06/07/2026
একটি পারিবারিক ও সামাজিক শালিস বৈঠকে একজন প্রবাসী স্বামী তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অ*ভিযোগ তুলে ধরেন। তার দাবি, দীর্ঘদিন বিদেশে কঠোর পরিশ্রম করে পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়ার চেষ্টা করলেও দেশে ফিরে তিনি পান ভাঙা সংসার, হারিয়ে যাওয়া সম্পদ এবং বিশ্বাসের গভীর সংকট।👈
স্বামীর ভাষ্য অনুযায়ী, বিদেশে থাকার সময় থেকেই তাদের দাম্পত্য সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হতে থাকে। একপর্যায়ে তিনি বুঝতে পারেন, সংসার টিকিয়ে রাখা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। দেশে ফিরে তিনি দেখতে পান, ঘর থেকে নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার, স্টিলের আলমারিসহ বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র আর নেই।👈
শালিস বৈঠকে তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার স্ত্রীর অন্য একজনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। তার দাবি, বিষয়টি জানতে পেরে তার মা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং পরে অসুস্থ হয়ে মারা যান। তবে স্ত্রী এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার শাশুড়ি আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন এবং মৃত্যুর কারণ সেটিই।👈
আর্থিক বিষয়েও প্রবাসী স্বামী একাধিক দাবি তুলে ধরেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি প্রায় ১৬ লাখ টাকা ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছিলেন। দোকান বিক্রির পর প্রায় ৫ লাখ টাকা স্ত্রীকে দেন, আরও প্রায় ২ লাখ টাকা পারিবারিক বিভিন্ন প্রয়োজনে ব্যয় করেন এবং স্ত্রীর জন্য স্বর্ণালঙ্কারও কিনেছিলেন। কিন্তু তার অভিযোগ, এত ত্যাগ ও পরিশ্রমের যথাযথ মূল্য তিনি পাননি।👈
তিনি আরও বলেন, যদি স্ত্রী তার সঙ্গে সংসার করতে না চান, তাহলে সম্মানের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের মাধ্যমে সম্পর্কের ইতি টানা উচিত। তার অভিযোগ, স্ত্রী সংসারও করছেন না, আবার বিচ্ছেদও দিচ্ছেন না—ফলে তিনি দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তা ও মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে রয়েছেন।✍️
অন্যদিকে, শালিস বৈঠকে স্ত্রী এসব অভিযোগের কয়েকটি অস্বীকার করেন এবং নিজের বক্তব্য তুলে ধরার চেষ্টা করেন। উপস্থিত শালিসকারীরা উভয় পক্ষের কথা শুনে বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা করেন। তবে এই বৈঠকে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে প্রমাণিত হয়েছে—এমনটি বলা যায় না।✍️
প্রবাস জীবন বাইরে থেকে যতটা সহজ মনে হয়, বাস্তবে তা অনেক বেশি কঠিন। পরিবারকে ভালো রাখা, সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়া এবং প্রিয়জনের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য হাজারো প্রবাসী প্রতিদিন রোদ, বৃষ্টি ও অমানুষিক পরিশ্রম সহ্য করেন। ঈদ, জন্মদিন কিংবা জীবনের অসংখ্য আনন্দঘন মুহূর্ত থেকেও তারা দূরে থাকেন শুধুমাত্র পরিবারের সুখের আশায়।👈
একজন প্রবাসীর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তার পরিবারের প্রতি অটুট বিশ্বাস। সেই বিশ্বাস যদি কোনো কারণে ভেঙে যায়, তাহলে ক্ষতি শুধু অর্থের নয়—ভেঙে যায় স্বপ্ন, ভালোবাসা এবং বেঁচে থাকার সাহসও।
যদি সত্যিই কোনো পরিবারে বিশ্বাসঘাতকতা, পরকীয়া বা অর্থ আত্মসাতের মতো ঘটনা ঘটে, তবে তার প্রভাব শুধু স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; সন্তানের ভবিষ্যৎ, দুই পরিবারের সম্পর্ক এবং পুরো সমাজেও এর গভীর প্রভাব পড়ে।👈
প্রবাসীরা শুধু অর্থ পাঠান না; তারা তাদের যৌবন, সময়, স্বপ্ন এবং জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান মুহূর্তগুলো পরিবারের জন্য উৎসর্গ করেন। তাই প্রতিটি সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত পারস্পরিক সম্মান, সততা ও বিশ্বাস। কারণ অর্থ আবার উপার্জন করা যায়, কিন্তু একবার ভেঙে যাওয়া বিশ্বাস ফিরে পাওয়া সবচেয়ে কঠিন।👈