের এই সুদৃঢ় ভিত্তি নির্মিত হয়েছে। পাশাপাশি গভীর শ্রদ্ধা জানাই মাননীয় জেলা প্রশাসক মহোদয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, পরিবেশ অধিদপ্তর, বন বিভাগ, সমাজসেবা এবং শিক্ষা অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট সকল প্রশাসনিক ও সরকারি মহলের সুহৃদ ব্যক্তিবর্গের প্রতি- যাঁদের নিরবচ্ছিন্ন সহানুভূতি ও সহযোগিতা আমাদের পথচলাকে সহজ করেছে।
বিশেষ কৃতজ্ঞতা ও স্মরণ জানাই গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম বিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা মাননীয় ড. আ. ফ. ম. খালেদ হোসেন মহোদয় এবং ধর্ম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দের প্রতি, যাঁদের প্রজ্ঞাময় নির্দেশনা ও আন্তরিক সহানুভূতি ছাড়া এই সাফল্য সম্ভব হতো না।
পরিশেষে, মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে বিনীত প্রার্থনা- তিনি যেন আমাদের সবাইকে ঈমান, জ্ঞান, স্বাস্থ্য ও নিষ্ঠার আলোয় আলোকিত করেন; দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ ও সফলতা দান করেন।
আল্লাহ আমাদের সহায় হোন- আমীন।
বিনীত
সালাহুল ইসলাম
প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক,
জামিয়াতুল ইমাম মুসলিম (রহ) কক্সবাজার।