23/07/2026
কুমিল্লার সনাতনী সমাজের ইতিহাসে একটি বিষয় স্পষ্ট, সংকটের প্রতিটি সময়ে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, কুমিল্লা রাজপথে নেমেছে, প্রতিবাদ করেছে এবং সনাতনীদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের প্রশ্নে আপসহীন অবস্থান নিয়েছে।
কিন্তু অত্যন্ত বিস্ময় ও দুঃখের বিষয়, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, কুমিল্লা মহানগর শাখা বিগত সরকারের সময় এবং তৎকালীন এমপি বাহারের শাসনামলে মদপূজার মতো অবমাননাকর বক্তব্যসহ বিভিন্ন অন্যায়ের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো প্রকাশ্য প্রতিবাদ বা দৃশ্যমান অবস্থান নেয়নি। এমনকি ২০২১ সালের মিথ্যা ধর্ম অবমাননার ঘটনার পরও একটি প্রতিবাদ জানানোর ন্যূনতম যোগ্যতাও তারা দেখাতে পারেনি। আজ সেই সংগঠনের সভাপতিকে রথযাত্রার ধর্মসভায় বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
আমার একটি প্রশ্ন, অমল দত্ত স্যারের কুমিল্লার সনাতনী সমাজের জন্য অবদান কী? তিনি কোন উদাহরণ সামনে রেখে রথযাত্রার মতো একটি ধর্মীয় উৎসবে কুমিল্লার সনাতনীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেবেন?
অথচ, যে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, কুমিল্লা দীর্ঘদিন ধরে সনাতনী সমাজের অধিকার রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে, প্রতিটি যৌক্তিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে এবং সংকটের সময় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে, সেই সংগঠনের নেতৃত্বকে কেন উপেক্ষা করা হলো? কেন তাদের বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হলো না? কেন আয়োজক কমিটির ব্যানার ও আনুষ্ঠানিক উপস্থাপনায় তাদের যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করা হলো না?
শুধু ঐক্য পরিষদ নয়, কুমিল্লায় সনাতনীদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় আরও অনেক সংগঠন শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে আসছে। তাদের প্রতিনিধিদের নামও আয়োজক কমিটির ব্যানারে যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত ছিল।
কুমিল্লা রথ উৎসবের আয়োজক কমিটি, ইসকন কুমিল্লা এবং সংশ্লিষ্ট সকল সংগঠনের কাছে আমরা এই বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা ও জবাব দাবি করছি।
যারা দোশর ,যারা অতীতে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে, তারা কীভাবে আজও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ, পদবি ও আসন পেয়ে যাচ্ছে?
যারা প্রকৃত অবদানকে আড়াল করে ইতিহাসকে উপেক্ষা করার চেষ্টা করছেন, তাদের এমন সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানাই।