03/09/2026
আল-আজহারের আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ কোর্সে আমন্ত্রিত হলেন আমাদের মুদিরে মুহতারাম মাওলানা জিয়াউল হক হাফিজাহুল্লাহ
বিশ্বখ্যাত আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়, মিশর আয়োজিত ১৪৪তম দাঈ, খতীব ও ইসলামিক স্কলারস প্রশিক্ষণ কোর্সে আমন্ত্রিত হয়েছেন আমাদের প্রিয় মা’হাদ আন-নিবরাসের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মাওলানা জিয়াউল হক হাফিজাহুল্লাহ।
আমরা মনে করি, আল-আজহারের মতো বিশ্ববরেণ্য ইসলামী জ্ঞানকেন্দ্র থেকে তাঁর প্রতি এই আন্তর্জাতিক আমন্ত্রণ তাঁর দীর্ঘদিনের ইলমি সাধনা, দাওয়াতি কার্যক্রম, নেতৃত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক অবদানের এক অনন্য স্বীকৃতি।
আল-আজহার শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম নয়; শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এটি ইসলামী জ্ঞান, গবেষণা, দাওয়াহ ও মননশীলতার এক বিশ্বস্ত ঐতিহ্য বহন করে আসছে।
সেই জ্ঞানভূমিতে আয়োজিত আন্তর্জাতিক এই প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশগ্রহণ মাওলানা জিয়াউল হক হাফিজাহুল্লাহর জন্য যেমন একটি সম্মানের বিষয়, তেমনি তাঁর মাধ্যমে মা’হাদ আন-নিবরাস ও আমাদের দেশও আন্তর্জাতিক পরিসরে প্রতিনিধিত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ লাভ করছে।
আমরা হজরতের এই সফরকে দেখতে চাই জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের এক উন্মুক্ত দ্বার হিসেবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত দাঈ, খতীব, ইসলামিক স্কলার ও শিক্ষাবিদদের সঙ্গে তাঁর সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ হবে।
তাঁদের দাওয়াতি পদ্ধতি, শিক্ষাব্যবস্থা, গবেষণার ধারা, প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনা, সামাজিক উদ্যোগ এবং নিজ নিজ দেশের শিক্ষা ও সংস্কৃতির ইতিবাচক অভিজ্ঞতাগুলো কাছ থেকে জানার সুযোগও তৈরি হবে।
আমাদের প্রত্যাশা, এই আন্তর্জাতিক পরিসরের অভিজ্ঞতা তাঁকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং দেশে ফিরে তিনি অর্জিত জ্ঞান, প্রজ্ঞা, অভিজ্ঞতা ও নতুন চিন্তার দিগন্তকে মা’হাদ আন-নিবরাসের শিক্ষা ও দাওয়াতি কার্যক্রমে কাজে লাগাবেন।
একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও প্রাতিষ্ঠানিক সাফল্যের যেসব ইতিবাচক দিক আমাদের সমাজ ও শিক্ষাব্যবস্থার জন্য উপযোগী, সেগুলোকে দেশীয় বাস্তবতার আলোকে কাজে লাগানোর নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।
আমরা আরও আশা করি, আল-আজহারের এই সফর হবে ভবিষ্যতের আরও বৃহত্তর সহযোগিতার সূচনা। মা’হাদ আন-নিবরাস ও আল-আজহারের মধ্যে গড়ে উঠবে জ্ঞান, গবেষণা ও দাওয়াহর একটি স্থায়ী সেতুবন্ধন; তৈরি হবে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা।
একজন আলেমের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পদার্পণ তখনই সার্থক হয়, যখন তাঁর অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার আলো নিজ দেশের মানুষ, প্রতিষ্ঠান ও সমাজকে আলোকিত করে।
আমরা বিশ্বাস করি, মাওলানা জিয়াউল হক হাফিজাহুল্লাহর এই সফরও তেমনই একটি কল্যাণময় অভিযাত্রা—যার সুফল ব্যক্তি থেকে প্রতিষ্ঠান, প্রতিষ্ঠান থেকে সমাজ এবং সমাজ থেকে বৃহত্তর উম্মাহর মাঝে ছড়িয়ে পড়বে, ইনশাআল্লাহ।
এই শুভক্ষণে আমরা মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করি,
আল্লাহ তাআলা তাঁর এই সফরকে কবুল ও বরকতময় করুন, তাঁকে বিশ্বের বরেণ্য আলেম ও স্কলারদের সাহচর্য থেকে সর্বোত্তম জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জনের তাওফিক দান করুন।
তাঁকে নিরাপদ ও সুস্থ রাখুন এবং পূর্ণ সুস্থতা ও সফলতার সঙ্গে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে আনুন।