02/09/2022
পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা বৌদ্ধ সমাজে দুঃশীল খ্যাত পার্বত্য ভিক্ষুরা জন্ম লগ্ন হতে নাদঙছাড়া জাতিকে সেবা করে এসেছে। আর অন্য দিকে চাকমা বৌদ্ধ সমাজে অরণ্যচারী, শীলবান, অরহৎ খ্যাত ভিক্ষুরা ছিলেন ভোগবিলাসীর জন্য রাজ প্রাসাদ গড়তে ব্যস্ত। যখন দুঃশীল ভিক্ষুরা নাদঙছাড়া জাতিকে সুশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে আশ্রম প্রতিষ্ঠা করতে তৎপর, সেসময় অরণ্যচারী, শীলবান, অরহৎ খ্যাত ভিক্ষুরা সমালোচনা করতে ব্যস্ত, ভিক্ষু হয়ে কেন আশ্রম প্রতিষ্ঠা করবে, কেন রঙবস্ত্র পরিধেয় করে পড়ালেখা করবে ইত্যাদি তুচ্ছতাচ্ছিল্য ভাষা গালিগালাজ। যে-সময় শাসকগোষ্ঠীরা জুম্মদের নিপীড়ন, নির্যাতন, গণহত্যা করছে সেসময় দুঃশীল খ্যাত ভিক্ষুরা রাজপথে অন্যায় প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছে, সেসময় অরণ্যচারী, শীলবান, অরহৎ খ্যাত ভিক্ষুরা নাক ডাকিয়ে রাজ প্রাসাদে ঘুম দিচ্ছে, যখন পাহাড়ে অভাব অনটন দেখা দিচ্ছে, তখন দুঃশীল খ্যাত ভিক্ষুরা সেই অসহায় খেতে না পাওয়া নাদঙছাড়া জাতিকে খাবার, পোষাক যাবতীয় জিনিসপত্র পৌছে দিচ্ছে, সেসময় অরণ্যচারী, শীলবান, অরহৎ খ্যাত ভিক্ষুরা স্বর্গের লোভ, নরকের ভয় দেখিয়ে দান গ্রহণ করতে ব্যস্ত। কিন্তু নাদঙছাড়া চাঙমারা একটিবারও দুঃশীল ভিক্ষুদের অবদান স্বীকার করলেন না, কারণ এসব ভিক্ষু পূজা করলে পাপ হয়। যতক্ষণ চাকমা বৌদ্ধ সমাজ অন্ধভাবে ধর্ম বিশ্বাস করে যাবে ততদিন কখনো মুক্তি পাবে না। কারণ আমাদের নাদঙছাড়া চাঙমা জাতি অকৃতজ্ঞ জাতি।