02/10/2022
সূরা আল-ফাতিহার তাফসীর
(তাফসীরে জামেউল বয়ান বি কালামির রহমান (তাফসীরে আবূ সা‘আদ) থেকে)
সূরা-ফাতিহা
আয়াত-৭ রুকু‘উ-১
শব্দ-২৫টি বর্ণ-১১৩টি
[ মক্কী ]
নামকরণ : সূরাটির নাম- সূরা আল-ফাতিহা। কোনকিছু শুরু করার নাম “ফাতিহা” যেহেতু এরদ্বারা ক্বোরআনুল কারীম শুরু হয়েছে সেহেতু একে সূরা আল-ফাতিহা বলা হয়। সূরাটির আরো কয়েকটি নাম রয়েছে। যেমন-
ফাতিহাতুল কিতাব : সূনানে ইবনে মাজাহ্-র হাদীসে এসেছে উবাদা ইবনু সামিত (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন- রাসূল (সাঃ) বলেছেন- যে ব্যক্তি স্বলাতে (নামাযে) ফাতিহাতুল কিতাব [সূরা আল-ফাতিহা] পাঠ করেনে তার স্বলাত হয়নি।
সাবআম্ মিনাল মাসানী : ক্বোরআনুল কারীমের ১৫নং সূরা, সূরা আল-হিজর এর ৮৭নং আয়াতে আল্লাহ্ সুবহানাহু তা‘আলা বলেছেন- আমি তোমাকে সাবআম্ মিনাল মাসানী অর্থাৎ- সূরা আল-ফাতিহা দান করেছি।
আল-ক্বোরআনুল আজীম : ক্বোরআনুল কারীমের ১৫নং সূরা, সূরা আল-হিজর এর ৮৭নং আয়াতে আল্লাহ্ সুবহানাহু তা‘আলা বলেছেন- আমি তোমাকে ‘সাবআম্ মিনাল মাসানী’ এবং ‘আল-ক্বোরআনুল আজীম’ অর্থাৎ- সূরা আল-ফাতিহা দান করেছি।
উম্মুল ক্বোরআন : আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন- প্রত্যেক স্বলাতেই ক্বির‘আত পড়া হয় তবে যে স্বলাতে আল্লাহ্র রাসূল (সাঃ) আমাদের শুনিয়ে পড়েছেন আমরাও তোমাদের শুনিয়ে পড়ব। আর যে স্বলাতে আমাদের না শুনিয়ে পড়েছেন আমরাও তোমাদের না শুনিয়ে পড়ব। যদি তোমরা ‘উম্মুল ক্বোরআন’ অর্থাৎ- সূরা আল-ফাতিহা এর চেয়ে বেশি না পড় স্বলাত আদায় হয়ে যাবে। আর যদি বেশি পড় তবে তা হবে উত্তম।১
সূরাতুস্ স্বলাত : আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূল (সাঃ) বলেছেন- যে ব্যক্তি স্বলাতে উম্মুল ক্বোরআন অর্থাৎ সূরা আল-ফাতিহা পড়লো না তার স্বলাত অসম্পূর্ণ, অসম্পূর্ণ, অসম্পূর্ণ। আবূ হুরায়রা (রাঃ) কে প্রশ্ন করা হলো- আমরা যদি ইমামের পিছনে থাকি, তাহলে ? তিনি বললেন তাহলেও চুপে চুপে পড়ে নিও। ( এ হাদীস এটাও প্রমাণ করে যে, জাম‘আতে স্বলাত আদায় করার সময় ইমামের পিছনে মুসল্লিদেরও চুপে চুপে সূরা আল-ফাতিহা পাঠ করতে হবে) আমি রাসূল (সাঃ) হতে শুনেছি তিনি বলেছেন যে, আল্লাহ্ সুবহানাহু তা‘য়লা ঘোষণা করেন- আমি স্বলাতকে (সূরা আল-ফাতিহাকে) আমার ও আমার বান্দার মধ্যে অর্ধ অর্ধ করে ভাগ করেছি এবং আমার বান্দা আমার কাছে যা চায় আমি তাকে তা দিয়ে থাকি। যখন বন্দা বলে- الْحَمد لله رب الْعَالمين অর্থাৎ- সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি বিশ্ব জাহানের প্রতিপালক। তখন আল্লাহ্ বলেন-حَمِدَنِي عَبْدِي অর্থাৎ-আমার বান্দা আমার প্রশংসা করলো। যখন বন্দা বলে- الرَّحْمَن الرَّحِيم অর্থাৎ- যিনি পরম করুণাময় ও অসীম দায়ালু । তখন আল্লাহ্ বলেন- أَثْنَى عَلَيَّ عَبْدِي অর্থাৎ-আমার বান্দা আমার গুণগান করলো। যখন বন্দা বলে- مَالك يَوْم الدّين অর্থাৎ-যিনি বিচার দিনের মালিক। তখন আল্লাহ্ বলেন- مجدني عَبدِي অর্থাৎ- আমার বান্দা আমাকে সম্মাণ প্রদর্শন করলো। যখন বন্দা বলে- إياك نعْبد وَإِيَّاك نستعينঅর্থাৎ- আমরা একমাত্র তোমারি ইবাদত করি এবং তোমার কাছেই সাহায্য কামনা করি। তখন আল্লাহ্ বলেন- هَذَا بَيْنِي وَبَيْنَ عَبْدِي وَلِعَبْدِي مَا سَأَلَ অর্থাৎ- এটা আমার ও আমার বান্দার মধ্যকার ব্যাপার আর আমার বান্দা যা চাইবে তা সে পাবে। যখন বন্দা বলে- اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالّين অর্থাৎ- তুমি আমাদেরকে সহজ সরল পথে পরিচালিত কর সে সকল লোকের পথে যাদেরকে তুমি নি‘আমত দান করেছ। তাদের পথে নয়, যাদের উপর তোমার গযব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে। তখন আল্লাহ্ বলেন- هَذَا لِعَبْدِي وَلِعَبْدِي مَا سَأَلَ অর্থাৎ- এটা আমার বান্দার জন্য আর আমার বান্দা যা চাইবে তা সে পাবে।২
আসাসুল ক্বোরআন : ক্বোরআনুল কারীমের সর্বশ্রেষ্ঠ মুফাস্সীর আব্দুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস (রাঃ) এ সূরাকে “আসাসুল ক্বোরআন” (ক্বোরআনের ভিত্তি) বলতেন।
সূরা আ‘ফিয়া : সুফইয়ান বিন উয়াইনা বলেন- এ সূরার নাম “সূরা আ‘ফিয়া”।
সূরা কাফিয়া : ইয়াহ্ইয়া ইবনে কাসীর বলেন- এ সূরার নাম “সূরা কাফিয়া”।
সূরাতুশ্ শিফা : দারিমীর মধ্যে আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে মারফু রূপে বর্ণিত আছে যে, সূরা ফাতিহা প্রত্যেক বিষ ক্রিয়ায় আরোগ্য দানকারী (শিফা)। তাই এ সূরাকে সূরাতুশ্ শিফা বলা হয়।
সূরাতু তাফভীয : কেননা বান্দা এটি পাঠ করার মাধ্যমে নিজেকে আল্লাহ্ও দরবারে সোপর্দ করে দেন। তাই তাকে সুরাতু তাফভীয বলা হয়।
সূরাতুল হামদ : যেহেতু সূরাটি আল্লাহ্র প্রশংসা (হামদ) দিয়ে শুরু হয়েছে। তাই এ সূরাটিকে সূরাতুল হামদও বলা হয়।
ইমাম সূয়ূতী সূরা ফাতিহার আরো কয়েকটি নাম উল্লেখ করেছেন। যেমন- উম্মুল ক্বোরআন, সূরাতুল মাছানী, সূরাতুদ্ দো‘আ, সূরাতুশ্ শুকুর, সূরাতুল মুনাজাহ্, সূরাতুস্ সোয়াল, সূরাতুন্ নূর, ফাতিহাতুল ক্বোরআন, উম্মুল কিতাব, সূরাতুশ্ শাফিয়াহ্, সূরাতুল কানজ।
তথ্যসূত্র : ১. সহীহুল বুখারী (তাওহীদ প্রকাশনী) পর্ব-১০ অধ্যায়-১০৪ হাদীস নং-৭৭২। সহীহ্ মুসলিম (তাওহীদ প্রকাশনী) পর্ব-৪ অধ্যায়-১১ হাদীস নং-৩৯৬।
২. সহীহ্ মুসলিম ১ম খন্ড ১৬৯পৃষ্ঠার শেষ দু’লাইন এবং ১৭০পৃষ্ঠার প্রথম তিন লাইন। হাদীস নং-৩৯৫। জামে আত্-তিরমিযী, হাদীস নং-২৯৫৩। ইমাম আবূ ঈসা আত্ তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন । সূনানে ইবনে মাজাহ্, হাদীস নং-৮৩৮। মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-৭২৯১। সহীহ্ ইবনু হিব্বান, হাদীস নং-৭৭৬। মিশকাত, হাদীস নং-৮২৩।