18/10/2026
যে বয়সে বাবার কাছে বায়না করে সবাই, নিজের বাবাকেই কর্মচারী হিসেবে মাসে ২ লাখ বেতন দেয় ১৬ বছরের আজু
যে বয়সে বেশিরভাগ ছেলেমেয়ে পরীক্ষার টেনশনে ঘুম হারায়, বাবার কাছে বায়না করে নতুন ফোনের, সেই বয়সেই কেরালার এক কিশোর নিজের কোম্পানির কর্মচারী হিসেবে বেতন দিচ্ছে নিজের বাবাকেই। প্রতি মাসে দুই লাখ রুপি।
ছেলেটার নাম Raul John Aju। বয়স মাত্র ১৬। থাকে কেরালার কোচিতে। ক্লাস ১২-এ কমার্স পড়ে North Edappally GHSS স্কুলে। আর সবাই তাকে চেনে এক নামে - 'AI Kid of India'।
স্কুল প্রজেক্ট থেকেই শুরু
Raul এর গল্পটা শুরু অনেক ছোটবেলায়। মাত্র ৯ বছর বয়সে নিজে নিজেই AI শেখা শুরু করে সে। কোনো কোচিং নয়, কোনো বড় শিক্ষক নয় - ইউটিউব, ইন্টারনেট আর অদম্য কৌতূহল।
আর ১২ বছর বয়সে স্কুলের সায়েন্স প্রজেক্টের জন্য বানিয়ে ফেলে তার প্রথম হিউম্যানয়েড রোবট - MeBot।
MeBot কোনো সাধারণ খেলনা রোবট ছিল না। Raul নিজেই বলেছিল, এই রোবট "আমার কণ্ঠে কথা বলে, আমার মতো করেই সব বুঝিয়ে দেয়, এমনকি আমি ঘুমিয়ে থাকলেও।" সেই ছোট্ট প্রজেক্টটাই বদলে দেয় তার জীবনের গতিপথ।
কৌতূহল থেকে কোম্পানি
MeBot-ই শেষ নয়, শুরু। এর পরের চার বছরে Raul বানিয়ে ফেলেছে ১০ থেকে ১৫টির বেশি AI টুল। এর মধ্যে আছে RESQ AI, ZapGap, Investo AI, FeedFye-এর মতো প্র্যাকটিকাল টুল।
স্কুলে পড়তে পড়তেই গড়ে তুলেছে নিজের কোম্পানি - AI Realm Technologies। যেখানে সে Founder এবং CTO। আজ তার কোম্পানিতে কাজ করেন প্রায় ১৫ জন কর্মী।
তার আরেকটি বড় কাজ হলো পড়ানো। তার ThinkCraft Academy-র মাধ্যমে এখন পর্যন্ত প্রায় পাঁচ লাখ শিক্ষার্থীকে AI শিখিয়েছে সে। শুধু ভারতে নয়, সারা বিশ্বে। কেরালা সরকার এবং দুবাই সরকারের সাথে মিলে সে কাজ করছে JustEase / NyayaSathi নামে একটি AI ভিত্তিক লিগ্যাল প্ল্যাটফর্মে, যাতে সাধারণ মানুষ সহজে আইনি সাহায্য পায়।
এই কাজের স্বীকৃতি হিসেবে সে পেয়েছে Ujwala Balyam Award 2025, দুইবার জিতেছে ভারতের সবচেয়ে বড় AI Buildathon। তিনবার TEDx-এ বক্তা হিসেবে ডাক পেয়েছে। ২০২৬ সালে দিল্লিতে হওয়া India AI Impact Summit-এ শিশুদের AI নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলেছে, দেখা করেছে জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের সাথেও।
গল্পের সবচেয়ে সুন্দর অংশটা এখানেই
এত সাফল্য, এত খ্যাতি - কিন্তু Raul এর গল্পের সবচেয়ে ছুঁয়ে যাওয়া অংশটা অন্য জায়গায়। তার কোম্পানিতে চাকরি করেন তার নিজের বাবা, Aju Joseph। যিনি একসময় Amazon, Adobe, Wipro, IBM-এর মতো কোম্পানিতে কাজ করেছেন।
বাবা ছেলেকে ক্যারিয়ারের পরামর্শ দেবেন - এটাই তো স্বাভাবিক। কিন্তু এখানে উল্টোটা ঘটেছে। বাবার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে Raul তাকেই নিজের কোম্পানিতে নিয়ে এসেছে। আর প্রতি মাসে বাবার হাতে তুলে দিচ্ছে ২ লাখ রুপির স্যালারি স্লিপ।
একজন বাবার জন্য এর চেয়ে গর্বের মুহূর্ত আর কী হতে পারে? যে ছেলেকে একসময় হাত ধরে স্কুলে নিয়ে যেতেন, আজ সেই ছেলের কোম্পানিতেই তিনি কাজ করেন।
Raul নিজেও বলে, "Anyone can build an app now. But almost no one can build a successful business." - অ্যাপ যে কেউ বানাতে পারে, কিন্তু ব্যবসা বানানো সহজ নয়। আর ব্যবসার সবচেয়ে বড় মূলধন হলো বিশ্বাস আর মানবিকতা।
তার গল্পটা আমাদের একটা সহজ সত্যই মনে করিয়ে দেয়। বয়স কখনোই বাধা নয়। টাকা বা খ্যাতির পেছনে না ছুটে, যদি একটা ভালো লাগার পেছনে দিনের পর দিন লেগে থাকা যায়, তাহলে ১২ বছর বয়সে বানানো একটা স্কুল প্রজেক্টও একদিন ১৬ বছর বয়সে বাবার মুখে হাসি ফোটাতে পারে।
এটাই হয়তো AI-এর চেয়েও বড় আবিষ্কার।
Disclaimer: এই ফিচারটি বিভিন্ন প্রথম সারির ও ভেরিফাইড উৎস (Times of India, Business Today, Economic Times, NDTV, Moneycontrol, TEDx Official) থেকে সর্বশেষ তথ্যের ভিত্তিতে লেখা। এখানে উল্লেখিত বেতন ও কোম্পানির তথ্য সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী।