02/05/2026
ঢাকাস্থ ত্রিপুরা শিক্ষার্থীদের ভ্রাতৃত্বের মেলবন্ধন সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে “Football Unites the World” স্লোগানকে ধারণ করে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ত্রিপুরা শিক্ষার্থী’ ও ‘ব্রাদার হাউজ’ এর যৌথ উদ্যোগে অদ্য ২ মে, ২০২৬ শনিবার সকাল ৭ ঘটিকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথ হল মাঠ প্রাঙ্গণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ত্রিপুরা পরিবার - Dhaka University Tripura Family বনাম ‘ব্রাদার হাউজ’(মিরপুর, ঢাকা) এর মধ্যকার একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত ম্যাচটি ২-২ গোলের সমতায় শেষ হয়।
প্রথমার্ধের শুরু থেকেই নিজেদের মধ্যে দেওয়া-নেওয়ার মাধ্যমে অসাধারণ খেলতে থাকেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ত্রিপুরা একাদশের খেলোয়াড়েরা। জনি, সৈকত ও শোভনের নেতৃত্বে মাঝমাঠ দখলে নিয়ে উপর্যুপরি আক্রমণ করতে থাকে স্বাগতিক দল। কিন্তু অ্যাটাকিং থার্ডে গিয়ে বারবার ব্যর্থ হয় ফরোয়ার্ড খেলোয়াড়েরা। শুরুতেই ১-০ গোলের লিড নেওয়ার সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেন স্বাগতিক দলের ফরোয়ার্ড মলয় বিকাশ ও গাঁঠি ত্রিপুরা।
অন্যদিকে কাউন্টার-অ্যাটাক থেকে লিড নেওয়ার সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি ব্রাদার হাউজ একাদশের ফরোয়ার্ড খেলোয়াড় ডমিনিক, ধন ও জুয়েল ত্রিপুরা। এরপর বেশ কয়েকবার আক্রমণ করার চেষ্টা করলেও স্বাগতিক দলের রক্ষণভাগ টপকাতে পারেননি সফরকারী দলের ফরোয়ার্ড খেলোয়াড়েরা। ফলে প্রথমার্ধে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি নবাগত গোলরক্ষক অভয়কে। প্রথমার্ধের শেষের দিকে প্রতিপক্ষের বক্সে বেশ কয়েকবার আক্রমণ করলেও সেরকম কেউই গোলরক্ষকের পরীক্ষা নিতে পারেননি ক্লিন্টন, শোভন, জনি, সুমন্তরা। তাদের দূর্বল শটগুলো হাতের মোয়ার মতো খুব সহজেই তালুবন্দি করেন সফরকারী দলের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক। ফরোয়ার্ড খেলোয়াড়দের গোল মিসের মহড়ার পর বিরতির আগে আর কোনো গোল না হলে গোলশূন্য ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় উভয় দলকে।
প্রথমার্ধে একছত্র আধিপত্য বিস্তার করা দলটি দ্বিতীয়ার্ধে এসে খেই হারিয়ে ফেলে। হঠাৎ এলোমেলো পাস আর অগোছালো ফুটবল খেলতে শুরু করে দলটি। সেই সুযোগটা ভালোভাবেই কাজে লাগায় ব্রাদার হাউজ একাদশের খেলোয়াড়েরা। অভিলাষ, নোকথাই, সত্যমনি আর গাব্রিয়েলের নেতৃত্বে মাঝমাঠ দখলে নিয়ে নেয় তারা। আক্রমণ শানাতে রাইট উইঙ্গার হিসেবে মাঠে নামেন যোসেফ ত্রিপুরা। মাঝমাঠ থেকে বাড়িয়ে দেওয়া বল নিয়ে বারংবার স্বাগতিকদের রক্ষণভাগ ভেদ করে বক্সে ঢোকার চেষ্টা করে বিপক্ষ দলের ডমিনিক, নিকেল ও যোসেফ ত্রিপুরা। ফলও পায় হাতেনাতে। রাইট ফ্ল্যাঙ্ক থেকে বাড়িয়ে দেওয়া বল নিয়ে সফরকারীদের ১-০ গোলের লিড এনে দেন ফরোয়ার্ড ডমিনিক। সাথে সাথেই গ্যালারিতে থাকা দর্শকেরা উল্লাসে মেতে উঠে। ১-০ গোলে লিড পেয়ে দলটি আরও চাঙা হয়ে ওঠে। অন্যদিকে ছন্নছাড়া দলটা ০-১ গোলে পিছিয়ে পড়ার যেন হঠা ঘুম ভাঙে.! নিজেদের রক্ষণভাগ আঁটসাঁট রেখে গোল শোধ করতে মরিয়া হয়ে ওঠে দলটি। শোভনের বাড়িয়ে দেওয়া বল নিয়ে সফরকারীদের গ্যালারি স্তব্ধ করে স্বাগতিকদের সমতায় ফেরান ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার সৈকত ত্রিপুরা। প্রতিপক্ষের গ্যালারিতে চিয়ারলিডিং করা দর্শকদের মাথায় হাত.! ১-১ সমতার পর যেন ম্যাচের প্রাণ ফিরে পেল।
সমতার পর উভয় দলই গোছানো ফুটবল খেলার চেষ্টা করে। আক্রমণ-প্রতি-আক্রমণ করতে থাকে উভয় দল। দ্বিতীয়ার্ধের শেষের দিকে থ্রো-ইন থেকে সত্যমনির বাড়িয়ে দেওয়া বল যায় ওঁৎ পেতে থাকা ফরোয়ার্ড খেলোয়াড় নিকেলের পায়ে। প্রথম টাচেই অসাধারণ হাফ-ভলিতে ২-১ করে ফেলেন বদলি খেলোয়াড় নিকেল। ব্রাদার হাউজের গ্যালারিতে উল্লাস শুরু হয় আবারও। ২-১ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর স্বাগতিক দলের খেলোয়াড়দের চোখেমুখে হতাশার ছাপ স্পষ্ট। ম্যাচে ফেরা প্রায় অসম্ভব। কারণ ঘড়ির কাঁটায় তখন নির্ধারিত সময় শেষ হতে মাত্র পাঁচ মিনিট বাকি। তারপরও হাল ছেড়ে না দিয়ে গোল শোধে মরিয়া হয়ে ওঠে। অল-অ্যাটাকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় দলটি। রক্ষণভাগে মাত্র তিনজনকে রেখে গোল শোধ করার জন্য আক্রমণভাগে যায় বাকি খেলোয়াড়েরা। নিচ থেকে বাড়ানো বল নিয়ে বক্সের বাইরে ওঁৎ পেতে থাকা জনির উদ্দেশ্যে বল বাড়ান অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার শোভন। জনি হাওয়ায় বল মারলেন। সমতায় ফেরার আশাটুকুও যেন সেখানেই শেষ হয়ে গেলো। ম্যাচ শেষ হতে মাত্র ২-৩ মিনিট বাকি তখন। দুই দলের মধ্যে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। একদল আক্রমণ করছে তো, সাথে সাথেই আর এক দল প্রতি-আক্রমণ করছে। ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে শোভনের বাড়িয়ে দেওয়া বল থেকে ২-২ করে ফেলেন সৈকত। ম্যাচের সময় তখন আর মাত্র ৯০ সেকেন্ড বাকি। ২-২ গোলের সমতার পর নিজেদের রক্ষণভাগ আঁটসাঁট রাখে উভয় দল। আর কোনো ভুল করা যাবে না। শেষ মুহুর্তে ভুল করলেই ম্যাচ থেকে ছিটকে যেতে হবে এই ভয়ে। নির্ধারিত সময় শেষে আর কোনো গোল না হওয়ায় টানটান উত্তেজনাকর ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ২-২ গোলে ড্র হয়।
উভয় দলই অসাধারণ খেলেছেন। প্রথম লেগ ২-২ গোলে ড্র হলেও দ্বিতীয় লেগে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ার আশা ব্যক্ত করেন সফরকারী দলের অধিনায়ক মাচাং অভিলাষ ত্রিপুরা। অন্যদিকে স্বাগতিক দলের খেলোয়াড়েরাও দ্বিতীয় লেগে যেকোনো উপায়ে জয় পেতে মরিয়া হয়ে আছে। দ্বিতীয় লেগে কোন দল জয় পায় দেখা যাক।
এত সুন্দর আয়োজনের জন্য ব্রাদার হাউজ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ত্রিপুরা শিক্ষার্থীদের অসংখ্য ধন্যবাদ। এই ধারা অব্যাহত থাকুক। এবং এই আয়োজনের পিছনে অক্লান্ত পরিশ্রম করা সকলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।
ঢাকাস্থ ত্রিপুরা শিক্ষার্থীদের ভ্রাতৃত্বের মেলবন্ধন অটুট থাকুক আজীবন।
প্রীতি ফুটবল ম্যাচের কিছু স্থিরচিত্র নিচে দেওয়া হলো