Basic Carts

Basic Carts We Are Here For Your Need

03/09/2024
03/09/2024

Class 3 batch will run from October

যারা যারা পড়তে চাচ্ছেন শীঘ্রই যোগাযোগ করুন। শুধু মাত্র ইংরেজি ভার্সনের জন্য। শুধুমাত্র ১৫ জন করে প্রতি ব্যাচে পড়ানো হবে।
Sunday To Thursday evening 4 Pm

Call: 01850577373 (WhatsApp)

Lake city shopping mall

Know The Immortal এর সপ্তম পর্ব The ever Greatest Man "Sir Isac Newton"আধুনিক বর্ষপঞ্জি অনুসারে ১৬৪৩ খ্রিস্টাব্দের ৪ঠা জ...
25/11/2022

Know The Immortal এর সপ্তম পর্ব

The ever Greatest Man "Sir Isac Newton"

আধুনিক বর্ষপঞ্জি অনুসারে ১৬৪৩ খ্রিস্টাব্দের ৪ঠা জানুয়ারিতে আইজাক নিউটন জন্মগ্রহণ করেন। তার জন্মস্থান লিংকনশায়ারের উল্‌সথর্প ম্যানরে। ম্যানর অঞ্চলটি উল্‌সথর্প-বাই-কোল্‌স্টারওয়ার্থের মধ্যে অবস্থিত। নিউটনের যখন জন্ম হয় তখনও ইংল্যান্ডে সমসাময়িককালের আধুনিকতম প্যাপাল বর্ষপঞ্জির ব্যবহার শুরু হয়নি। তাই তার জন্মের তারিখ নিবন্ধন করা হয়েছিল ১৬৪২ সনের ক্রিস্‌মাস দিবস হিসেবে। তিনি তার পিতা আইজাকের মৃত্যুর তিন মাস পর জন্ম নেন। তার বাবা গ্রামের একজন সাধারণ কৃষক ছিলেন। জন্মের সময় নিউটনের আকার-আকৃতি ছিল খুবই ছোট। তার মা হানাহ্‌ এইসকফ প্রায়ই বলতেন ছোট্টবেলার সেই নিউটনকে অনায়াসে একটি কোয়ার্ট মগের ভিতর ঢুকিয়ে দেয়া যেতো। তার তিন বছর বয়সে তার মা আরেকটি বিয়ে করেন এবং নতুন স্বামী রেভারেন্ড বার্নাবাউস স্মিথের সাথে বসবাস করতে থাকেন। এসময় নিউটন তার মায়ের সাথে ছিলেন না। নানী মার্গারি এইসকফের তত্ত্বাবধানে তার দিন কাটতে থাকে। নিটটন তার সৎ বাবাকে পছন্দ করতে পারেননি। তার মা এই লোককে বিয়ে করেছে বলে মায়ের প্রতি তার কিছুটা ক্ষোভও ছিল। নিটটন তার ১৯ বছর বয়স পর্যন্ত করা পাপ কাজগুলোর একটি তালিকা প্রকাশ করেছিলেন। সেই তালিকা থেকে মায়ের প্রতি তার এই ক্ষোভের প্রমাণ পাওয়া যায়। তালিকায় লিখা ছিল:: "আমার বাবা ও মা-কে এই বলে ভয় দেখানো যে আমি তাদের থাকবার ঘর জ্বালিয়ে দেবো"।

নিউটনের প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন হয় বাড়ির পাশের এক ক্ষুদ্রায়তন স্কুলে। ১২ বছর বয়সে তাকে গ্রান্থামের ব্যাকরণ স্কুলে পড়াশোনার জন্য পাঠানো হয়। সেখানে তিনি এক ঔষধ প্রস্তুতকারক ও বিক্রেতার বাড়িতে থাকতেন। এই স্কুলে নিউটন ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্ব্বি যা থেকে তার মেধার পরিচয় পাওয়া যায়। প্রথমদিকে তার সাথে কেউ না পরলেও এক সময় আরেকটি ছেলে তার সাথে ভালো প্রতিযোগিতা করতে সমর্থ হয়েছিল। স্কুল জীবনের প্রথম থেকেই নিউটনের সবচেয়ে বেশি ঝোঁক ছিল বিভিন্ন ধরনের যন্ত্র তৈরির প্রতি। সেই বয়সেই তিনি উইন্ডমিল, জল-ঘড়ি, ঘুড়ি এবং সান-ডায়াল তৈরি করেছিলেন। এছাড়া তার গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণ ছিল একটি চার চাকার বাহন যা আরোহী নিজেই টেনে চালাতে পারতেন। ১৬৫৬ খ্রিস্টাব্দে নিউটনের সৎ বাবা মারা যান। এরপর তার মা উল্‌সথর্পে ফিরে এসে তাকে স্কুল থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন। উদ্দেশ্য ছিল বাড়িতে ক্ষেত-খামারের কাজ শিখিয়ে ভবিষ্যতের বন্দোবস্ত করে দেয়া। কিন্তু সত্বরই তিনি বুঝতে পারেন যে, খামারের কাজের দিকে নিউটনর কোন ঝোঁক নেই। নিউটনের চাচা ছিলেন বার্টন কগলিসের রেক্টর। এই চাচার উপদেশ শুনেই পরিবার থেকে তাকে কেমব্রিজের ট্রিনিটি কলেজে পড়াশোনার জন্য পাঠানো হয়।

ট্রিনিটি কলেজে নিউটনঃ

নিউটন ট্রিনিটি কলেজ থেকে ১৬৬১ সনে মেট্রিকুলেশন পাশ করেন। কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি তার পড়াশোনার খরচ চালানোর জন্য কলেজের বিভিন্ন স্থানে ভৃত্যের কাজ করতেন। ছাত্র হিসেবে বড় কোন কিছু তিনি করেছেন বলে ট্রিনিটি কলেজের কোন দলিলপত্র লেখা নেই। তবে জানা যায় তিনি মূলত গণিত ও বলবিজ্ঞান বিষয়ে অধিক পড়াশোনা করেছিলেন। ট্রিনিটি কলেজে প্রথমে তিনি কেপলারের আলোকবিজ্ঞান বিষয়ক সূত্রের উপর অধ্যয়ন করেন। এরপর অবশ্য তিনি ইউক্লিডের জ্যামিতির প্রতি মনোনিবেশ করেন। কারণ মেলা থেকে কেনা জ্যোতিষ শাস্ত্রের একটি বইয়ে উল্লেখিত বেশ কিছু রেখাচিত্র তিনি বুঝতে পারছিলেন না। এগুলো বোঝার জন্য ইউক্লিডের জ্যামিতি জানা থাকাটা আবশ্যিক ছিল। তা সত্ত্বেও নিউটন বইটির কিছুই বুঝতে পারছিলেন না। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি এটি অকিঞ্চিৎকর বই হিসেবে সরিয়ে রাখেন। কিন্তু পরবর্তীতে তার শিক্ষক আইজাক বারো তাকে বইটি আবার পড়তে বলেন। বইটি লেখা হয়েছিল দেকার্তের জ্যামিতিক গবেষণা ও কর্মের উপর।

স্নাতক শিক্ষা গ্রহণকালে নিউটন একটি ছোট বইয়ের তাক বা এ ধরনের কোন স্থানে তার সব বই সাজিয়ে রাখতেন। সেই তাক থেকে নিউটনের সে সময়ে লেখা বেশ কিছু নিবন্ধ পাওয়া গেছে। এই লেখাগুলোর বিষয়ের মধ্যে রয়েছে: কৌণিক বিভাজন, বক্রসমূহের বর্গকরণ,সঙ্গীতের অনন্য সুর সম্বন্ধে কিছু গাণিতিক হিসাব, ভিয়েটা এবং ভ্যান স্কুটেনের জ্যামিতিক সমস্যা, ওয়ালিস রচিত এরিথমেটিক অফ ইনফিনিটিস বইয়ের উপর কিছু মন্তব্য, গোলীয় আলোক গ্লাসের ঘর্ষণের ফলাফল, লেন্সের ত্রুটি এবং সকল ধরনের মূল বের করার সূত্র। ১৬৬৫ খ্রিস্টাব্দে স্নাতক ডিগ্রী লাভের প্রাক্কালেই নিউটন তার বিখ্যাত দ্বিপদী উপপাদ্য বিষয়ক সূত্র প্রমাণ করেন এবং একইসাথে ফ্লাক্‌সিয়নের পদ্ধতি (mathod of fluxion) আবিষ্কার বিষয়ক প্রথম তত্ত্ব প্রদান করেন। ট্রনিটি কলেজের এই দিনগুলো তার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু ১৬৬৫ সনে ক্যামব্রিজ এবং লন্ডনে প্লেগ রোগ মহামারী আকার ধারণ করে। এর ফলে কলেজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। নিউটন লিংকনশায়ারে তাদের খামর বাড়িতে ফিরে যান।

লিংকনশায়ারে গবেষণা কাজ সম্পাদনাঃ

উল্‌সথর্প ফিরে এসেও নিউটন থেমে থাকেননি। সেখানে মূলত রসায়ন এবং আলোকবিজ্ঞান বিষয়ের উপর বিভিন্ন পরীক্ষণ চালিয়ে যেতে থাকেন এবং একইসাথে চলতে থাকে তার গাণিতিক অনূধ্যানের প্রকল্পসমূহ। নিউটন তার মহাকর্ষ তত্ত্ব আবিষ্কার বিষয়ক দিনপঞ্জির সূচনা চিহ্নিত করেছিলেন এই ১৬৬৬ সনকেই, যে সনে তাকে ট্রিনিটি কলেজ ছেড়ে যেতে হয়েছিল। এ সম্বন্ধে তিনি বলেছেন:

“ একই সালে আমি চাঁদের কক্ষপথে বিস্তৃত অভিকর্ষ নিয়ে চিন্তা করতে শুরু করি,... চাঁদকে তার নিজ কক্ষপথে ধরে রাখতে প্রয়োজনীয় বল এবং পৃথিবীর পৃষ্ঠতলে বিরাজমান অভিকর্ষ বলের মধ্যে তুলনা করি এবং এই দুটি বলের মান প্রায় সমান বলে চিহ্নিত করতে সক্ষম হই। ”
একই সময়ে তিনি আলোকবিজ্ঞান বিষয়ে তার একটি মৌলিক পরীক্ষণের কাজ সম্পন্ন করেন। এই পরীক্ষণের মাধ্যমে তিনি সাদা আলোর গাঠনিক অংশসমূহ আবিষ্কারে সক্ষম হন। আলোকবিজ্ঞান বিষয়ে তার প্রাথমিক এই কাজ সম্বন্ধে নিউটন নিজেই মন্তব্য করেছেন:
এই সব কিছু আমি করেছিলাম মাত্র দুই বছর তথা ১৬৬৫ এবং ১৬৬৬ সনের মধ্যে, কারণ আমর জীবনের যেকোন সময়ের তুলনায় ওই সময়ে আমি বিশেষ উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে ছিলাম যে পর্যায়ে উদ্ভাবন এবং মনকেন্দ্রিক গণিত ও দর্শন চিন্তার বিকাশ ঘটেছিল।
আলোক বিজ্ঞান বিষয়ক গবেষণা সম্পাদনাঃ

১৬৬৭ সনে ট্রিনিটি কলেজ পুনরায় খোলা হয়। এবার কলেজ নিউটনকে ফেলো নির্বাচিত করে এবং এর দুই বছর পর অর্থাৎ তার ২৭তম জন্মদিনের কিছুদিন আগে তিনি সেখানকার গণিত বিভাগের লুকাসিয়ান অধ্যাপক নিযুক্ত হন। তার আগে ট্রিনিটি কলেজের এই পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন তারই বন্ধু ও শিক্ষক ডঃ বারো। তখনকার সময়ে কেমব্রিজ এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেলো হতে হলে কাউকে অবশ্যই প্রতিষ্ঠিত অ্যাংগ্লিকান ধর্মপ্রচারক হতে হতো। আবার লুকাসিয়ান অধ্যাপকদের চার্চের সাথে যোগাযোগ থাকা নিষিদ্ধ ছিল, কারণ তা বৈজ্ঞানিক গবেষণার ক্ষতি করতে পারে। নিউটন লুকাসিয়ান অধ্যাপক হওয়ার সময় এই শর্ত থেকে নিজে অব্যাহতি চান। তখনকার রাজা চার্লস ২ তার দাবী মেনে নিয়ে তাকে অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত করেন। এতে অ্যাংগ্লিকানদের সাথে নিউটনের ধর্মীয় চিন্তাধারার বিরোধের অবসান ঘটে। এরই মধ্যে ১৬৬৮ খ্রিস্টাব্দে নিউটন একটি প্রতিফলন দূরবীক্ষণ যন্ত্র তৈরি করে ফেলেছিলেন। ১৬৭১ সনের ডিসেম্বরে নিউটন দ্বিতীয় আরেকটি দূরবীন তৈরি করে রয়েল সোসাইটিকে উপহার দেন। এর দুই মাস পর রয়েল সোসাইটির একজন ফেলো হিসেবে তিনি আলো সম্বন্ধে তার আবিষ্কারসমূহ প্রচার করেন এবং এর মাধ্যমে আলো সম্বন্ধে একটি বিতর্কের সূচনা করেন। অনেক বছর ধরে এই বিতর্ক অব্যাহত ছিল।
এই বিতর্কে অংশ নিয়েছিলেন রবার্ট হুক, লুকাস, লিনাস পাউলিং এবং আরো অনেকে। নিউটন অবশ্য এ ধরনের বিতর্ককে সবসময়ই বিস্বাদ জ্ঞান করতেন। আলো সম্বন্ধে এতো গুরুত্বপূর্ণ একটি তত্ত্বের পক্ষে অবস্থাননিয়ে একটি বিতর্কের জন্ম দেয়ার জন্য তিনি নিজের প্রজ্হাকেই দোষারোপ করতেন। আলোক বিজ্র্ঞান সম্বন্ধে তার গবেষণাপত্রসমূহের অধিকাংশই ১৬৭২ সন থেকে ১৬৮৪ সনের মধ্যে রয়েল সোসাইটি থেকে প্রকাশিত হয়। তার এই গবেষণাপত্রগুলোই ১৭০৪ সনে তার অপটিক্‌স নামক গ্রন্থে সংকলিত হয়েছিল।
প্রিন্সিপিয়া ম্যাথামেটিকা প্রকাশ সম্পাদনাঃ

প্রিন্সিপিয়া ম্যাথামেটিকা বইয়ের ছবি
১৬৮৪ সনের পূর্বে নিউটন মহাকর্ষ সম্বন্ধে তার গবেষণাকর্মগুলো প্রকাশের তেমন কোন তাগিদ অনুভব করেন নি। এর মধ্যে হুক, এডমুন্ড হ্যালি এবং স্যার ক্রিস্টোফার রেন মহাকর্ষ সম্বন্ধে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু তত্ত্ব বা তথ্য আবিষ্কার করেছিলেন যদিও তারা কেউই গ্রহের কক্ষপথ সম্বন্ধে কোন সুনির্দিষ্ট তত্ত্ব প্রদানে সক্ষম হন নি। ঐ বছর বিজ্ঞানী এডমুন্ড হ্যালি এ বিষয়টি সম্বন্ধে নিউটনের সাথে কথা বলেন এবং এই দেখে অবাক হন যে নিউটন বিষয়টি এতোদিনে সমাধান করে ফেলেছেন। নিউটন হ্যালির কাছে চারটি উপপাদ্য এবং সাতটি সমস্যা প্রস্তাব করেন যেগুলো তার গবেষণা কাজের মূল অংশ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আসছে। ১৬৮৫ এবং ১৬৮৬ সালের মধ্যেপ্রায় সতের-আঠারো মাস জুড়ে তার লেখা সবচেয়ে বিখ্যাত গ্রন্থ তথা ফিলোসফিয়া ন্যাচারালিস প্রিন্সিপিয়া ম্যাথামেটিকা রচনা করেন যার ইংরেজি নাম দেয়া হয় Mathematical Principles of Natural Philosophy। এই গ্রন্থের তিনটি অংশ আছে। নিউটন তৃতীয় অংশটিকে সংক্ষিপ্ত করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু হ্যালি তাকে তৃতীয় অংশটি বিস্তারিত লেখার ব্যাপারে উৎসাহিত করেন। রয়েল সোসাইটি গ্রন্থটি প্রকাশের অর্থ সংকুলানে অপারগতা প্রকাশ করে। এবারও হেলিই এগিয়ে আসেন। তিনি বইটি প্রকাশের সমস্ত ব্যয়ভার বহন করেন এবং এর ফলে ১৬৭৮ সনে পদার্থবিজ্ঞান ও গণিতের ইতিহাসে অবিস্মরণীয় এই বইটি প্রকাশিত হয়। প্রকাশের পর সমগ্র ইউরোপ জুড়ে এটি বিপুল সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। এরই ধারাবাহিকতায় তখনকার সময়ের সবচেয়ে বিখ্যাত বিজ্ঞানী হিসেবে খ্যাত ক্রিশ্চিয়ান হাইগেন্‌স ১৬৮৯ সনে নিউটনের সাথে ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ করার জন্য ইংল্যান্ডে যান।

সরকারি চাকরি ও ধর্মতত্ত্ব বিষয়ে গবেষণা সম্পাদনাঃ

প্রিন্সিপিয়া গ্রন্থে উল্লেখিত মূলনীতিসমূহ নিয়ে কাজ করার সময়ই নিউটন বিশ্ববিদ্যালয় কার্যাবলীতে আরও সক্রিয় হয়ে উঠেন। এ সময় রাজা জেমস ২ বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বময় কর্তৃত্ব এবং আনুগত্যের শপথ অস্বীকার করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। নিউটন তার এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ ও বিলোধিতা করায় কেমব্রিজ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। রাজনীতির কাজ শেষে যখন তিনি পুনরায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে আসেন তখন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। এই অসুস্থতার কারণে ১৬৯২ - ১৬৯৩ সনে তিনি প্রায় সকল কর্মে অক্ষম ছিলেন। এর ফলে তার সহকর্মী ও বন্ধু-বান্ধবের মাঝে প্রভূত উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছিল। রোগ থেকে আরোগ্য লাভের পর তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ত্যাগ করে সরকারের জন্য কাজ শুরু করেন। তার বন্ধু লক, রেন এবং লর্ড হালিফাক্সের সহযোগিতায় তিনি প্রথমে ১৬৯৫ খ্রিস্টাব্দে ইংলেন্ড সরকারের ওয়ার্ডেন অফ দ্য মিন্ট এবং পরবর্তীতে মাস্টার অফ দ্য মিন্ট পদে অধিষ্ঠিত হন। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি এই মাস্টার অফ দ্য মিন্ট পদেই বহাল ছিলেন।
অপর দিকে জীবনের প্রথম ভাগ থেকেই নিউটন ধর্মতত্ত্ব বিষয়ে পড়াশোনা করে আগ্রহ পেতেন। ১৬৯০ সনের আগে থেকেই তিনি ধর্মীয় ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। সে সময় তিনি লকের কাছে লেখা পত্রে এ সম্বন্ধে বিস্তারিত বর্ণনা দেন। এই পত্রটির নাম ছিল An Historical Account of Two Notable Corruptions of The Scriptures। এই পত্রটি ট্রিনিটির দুইটি প্যাসেজ বিষয়ে লেখা। এছাড়াও তিনি মৃত্যুর পূর্ব একটি পাণ্ডুলিপি লিখে যান। এর নাম Observations on the Prophecies of Daniel and the Apocalypse। এছাড়াও বাইবেলের কিছু সমালোচনা, ভাষ্য ও টীকা তিনি রচনা করেছিলেন।

শেষ জীবনঃ

জীবনের শেষ ৩০ বছর নিউটন গাণিতিক মূলনীতিসমূহের উপর খুব কমই মৌলিক অবদান রাখতে পেরেছেন।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] কিন্তু এ বিষয়ে তার উৎসাহ এবং দক্ষতার কোন অভাব তখনও ছিল না। ১৬৯৬ সালে তিনি এক রাতে একটি গাণিতিক সমস্যার সমাধান করে ফেলেন। এই সমস্যাটি বার্নোলি একটি প্রতিযোগিতায় প্রস্তাব করেছিলেন এবং এর সমাধানের সময় বরাদ্দ ছিল ৬ মাস। আবার ১৭১৬ সনে তিনি মাত্র কয়েক ঘণ্টায় একটি সমস্যার সমাধান করে ফেলেন। বিজ্ঞানী লিবনিজ এই সমস্যাটিকে ইংরেজ বিশেষজ্ঞদের জন্য রোমহর্ষক এবং দুঃসাধ্য বলে উল্লেখ করেছিলেন। এ সময় দুইটি বিষয়ে তিনি বেশ উদ্বিগ্ন ছিলেন। একটি হল তার কিছু জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার জ্যোতির্বিজ্ঞানী রয়েলের পর্যবেক্ষণের সাথে খাপ খায়নি। এ নিয়ে একটি বিতর্ক ছিল। অন্যটি হল ক্যালকুলাস আবিষ্কার নিয়ে লিবনিজের সাথে বিতর্ক ও বিরোধ। তিনি প্রিন্সিপিয়া গ্রন্থটিকে পুনরায় সংশোধন করে ১৭১৩ খ্রিস্টাব্দে এর নতুন সংস্করণ প্রকাশ করেন।

নিউটনের বৈজ্ঞানিক গবেষণাসমূহ তাকে প্রভূত সম্মান এনে দিয়েছিল। তিনি ইংল্যান্ডের বিচারালয়ে একজন জনপ্রিয় পরিদর্শক ছিলেন। ১৭০৫ খ্রিস্টাব্দে তিনি নাইট উপাধিতে ভূষিত হন। সমগ্র মহাদেশ থেকেই তার জন্য বিভিন্ন সম্মাননা এসেছিল। তখনকার নেতৃস্থানীয় সকল বিজ্ঞানীর সাথেই তার যোগাযোগ ছিল। তার সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য এতো অধিক সংখ্যক বিজ্ঞানী ও বিজ্ঞান ছাত্রের আগমন ঘটতো যে তিনি বিরক্ত হয়ে যেতেন। এতো সম্মান পেয়েও নিউটন এক সময় বিনয় প্রকাশ করেছেন। মৃত্যুর কিছুকাল পূর্বে তিনি বলেছিলেন:

“ আমি জানিনা বিশ্বের কাছে আমি কিভাবে উপস্থাপিত হয়েছি, কিন্তু আমার কাছে আমার নিজেকে মনে হয় এক ছোট বালক যে কেবল সমুদ্র উপত্যকায় খেলা করছে এবং একটি ক্ষুদ্র নুড়ি বা ক্ষুদ্রতর এবং খুব সাধারণ পাথর সন্ধান করছে, অথচ সত্যের মহাসমুদ্র তার সম্মুখে পড়ে রয়েছে যা অনাবিষ্কৃতই রয়ে গেল।
১৭২৫ খ্রিস্টাব্দের পর নিউটনের স্বাস্থ্যের ব্যাপক অবনতি ঘটে। এর ফলে একজন ডেপুটি মিন্টে তার কাজ মওকুফ করার ব্যবস্থা করে দেন। ১৭২৭ সনের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি শেষবারের মত রয়েল সোসাইটির সভাপতি হিসেবে কার্য পরিচালনা করেন। ১৭০৩ সাল থেকেই তিনি এই সোসাইটির সভাপতি ছিলেন। ১৭২৭ খ্রিস্টাব্দের ২০ মার্চ তারিখে ৮৫ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাকে লন্ডনের ওয়েস্টমিনিস্টার অ্যাবে-তে সমাধিস্থ করা হয়।

Know The Immortal এর ৬ষ্ঠ পর্বThe Unforgeable History Of Barack Obamaবারাক ওবামা এমন একজন ব্যক্তি যিনি তার সাহসিকতা দিয়...
18/11/2022

Know The Immortal এর ৬ষ্ঠ পর্ব
The Unforgeable History Of Barack Obama

বারাক ওবামা এমন একজন ব্যক্তি যিনি তার সাহসিকতা দিয়ে অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারেন। বারাক ওবামা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের 44তম রাষ্ট্রপতি। এবং প্রথম আফ্রিকান আমেরিকান যিনি এই পদে নির্বাচিত হয়েছেন। বারাক ওবামা 2008 সালে প্রথম নির্বাচনে জয়লাভ করেন, তারপর 2012 সালে জয়লাভ করেন এবং রাষ্ট্রপতি পদে নিজের স্থান বজায় রাখেন। বারাক ওবামাকে সবচেয়ে সফল প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখা হয়। বারাক ওবামা বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত।

আমেরিকান রাজনীতিবিদ এবং আইনজীবী বারাক ওবামা এর একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী । বারাক ওবামা এর জীবন রচনা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

বারাক ওবামা কে ?

বারাক ওবামা একজন আমেরিকান রাজনীতিবিদ এবং আইনজীবী যিনি ২০০৯ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৪ তম রাষ্ট্রপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সদস্য, বারাক ওবামা ছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম আফ্রিকান-আমেরিকান রাষ্ট্রপতি। বারাক ওবামা এর আগে ২০০৫ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ইলিনয় থেকে মার্কিন সিনেটর এবং ১৯৯৭ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত ইলিনয় রাজ্যের সিনেটর হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

বারাক ওবামা এমন একজন ব্যক্তি যিনি তার সাহসিকতা দিয়ে অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারেন। বারাক ওবামা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের 44তম রাষ্ট্রপতি। এবং প্রথম আফ্রিকান আমেরিকান যিনি এই পদে নির্বাচিত হয়েছেন। বারাক ওবামা 2008 সালে প্রথম নির্বাচনে জয়লাভ করেন, তারপর 2012 সালে জয়লাভ করেন এবং রাষ্ট্রপতি পদে নিজের স্থান বজায় রাখেন। বারাক ওবামাকে সবচেয়ে সফল প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখা হয়। বারাক ওবামা বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত।

ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সদস্য, বারাক ওবামা ছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম আফ্রিকান-আমেরিকান রাষ্ট্রপতি। বারাক ওবামা (Barack Obama) এর আগে ২০০৫ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ইলিনয় থেকে মার্কিন সিনেটর এবং ১৯৯৭ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত ইলিনয় রাজ্যের সিনেটর হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

বারাক ওবামার বাবা, বারাক ওবামা সিনিয়র, কেনিয়ার নানজা প্রদেশে জন্মগ্রহণ করেন। প্রথম দিকে বাবা বারাক ওবামা ছাগল পালন করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। সময় পরিবর্তিত হয়, বারাক ওবামা পড়াশোনা করার জন্য একটি বৃত্তি পেয়েছিলেন এবং তিনি তার স্বপ্ন পূরণের জন্য হাওয়াইতে গিয়েছিলেন যেখানে তিনি অ্যান ডানহামের সাথে দেখা করেছিলেন। তারা 2 ফেব্রুয়ারি, 1961 এ বিয়ে করেন, একই বছর ছোট বারাক ওবামার জন্ম হয়।

বারাক ওবামা এর পরিবারঃ

বাবার সঙ্গে বারাক বারাক ওবামার সম্পর্ক গভীর ছিল না। পিএইচডি করার জন্য তার বাবা তার কাছ থেকে দূরে চলে যান। 1964 সালে ডিভোর্সের মাধ্যমে দুজনেই আলাদা হয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত পিতামাতার মধ্যে সম্পর্কও খারাপ হতে শুরু করে। 1965 সালে, অ্যান ডানহাম দ্বিতীয়বার লোলো সোয়েটোরোকে বিয়ে করেন। বারাক ওবামার সৎ বোন 1970 সালে জন্মগ্রহণ করেন। কিছু সময় পর ওবামার পড়াশোনা নিয়ে চিন্তিত হয়ে তার মা তাকে বারাক ওবামা মামার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। কিছুদিন পর তার মাও বোনের সাথে সেখানে থাকতে শুরু করেন।

বারাক ওবামা এর শিক্ষাঃ

পিতামাতার সাথে থাকার সময় ওবামা পুনাহু একাডেমিতে ভর্তি হন। বারাক ওবামা 1979 সালে অনার্স ডিগ্রি নিয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। যেখানে কালো চামড়ার কারণে তাকে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। বাবাকে না পেয়েও তাকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। যদিও বারাক ওবামা র তার বাবার খুব কম স্মৃতি ছিল। পিতামাতার সাথে থাকার সময়, একবার তার বাবাও তার সাথে দেখা করতে এসেছিলেন, তাকে এ সম্পর্কে কিছুই বলা হয়নি।

ওবামার উচ্চ শিক্ষাঃ
হাই স্কুলের পর, বারাক ওবামা দুই বছর অক্সিডেন্টাল কলেজ লস এঞ্জেলেসে যোগ দেন। এরপর তিনি 1983 সালে কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি নিউইয়র্ক সিটি থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক হন। ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে দুই বছর কাজ করার পর, বারাক ওবামা 1985 সালে শিকাগোতে চলে আসেন, যেখানে বারাক ওবামা রোজল্যান্ড এবং অল্টগেল্ড গার্ডেন সম্প্রদায়ের নিম্ন আয়ের বাসিন্দাদের জন্য একটি সম্প্রদায় প্রতিষ্ঠা করেন। এর সংগঠক হিসেবে কাজ করেছেন

বারাক ওবামা এর প্রথম বইঃ

1995 সালে বারাক ওবামা ড্রিমস ফ্রম মাই ফাদার নামে একটি আত্মজীবনী লেখেন। এই বইটি প্রচুর প্রশংসা পাওয়ার কারণে, এটি অনেক ভাষায় লেখা হয়েছিল, এর একটি শিশু সংস্করণও লেখা হয়েছিল।

বারাক ওবামা এর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারঃ

এর পরে, তিনি সিনেটে একটি আসনের জন্য নেতৃত্ব দেন। বারাক ওবামা 1996 সালে স্বাধীনভাবে নির্বাচনে লড়াই করে জয়ী হন। জয়ের পর ওবামা দরিদ্রদের জন্য অনেক কিছু করেছিলেন। শিশুদের শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যের যত্নে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়েছিল। এর সিনেটের চেয়ারম্যান হিসেবে ওবামা অনেক বন্দিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন, তাদের ভিডিও রেকর্ড করা হয়েছিল, যাতে অনেক বন্দী নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছিল।

বারাক ওবামা র রাজনৈতিক উপদেষ্টা ডেভিড অ্যাক্সেলরডের পরামর্শে 2002 সালে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল।

এরপর ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে 9/11 সন্ত্রাসী হামলার পর ওবামা প্রকাশ্যে আসেন এবং রাষ্ট্রীয় সিনেটর হিসেবে তিনি ইরাক যুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান। তাদের ধারণা, রাজনৈতিক কৌশলে এসব হচ্ছে। এ সময় বারাক ওবামা জর্জ বুশের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। বারাক ওবামার প্রতিবাদ সত্ত্বেও, 2003 সালে ইরাকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হয়।

2004 সালে, ওবামা 52% ভোটে নির্বাচনে জয়ী হন। যেখানে তিনি বিলিয়নিয়ার ব্যবসায়ী ব্লেয়ার হাল এবং ইলিনয় কম্পট্রোলার ড্যানিয়েলকে পরাজিত করেন। যার জন্য ওবামা ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কনভেনশনে বক্তৃতা দিয়ে তার বিজয় নিশ্চিত করেছিলেন।এই ভাষণে ওবামা ঐক্যের ওপর জোর দেন এবং বুশ সরকারের অনেক ইস্যুতে আক্রমণ করেন।

2004 সালের সাধারণ নির্বাচনে ওবামা তার প্রতিপক্ষকে 70% ভোটে পরাজিত করেন। এই জয়ের মাধ্যমে ওবামা মার্কিন সিনেটে নির্বাচিত তৃতীয় আফ্রিকান-আমেরিকান হন। বারাক ওবামা 3 জানুয়ারী, 2005-এ শপথ গ্রহণ করেছিলেন।এর পরে, ওবামা রিপাবলিকান সিনেটর টম কোবার্নের সাথে একসাথে অনেক বড় কাজ করেছিলেন। বারাক ওবামা ফেডারেল ব্যয়ের রেকর্ড রাখার জন্য একটি ওয়েবসাইটও তৈরি করেছিলেন।একই সাথে ওবামা হারিকেন ক্যাটরিনা দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সাথে কথা বলে তাদের সাহায্য করেন।

অনেক ধন্যবাদ
Stay Tuned With Know The Immortal 😊

Know The immortal এর ৫ম পর্ব The greatest immoral man Steve Jobsনামটি প্রযুক্তির জগতে সবচেয়ে বিখ্যাত নামের একটি। কম্পিউট...
17/11/2022

Know The immortal এর ৫ম পর্ব

The greatest immoral man Steve Jobs

নামটি প্রযুক্তির জগতে সবচেয়ে বিখ্যাত নামের একটি। কম্পিউটার ও প্রযুক্তিকে বর্তমান অবস্থানে নিয়ে আসার পেছনে যাঁদের অবদান সবচেয়ে বেশি, তাদের মাঝে স্টিভ জবস প্রধান এক চরিত্র। এ্যাপলের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে আমরা সবাই তাকে চিনি। প্রযুক্তিতে তাঁর অবদান কারওই অজানা নয়। কিন্তু ব্যক্তি স্টিভ জবসকে আমরা কয়জন জানি? মানুষ হিসেবে কেমন ছিলেন তিনি? ছেলে হিসেবে, প্রেমিক হিসেবে, বাবা হিসেবে, ব্যবসার পার্টনার বা বন্ধু হিসেবে কেমন ছিলেন? – প্রযুক্তির গল্পের পাশাপাশি এই লেখায় এসব বিষয়ও বিস্তারিত থাকছে।

প্রযুক্তির ক্ষেত্রে তাঁর অবদান সম্পর্কে নতুন করে বলার কিছু নেই। আমরা সকলেই কম বেশি তাঁর অবদানের কথা জানি। তিনি তাঁর কাজ দিয়ে এক নতুন বিশ্ব সৃষ্টি করে গেছেন। তাঁর জীবন ছিল পৃথিবীকে বদলে দেয়ার এক বৈপ্লবিক যাত্রা। যে যাত্রার শুরু হয়েছিল তাঁর জন্মের সময় থেকেই।কিন্তু এই মহান মানুষটির অবদান বিষয়ে আমরা যতটা জানি, তাঁর ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে কি ততটা আমাদের জানা আছে?

পৃথিবীর চেহারা পাল্টে দেয়ার যাত্রায় তাঁকে কোন ধরনের ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে? কি ধরনের বাধা বিপত্তির সম্মুখীন হতে হয়েছিল তাঁকে? তাঁর পারিবারিক জীবনই বা কেমন ছিল? স্কুলে কেমন ছাত্র ছিলেন তিনি? বাবা-মায়ের সাথেই বা কেমন সম্পর্ক ছিল তাঁর? তিনি নিজেই বা কেমন বাবা ছিলেন? এ্যাপল ছাড়াও পৃথিবীর অন্যতম বড় একটি কোম্পানীর সিংহভাগ শেয়ারের মালিক ছিলেন তিনি – আপনি কি জানেন সেটি কোন কোম্পানী? মৃত্যুর আগে তাঁর শেষ কথা কি ছিল?

জবসের জীবন আসলে অনেকটাই সিনেমার গল্পের মত। এবং তাঁকে নিয়ে একাধিক সিনেমা তৈরীও হয়েছে। লেখা হয়েছে বেশ কয়েকটি বই। তবে তাঁর জীবন সম্পর্কে জানতে এই মূহুর্তে দীর্ঘ কয়েকটি সিনেমা ও মোটা মোটা বই না পড়লেও চলবে। এই প্রবন্ধ থেকেই আপনি জানবেন স্টিভ জবসের জীবনের জানা-অজানা ঘটনাবলী

স্টিভেন ‘পল’ জবস ছিলেন একজন আমেরিকান উদ্ভাবক, ডিজাইনার; এবং এ্যাপল কম্পিউটারের সহ উদ্যোক্তা, সিইও ও চেয়ারম্যান। এ্যাপল এর বিশ্বখ্যাত পন্য আইপড, আইপ্যাড, আইফোন, আইম্যাককে ধরা হয় বর্তমান আধুনিক প্রযুক্তির শুরুর ধাপ হিসেবে। এর সবগুলোর পেছনেই ছিল তাঁর সরাসরি অবদান।

জবসের জন্ম হয় ১৯৫৫ সালের ২৪শে ফেব্রুয়ারী ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন এর দুইজন গ্রাজুয়েটের সন্তান হিসেবে, যাঁরা জন্মের পরই তাঁদের ছেলেকে এ্যাডাপশন বা দত্তক এর জন্য দিয়ে দেন।

ছোটবেলা থেকেই জবস ছিলেন প্রখর বুদ্ধিমান কিন্তু লক্ষ্যহীন। কলেজ থেকে ড্রপ আউট হয়ে ১৯৭৬ সালে স্টিভ ওজনিয়াকের সাথে এ্যাপল শুরু করার আগ পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন ধরনের প্রজেক্ট নিয়ে পরীক্ষা নীরিক্ষা চালান।

১৯৮৫ সালে তিনি এ্যাপল থেকে বের হয়ে পিক্সার এ্যানিমেশন স্টুডিও শুরু করেন এবং দশ বছর পর আবার সিইও হিসেবে এ্যপলে ফিরে আসেন। ২০১১ সালে অগ্নাশয়ের ক্যান্সারের সাথে দীর্ঘ লড়াইয়ে পরাজিত হয়ে জবস মৃত্যুবরণ করেন।

মোট সম্পদঃ
২০১১ সালে ফোর্বস ম্যাগাজিনের তথ্য অনুযায়ী জবসের আনুমানিক সম্পদের পরিমান ছিল প্রায় এক হাজার দুইশ কোটি মার্কিন ডলার। এই সম্পদের বেশিরভাগই এসেছিল ২০০৬ সালে ওয়াল্ট ডিজনির কাছে পিক্সার স্টুডিও বিক্রয়ের থেকে। কিন্তু ধারণা করা হয়, জবস যদি ১৯৮৫ সালে এ্যাপল ছাড়ার সময়ে তাঁর এ্যাপলের সব শেয়ার বিক্রী না করতেন, তবে তাঁর মোট সম্পদের পরিমান দাঁড়াতো তিন হাজার ছয়শ কোটি মার্কিন ডলারের কাছাকাছি।

স্টিভ জবসকে নিয়ে প্রকাশনা ও সিনেমাঃ
এই টেক আইকনের জীবন কাহিনী থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে বেশ কয়েকটি সিনেমা তৈরী হয়েছে। যার মধ্যে ২০১৩ সালে নির্মিত ও অতি সমালোচিত ‘জবস’, এবং ২০১৫ সালে নির্মিত ও ড্যানি বোয়েল পরিচালিত ’স্টিভ জবস’ অন্যতম।

স্ত্রী এবং সন্তানঃ
১৯৯১ সালের ১৮ই মার্চে জবস লরেন পাওয়েলকে বিয়ে করেন। পাওয়েলের সাথে জবসের সাক্ষাৎ হয় ১৯৯০ সালের প্রথম দিকে স্ট্যানফোর্ড বিজনেস স্কুলে। পাওয়েল তখন সেখানে এম বি এ করছিলেন। তাঁদের তিন সন্তানের সাথে ক্যালিফোর্নিয়ার পালো আলটোতে তাঁরা বসবাস করতেন।
যদিও তিনি তাঁর পরিবার সম্পর্কে কাউকেই তেমন কিছু বলতেন না, তবে এটা জানা যায় যে লরেনের সাথে তাঁর তিন সন্তানের বাইরেও ২৩ বছর বয়সে প্রেমিকা ক্রিসান ব্রেনানের গর্ভে লিসা নামে তাঁর একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়েছিল। আদালতে অবশ্য তিনি নিজেকে সন্তান জন্মদানে অক্ষম দাবী করে লিসার পিতৃত্ব অস্বীকার করেছিলেন। ক্রিসান তাঁর জীবনের বেশিরভাগ সময়েই অর্থনৈতিক অভাবের মধ্যে ছিলেন, এবং জবস তাঁর কন্যা লিসার সাথে তার সাত বছর বয়স হওয়ার আগ পর্যন্ত কোনও প্রকার যোগাযোগ করেননি। পরবর্তীতে লিসা কিশোর বয়স থেকে বাবার সাথে থাকতে শুরু করেন।

পরিবার ও তারুণ্যঃ
দুইজন ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন গ্রাজুয়েট জোয়ান সিব্‌ল (পরবর্তীতে জোয়ান সিম্পসন) এবং আব্দুফাত্তাহ “জন” জান্দালি তাদের নামবিহীন পুত্র সন্তানকে তার জন্মের পরপরই দত্তক এর জন্য দিয়ে দেন।
জবসের জন্মদাতা পিতা জান্দালি একজন সিরিয়ান রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ছিলেন, তাঁর জন্মদাত্রী মা জোয়ান ছিলেন একজন স্পিচ থেরাপিস্ট। জবসকে দত্তক হিসেবে দেয়ার অল্প কিছুদিন পরেই এই দুইজন বিয়ে করেন এবং মোনা সিম্পসন নামে তাঁদের এক কন্যা সন্তানের জন্ম হয়
জবস তাঁর ২৭ বছর বয়সে নিজের জন্মদাতা পিতা-মাতার ব্যাপারে সব তথ্য জানতে পারেন।
সেই সময়ে জবস এবং বোন মোনা যখন পরস্পরকে খুঁজে পান, দুই ভাইবোন একটি মধুর সম্পর্ক গড়ে তোলেন। মোনা এক পর্যায়ে তাঁদের জন্মদাতা জান্দালিকে খুঁজে বের করেন। জান্দালি তখন একটি কফি শপ চালাতেন। মোনা নিজের পরিচয় না দিয়ে বাবার সাথে কথা বলেন। কথার এক পর্যায়ে জান্দালি মোনাকে বলেছিলেন – “সিলিকন ভ্যালিতে আমার এর আগে অনেক বড় একটা রেস্টুরেন্ট ছিল। (সেখানকার) সবাই সেখানে খেতে আসত। এমনকি স্টিভ জবসও প্রায়ই আসত। সে সবসময়েই মোটা বকশিশ দিতো।” – এই কথা শোনার পরও মোনা বলেননি যে এই মোটা বকশিশ দেয়া বিখ্যাত লোকটি আসলে জান্দালির ছেলে।

মোনা পরবর্তীতে তাঁর ভাইকে যখন জান্দালির কথা বলেন – জবস তাঁর বাবাকে সত্য কথা বলতে মোনাকে সোজা মানা করে দেন। জন্মদাতার প্রতি একটা অভিমান জবস সারাজীবনই পুষে রেখেছিলেন। মা জোয়ানের প্রতি অবশ্য তাঁর এই মনোভাব ছিল না। কারণ তিনি জানতে পেরেছিলেন জিন্দালির জোরাজুরিতেই আসলে জোয়ান ছেলেকে ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন।

শিক্ষাঃ
যদিও জবস সব সময়েই প্রখর বুদ্ধিসম্পন্ন ও উদ্ভাক মনোভাবের ছিলেন, তাঁর বাল্য ও কৈশর কালে তিনি কখনওই সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থায় সন্তুষ্ট ছিলেন না। কিন্ডারগার্ডেন পর্যায়ে তিনি বিরক্তি কাটাতে স্কুলে নানান ধরনের দুষ্টুমি করতেন। তাঁকে পড়াশুনা করানোর জন্য তাঁর চতুর্থ শ্রেণীর এক শিক্ষক তাঁকে ঘুষ পর্যন্ত দিয়েছিলেন।

পড়াশুনা না করলেও ফলাফল তাঁর বরাবরই ভালো ছিল এবং স্কুল কতৃপক্ষ বয়স হওয়ার আগেই তাঁর বাবা-মায়ের কাছে তাঁকে হাইস্কুলে উঠিয়ে দেয়ার প্রস্তাব রাখেন । কিন্তু পল ও ক্লারা সেই প্রস্তাবে সাড়া দেননি।

হাইস্কুল শেষ করার পর জবস পোর্টল্যান্ড, ওরিগন এ অবস্থিত রিড কলেজে ভর্তি হন কিন্তু ৬ মাসের মধ্যেই কলেজ ছেড়ে দিয়ে পরবর্তী আঠারো মাস বিভিন্ন ক্রিয়েটিভ কোর্স করেন। জবস পরবর্তীতে বলেছিলেন যে ক্যালিগ্রাফির ওপর একটি কোর্স করতে গিয়ে টাইপোগ্রাফির প্রতি তাঁর প্রথম আগ্রহ জন্মেছিল।

স্টিভ ওজনিয়াকের সাথে পরিচয় (আপেলের চারা!)ঃ

হোমস্টেড হাইস্কুলে ভর্তির সময়ে জবস তাঁর ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক অংশীদার ও এ্যাপল কম্পিউটারের সহ উদ্যোক্তা স্টিভ ওজনিয়াকের সাথে পরিচিত হন। ওজনিয়াক তখন ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার ছাত্র ছিলেন।

কেন তিনি এবং জবস এত ভালভাবে একসাথে কাজ করতে পেরেছিলেন তা ওজনিয়াক ২০০৭ সালে ’পিসি ওয়ার্ল্ড’ এর সাথে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন: “আমরা দুজনেই ইলেক্ট্রনিকস ও ডিজিটাল যন্ত্রপাতি জোড়া লাগানোর ব্যাপারটা ভালবাসতাম। বিশেষ করে সেই সময়ে ডিজিটাল চিপস কি করতে পারে, সেই বিষয়ে খুব অল্প মানুষেরই ধারনা ছিল। আমি আগে বহু কম্পিউটার ডিজাইন করেছিলাম, কাজেই আমি ইলেক্ট্রনিকস ও কম্পিউটার ডিজাইনের ব্যাপারে তার (জবস এর) থেকে অনেকটাই এগিয়ে ছিলাম, কিন্তু আমাদের দু’জনের আগ্রহের জায়গা একই ছিল। জীবনের প্রতি আমাদের দুজনেরই অন্য রকমের একটা নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও দর্শন ছিল। ”

এ্যাপল কম্পিউটারঃ
১৯৭৬ সালে জবসের বয়স যখন মাত্র ২১, ওজনিয়াকের সাথে মিলে তিনি তাঁদের পারিবারিক গ্যারেজে এ্যাপল কম্পিউটার শুরু করেন। জবস নিজের ভোক্সওয়াগন গাড়ি, এবং ওজনিয়াক নিজের প্রিয় সাইন্টিফিক ক্যালকুলেটর বিক্রি করে এ্যাপলের প্রাথমিক মূলধনের যোগান দেন।
প্রযুক্তি ব্যবহারে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা,এবং ছোট আকৃতির, দামে সস্তা ও সহজে ব্যবহার করা যায় – এমন কম্পিউটার ও এর যন্ত্রাংশ তৈরী করার মাধ্যমে কম্পিউটার ইন্ডাস্ট্রিতে বিপ্লব ঘটানোর কৃতিত্ব দেয়ার হয় জবস ও ওজনিয়াককে।
ওজনিয়াক ধারাবাহিক ভাবে বেশ কিছু সহজে ব্যবহার যোগ্য কম্পিউটার তৈরী করেন, এবং জবসের দূরদর্শী মার্কেটিং এর ফলে এ্যাপলের প্রতিটি কম্পিউটার সেই সময়ে ৬৬৬.৬৬ মার্কিন ডলারে বিক্রয় করা হত।

‘এ্যাপল ১’ তাঁদের প্রতিষ্ঠানের এ্যাকাউন্টে ৭৭৪,০০০ মার্কিন ডলার যোগ করেছিল. এর তিন বছর পর এ্যাপল যখন তাদের দ্বিতীয় মডেল ’এ্যাপল ২’ বাজারে ছাড়লো, কোম্পানীর বিক্রী ৭০০ শতাংশ বেড়ে ১৩৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে গিয়ে পৌঁছালো।
১৯৮০ সালে এ্যাপল পুরোপুরি একটি লিমিটেড কোম্পানী হিসেবে বাজারে নামে। প্রথম দিনেই যার বাজারদর দাঁড়ায় ১.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। জবস পেপসি কোলার মার্কেটিং বিশেষজ্ঞ জন সূলিকে এ্যাপলের সিইও পদে বসার জন্য প্রস্তাব করেন।
এ্যাপলের পরবর্তী কয়েকটি পন্য অবশ্য ডিজাইনের সমস্যার কারনে ক্রেতাদের হতাশ করে। সেই সময়ে আইবিএম বিক্রয়ের দিক দিয়ে এ্যাপলকে ছাড়িয়ে যায় এবং এ্যাপলকে আইবিএম কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত বাজারে প্রতিযোগীতা করে টিঁকে থাকতে হয়।

১৯৮৪ সালে এ্যাপল ম্যাকিনটোশ কম্পিউটার বাজারে ছাড়ে, যেটিকে স্রোতের বিপরীতমুখী লাইফস্টাইলের পরিচায়ক হিসেবে সামনে আনা হয়। ম্যাকিনটোশ ছিল রোমান্টিক, তারুণ্য-বান্ধব ও সৃষ্টিশীল একটি পন্য। কিন্তু লাভজনক বিক্রয়ের হার এবং আইবিএম এর কম্পিউটারের চেয়ে কর্মক্ষম হলেও আইবিএম ব্যবহারকারীরা ম্যাকিনটোশে স্বাচ্ছন্দ বোধ করছিলেন না।মার্কেটের খারাপ অবস্থা চলার সময়ে, জবস এ্যাপলের ক্ষতি করছেন, এই মনগড়া ধারনা থেকে কোম্পানীর এক্সিকিউটিভরা জবসকে আক্রমণ করা শুরু করেন। নিজের গড়ে তোলা কোম্পানীতে নির্দিষ্ট কোনও অফিসিয়াল পদে না থাকায়, তারা জবসকে এমন একটি পরিস্থিতিতে ফেলেন যাতে করে তিনি আর স্বাধীন মত কাজ করতে পারছিলেন না, ফলে ১৯৮৫ সালে জবস এ্যাপল ত্যাগ করেন।

পিক্সার
১৯৮৬ সালে জবস জর্জ লুকাসের কাছ থেকে পিক্সার এ্যানিমেশন কোম্পানী কিনে নেন। এটি পরবর্তীতে পিক্সার স্টুডিওস হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। পিক্সারের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার দিক বিবেচনা করে জবস তাঁর ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার কোম্পানীটিতে বিনিয়োগ করেন। পরবর্তীতে স্টুডিওটি থেকে টয় স্টোরি, ফাইন্ডিং নিমো, দি ইনক্রেডিবল্‌স এর মত জনপ্রিয় সিনেমা বের হয়।পিক্সার কোম্পানীর নীট আয় দাঁড়ায় ৪ বিলিয়ন ডলারে। ২০০৬ সালে পিক্সার ওয়াল্ট ডিজনির সাথে এক হয়ে যায়। এর ফলে জবস ডিজনির সবচেয়ে বড় শেয়ার হোল্ডারে পরিনত হন।

এ্যাপল পুনুরুদ্ধারঃ
এ্যাপল ছাড়ার পর পিক্সার ছাড়াও জবস NeXT, Inc. নামে নতুন একটি হার্ডওয়ার ও সফটঅয়্যার কোম্পানী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আমেরিকার সাধারণ বাজারে কোম্পানীটি তাদের নিজস্ব নতুন অপারেটিং সিস্টেম বিক্রি করতে গিয়ে কিছু সমস্যার মুখে পড়ে এবং পরবর্তীতে এ্যাপল Next, Inc কে ১৯৯৬ সালে ৪২৯ মিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছিল।

১৯৯৭ সালে জবস সিইও হিসেবে এ্যাপলে ফিরে আসেন এবং যেভাবে তিনি ৭০ এর দশকে এ্যাপলকে সফলতার পথে নিয়ে গিয়েছিলেন, সেভাবেই ১৯৯০ এর দশকে এ্যাপলের গৌরব পুনুরুদ্ধার করেন।
একটি নতুন ম্যানেজমেন্ট টিমকে সাথে নিয়ে স্টক অপশনে পরিবর্তন ঘটিয়ে এবং নিজের ঠিক করা ১ ডলারের বার্ষিক বেতনের বিনিময়ে জবস এ্যাপলকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনেন।

জবসের জিনিয়াস বুদ্ধিমত্তার ফসল আইম্যাক এর মত অসাধারন সব পন্য, দারুন ডিজাইন এবং চমকপ্রদ ব্র্যান্ডিং ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে এ্যাপল আরেকবার ক্রেতাদের আকর্ষণ করতে সমর্থ হয়।

পরের বছরগুলোতে, ম্যাকবুক এয়ার, আইপড এবং আইফোনের মত আলোড়ন ঘটানো সব পন্য নিয়ে এসে প্রযুক্তি জগতে বিপ্লব সৃষ্টি করে এ্যাপল।

ব্যাপার এমন দাঁড়ায় যে এ্যাপল একটি নতুন পন্য বাজারে আনার সাথেসাথেই অন্যান্য প্রতিযোগী কোম্পানীগুলো সেই আদলে পন্য তৈরীর জন্য উঠেপড়ে লেগে যায়। প্রযুক্তির বাজারে এ্যাপল একটি অনন্য অবস্থান গড়ে নিতে সক্ষম হয় জবসের হাত ধরেই।

২০০৭ সালের ভেতর এ্যাপলের কোয়ার্টার বৎসরের হিসেবে উল্লেখযোগ্য পজিটিভ পরির্তন আসে। প্রতিটি শেয়ারের মূল্য দাঁড়ায় ১৯৯.৯৯ মার্কিন ডলার যা সেই সময়ের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দিয়েছিল। কোম্পানীর লাভের খাতায় জমা হয়েছিল দেড় বিলিয়নের বেশি ডলার, ব্যাংকে জমা হয়েছিল ১৮ বিলিয়ন ডলার এবং কোম্পানীর ঋণের খাতা ছিল শূণ্য!
২০০৮ সালে আইপড ও আইটিউনস্ এর তুমুল জনপ্রিয়তার ফলে ওয়ালমার্টের পরেই এ্যাপল আমেরিকার দ্বিতীয় বৃহৎ মিউজিক রিটেইলার হিসেবে জায়গা করে নেয়। ফরচুন ম্যাগাজিনের আমেরিকার সবচেয়ে জনপ্রিয় কোম্পানীর তালিকায় এ্যাপলের স্থান হয় ১ নম্বরে। সেই সাথে একই ম্যাগাজিনের শেয়ার হোল্ডারদের সবচেয়ে বেশি লভ্যাংশ দেয়া ৫০০ কোম্পানীর তালিকায়ও এ্যাপল ১ নম্বরে স্থান করে নেয়।

স্টিভ জবসের মৃত্যু ও শেষ বাক্যঃ
২০১১ সালের ৫ই অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের পালো আলটোতে ৫৬ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন প্রযুক্তি জগতের প্রবাদ পুরুষ। তিনি প্রায় এক দশক যাবৎ অগ্নাশয়ের ক্যান্সারের সাথে লড়াই করছিলেন।

মোনা সিম্পসনের ভাষ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর মূহুর্তে জবস তাঁর বোন, স্ত্রী ও সন্তানদের দিকে তাকিয়ে বলেন “OH WOW. OH WOW. OH WOW.” যার বাংলা করলে দাঁড়ায় “চমৎকার! চমৎকার! চমৎকার!”

তিনি কেন এই কথা বলেছিলেন তার কোনও সঠিক ব্যাখ্যা নেই। তবে এটা সত্যি যে তিনি তাঁর জীবনে অজস্র ‘চমৎকার’ ঘটিয়ে গেছেন।

স্টিভ জবসের জীবনী সম্পর্কে আপনার আর কি কি জানা আছে তা কমেন্টে লিখুন, তাতে এই লেখাটি আরও সমৃদ্ধ হবে। সেই সাথে লেখাটি ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করে সবাইকে দেখার সুযোগ করে দিন।

আমাদের চাওয়া থাকবে জবসের গল্পে অনুপ্রাণিত হয়ে আপনিও নিজের অবস্থা ও পৃথিবীকে বদলানোর প্রেরণা পাবেন। জবস খুব সাধারণ একজন মেশিন অপারেটরের পুত্র হয়ে বিশ্বের সেরা কোম্পানী প্রতিষ্ঠা করতে পারলে আপনি কেন পারবেন না নিজের স্বপ্নকে সফল করতে?
এভাবেই আরো অনেক সফলতার গল্প পেতে সাথে থাকুন।

Know The Immortal এর ৪র্থ পর্বঃ The History Of Elon Musk উদ্যোক্তা শব্দের সাথে আমরা সবাই কমবেশ  পরিচিত। তারুণ প্রজন্মের ...
17/11/2022

Know The Immortal এর ৪র্থ পর্বঃ

The History Of Elon Musk

উদ্যোক্তা শব্দের সাথে আমরা সবাই কমবেশ পরিচিত। তারুণ প্রজন্মের কাছে উদ্যোক্তার ব্যাপারটা বেশ জনপ্রিয়। এই উদ্যোক্তা ধারণার মাধ্যমে অনেকলোক উন্নতির চূড়ায় আরোহন করেছেন। হয়েছেন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ধনকুবের। যেমন- বিল গেটস, মার্ক জুকারবার্গ জেফ বেজোস সহ আরো অনেকেই। কিন্তু তাদের কর্মকাণ্ডে রয়েছে সীমাবদ্ধতা। তারা নির্দিষ্ট একটি বিষয় নিয়ে কাজ করেন বা কেবল উক্ত বিষয়ের উদ্যোক্তা।
কিন্তু তাদেরকে ছাড়িয়ে গেছেন ‘ইলন মাস্ক’ । তার বিভিন্ন বিষয়ে রয়েছে চোখধাঁধানো সাফল্য। রীতিমত তিনি তরুণ উদ্যোক্তাদের আইডলে পরিণত হয়েছেন। সাম্মানিত Know The Immortal পাঠক বন্ধুরা! আজ আমরা ‘ইলন মাস্ক' নিয়ে আলোচনা করব। আমরা শেষ পর্যন্ত আর্টিকেল টি পড়ুন। আশা করি! জীবন পরিবর্তনের উদ্দীপনায় উজ্জবিত হবেন।

জন্ম ও পরিচয়:
উদ্যোক্তাদের নাম শুনলে যে নামটি প্রথমে চলে আছে সেটা হলো – (ইলন মাস্ক) Elon Musk। তার পুরো নাম হলো – ইলন রেভ মাস্ক। তিনি এক বিস্ময়। তিনি একজন বিজনেসম্যান, ইন্জেনিয়ার, শিল্প ডিজাইনার। Elon Musk owner of Tesla, SpaceX, Tesla কিংবা SpaceXএর প্রতিষ্ঠাতা। কিন্তু তারচে অবাক করা তথ্য হলো – জনপ্রিয় পেমেন্ট মেথড পেপ্যাল (PayPal) এর একজন প্রতিষ্ঠাতা।

Elon musk Family, Parents and Citizenship:

ইলন মাস্ক (Elon Musk) দক্ষিণ আফ্রিকার প্রোটোরিয়ায়, ২৮ শে জুন ১৯৭১ সালে জন্ম গ্রহণ করে। মায়ে কস্তুরী ,তিনি একজন কানাডিয়ান। তার বাবা হলেন – এরোল মাস্ক।তিনি একজন ইন্জেনিয়ার,নাবিক ও পাইলট। তাছাড়া তার আরো একজন ভাই-বোন রয়েছে। ভাই কিম্বল। আর বোন টসকা।

শিক্ষা – Education:

Elon musk প্রোটোরিয়া ‘বয়েজ স্কুলে’ লেখাপড়া করেন। তিনি ১৯৮৯ সালে কুয়েন্স ইউনিভার্সিটি এডমিট হন। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার আইন হলো -সবাইকে সেনাবাহিনী ট্রেনিং নিতে হত।কিন্তু তার এর প্রতি আনীহা ছিল। কি আর করার – তিনি পালায়ন করলেন। একেবারে দেশ ছেড়ে কানাডায় উঠলেন।সেখান থেকে আমেরিকায় পদার্পণ করলেন। পদার্পণ করলেন নব জীবনে। সেটা ১৯৯২ সালের ঘটনা।

Elon Musk Transferred to the University of Pennsylvania:

পেনসেলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি জমান। সেখানে ব্যবসা ও পদার্থ বিজ্ঞান নিয়ে পড়া লেখা করেন। এবং ব্যাচেলর ডিগ্রী লাভ করেন।তিনি এ ১৯৯৭ সালে হোয়ারটন স্কুল থেকে অর্থনীতিতে ব্যাচেলর ডিগ্রীও আর্জন করেন। এরপর জ্বলানি পদার্থ বিজ্ঞান নিয়ে পিএসডি ডিগ্রীর জন্য স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এডমিট হন।কিন্ত সেখানে মাত্র দুই থাকেন।

Zip 2 প্রতিষ্টা:

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন ভর্তি হন তখন বিশ্বে নতুন জোয়ার চলছিল। তথ্য প্রযুক্তির জোয়ার। তাই Elon Musk ও এ স্রোতে গা ভাসিয়ে দেন। ২ দিনের মাথায় ছেড়ে দেন স্ট্যানফোর্ডে বিশ্ববিদ্যালয় তার পিএইচডি।

তারপর তিনি প্রতিষ্টা করে Zip 2 নামক আনলাইন ভিত্তিক প্রতিষ্টান। এটা তার প্রথম প্রতিষ্টান। এটি একটি সফটওয়্যার। অনলাইনে সিটি গাইড দিয়ে থাকে।প্রতিষ্টানটি যাত্রাশুরু করার পর ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।নিউ ইয়র্ক টাইমস ও শিকাগো ট্রিবিউনের কাছে তারা তথ্য বিক্রি করা শুরু করেন।পরবর্তী ১৯৯৯ সালে compaq computers এর কাছে ৩০৭ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে zip 2 বিক্রয় করেন।

বই পড়া:

অল্প বয়সে পিতামাগার ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। Elon musk ভীষণ আঘাত পান। তার একটি প্রসিদ্ধ উক্তি আছে – “আমি পিতামাতার হাত ধরে বড় হয় নি, বয় হয়েছি বই পড়ে পড়ে।”

কম্পিউটার গেইম ‘ব্লাস্টার্স ‘আবিষ্কার:

Elon Musk (ইলন মাস্ক) বয়স যখন ১০ বছর, তখন তার পিতামাতার ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। এসব কিছু তার প্রতিভায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে নি।ছোটবেলায়ই তার কম্পিউটারে একটু আলগা রকম ঝোক ছিল। কাজেই কমবয়সে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং শিখে নেন। কিছুদিনের মধ্যে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন। মাত্র ১২ বছর বয়সে আবিষ্কার করেন নিজের প্রথম কম্পিউটার গেইম। যার নাম ছিল ব্লাস্টার্স। সেটি ৫০০ ডালারেও বিক্রয় করে নেন।

Elon Musk Paypal প্রতিষ্টা:

১৯৯৯ সালে Elon Musk একটি অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেম এর সূচনা করেন । ১০ মিলিয়ন বিনিয়গ করে তিনি X.COM প্রতিষ্টা করেন। যা মূলত অনলাইনে পেমেন্ট সিস্টেম।

২০০১ সালে Confinity কোম্পানির সাথে মিলিত হয়। এবং নতুনভাবে নামকরণ করা হয়।যেটি আমাদের কাছে PayPal নামে পরিচিত হয়। ২০০২ সালে eBay কোম্পানি PayPal কে ১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিময়ে ক্রয় করে নেয়।বর্তমানে তিনি শিয়ারে এ প্রতিষ্টান থেকে ১৬৫ মিলিয়ন ডালার আয় করেন এলন মাস্ক।

SpaceX প্রতিষ্টা:

অনলাইনে সাফল্যের পর (Elon musk) ইলন মস্কের মাথায় নতুন চিন্তা ঝেকে বসে। তিনি এবার মঙ্গল গৃহে উড্ডন করতে চান । সে জন্য তিনি রদশিয়ায় পড়ি জমান।সেখান থেকে ফিরে এসে রকেট নিয়ে গবেষণা চালান। ২০০২ সালে SpaceX নামে একটি টেইক অফ কোম্পানি লান্চ করেন।আর আল্প কয়েকদিনের মধ্যে তিনি রকেট বিজ্ঞানী হিসাবে নামডাক ছড়িয়ে পরে।মজার কথা হলো বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট এ Spacex এর মাধ্যমে উড্ডয়ন করে।

Tesla টেসলা এর প্রতিষ্টা:

বিশ্ববিখ্যাত মোটরস টেসলা এর কথা কে জানে না? প্রতিটি বাড়িতে এই গাড়ি শুভা পায়। এই বিশ্ব বিখ্যাত টেসলা কোম্পানি সহ প্রতিষ্টা ও প্রধান পরিকল্পনাকারী এলোন মাস্ক( Elon Musk)।তিনি প্রতিটি পণ্যে ডিসাইন ও প্রকৌশল সহ যাবতীয় কার্যক্রম করে থাকেন।

বিশ্ববিখ্যাত রেইস কার ‘রোডস্টার’ ও টেসলার। প্রতিষ্টানটি শুরু পাচঁ বছরের মধ্যে কারটি বাজারে নিয়ে আসেন। কারটি মাত্র ৩.৭ সেকেন্ডে ০ থেকে এর গতিবেগ ঘন্টায় ৬০ কিলোমিটারে যেতে সক্ষম।

SolarCity এর ধারণা:

“ইলন মাস্ক (Elon Musk) একজন পরিবাশ কর্মী ” একথা ভুল হবে না। কারণ তিনি পরিবেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তার বাস্তব প্রমাণ হলো “সোলারসিটি”। বিশ্ব উষ্ণায়নের বিরুদ্ধে লড়াই করে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। এ সোলারসিটির মাধ্যমে সৌরশক্তিকে মানুষের কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছেন।

খনন প্রতিষ্টান
“দি বোরিং কোম্পানী” একটি খননকারী প্রতিষ্টান।এটি যাত্রা শুরু করে ২০১৭ সালে Elon musk এর হাত ধরে। প্রতিষ্টানটির উদ্দ্যেশ্য হলো – নগরির ট্রাফিক সমস্যা দূরীকরণ। বিভিন্ন রকম টেনেল খননে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

HyperLop এর প্রতিষ্টা:

হাইপারলোপ হলো দ্রুত ও সহজে যাতায়াত করার প্রদ্ধতির নাম। এই প্রদ্ধতির মাধ্যমে খুব সহজে অতি অল্প সময়ে এক শহর থেকে অন্য শহরে যাতায়াত করা যাবে। এই প্রদ্ধতি ২০১৩ সালে শুরু করেন।

বিয়ে ও স্ত্রী Wife
ইলন মাস্ক দুইটি বিয়ে করেছেন।

১. ২০০০ সালে তিনি জাস্টিন উইলসনকে বিয়ে করেন ।তিনি একজন কানাডিয়ান রাইটার।কিন্তু তার সংসার বেশদিন ঠেকেনি। ২০১০ সালে তাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়।
২..ইলন মাস্কের ২য় বার বিয়ে করেন টালুলাহ রেইলিকে।তিনি একজন বৃটিশ অভিনেত্রী। ২০১৬ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়ে যায়।
বর্তমানে ইলন মাস্কের হলিউড অভিনেত্রী এ্যামবার হার্ড এর সাথে প্রণয়ের সম্পর্ক আছে।
Elon musk এর সর্বমোট ৬ জন ছেলেমেয়ে আছেন। সবাই প্রথম স্ত্রীর গর্ভজাত।

আজকে এই পর্যন্তই।
Stay Tuned With Know The Immortal 😊

Address

Jigatala, 1209
Dhaka

Telephone

+8801850577373

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Basic Carts posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share