01/10/2025
৬৩ বছরে পদার্পণ
৬২ বছরের গৌরবময় পথচলা শেষে আজ ৬৩ বছরে পদার্পণ করল বাঙলার প্রিয় বিদ্যাপীঠ—সরকারি বাঙলা কলেজ,ঢাকা।
গৌরবময় ইতিহাস ও ঐতিহ্য
বাংলা ভাষায় উচ্চশিক্ষার প্রসার ও বিকাশের লক্ষ্য নিয়ে ১৯৬২ সালের ১ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত হয় সরকারি বাঙলা কলেজ। ভাষা আন্দোলনের অগ্রণী ব্যক্তিত্ব ও তমুদ্দিন মজলিশের প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল আবুল কাশেম স্যারের হাত ধরে এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু হয়।
প্রথমদিকে নবকুমার ইন্সটিটিউটে রাতের শিফটে ক্লাস পরিচালিত হলেও ১৯৬৪ সালে কলেজটি স্থায়ীভাবে মিরপুরে স্থানান্তরিত হয়। প্রতিষ্ঠার সময় অনেক শিক্ষিত মহল বাংলা মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার বিরোধিতা করেছিল। তাঁদের ধারণা ছিল—বাংলায় পড়াশোনা করলে চাকরিক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়তে হবে, এমনকি ব্যঙ্গ করে ‘বাংলা মৌলবি’ বলেও সমালোচনা করা হতো। কিন্তু শিগগিরই বাংলা মাধ্যমে শিক্ষা জনপ্রিয়তা লাভ করে।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা কলেজ দখল করে এটিকে বধ্যভূমি হিসেবে ব্যবহার করে। কলেজের সাইনবোর্ড বদলে ‘উর্দু কলেজ’ নামকরণ করা হয় এবং নয় মাস এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি অবরুদ্ধ থাকে।
পরে ১৯৮৫ সালে কলেজটি জাতীয়করণ করা হয় এবং ‘সরকারি বাঙলা কলেজ’ নামে আত্মপ্রকাশ করে। ১৯৯৭ সালে এটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয় এবং দীর্ঘ ১৯ বছর সেইভাবে শিক্ষা কার্যক্রম চলে। অবশেষে ২০১৭ সালে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী বাঙলা কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয়।
বর্তমানে কলেজটিতে ৩টি অনুষদ ও ১৯টি বিভাগে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রয়েছে। পাশাপাশি উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় পাঠদান করা হয়। প্রায় ২৫,০০০ শিক্ষার্থী ও ৪০০ এর অধিক শিক্ষক নিয়ে ২৫ একর সবুজ-ঘেরা দৃষ্টিনন্দন ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
এই ক্যাম্পাসে রয়েছে—৮টি একাডেমিক ভবন,বিশাল খেলার মাঠ,ফুলের বাগান ও লেক,দুটি হল,তিনটি চিহ্নিত বধ্যভূমি
একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার ও মুক্তিযুদ্ধ গ্যালারি
বাংলা ভাষা ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবাহী প্রতিষ্ঠান হিসেবে সরকারি বাঙলা কলেজ আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।
#বাঙলার_৬৩