15/10/2026
গতকালও যে মানুষটি নিজের মেয়ের মুখে দুমুঠো খাবার তুলে দেওয়ার চিন্তায় অসুস্থ শরীর নিয়ে রাস্তায় নেমেছিলেন, আজ সেই মানুষটির পাশে দাঁড়ানোর জন্য এগিয়ে এসেছেন অসংখ্য মানুষ! 🥹❤️
গতকালের সেই ভাইরাল অটোরিকশাচালক ভাইটির গল্পটা শুনে সত্যিই মনটা ভারী হয়ে গেল।
জানা গেল, চার বছর আগে তিনি স্ট্রোক করেছিলেন। তাঁর থাকার ঘরটির অবস্থা এতটাই করুণ যে, একটু লম্বা মানুষ সোজা হয়ে দাঁড়ালেই মাথা ছাদে লেগে যায়! ঘরে নিজের মেয়েকে খাওয়ানোর মতো খাবারও ছিল না। অথচ পেটের দায়ে, সন্তানের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার তাগিদে অসুস্থ শরীর নিয়েই তাঁকে রাস্তায় নামতে হয়েছিল।
এরপর কী ঘটেছিল, তা কমবেশি সবারই জানা।
তবে গল্পটা এখানেই শেষ নয়। ❤️
আজ দেখলাম, কয়েকজন মানুষ তাঁর বাসায় গিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন। ‘পথশিশু ফাউন্ডেশন’ থেকেও তাঁর জন্য চাকরির ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানা গেছে। তাঁর কান্নাভেজা ভিডিও দেখে অসংখ্য মানুষ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে চেয়েছেন। যেহেতু অটোরিকশাটি অবৈধ, তাই সেটির পরিবর্তে অন্যভাবে তাঁকে সহযোগিতা করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কেউ কেউ আবার কয়েক মাসের বাজার করে দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন।
একবার ভাবুন তো, মাত্র এক দিনের ব্যবধানে একজন অসহায় মানুষের জীবনে কতটা আশার আলো ছড়িয়ে পড়েছে!
গতকাল যিনি হয়তো ভাবছিলেন, আজ মেয়েটার মুখে কী তুলে দেবেন, সেই মানুষটির পাশে দাঁড়ানোর জন্য আজ এত মানুষ এগিয়ে এসেছেন। তাঁর কষ্ট হয়তো একদিনে শেষ হয়ে যাবে না, কিন্তু নতুন করে বাঁচার, ঘুরে দাঁড়ানোর একটা আশা তো তৈরি হয়েছে!
জীবন কখনো কখনো এমন এক মোড়ে এনে দাঁড় করায়, যেখানে সামনে আর কোনো পথ আছে বলে মনে হয় না। অথচ আমরা জানি না, ঠিক সেই মুহূর্তেই আল্লাহ আমাদের জন্য নতুন কোনো পথ তৈরি করে রেখেছেন কি না।
আমরা অনেক সময় একটা দরজা বন্ধ হয়ে যেতে দেখে ভেঙে পড়ি। মনে করি, সব শেষ! আর বুঝি কিছুই বাকি নেই। অথচ আমরা তো ভবিষ্যৎ জানি না। যে দরজাটা বন্ধ হয়ে যাওয়াকে আজ আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় দুর্ভাগ্য মনে হচ্ছে, হয়তো একদিন সেটার জন্যই আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করব।
এই ভাইটির গল্প আমাদের আবারও মনে করিয়ে দিল, মানুষের জীবনে পরিবর্তন আসতে খুব বেশি সময় লাগে না। কখনো কখনো মানুষের একটু সহানুভূতি, একটু ভালোবাসা আর কিছু মানুষের এগিয়ে আসাই হতাশার অন্ধকারে আশার আলো জ্বালিয়ে দিতে পারে।
তাই কারও বিপদের দিনে তাঁকে অসহায় ভেবে অবহেলা করবেন না। আর নিজের বিপদের দিনেও আশা হারাবেন না। আজ আপনি হয়তো কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু আগামীকাল কী অপেক্ষা করছে, তা আপনি জানেন না।
আল্লাহর ওপর ভরসা রাখুন। তাঁর রহমত থেকে কখনো নিরাশ হবেন না।
হয়তো আজকের কান্নাটাই একদিন আপনার হাসির গল্প হয়ে উঠবে। হয়তো আজ যে পথটাকে শেষ মনে হচ্ছে, কাল সেই পথ থেকেই শুরু হবে আপনার জীবনের নতুন অধ্যায়।
আর সামর্থ্য থাকলে বিপদে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ান। কারণ, আপনি জানেন না, আপনার সামান্য সহযোগিতাই হয়তো কারও জীবনে নতুন করে বাঁচার সাহস জোগাবে।
আল্লাহর পরিকল্পনা আমরা বুঝতে পারি না, কিন্তু তাঁর রহমতের দরজা কখন, কীভাবে খুলে যায়, তা তিনি ঠিকই জানেন।
আল্লাহ এই ভাইটির কষ্ট দূর করে দিন, তাঁর পরিবারকে ভালো রাখুন এবং যাঁরা তাঁর পাশে দাঁড়াচ্ছেন, তাঁদের উত্তম প্রতিদান দিন। আমিন। 🤲❤️
তবে আরেকটা বিষয়, শুধু এই ভাইটি ভাইরাল হইছে দেখেই তার জন্য অনেকেই এগিয়ে আসছে। তার মত এমিব অনেক মানুষ আছে তাদের পাশেও আমাদের এগিয়ে আসা উচিত।। ধন্যবাদ।।
Nur Nishat