02/09/2026
1070
চিঠি দিবসের শুভেচ্ছা || 💗
প্রিয় প্রাক্তন,
হাবিবুল্লাহ তে পড়ার সুবিধার্থে এখান থেকেই পরিচয়, একসাথে আসা যাওয়া মাঝে মাঝে আমাদের।
গতকাল আমার অনার্স পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হয়েছে। প্রথমবার এক্সাম না দেয়া, পরেরবার ইমপ্রুভমেন্ট এক্সামে ভালো পরীক্ষা দিয়েও ফেল আসা... এইবার পাস এসেছে আমার। অভিনন্দন আমি আমাকে।
একসময় হয়তো আমার জীবনের এমন আনন্দের খবর গুলো সবার আগে তোমার কাছেই যেতো। আমার সাফল্যে তুমিই সবচেয়ে বেশি খুশি হতে। কিন্তু আজ সেই জায়গাটাও নেই, সেই তোমাকে জানানোর অধিকারটুকুও নেই। হয়তো তোমার বদদোয়া পেয়েই পাস করে গেছি এবার। 😅
মাসখানেক হয়ে গেল তোমার সাথে আমার কথা বন্ধ, আমাদের সম্পর্কেরও ইতি টেনেছো তুমি। তোমার কাছে হয়তো এটা জীবনের একটা চ্যাপ্টার ছিল, কিন্তু আমার কাছে এই সম্পর্কটা আমার জীবনের অনেক বড় একটা অংশ ছিল। আমি জানি না আমার ভালোবাসা তোমার কাছে কখনো কতটা মূল্য পেয়েছিল, তবে আমি জানি আমি তোমাকে নিঃস্বার্থভাবে ভালোবেসেছিলাম। তুমি হয়তো মনে মনে আমাকে কখনো সেভাবে চাওনি, হয়তো আমাদের সম্পর্ক নিয়ে তুমি আমার মতো সিরিয়াস ছিলে না—যেটা সম্পর্কের ২ বছর শেষ মুহূর্তে আমি জানতে পারি। তোমার কাছ থেকে অনেক কথা শুনেছি যেগুলো আমাকে ভেতর থেকে ভেঙে দিয়েছে, তারপরও আমি আমাদের সম্পর্কের কথা ভেবে শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করে গেছি। শতবার তুমি আমাকে সরিয়ে দিবার চেষ্টা করেও আমি আমার ব্যক্তিত্ব কে বিলীন করে হলেও তোমাকে আগলে রাখতে চেয়েছিলাম। হয়তো সেটাই আমার বড় ভুল ছিল।
আমি যখন তোমার জীবনে ছিলাম তখন তুমি মাত্র 4th ইয়ার শুরু করেছিল। আমি পড়াশুনার পাশাপাশি একটি সাধারণ কর্পোরেট জবে ছিলাম আর পাশাপাশি ব্যাংক ও সরকারি চাকরির জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলাম। আমার বর্তমান অবস্থান হয়তো তোমার বা তোমার পরিবারের কাছে বড় কোনো চাকরি ছিল না, কিন্তু আমি থেমে ছিলাম না; নিজের ভবিষ্যৎ তৈরি করার জন্য চেষ্টা করছিলাম, নিজেকে আরও ভালো জায়গায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলাম—সেটা তুমি জানতে। আমি তোমার জন্য অনেক চেষ্টা করেছি, বরং তোমাকে নিয়েই নিজের সবকিছু গড়তে চেয়েছিলাম। আমি চেয়েছিলাম আমরা বিয়ে করে দুজন একসাথে পড়াশোনা করবো, দুজনেই নিজেদের ক্যারিয়ার গড়ার চেষ্টা করবো। আমি ব্যাংক ও সরকারি চাকরির জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাবো, তুমিও তোমার পড়াশোনা আর ক্যারিয়ারে এগিয়ে যাবে। হয়তো শুরুটা সহজ হতো না, হয়তো অনেক কষ্ট করতে হতো, কিন্তু দুজন একসাথে থাকলে সেই কষ্টগুলোও একসাথে পার করা সম্ভব ছিল। কিন্তু তুমি এগুলো আবেগ বলে চালিয়ে দিয়েছো, তোমার কাছে ক্যারিয়ার আর টাকা গুরুত্ব পেয়েছে। আমি কখনো চাইনি আমার কারণে তোমার পড়াশোনা বা ক্যারিয়ার থেমে যাক; বরং চেয়েছিলাম তোমার পাশে থেকে তোমাকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করতে আর তুমিও আমার কঠিন সময়ে পাশে থাকবে। আমরা হয়তো অনেক টাকাপয়সা নিয়ে শুরু করতে পারতাম না, কিন্তু দুজন মিলে ধীরে ধীরে নিজেদের একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ তৈরি করতে পারতাম।
আমি শুধু তোমার কাছে একটু সময় আর বিশ্বাস চেয়েছিলাম। এমনকি তোমাকে বলেছিলাম প্রয়োজন হলে বিয়ে করে দুজন কিছু সময় আলাদা থেকেও আমি নিজের ক্যারিয়ার গুছিয়ে নেবো, কিন্তু তোমাকে ছেড়ে দেবো না। আর শেষ পর্যন্ত তোমাকে এটাও বলেছিলাম, তুমি যদি সত্যিই আমাকে চাও তাহলে আমি তোমাকে নিয়ে চলে যাবো, পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক আমি তোমার পাশে দাঁড়াবো। আমি শুধু চেয়েছিলাম তুমি একবার আমার হাতটা শক্ত করে ধরে বলো, "আমি তোমার সাথে আছি।" কিন্তু তুমি সেই হাতটা ধরোনি। তুমি একবারও আমার জন্য লড়াই করোনি, সম্পর্কটা বাঁচানোর জন্য শেষবারের মতোও চেষ্টা করোনি। বাসায় জানানোর মতো সৎ সাহসটুকু তোমার কখনো হয়নি। কারণ দেখিয়েছো আমি কিনা তোমার যোগ্য নই, যোগ্য হয়ে উঠতে পারিনি । বরং তোমার এবং তোমার পরিবারের কাছে টাকাপয়সা আর পরিবারের অবস্থান আমার ভালোবাসার চেয়ে বড় হয়ে গেল।
হয়তো তোমার বাবার টাকাপয়সা, তোমার ক্যারিয়ার আর পরিবারের সামাজিক অবস্থানই বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল তাইই হয়তো তুমিও আগাও নি আমার ব্যাপার নিয়ে , বা তাদের জানানো হলো না কখনো।
তুমি সব ভুলে কি করলে, আমাকে এ জানিয়ে বিয়ে করে নিলে। ছেলে আমেরিকা থাকে, টাকা পয়সার অভাব নেই, সবাই রাজি আর তুমিও রাজি হয়ে গেলে। আমার সাথের ২ বছর কাটানো সময় গুলো সব ভুলে নতুন জীবন কে আপন করে নিলে। এই নতুন গ্র্যাজুয়েশন শেষ করা একজন কর্পোরেট চাকরিজীবী, যে নিজের ক্যারিয়ার গড়ার জন্য ব্যাংক ও সরকারি চাকরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল। একটা সাধারণ কর্পোরেট জব করি বলে হয়তো আমার চাকরিটা তোমার চোখেও তেমন কোনো জব ছিল না, কিন্তু আমি তো থেমে ছিলাম না; আমি চেষ্টা করছিলাম নিজেকে আরও ভালো জায়গায় নিয়ে যেতে—যেটা চোখ দিয়ে দেখেও নিজে না দেখার মতো করেছো।
আমি শেষ একটা আবদার করেছিলাম , আমি একবার শুধু তোমার পরিবারের সাথে দেখা করে একটু কথা বলব, আমি আমার সব তাদের বলবো, এরপরে যদি ওনারা আমাকে ফিরিয়ে দেয় আমি সব কিছু ভুলে ফিরে যাব তোমার থেকে। আমি তাদের পায়ে ধরে হলেও তোমাকে চেয়ে নিতাম বলেছি।
তুমি বলেছিলে, তুমি তো রাস্তা থেকে উঠে আসা মেয়ে না যে কিনা আমার মতো একটা ছেলে তাদের কাছে তোমাকে চাইলেই দিয়ে দিবে, এমন না কখনোই। তুমি হয়তো বুঝতে পারোনি এই কথাগুলো একজন মানুষকে ভেতর থেকে কতটা ভেঙে দিতে পারে! একটা ভালো ক্যারিয়ার গড়তে পারিনি বলে হয়তো তোমার চোখে আমি ছোট ছিলাম, কিন্তু আমার সততা, আমার পরিশ্রম, আমার অনুভূতি আর তোমার প্রতি আমার ভালোবাসা কখনো ছোট ছিল না। টাকাপয়সা দিয়ে দিয়ে মাপতে চেয়েছো আমাকে।
আমি তোমাকে দোষ দিচ্ছি না, কিন্তু এগুলো তুমি আমাকে কেনো আগে বললে না? কেনো ২ বছর পরে ? 😅 আমাকে শেষ করতে হলো এভাবে, কেনো?
তুমি হয়তো কোনোদিন জানবে না এই পুরো পরিস্থিতি আমাকে ভেতর থেকে কতটা ভেঙে দিয়েছে। দিনের পর দিন নিজেকে প্রশ্ন করেছি—আমি কি সত্যিই এতটা অযোগ্য? আমি কি সত্যিই এতটা তুচ্ছ? পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে নিজের মানসিক অবস্থাকে সামলাতে আমাকে সাইকোলজিস্টের শরণাপন্ন হতে হচ্ছে। 😅
তোমাকে হারানোর পর আমি নতুন করে নিজের ক্যারিয়ারেও ঠিকভাবে ফোকাস করতে পারছি না। গ্র্যাজুয়েশন শেষ করার পর আমার সামনে অনেক স্বপ্ন ছিল, ব্যাংক ও সরকারি চাকরির জন্য চেষ্টা করছিলাম, নিজেকে একটা ভালো জায়গায় নেওয়ার চেষ্টা করছিলাম; কিন্তু এই সম্পর্কটা ভেঙে যাওয়ার পর মানসিকভাবে এতটাই ভেঙে পড়েছি যে কোনো কিছুতেই ঠিকভাবে মন বসাতে পারছি না। আসলে তুমি এসে দেখবেনা বলে ফাঁস দিতেও জাগে না আগ্রহ। নিতে পারছিনা আর।
হয়তো তোমারও আমাকে নিয়ে হাজারও অভিযোগ আছে। কিন্তু আমার কিছুই মিথ্যে ছিল না। সবশেষ স্বীকার করে নিলাম, তোমার যোগ্য ছিলাম না আমি, তোমার যোগ্য হয়ে উঠতে পারিনি, নিজেকে যোগ্য করে তুলতে পারিনি। পারিনি আমি নিজেকে সেভাবে গড়ে তুলতে!😅💔
চিঠি দিবসের শুভেচ্ছা আবারও!! 🙂