21/02/2026
হিজড়াদের জন্য জামাতে তারাবীহ পড়া এবং পর্দার বিধান কী?
------
হিজড়া (খুনসা) কারা?
ইসলামি ফিকহে সাধারণত দুই ধরনের উল্লেখ পাওয়া যায়:
খুনসা (Intersex) – জন্মগতভাবে লিঙ্গ অস্পষ্ট।
মুখান্নাস / ট্রান্সজেন্ডার – জন্মগতভাবে পুরুষ বা নারী, কিন্তু আচরণ/পরিচয়ে ভিন্নতা।
রুলিং নির্ভর করে ব্যক্তি জন্মগতভাবে পুরুষ, নারী, নাকি খুনসা (ইন্টারসেক্স)—এর উপর।
জামাতে নামাজ পড়তে পারবে কি?
যদি জন্মগতভাবে পুরুষ হয়:
পুরুষদের কাতারে দাঁড়াবে।
জামাতে নামাজ পড়া জায়েজ।
যদি জন্মগতভাবে নারী হয়:
নারীদের কাতারে দাঁড়াবে।
জামাতে নামাজ পড়া জায়েজ।
(ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে নারীদের মাসাইলের মতো)
যদি খুনসা (লিঙ্গ অস্পষ্ট) হয়:
ফিকহ অনুযায়ী সাধারণত:
পুরুষদের কাতারের পেছনে,
নারীদের কাতারের আগে,
আলাদা কাতারে দাঁড়াবে।
অনেক আলেম বলেন—ফিতনা বা অস্বস্তি এড়াতে আলাদা ব্যবস্থা উত্তম।
পর্দার বিধান কী?
এখানেও জন্মগত লিঙ্গের ভিত্তিতে হুকুম হবে।
যদি জন্মগতভাবে পুরুষ:
পুরুষের সতর: নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত ঢেকে রাখা ফরজ।
নারীদের মত পূর্ণ পর্দা বাধ্যতামূলক নয়।
যদি জন্মগতভাবে নারী:
পূর্ণ শরীর পর্দা (মুখ ও হাত ছাড়া অধিকাংশ আলেমের মতে)।
নন-মাহরাম পুরুষদের সামনে পর্দা ফরজ।
যদি খুনসা:
সাধারণত অধিক সতর্কতা অবলম্বন করা হয়।
উভয় দিক বিবেচনায় বেশি পর্দা পালন করা উত্তম।
গুরুত্বপূর্ণ কথা
ইসলাম অপমান বা ঘৃণা শিক্ষা দেয় না।
রাসূল ﷺ বলেছেন, একজন মুসলিমের সম্মান রক্ষা করা ফরজ।
যদি কেউ বিভ্রান্ত অবস্থায় থাকে, তাহলে তার জন্য আলেমের সরাসরি পরামর্শ নেওয়া উত্তম। কারণ প্রত্যেক ব্যক্তির অবস্থা একরকম নয়।