Cognizance for sagacity-বিজ্ঞতা জন্য জ্ঞান

  • Home
  • Bangladesh
  • Dhaka
  • Cognizance for sagacity-বিজ্ঞতা জন্য জ্ঞান

Cognizance for sagacity-বিজ্ঞতা জন্য জ্ঞান Cognizance for sagacity(বিজ্ঞতা জন্য জ্ঞান) it's the world for all kinds of Knowledge, News,Entertainment,Academic Knowledge,Math,Science Etc.

চীন অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার জন্য প্রায় ১২ বছর তাদের দেশে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ রেখেছিলো। চীন সরকারের বক...
01/09/2020

চীন অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার জন্য প্রায় ১২ বছর তাদের দেশে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ রেখেছিলো। চীন সরকারের বক্তব্য ছিল-
এত ছেলেমেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে কি করবে???
কোথায় চাকরি পাবে???
কেই বা চাকরী দিবে???

এত হাজার হাজার বেকারকে চাকরী দেয়ার মত প্রতিষ্ঠান চীনে নেই। এই সময়টায় চীন ছাত্রছাত্রীদের আধুনিক প্রশিক্ষন দিয়েছিল নানা ধরণের ট্রেড কোর্সে। স্বল্প মেয়াদী ট্রেড কোর্স শিখে চীনের ছেলেমেয়েরা স্বাবলম্বী হয়ে গেলো। প্রতিটি বাড়ি গড়ে উঠল একটা করে ছোট ছোট কারখানায়। পরিবারের সবাই সেখানে কাজ করে। বড় ফ্যাক্টরী করার আলাদা খরচ নেই। ফলে পণ্যের উৎপাদন খরচ কমে গেলো। বর্তমানে যে কোন পণ্য স্বস্তায় উৎপাদন করার সক্ষমতায় তাদের ধারে কাছে কেউ নেই।

পৃথিবীর প্রতিটি অঞ্চলে চাইনিজ পণ্যের প্রসার বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে তারা বিশ্ব বাণিজ্যের এক অপ্রতিরোধ্য পরাশক্তি। উপযুক্ত মুল্য দিলে তারা এমন জিনিস বানিয়ে দেবে যার গ্যারান্টি আপনি চাইলে ১০০ বছরও দিতে পারবেন।
বাংলাদেশে সিমফোনি, ওয়ালটনসহ বহু প্রতিষ্ঠান এই চায়নার বদৌলতেই কিছু করে খাচ্ছে।

অপর দিকে বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত গড়ে উঠছে বেকার বানানোর কারখানা। এর আধুনিক নাম বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতি বছরই দুই একটা নতুন বিশ্ববিদ্যালয় তৈরী হচ্ছে আর বের হচ্ছে কয়েক হাজার বেকার। দল বেঁধে পড়ানো হচ্ছে বিবিএ, এমবিএ অথবা চিরচরিত সেই ডাক্তারি অথবা ইঞ্জিনিয়ানিং। এত বেকারের ভীড়ে চাকরী বাংলাদেশে একটি সোনার হরিণ। কোম্পানীরাও এটা বুঝে। ফলে এই দেশের শিক্ষিত ছেলেরা প্রত্যাশা অনুযায়ী-
বেতন পায় না,
চাকরী পায় না
আর পেলেও সহ্য করতে হয় মালিক অথবা বসের নানাবিদ অদ্ভুত পরীক্ষা ও অপেশাদার আচরণ ।

অবশ্য, দীর্ঘদিন বিভিন্ন জাতির শোষণের যাতাকলে পিষ্ট হয়ে আমাদের জাতির জীবনে প্রবেশ করেছে ভৃত্যগিরির মানসিকতা। আমরা মনে করি স্যুট, টাই পড়ে কোন কাজ করতে পারলেই বুঝি সেখানেই জাতির সফলতা। এটা আসলে একটি অপ্রকাশ্য দৈন্যতা, যা কেউ স্বীকার করছেন না। এই দেশের অর্থনীতির জন্য সামনে খুব ভয়াবহ দিন অপেক্ষা করছে।

তাই, বাংলাদেশের উচিত চীনের মত একটা পদক্ষেপ নেয়া। চাকরী করে দেশের উন্নতি হয় না, আমাদের উদ্যোক্তা প্রয়োজন। তাই শিক্ষা ব্যবস্থার আমুল পরিবর্তন প্রয়োজন, গুরুত্ব দেয়া উচিত কর্মমুখী শিক্ষায়।

আজকে আমরা আলোচনা করবো ব্লাড ক্যান্সার নিয়ে।ব্লাড ক্যান্সার মূলত এমন একটা ক্যান্সার যেখানে আমাদের শরীরে অপরিণত এবং অস্বাভ...
29/07/2020

আজকে আমরা আলোচনা করবো ব্লাড ক্যান্সার নিয়ে।

ব্লাড ক্যান্সার মূলত এমন একটা ক্যান্সার যেখানে আমাদের শরীরে অপরিণত এবং অস্বাভাবিক ধরণের ব্লাড সেল তৈরী হয় এবং যখন সেটা আমাদের শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়ম ডেকে আনে।

প্রধানত তিন ধরণের ব্লাড ক্যান্সার দেখা যায়।

**লিউকেমিয়া - এটা ব্লাড এবং বোন ম্যারো ( অস্থি মজ্জা ) তে হয়। যখন আমাদের শরীর প্রচুর পরিমানে অপরিণত শ্বেতকণিকা তৈরী করে এবং সেই অনুপাতে লোহিত কণিকা এবং প্লেটলেট তৈরী হয় না।

** নন হজকিন্স লিম্ফোমা - এটা আমাদের শরীরের লিমফ নোড গুলোতে হয়। এই ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত বা আক্রান্ত রক্ত কণিকা কে বলে লিম্ফোসাইট। লিম্ফোসাইট হলো এক ধরণের শ্বেত রক্ত কণিকা যেটা আমাদের শরীরে বহিরাগত ইনফেকশনের সাথে যুদ্ধ করতে সাহায্য করে।

** হজকিন্স লিম্ফোমা - এটাও এক ধরণের ব্লাড ক্যান্সার যেটা লিম্ফোসাইট কে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এখানে লিম্ফোসাইট গুলি অস্বাভাবিক ধরণের হয়। এদের কে রিড স্টার্নবার্গ সেল ও বলে।

** মাল্টিপল মায়োলোমা - এটা রক্তের যে প্লাসমা উপাদান থাকে, সেই খানে হয়। এটাও শ্বেত রক্ত কণিকার একটা অস্বাভাবিক রূপ ।

যে কোনো ধরণের ব্লাড ক্যান্সার এর ই লক্ষন গুলি হলো নিম্ন রূপ -

১।জ্বর, সর্দি
২।অবিরাম ক্লান্তি, দুর্বলতা
৩।ক্ষুধা হ্রাস, বমি বমি ভাব
৪। অকারণে ওজন হ্রাস
৫।রাতের ঘাম
৬।হাড় / জয়েন্টে ব্যথা
৭।পেটের অস্বস্তি
৮।মাথাব্যাথা
৯।নিঃশ্বাসের দুর্বলতা
১০।ঘন ঘন সংক্রমণ
১১।চুলকানির ত্বক বা ত্বকের ফুসকুড়ি
১২।গলায় বা আন্ডারআর্মস এ ফোলা লিম্ফ নোড

ব্লাড ক্যান্সারের চিকিত্সা ক্যান্সার এর ধরণ, বয়স, ক্যান্সার কতটা দ্রুত বাড়ছে, যেখানে যেখানে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়েছে এবং অন্যান্য কিছু কারনের উপর নির্ভর করে।

মূলত চিকিৎসা তিন রকমের হয়।

1.স্টেম সেল ট্রান্সপ্ল্যান্টেশন: এই ক্ষেত্রে সুস্থ রক্ত-গঠনকারী স্টেম সেলগুলি দেহে প্রতিস্থাপিত করা হয়। অস্থি মজ্জা থেকে স্টেম সেলগুলি সংগ্রহ করা হয়।

2. কেমোথেরাপি: কেমোথেরাপি শরীরে ক্যান্সারের কোষগুলির বৃদ্ধি বাধা দিতে ব্যবহার করা হয়। এই ক্ষেত্রে অ্যান্টি ক্যান্সার ড্রাগগুলি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। কেমোথেরাপি তে এক বা একাধিক কম্বিনেশন ড্রাগ ও ব্যবহার করা হয় রুগী হিসাবে।

3. বিকিরণ থেরাপি: রেডিয়েশন থেরাপি ক্যান্সার কোষগুলি ধ্বংস করতে বা ব্যথা বা অস্বস্তি দূর করতে ব্যবহৃত হয় ।

ব্লাড ক্যান্সার সাধারণত ধরা পরে রুটিন ব্লাড কম্পোনেন্ট টেস্ট এ যখন রুগী উপরোক্ত কারণ গুলির মধ্যে এক বা একাধিক কারণ নিয়ে ফিজিসিয়ান এর কাছে যান । যখন ই রক্তের শ্বেত এবং লোহিত কণিকা গুলির অস্বাভাবিকতা চোখে পরে, তখন ই সতর্ক হয়ে কোনো হিমাটোলজিস্ট ডাক্তার এর শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

ব্লাড ​​ক্যান্সার হ'ল এমন এক ধরণের ক্যান্সার, যার নিরাময়ের হার অত্যন্ত বেশি। সঠিক ওষুধ ও চিকিত্সার মাধ্যমে একটি রোগী এই রোগ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হতে পারেন। সাধারণত ব্লাড ​​ক্যান্সারের নিরাময়ের হার নির্ভর করে রোগী যে ধরণের রক্ত ​​ক্যান্সারে ভুগছেন তার উপর। কিছু রক্ত ​​ক্যান্সার যেমন থেকে যায় যেমন লিম্ফোসাইটিক লিউকেমিয়া এবং মায়েলোমা । এরা নিরাময়যোগ্য নয়, তবে রোগীরা কয়েক দশক ধরে বেঁচে থাকতে পারে,এমন কি কখনও কখনও স্বল্পতম চিকিত্সা করে। সুতরাং আবার ও যেটা বলার , " থাম্ব রুলস " ক্যান্সার ট্রিটমেন্ট এর ক্ষেত্রে , সেটা ব্লাড ক্যান্সার এর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য

১। যখন ধরা পরবে, দেরি না করে তখন ই চিকিৎসা শুরু করা

২। মাথার মধ্যে রাখবেন যে খুব নামি হাসপাতাল ক্যান্সার এর চিকিৎসার জন্য, কিন্তু যেখানে চিকিৎসা শুরু করতে দেরি হয়, সেটা ভালো হাসপাতাল হলেও আপনার জন্য ভালো নয় কারণ চিকিৎসা শুরু করতে দেরি মানেই, ক্যান্সার আরো অ্যাডভান্সড স্টেজ এ চলে যাওয়ার সম্ভাবনা।

মনে রাখবেন, আপনি বসে আছেন মানেই , সে এগিয়ে যাচ্ছে, আর আপনি চিকিৎসা শুরু করেছেন মানেই সে পিছিয়ে যাচ্ছে। তাই তথাকথিত ভালো হাসপাতাল দেখে লাভ নেই , বরং সেই হাসপাতাল বাছুন যেখানে আপনার চিকিৎসা শুরু হবে তৎক্ষণাৎ।

৩। হাসপাতাল চয়ন করার আগে খেয়াল রাখবেন যে যেন প্ররোচলিত কর্পোরেট হাসপাতাল না হয় ,কারণ সেখানে আপনার খরচ প্রথমেই প্রচুর হবে এবং পরবর্তী ফলো আপ এ যত বার আসবেন, খরচ হতেই থাকবে। ক্যান্সার এর চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি, তাই মাঝারি খরচের হাসপাতাল চয়ন করা উচিত।

সারমর্ম হলো, এমন হাসপাতালে যান, যেখানে চিকিৎসা প্রথম দিন থেকেই সিনিয়র ডাক্তার দ্বারা শুরু হবে এবং খরচ তুলনামূলক ভাবে কম থাকবে।

ধন্যবাদ।

রানা ভট্টাচার্য্য
অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার
আদিত্য বিড়লা মেমোরিয়াল ক্যান্সার হাসপাতাল, পুনে
ইন্ডিয়া
হ্যাল্লো : +৯১ ৯০৫১১৩২২৩১

দিনাজপুরের দিকে ধেঁয়ে আসছে শক্তিশালি আংশিক বৃষ্টি বলয় "স্পিড"।এটি একটি সল্পস্থায়ী শক্তিশালি আংশিক বৃষ্টি বলয় যা সারাদেশে...
24/07/2020

দিনাজপুরের দিকে ধেঁয়ে আসছে শক্তিশালি আংশিক বৃষ্টি বলয় "স্পিড"।

এটি একটি সল্পস্থায়ী শক্তিশালি আংশিক বৃষ্টি বলয় যা সারাদেশে প্রভাববিস্তার করবে না। শক্তিশালি আংসিক বৃষ্টি বলয় স্পিড ২৭ থেকে ২৯ জুলাই পর্যায়ক্রমে দেশের কয়েকটি স্থানে।
স্পিড শুধুমাত্র দেশের কয়েকটি জেলায় তার প্রভাব বিস্তার করতেপারে।
দিনাজপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, রংপুর, শেরপুর, সুনামগঞ্জ, সিলেট, ব্রাম্মনবাড়ীয়া, রাজশাহী, নেত্রকোনা, নওগাঁ, চাপাইনবাবগঞ্জ, গাইবান্ধা, জয়পুরহাট ও এর পার্শবর্তী এলাকায় আঘাত হানতে পারে।

বৃষ্টি বলয় স্পিড চলাকালিন সময়ে এই সকল জেলায় স্থানভেধে ১৯০ থেকে ২৫০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতেপারে।
বৃষ্টিবাহি মেঘের অভিমুখ পশ্চিম হতে পুর্ব দিকে থাকবে বেশিরভাগ সময়ে।
বৃষ্টি বলয় গতি চলাকালিন সময়ে উপরে নাম দেওয়া জেলা গুলো বাদে দেশের অন্য এলাকায় স্বাভাবিক বর্ষাকালিন বৃষ্টি হতে পারে, তবে প্রাকৃতিক কারনে দেশের কিছু এলাকায় ভারিবর্ষণ হতে পারে।
বৃষ্টি বলয় গতি সবচেয়ে ভয়াবহ হতেপারে উত্তর ওয়েস্ট বেঙ্গল ও বিহারে, ফলাফল দেশের উজানে বন্যার পানি পুনরায় বৃদ্ধি পেয়ে আবার দেশের নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হতেপারে অনেক এলাকায়।
নোট : আগস্ট মাসের মাঝামাঝি থেকে এইবছর এর শেষ বৃষ্টি বলয় পর্যন্ত বাকি বৃষ্টি বলয়গুলো বরিশাল, খুলনা বিভাগের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলতে পারে ও কলকাতা উড়িস্যার জন্য ভয়াবহ ভারিবর্ষণ।
সূত্র : বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা
আপডেট : 24/07/2020 রাত ৮ টা বেজে ১২ মিনিটে।

 #ফেসবুক_রুম_কি?এই নিয়ে অনেকের প্রশ্নআসুন ফেইসবুক রুম সম্পর্কে একটু জানি:সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক  'রুম' নামে নতুন ...
24/07/2020

#ফেসবুক_রুম_কি?

এই নিয়ে অনেকের প্রশ্ন
আসুন ফেইসবুক রুম সম্পর্কে একটু জানি:

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক 'রুম' নামে নতুন একটি টুলস প্রবর্তন করেছে। এটি মূলত ভিডিও কলিং টুলস। তবে হোয়াটসপ, ইমো, ম্যাসেঞ্জারে ভিডিও কলিং সুবিধা থাকতে ফেসবুক কেন রুম টুলসের প্রবর্তন করল?

এমন প্রশ্ন সবারই আসবে কিন্তু ফেসবুক রুমে এমন কিছু নতুনত্ব অাছে যা অন্য টুলস কিংবা এ্যাপগুলোতে নাই যেমন-
১)এতে আপনি পছন্দের লোকদের এড করতে পারবেন

২)একসাথে ৫০ জনকে আপনি ভিডিও কল দিতে পারবেন

৩)শুধু যে ফেসবুক থাকলেই তারা এ কলে যুক্ত হতে পারবে না নয় বরং যাদের ফেসবুক নাই তাদের আপনাকে দেওয়া লিংকটা যাকে আপনি সংযুক্ত করতে চাচ্ছেন তাকে পাঠালে তার ফেসবুক না থাকলেও লিংকে ক্লিক করলে তিনিও আপনার ভিডিও কলে যুক্ত হতে পারবেন।

৪)আপনি ইচ্ছে করলে রুমের সকল সদস্যদের ভিডিও কল দিতে পারবেন আবার রুমের সদস্যদের মধ্যে কেবল কয়েকজনকে কল দিতে পারবেন।

৫) আপনি চাইলে কাউকে রুম থেকে বের করে দিতে পারবেন আবার কারো কল লক করে রাখতে পারবেন।
৬)জুম এ্যাপসে যেখানে সময় নির্দিষ্ট করে দিয়েছিল সেখানে রুম টুলস আনলিমিটেড ভিডিও কলিংয়ে কথা বলার সুবিধা দেবে।

মুলকথা হলো - জুম এ্যাপস নিয়ে যেখানে নিরাপত্তার কথা উঠছিলে সেখানে ফেসবুকের রুম একেবারে নিরাপদ। এটি সংগঠন, গ্রুপ চ্যাট, ক্লাস নেওয়া, কনফারেন্স প্রভৃতিতে বেশ ভালো সুবিধা দেবে।

এপ্রিল মাসে মার্ক জাকারবার্গ রুম টুলসটি পরীক্ষামুলকভাবে চালু করছিল, যা কেবল কিছু মানুষকে এর প্রবেশ কিংবা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল তবে এটি সফল হওয়ায় সারা বিশ্বের ফেসবুক গ্রাহকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।

তথ্য সংগৃহীত

 #দেশের_সবচেয়ে_প্রাচিন_মহানগরী_মহাস্থানের_ইতিহাসঈসা (আঃ)- এর জন্মের পাঁচশ বছরেরও আগে এখনকার বগুড়া শহরের প্রায় ১২ কিলোমিট...
23/07/2020

#দেশের_সবচেয়ে_প্রাচিন_মহানগরী_মহাস্থানের_ইতিহাস

ঈসা (আঃ)- এর জন্মের পাঁচশ বছরেরও আগে এখনকার বগুড়া শহরের প্রায় ১২ কিলোমিটার উত্তরে গড়েউঠেছিল এ দেশের সবচেয়ে প্রাচিন মহানগরী। এক হাজারেরও বেশী সময় টিকে ছিল নগরীটি।
উচু প্রাচির ঘেরা এ নগরীর বাইরেপ্রায় ৮ কিলোমিটার এলাকরা জুরে ছিল এর শহরতলি এত বড় শহরতলি সহ নগরী সে যুগে পৃথিবীর অন্য কোথাও কমই ছিল।নগরীটির নাম ছিল পুন্ড্রনগর রাজধানী পুন্ড্রনগর থেকে সাশন করা হত পুন্ডবর্ধন রাজ্য পুন্ড্রনগরের এখনকার নাম মহাস্থানগড় এ মহাস্থানের মাটির নিচে চাপা পরে আছে পৃথিবীর প্রাচিনতম নগরী ।
পুন্ড্রনগর এটিদক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে প্রাচিন নগরী এর যেটুকু খুরে বের করা গেছে তাতে বৌদ্ধ, হিন্দু ও মুসলিম যুগের নির্মান সৌন্দর্যেরসন্ধান মিলেছে এ তিন নির্মান যুগেই এলাকাটা ছিল সমৃদ্ধ। সম্রাট অশোকের আমলে এটি ছিল বিখ্যাত জনপদ সম্ভবত এটি সেসময়ই হয়েছিল প্রাচিনকলে পুন্ডনগর ছিল অত্যন্ত নামকরা এলাকা মহাভারতের মতো প্রাচিন সাহিত্যে পুন্ড্রের উল্লেখ আছে এছাড়া বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মীয় প্রাচিন গ্যন্থেও পুন্ড্রবর্ধনের কথা বলা আছে।
এসব কারনে অনেক পন্ডিত সিন্ধু সভ্যতার মোহেন জোদারো-এর সাথে প্রাচিন পুন্ড্রবর্ধনের তুলনা করে বলেন, মহাস্থান হলো বাংলাদেশের মোহেন জোদারো চিনের বিখ্যাতপন্ডিত ও পরিব্রাজক হিউয়েন সাং ৬২৯ থেকে ৬৪৫ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে পুন্ড্রবর্ধনে এসেছিলেন। তার লেখায় তিনি পুন্ন-ফ- তনন বাপুন্ড্রবর্ধনের কথা খুবই গুরুত্বের সাথে বর্ণনা করেছেন তিনি বলেছিলেন এই নগরীর ৬ কিলোমিটারের মধ্যে ভাসুবিহার অবস্থি এটি সুপ্রাচিন কালের বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় এখানে বিদ্যা অর্জন করতে পৃথিবীর নানান দেশ থেকে শিক্ষার্থীরা আসতেন।
তিনিউল্লেখ করেছেন,পোসিপো বা ভাসুবিহারে কমপক্ষে ৭০০ বৌদ্ধ ভিক্ষু ছিলেন ভাসুবিহারসহ ২০ টি জ্ঞানকেন্দ ছিল তখন পুন্ড্রনগরেরআশেপাশে। তার বর্ণনায় খুবই চাঞ্চল্যকর যে তথ্যটি পাওয়া যায় সেটি হল মহামতি গৌতম বুদ্ধ পুন্ড্রবর্ধন এলাকায় এসেছিলেন।এখানে তিনি ৩ মাস সময় অতিবাহিত করেছিলেন। এ সময় তিনি অহিংসার বাণীসহ বৌদ্ধ ধর্ম প্রচার করেন।
হিউয়েন সাংপুন্ড্রনগেও মৌর্য সম্রাট অশোক নির্মিত গৌতম বুদ্ধের দেহ ধাতুর উপর প্রতিষ্ঠিত একটি স্মারকস্তম্ভ পরিদর্শন করেছিলেন। প্রাচিনকালে দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে চীন ও মঙ্গোলিয়া থেকে ছাত্ররা আসতেন ভাসুবিহারে। এ থেকে বোঝা যায়, এ শিক্ষাকেন্দটি কতগুরত্বপূর্ণ ছিল।
২ হাজার ৪০০ বছর আগে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ছাত্ররা যখন এ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসত তখন গ্রীস ছাড়া পুরোইউরোপই ডুবে ছিল অশিক্ষা ও বর্বতার অন্ধকারে। শুধু জ্ঞানচর্চাই নয়, যেকোন ধরনের লেখা-পড়া ছিল তখন ইউরোপিয়ানদেরনগালের বাইরে। বিশ্ববিদ্যালয়টি টিকে ছিল প্রায় ১ হাজার ২০০ বছর। পুন্ডুনগরের প্রায় চার কিলোমিটার পশ্চিমে গোকুল গ্রামে একটি বৌদ্ধ বিহারের ধ্বংসাবসেস আছে।
আনুমানিক ষষ্ঠ শতাব্দীতে এটিবিহার হিসাবে ব্যবহৃত হলেও শিবমন্দির হিসেবে ব্যবহার হয়েছে আবার অনেকের মতে, পুন্ড্রবর্ধনের পাহারার কাজে পর্যবেক্ষণমঞ্চ হিসেবেও ব্যবহার হয়েছে এটি এলাকার মানুষের কাছে এটি গোকুল ম্যাড় নামে পরিচিত।
তবে এর নির্মান ও গঠনশৌলীঅনুযায়ী এটাকে বৌদ্ধ বিহার ধরা যায় পাহারপুর বৌদ্ধ বিহারের সাথে এর বেশ মিল রয়েছে ভূমি থেকে প্রায় ৫০ ফুট উচু ১৭২ টিভরাট করা কক্ষসহ অনেকটা কচ্ছপের পিটের মত এই ইমারতটিকে লখীন্দরের ম্যাঢ়াও বলা হয়। সপ্তম শতাব্দীর শুরু থেকেমুসলমানদের আগমনের আগ পর্যন্ত প্রায় ১২০০ শতাব্দী পর্যন্ত এই বিহার ব্রবহৃত হয়েছে।
মাটি কুড়ে পুন্ড্রমহানগরীর যতটুকু রহস্যউদঘাটন করা হয়েছে তাতে বোঝা যায়, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ও আর্কিটেকচারে সে সময় বিরাট উন্নতি সাধন হয়েছিল প্রাচিরসহপাকা ইমারত, চমৎকার ইটের সিঁড়ি, বারান্দাযুক্ত বহুতল ভবন, বিশাল অট্টলিকা, পানীয় জলের কুয়া, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা-এসব ছিল চমৎকার। মাটির গভীরে পালযুগীয় ইমারতের নিচে আরো দুটো নির্মাণ যুগের সন্ধান পাওয়া গেছে।
এখানে খনন কাজচলানোর পর ৩০ ফুট নিচে আসল মাটির সন্ধান পাওয়া গেছে এই গভীরতার মধ্যে পর্যায়ক্রমে ১৭ কোথাও বা ১৮ টি বসতিস্তম্ভেরঅস্তিত্ব আছে। লোহা, তামা, সোনা, ব্রোঞ্জ বিভন্ন ধাতু, পাথর ও পোড়ামাটির বিভন্ন দ্রব্য ছড়িয়ে আছে এসব স্তরে।
নগর পরিকল্পনাবিদর মনে করেন, নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে এই নগরীর তিন দিকে খাল কাটা হয়েছিল আর এক দিকে ছিলকরতোয়া নদী। ফলে শত্রুর আক্রমন অনেকটা নিরাপদে ছিল শহরটি। এর পর আরো উচু ঘিেও দুভেদ্য হয় এ প্রাচিন রাজধানীশহরটিকে। খুব উঁচু এই প্রাচির ১৭ ফুট পর্যন্ত চওড়া ছিল। সৈন্যদল প্রাচিরের উপর হেটে পাহারা দিতে পারত। এই প্রাচিরের উপরদাড়িয়ে বহু দূরের শত্রুদের দেখা যেত। দুর্গ প্রাচিরের বাইরে উত্তর দিকে গোবিন্দ ভিটায় খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতক থেকে জন বসতি শুরুহয়েছিল। খ্রিস্টপূর্ব প্রথম ও দ্বিতীয় শতকের চিত্রফলক, ছাচে ঢাল ও ছাপযুক্ত তামার মুদ্রা সহ নানা রকম নিদর্শন পাওয়া গেছেএখানে। খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দী থেকে বিভন্ন অঞ্চলের মাটির পাত্র, মুদ্রা, অলংকার, পোড়ামাটি ও পাথরে খোদাই করা চিত্রকলা,পাথরের বুদ্ধমূর্তি, বিভন্ন দেবদেবীর মূর্তি, তামার পদক, লোহার বর্শা, তীর, ছুরি, চাকু, পেরেক প্রভূতি এখানে পাওয়া গেছে।
সম্রাটআশোকের ব্রাহ্মী শিলালিপি ছাড়াও নগরী ও সংস্কৃতিসহ প্রাচিন বাংলালিপি এখানে পাওয়া গেছে। এখানে প্রাপ্ত দুটি ধাতব পাতপাকিস্থানের তক্ষশীলায় পাপ্ত অনুরূপ পাত্রের চেয়েও উন্নত। পরে মুসলিম সুলতানি আমলের ইমারত সহ অনেক নিদর্শন পাওয়াগেছে। ১৩৭৫ খ্রিস্টাব্দের ইলিয়াস শাহ এবং ১৪৮০ খ্রিস্টাব্দের সামসুদ্দিন ইউসুফ শাহের আমলের মুদ্রাও পাওয়া গেছে। এখানেমৌর্য, শুঙ্গ, সেন, পাল ও সুলতানি আমলের নিদর্শনই শুধু পাওয়া যায়নি, বরং এখানকার সাথে বহু ঐতিহাসিক ঘটনা জঢ়িত।গৌতম বুদ্েধর আগমন ও সম্রাট অশোকের কীর্তি চাড়াও প্রথম বঙ্গ বিজয়ী ইখতিয়ার আহমেদ মোহাম্মদ বখতিয়ার খিলজিরস্মৃতিও এখানে জড়িয়ে আছে। পুন্ড্রবধৃনের কাছেই করতোয়া নদীর উপর সেতু বানিয়ে কাম রূপ হয়ে তিব্বতে অভিযানচালিয়েছিলেন তিনি। ইসলাম প্রচারক সাধক বলখের যুবরাজ সুলতান ইব্রাহিম বলখি মাহীসাওয়াার এখানে এসে ইসলাম প্রচারকরেছিলেন। রাজর পশুরামের সেনাপতিসহ এ এলাকার মানুষ ব্যপকভাবে তার মাধ্যমে ইসলামে দিক্ষিত হন। ইতি ঘঠে অত্যাচারিপশুরামের রাজত্বে। বিখ্যাত ব্রিটিশ বিরোধী সংগ্রামী ফকির মজনু শাহ কয়েক বছর ধেও মহাস্থানকে কেন্দ করেই পরিচালনা করছিলেন তার যাবতীয়কর্মকান্ড। এভাবেই প্রায় আড়াই হাজার বছর ধরে ইতিহাসের নানা ঘাত প্রতিঘাতের নিরব সক্ষী হয়ে দাড়িয়ে আছে মহাস্থানগড়।মহাস্থানের প্রতিটি ইট ও ধ্বংসাবসেসএসব ইতিহাসের নিদর্শন হয়ে আছে এ এলাকার পুরো খনন কাজ সম্পন্ন হলে বেরিয়ে আসবেইতিহাসের আরও জলন্ত নমুনা। এতে মানব জাতির আরও কল্যান হবে। ইতিহাস অনুসন্ধানীদের উচিত যত তাড়াতাাড়ি সম্ভবমহাস্থ্নগড় পরিদর্শন করা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় একই এলাকায় এত দীর্ঘ সময়ের ইতিহাস আর কোথাও নেই।
এখানে আছে এঅঞ্চলের সংখ্যাগরিষ্ট তিন জাতি ও ধর্মের শাসন এবং ইতিহাসের অসাধারন নমুনা। ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ মহাস্থানগড়ঃ মহাস্থান শব্দটির অর্থ হচ্ছে পবিত্র স্থান। মহাস্থানগড় বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহের মধ্যেঅন্যতম। বর্তমানে মহাস্থানগড় শিবগঞ্জ থানার অন্তর্গত। এটি বগুড়া শহর থেকে ১৩ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। এটি মূলতপ্রাচিন বাংলার পুন্ড্রবর্ধন রাজ্যের রাজধানি পুন্ড্রনগর এর ধ্বংসাবশেস। এটি একটি সুরক্ষিত দুর্গেও আদলে তৈরী নিদর্শন। এটিরপূর্ব দিক দিয়ে করতোয়া নদী প্রবাহিত। দূর্গটির মধ্যে প্রচিন কালের মন্দির, টিলা, মসজিদ, বাসগৃহের নিদর্শনাবলী দেখতে পাওয়াযায়। দূর্গটি সুবিশাল এক প্রাচির দ্বারা বেষ্টিত। এই সুবিশাল ও সুপ্রাচিন প্রাচিরটি উত্তর-দক্ষিনে ১৫২৫ মিটার দীর্ঘ ও পূর্ব পশ্চিমে১৩৭০ মিটার প্রস্থ। এটি সমতল থেকে ৫ মিটার উচু। পুন্ড্রনগর ছিল সমগ্র বাংলার সর্বপ্রধান ও সর্বপ্রাচিন দূর্গ নগরী। এটিমৌর্যবংশীয়,গুপ্তবংশীয় ও পাল সাশকদের প্রাদেশিক রাজধানী ছিল। শেষদিকে হিন্দু সামস্ত রাজাদের রাজধানীও ছিল এটি। ১৯২৭সালে শুরু হওয়া খননকার্যে
অনেক নিদর্শন তথ্য স্থাপত্য আবিস্কৃত হয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ঃ জীয়তকুন্ড, মানকালিরধাপ, পশুরামের বাসগৃহ, বৈরাগির ভিটা, খোদার পাথর ভিটা ইত্যাদি। বর্তমান সময়ে মহাস্থানের উঁচু গড়ে সবচেয়ে বেশী নজর কাড়বে হযরত শাহ্ সুলতান বলখী (রহ:) এর মাজার প্রাঙ্গণ (সুদূর বল্লখদেশ থেকে এসেছিলেন নাম হয় বলখী)। জীয়তকুন্ড কূপটির ভিতরের পরিধি ৩.৮৬ মিটার ও বাইরের পরিধি ৪.৭৮ মিটার। কূপটি১৮শ ১৯শ শতকে নির্মিত। কূপটির ভিতরে গ্রানাইট পাথরের একটি প্রস্তরখন্ড আছে। এটি ছাড়াও কতকগুলো পাথর তাকে তকেসাজানো আছে। কূপটি বর্তমানে মৃত। এছাড়াও খননকার্যে যে সকল স্তুপ আবিষ্কৃত হয়েছে সেগুলোর ছোট্ট বিবরন নিচে তুলে ধরাহলঃ
1. গোবিন্দ ভিটা ঃ সুরক্ষিত দূর্গের
উত্তর-
পশ্চিম কোনায় অবস্থিত মন্দির।
করতোয়া মাহাত্ন্য নামক গ্রন্থে
এটি বিষ্ণু মন্দির নামেপরিচিত ।
2. খুরনার ধাপ ঃ সুরক্ষিত দূর্গের ১
কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত
মন্দির ।
3. মঙ্গল কোট ঃ খুলনার ধাপ
থেকে ৪০০ মিটার দক্ষিনে
অবস্থিত মন্দির।
4. গোসাইবাড়ি ধাপ ঃ এটিও
একটি মন্দির।
এটি খুলনা ধাপ থেকে
কিলোমিটার দক্ষিনে অবস্থিত।
5. বিহার (তোতারাম পন্ডিতের
ধাপ) ঃ সুরক্ষিত দূর্গের ৪
কিলোমিটার উত্তর পশ্চিমে মঠ।
6. ভাসু বিহার (নর পতির ধাপ ) ঃ
বিহারের ১ কিলোমিটার উত্তর
পশ্চিমে কয়েকটি মঠের (এই
বিহারকে চিনা পর্যটক হিউয়েন
সাং পো
সিপো বিহার বলে আখ্যায়িত
করেন)
7. গোকুল মেধ ঃ এটি লখিন্দরের
বাসর ঘর নামে অধিক পরিচিত।
এটি দূর্গ থেকে প্রায় ৩
কিলোমিটার দক্ষিনে অবস্থিত।
8. কান্দের ধাপ ঃ গোকুল মেধের
দক্ষিন-পূর্বে অবস্থিত মন্দির।
এটি কার্তিকের মন্দির নামে
পরিচিত।
যে কেউ মহাস্থানে এলেযেটি
দেখা সবচেয়ে প্রয়োজনীয় করেন
সেটি হচ্ছে প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর।
এটি স্থাপিত হয় ১৯৬৭ সালে।
মহাস্থানের সবচেয়ে প্রাচিন
নিদর্শন ব্রাহ্মী/
শিলাপি যেটিতে লেখা পাওয়া
যায় ।
এছাড়াও মহাস্থানগড় জাদুঘরে যে
সব নিদর্শন পাওয়া যায় সেগুলোর
বিবরননিচে দেওয়া হল
৪র্থ ও ৫ম শতকের দন্ডায়মান বুদ্ধের
মূর্তি ও বেলেপাথরের অলংকৃত
স্তম্ভ ।
শৃঙ্খ যুগের পোড়ামাটির ফলক,
ঢালাই মুদ্রা, মৃৎপাত্র, পোড়ামাটির
সীল রয়েছে
যা খ্রীস্টপূর্ব ৪০০-২০০ শতকের।
৬ষ্ঠ-৭ম শতকের সূর্য, নারী মূর্তি,
ব্রোঞ্জমূর্তি, বেলেপাথরের বুদ্ধ।
৯ম-১০ম শতকের জালের গুটিকা,
সূর্যের মূর্তি, শিবলিঙ্গ, ব্রোঞ্জের
মূর্তি, বিষ্ণু, বরাহ
বিষ্ণু, গরুড়ারোহ বিষ্ণু, চামুন্ডা,
গণেশ, পার্বতি, মূর্তি,
অবলোকিতেশ্বও, চামধারিণী,
কৌমারি, নরসিংহি মহিষমর্দ্দিনী
শোভা পাচ্ছে।
১১শ- ১২শ শতকের প্রস্তর নোড়া, মর্বেল
পাথরের নন্দী, বিদ্যাধর, মনসা,
ব্রহ্মা, হরিহর, হরগৌড়ে, মা ও শিশু,
মন্দির, নৃত্যরতগনেশ, গৌরি, বিষ্ণু,
রেণুগোপাল, বিষ্ণুপট্টি, নবগ্রহ
প্যানেল,
ননীগোপাল সহ অন্যান্য মূর্তি।
১৮শতকের নন্দীবৃষ, শিবলিঙ্গ
ইত্যাদি।
পোড়ামাটির দুর্গা, পদ্ম, চূরা,
ফলকচিত্র।
১৫০৪ খ্রিস্টাব্দের আরবি শিলা
লিপি।
১৬৮৫ সালের মহাস্থানের মাজার
শরীফের সনদউল্লেখযোগ্য।
মহাস্থানের আরো নিদর্শন
অনাবিষ্কৃত রয়েছে।
যা বিভন্ন সময়ে খননের ফলে
উন্নোচত হচ্ছে মহাস্থানের নতুন নতুন
পরিচয়।
মহাস্থানগড় আমাদের ঐতিহ্য,
আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের
হেরিটেজ।
মহাস্থান আমাদের প্রাচিনতম
সভ্যতার নিদর্শনবহনকারী ইতিহাস।
মহাস্থানগড় আজ ওয়ার্ড হেরিটেজ-
এর অন্তর্ভূক্ত। যা আমাদের গৌরব।

*মঙ্গল গ্রহে গিয়ে পৃথিবীতে আর ফিরে আসবে না যে মেয়েটি, তিনি হলেন এলিজা_কার্সন, নাসার কনিষ্ঠতম সদস্য। এই মেয়ের আগ্রহ, তৃষ্...
10/07/2020

*মঙ্গল গ্রহে গিয়ে পৃথিবীতে আর ফিরে আসবে না যে মেয়েটি, তিনি হলেন এলিজা_কার্সন, নাসার কনিষ্ঠতম সদস্য। এই মেয়ের আগ্রহ, তৃষ্ণা আর ডেডিকেশন দেখে মাত্র ১১ বছর বয়সে নাসা তাকে মনোনীত করে নেয় এবং ঘোষণা করে যে -সমস্ত অবস্থা অনুকূল হলে সে হবে ২০৩৩ সালে মঙ্গলে যাওয়া পৃথিবীর প্রথম মানুষ।*

*এখন তার বয়স ১৭। যেহেতু সে মঙ্গলে গেলে ফিরে আসার সম্ভাবনা খুবই কম তাই নাসার কাছে সে কোন প্রকার যৌনতা, বিয়ে বা সন্তানধারণের নিষেধাজ্ঞাপত্র তে সাক্ষর করেছে। ভাবতে অবাক লাগে, মানুষের স্বপ্ন কত বড় হতে পারে!*

*এলিজা জানে যে,সে আর ফিরে আসবেনা এই পৃথিবীতে,আর মাত্র ১৪/১৫ বছর পরে একমাত্র নিঃসঙ্গ মানুষ হিসেবে কোটি কোটি মাইল দূরের লোহার লালচে মরিচায় ঢাকা প্রচন্ড শীতল নিষ্প্রাণ গ্রহের ক্ষীয়মাণ নীল নক্ষত্রের নিচে হারিয়ে যাবে।*সেই একা হারিয়ে যাওয়া তার কাছে কত বড় আনন্দ! সেই আনন্দের কাছে পৃথিবীর এসব সাজানো সংসার প্রেম সন্তানাদি এসবের আনন্দ নির্বিঘ্নে বিসর্জন দিয়ে যাচ্ছে।*

*এলিজা কার্সন আমাদের স্বপ্ন দেখতে শেখায়।*
*সে বলে-*
*" follow your and don't let anyone take it from you"*

*কুর্নিশ জানাই!!*

*সজনে শাক*"জানিস আমি আমাজন থেকে সুপার ফুড কিনেছি। কুলিকুলি পিওর মোরিঙ্গা ভেজিটেবল পাউডার। ৩১০ গ্রামের দাম ১,৬৯৫ টাকা। মে...
26/06/2020

*সজনে শাক*

"জানিস আমি আমাজন থেকে সুপার ফুড কিনেছি। কুলিকুলি পিওর মোরিঙ্গা ভেজিটেবল পাউডার। ৩১০ গ্রামের দাম ১,৬৯৫ টাকা। মেড ইন আমেরিকা। দামটা একটু বেশি, কিন্তু কাজ হচ্ছে। ও দেশের লোকজন কি আর আমাদের মতো? ওরা অনেক হেলথ কনশাস।"

এই সব কথা শুনে হাসি পায়। কেন? তা জানতে গেলে, এই মোরিঙ্গা পাউডারটা কি জিনিস, এটা সুপার ফুডই বা কেন, সেটা জানতে হবে, জানতে হবে এর প্রকৃত পরিচয়।

মোরিঙ্গা পাউডার আসলে, প্রতিটা পাড়ায়, প্রায় সব বাড়িতে হামেশাই দেখতে পাওয়া ‘সজনে গাছ’-এর পাতা যা ঘানায় প্রস্তুত হয়ে আমেরিকায় প্যাকিং হয়ে অনলাইনে সুপার ফুড-এর মান্যতায় বিক্রি করছে ওই আমেরিকান কোম্পানী।

এবার বলি এর ইতিকথা। সজনে শাক নিয়ে এখন সারা পৃথিবীতে গবেষণা চলছে। স্প্রিঙ্গার (Springer)-এর মতো বৈজ্ঞানিক জার্নালে বেরোচ্ছে গবেষণা পত্র। জানা গেছে, প্রতি দশ গ্রাম তাজা সজনে পাতায় (বৈজ্ঞানিক নাম মোরিঙ্গা অলিফেরা) সমান ওজনের কমলালেবুর ৭ গুণ ভিটামিন সি, গাজরের ১০ গুণ ভিটামিন, দুধের ১৭ গুণ ক্যালসিয়াম, দই বা য়োগার্টের ৯ গুণ প্রোটিন, কলার ১৫ গুণ পটাশিয়াম ও পালং শাকের ২৫ গুণ আয়রণ থাকে। সজনে শাকে প্রায় ৩৬.৭% প্রোটিন, প্রায় দশ রকমের প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিড, ভিটামিন বি১, বি২, বি৩, ই, কে এবং কপার, ম্যাগনেসিয়ামের মতো খনিজ পর্যাপ্তভাবে থাকে। এছাড়াও সজনে শাকের পাতা, শিকড় ও বীজে থাকে অশেষ ভেষজ গুণ।

অথচ আশ্চর্য এটাই যে পৃথিবীর যে অঞ্চলে এই গাছ সহজে হয় যেমন ভারতবর্ষ, আফ্রিকা সেখানেই অপুষ্টি শিকড় গেড়ে বসেছে। কারণ - আমাদের অজ্ঞতা। ১৯৯৭-৯৮ সালে 'অল্টারনেটিভ অ্যাকশান ফর আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট এন্ড চার্চ ওয়ার্ল্ড ওয়াইড সার্ভিস' সাউথ সেনেগালে সজনে শাকের পাতার গুঁড়োর সাহায্যে সেখানকার অনেক অপুষ্ট বাচ্চা ও গর্ভবতী মায়েদের সুস্থ করে তোলে। ঘানা ও জাম্বিয়ার সরকারও জোর দিয়েছে সজনে গাছের চাষ ও এর পাউডার উৎপাদনে। এর উৎপাদন ঘানার অর্থনৈতিক অবস্থারও উন্নতিসাধন করেছে। দেশের মানুষকে কম পয়সায় পুষ্টি দেওয়ার উদ্দেশ্যে বাণিজ্যিকভাবে কিউবার সরকার শুরু করেছে সজনে শাকের উৎপাদন। সরকার নিজে প্রচার করছে সজনে শাকের পাউডার, ক্যান্ডি ইত্যাদি জনপ্রিয় করবার জন্যে। চীন দেশের সাহায্যে কিউবা তৈরি করে ফেলেছে ‘মোরিঙ্গা অলিফেরা সায়েন্স এন্ড টেকনোলোজি সেন্টার’। কিংবদন্তী কমিউনিস্ট নেতা ফিদেল কাস্ত্রোই তার দেশে ব্যাপকভাবে এই চাষের সূচনা করেন। ভারত সরকারও দেশের সব চাইতে অপুষ্টি কবলিত গ্রামগুলোতে অপুষ্টি নিবারনে যে নিউট্রিফার্ম তৈরি করেছে সেখানে সজনে একটি গুরুত্বপূর্ণ গাছ।

ভারতের জলহাওয়ার সাথে সাযুজ্যপূর্ণ সজনে গাছ খুব কম জল পেলেও বেঁচে থাকে। পৃথিবীতে যতো সজনে পাতার পাউডার উৎপাদন হয় তার বেশীরভাগ হয় আমাদের দেশে। তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ ও কেরল বাংলার থেকে এগিয়ে আছে এই চাষে। কিন্তু এদেশে চাষ মূলত করা হয় রপ্তানির জন্যে। দেশের মানুষের অপুষ্টি নিবারনে বা রোগ প্রতিরোধের জন্য সজনে শাকের উৎপাদন ও গবেষণায় কিউবাই এগিয়ে।

সারা পৃথিবী জুড়েই সজনে তথা মোরিঙ্গা পাউডার তৈরি এক শ্রমনিবিড় গ্রামীণ শিল্প। মোরিঙ্গা পাউডার রপ্তানী করার পাশপাশি বেশ কিছু সংস্থা সজনে পাতার গুঁড়ো দিয়ে স্থানীয় মানুষদের পুষ্টিগত চাহিদা পূরণের চেষ্টা করছে। এদের মধ্যে খুব উল্লেখযোগ্য হাইতির এক সংস্থা ‘সাকালা’। এরা স্থানীয় যুবকদের মাধ্যমে মোরিঙ্গা পাউডার, এনার্জি বার, লজেন্স ইত্যাদি তৈরি ও বিক্রি করছে। আমাদের রাজ্যে এই ধরনের সংস্থা খুব কম। এই শিল্পের সম্ভবনার সম্বন্ধে জানতে আমরা যে সার্ভে করেছিলাম, তাতে দেখা গেছে গ্রামের মানুষদের নিয়ে স্বনির্ভর গোষ্ঠী করে মোরিঙ্গা উৎপাদন বেশ আশাজনক উদ্যোগ। প্রাথমিক স্তরে সরকারিভাবে প্রচারের মাধ্যমে সচেতনতা গড়ে তোলার কথাও বেরিয়ে এসেছে সার্ভে থেকে। তার সাথে প্রয়োজন স্থানীয় ও বিশ্ব বাজারে বিক্রির জন্য উপযুক্ত ব্রান্ডিং ও নেটওয়ার্কিং। প্রাথমিক স্কুলে, মিড ডে মিলের যে ব্যবস্থা তাতে মোরিঙ্গা পাউডার বা ক্যান্ডি সূচনা করলে দু তরফেরই লাভ, এমন তথ্যও বেরিয়ে এসেছে সমীক্ষা থেকে। এই চাষ ও পাউডার উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি লাভও হবে আর গ্রামীণ মানুষদের অর্থনৈতিক উন্নতিসাধনও হবে। সমীক্ষায় দেখা গেছে আমাদের মধ্যে সজনে শাকের গুনাগুণ নিয়ে সার্বিক সচেতনতার অভাব আছে। তাই সরকারী স্তরে চাই প্রচার। আমরা নিম্নবিত্ত পরিবারের মায়েদের সাথে কথা বলে দেখেছি তারা পরিবারের সবার স্বাস্থ্য নিয়ে খুবই চিন্তিত, কিন্তু তাদের ধারণা পুষ্টিকর খাদ্য মানেই দামী, যা তাদের সাধ্যের বাইরে। বেশিরভাগ মহিলা বলেছেন, তারা জানতেন না সজনে শাকের গুণাগুণ এবং জানলে তারাও তাদের উঠোনে বা বাড়ির পেছনের সামান্য জায়গায় একটা অন্তত গাছ লাগাতেন নিজের পরিবারের মানুষদের পাতে রোজ একটু সজনে শাক দিতে। মহিলারা মোরিঙ্গা পাউডার উৎপাদনের ইচ্ছেও প্রকাশ করেছেন যা যথেষ্ট আশাব্যাঞ্জক। অতএব, বলা যায়, এই বাংলায়, যেখানে সজনে গাছের অভাব নেই, নেই কর্মক্ষম মানুষের অভাবও, সেখানে আমরা আমাদের অপুষ্টিতে ভোগা মানুষদের কাছে পৌঁছে দিতে পারি মোরিঙ্গা বা সজনে শাকের গুঁড়ো, যা তাদের শরীর-স্বাস্থ্য ভালো করার সাথে-সাথে আনতে পারে অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা।

লেখক পরিচিতিঃ
মৌ সেন – পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প এবং বস্ত্র দপ্তরের যুগ্ম অধিকর্তা।।

 #কস্তুরীনামা-------------------কস্তুরীর সুঘ্রান এর কথা আমরা কম বেশী সবাই ছোট বেলা থেকে শুনে এসেছি কিন্তু আমরা কয়জন সঠিক...
19/06/2020

#কস্তুরীনামা
-------------------

কস্তুরীর সুঘ্রান এর কথা আমরা কম বেশী সবাই ছোট বেলা থেকে শুনে এসেছি কিন্তু আমরা কয়জন সঠিক ভাবে জানি কস্তুরী আসলে কি? দেখতে কেমন? কিভাবে কোত্থেকে তৈরী হয়?আদৌ কি কস্তুরী নামক কোনও বস্তুর অস্তিত্ব আছে কিনা এই বিশ্বে?
আপনারা যারা আসলেই জানতে চান এই কস্তুরী সম্পর্কে তাদের কৌতুহল মেটানোর আমার এই হ্মুদ্র প্রয়াস ভুল হলে হ্মমার দৃষ্টিতে দেখবেন।

আমরা সবাই জানি কস্তুরী হল মৃগনাভী
যেই মৃগনাভী থেকে সুগন্দ্ব বের হয় কিন্তু সব হরিণের নাভী থেকে কিন্তু কস্তুরী পাওয়া যায় না আসছি সেই আলোচনায়।
হরিণের দশ বছর বয়সে নাভির গ্রন্থি পরিপক্ব হয়। এ সময় হরিণটিকে হত্যা করে নাভি থেকে তুলে নেওয়া হয় পুরো গ্রন্থিটি। তারপর রোদে শুকানো হয়। একটা পূর্ণাঙ্গ কস্তুরী গ্রন্থির ওজন প্রায় ৬০-৬৫ গ্রাম। ...
এটি বিশেষ ধরনের প্রাণিজ সুগন্ধি। হরিণের নাভি থেকে পাওয়া যায় এই কস্তুরী, যা মহামূল্যবান সুগন্ধি হিসেবে পরিচিত।
সুগন্ধি বহু গুণসম্পন্ন এবং বহু নামসম্পন্ন। এর ঘ্রাণ প্রকৃত যোজনগন্ধা বললে কম বলা হয়। কথিত আছে কস্তুরীর এক তিল পরিমাণ কোন বাড়িতে ফেললে বহু বছর সেখানে এর ঘ্রাণ থাকে। তিন হাজার ভাগ নির্গন্ধ পদার্থের সঙ্গে এর এক ভাগ মেশালে সমস্ত পদার্থই সুবাসিত হয় কস্তুরীর ঘ্রাণে।

কস্তুরী সংগ্রহকারীরা এই সুগন্ধিকে প্রায় প্রকৃত অবস্থায় রাখেন না; সচরাচর অন্য পদার্থের সঙ্গে মিশিয়ে বিক্রি করেন। অন্য পদার্থের মধ্যে রক্ত বিশেষ একটি উপাদান। শুকিয়ে যাওয়া রক্তের সঙ্গে কস্তুরীর বিশেষ সাদৃশ্য আছে । কস্তুরীর সুবাসেও আছে বৈচিত্র্য এবং এটি ভিন্ন ভিন্ন নামেও

সুগন্ধি ফুলের মতোই যুগ যুগ ধরে মানুষের দৃষ্টি কেড়েছে কস্তুরী মৃগ। এই মৃগ অর্থাৎ হরিণ এক প্রজাতির পুরুষ হরিণ। ইংরেজি নাম ‘মাস্ক ডিয়ার’। এরা খুব লাজুক স্বভাবের। তাই নিরিবিলি বাস করে। বিচরণ করে একান্ত নির্জনে।

হিমালয় পর্বতমালার উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে উৎকৃষ্ট কস্তুরীমৃগ পাওয়া যায়। ওই অঞ্চলে একপ্রকার ছোট আকারের হরিণ আছে, তারা ছাগলের চেয়ে বড় নয় কিন্তু দেখতে অত্যন্ত সুন্দর। এদের পা অতি সরু, মাথা সুন্দর এবং চোখ চমৎকার উজ্জ্বল । এই হরিণ অন্য হরিণ থেকে আলাদা নয়। অত্যন্ত শীতল পার্বত্য পরিবেশে বাস করায় এদের লোম সরু না হয়ে অত্যন্ত মোটা ও পালকের মতো হয়। এ ছাড়া পামির মালভূমির গ্রন্থি পর্বতমালায় তৃণভূমি সমৃদ্ধ উপত্যকায় এই হরিণ পাওয়া যায়।

কস্তুরী মৃগের ওপরের মাড়ি থেকে গজদন্তের মতো দুটি দাঁত ছোট আকারে বের হয়। এ ধরনের দাঁত সব প্রজাতির হরিণের ক্ষেত্রে দেখা যায় না। এই দেখেই কস্তুরী মৃগ সনাক্ত করা হয়।

এই প্রজাতির হরিণ আত্মরক্ষায় পটু। কিন্তু তারা নিজেদের লুকিয়ে রাখতে পারে না, কারণ এদের দেহের তীব্র ঘ্রাণ। এই ঘ্রাণ অনুসরণ করে শিকারি ঠিকই এদের সন্ধান পেয়ে যায়। এই হরিণের নাভি থেকেই মূলত এই সুগন্ধি দ্রব্য সংগ্রহ করা হয়।

পুরুষ হরিণের নাভি মুখের গ্রন্থিতে এক বিশেষ ধরনের কোষের জন্ম হয়। এই কোষ যখন পূর্ণতা লাভ করে তখন এ থেকেই সুঘ্রাণ বের হতে থাকে। হরিণের ১০ বছর বয়সে সুগন্ধি কোষ পূর্ণতা লাভ করে। তবে মজার ব্যাপার হলো, যে হরিণটির নাভিতে এই কোষের জন্ম, সে নিজে কিছুই বুঝতে পারে না। তার নাকে যখন এই সুগন্ধ এসে লাগে তখন সে পাগলের মতো ছুটতে থাকে এই সুঘ্রাণের উৎসের সন্ধানে। অথচ সে বুঝতে পারে না যে, সুঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ছে তার নিজের দেহ থেকেই।

এই হরিণের দশ বছর বয়সে নাভির গ্রন্থি পরিপক্ব হয়। এ সময় হরিণটিকে হত্যা করে নাভি থেকে তুলে নেওয়া হয় পুরো গ্রন্থিটি। তারপর রোদে শুকানো হয়। একটা পূর্ণাঙ্গ কস্তুরী গ্রন্থির ওজন প্রায় ৬০-৬৫ গ্রাম। কস্তুরীকোষের বাইরের দিকটায় থাকে এলোমেলো কিছু লোম। সেগুলো ছাড়িয়ে শুকনো কোষটিকে যখন জলেতে ভেজানো হয়, তখন পরিষ্কার কস্তুরী বেরিয়ে আসে। কোনো কোনো হরিণের মধ্যে পাওয়া যায় খুব কম পরিমাণে কস্তুরী। অপরদিকে এই প্রজাতির সকল হরিণের নাভিতে একই পরিমাণে কস্তুরী উৎপন্ন হয় না; হরিণের বয়স এবং পরিবেশভেদে কস্তুরীর পরিমাণের তারতম্য হয় । দেখা গেছে, এক কিলোগ্রাম কস্তুরী পাওয়ার জন্য প্রায় দুই হাজার হরিণ শিকার করতে হয়।

কস্তুরী যখন সংগ্রহ করা হয় তখন এর গন্ধ এত উগ্র থাকে যে হরিণের নাভিকোষ কেটে নেওয়ার সময় শিকারিরা মোটা কাপড় দিয়ে নিজেদের নাক বেঁধে নেয়। অনেক সময় এ গন্ধ সহ্য করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। কারো কারো চোখ, নাক থেকে জল ও মুখ থেকে লালা ঝরা শুরু হয়। এমনকি জীবনহানিও ঘটে।

--------- সূর্যগ্রহণের আগাম বার্তা( বাংলাদেশ ও ভারতে খণ্ডগ্রাসরূপে দৃশ্য )সুপ্রিয় সূধী- আগামী ২১ শে জুন ২০২০ ইংরেজী রোজ...
14/06/2020

--------- সূর্যগ্রহণের আগাম বার্তা
( বাংলাদেশ ও ভারতে খণ্ডগ্রাসরূপে দৃশ্য )
সুপ্রিয় সূধী- আগামী ২১ শে জুন ২০২০ ইংরেজী রোজ রবিবার বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দৃশায়ণ হবে
গ্রহণ আরম্ভ▪ দিবা ঘ অর্থাৎ সকাল ০৯/৪৬ মিঃ▪
গ্রহণ সমাপ্তি▪ দিবা ঘ অর্থাৎ দুপুর ৩/৩৪ মিঃ▪
সর্বোমোট গ্রহণের স্থিতিকাল▪০৫ ঘন্টা ৪৮মিঃ▪
👉 বিশেষভাবে লক্ষণীয়▪ গ্রহণ চলাকালীন সময়ে পাক-পবিত্র থাকা বাঞ্ছনীয় এবং সকল গর্ভবতী নারীরা সতর্কতার সহিত মেনে চলা অত্যাবশ্যক
-------------------------------------------

জ্যোতিষী শ্রী রাহুল আচার্য্য
সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম

14/06/2020

আমার ছোট মেয়ের প্রথম মিন্সট্রুয়েশন হয়েছে, ট্রাউজার রক্তে ভেজা।

ভয় পেয়ে বাবা-মার ঘরে আসছে। আমি গাড়ি রেখে পায়েপায়ে হেঁটে গলির সামনের দোকানে গেলাম। ভালোমানের ন্যাপকিন কিনলাম। ন্যাপকিন কেনার সময় মনে হচ্ছিল, আমার মেয়ের জন্য পৃথিবীর সুন্দরতম ফুল কিনে বাসায় ফিরছি।

ফুল হাতে ভাবছি, আজকের দিনটিতে কী করতে পারবো যার জন্য আমার মেয়ের মিন্সট্রুয়েশনকেন্দ্রিক ভয় ও দ্বিধা আজীবনের জন্য কেটে যাবে?

বাসায় ফিরেই নিকটাত্মীয়দের ফোন দিলাম। ঘরোয়া আয়োজন হলো। কারণ আমার মেয়ের প্রথম রজঃপ্রাপ্তি। বিষয়টাকে স্মরণীয় করা রাখা জরুরী। সহজ করা জরুরি। মিন্সট্রুয়েশন হলো পৃথিবীর একমাত্র রক্তপাত, যার অপেক্ষায় প্রতিটা নারী মাসভর অপেক্ষা করে। একমাত্র রক্তপাত, যেখানে মানুষের মৃত্যু নয় বরং নতুন প্রাণ ধারণের উপযুক্ততার প্রমাণ ...

আমার পরিবারে যেহেতু মিন্সট্রুয়েশন নিয়ে ট্যাবু নেই, এই ব্যাপারটা অন্যদের মাঝে ছড়িয়ে দেবার ছোট্ট প্রয়াস হিসেবে আত্মীয়দের ডেকেছি। পাশাপাশি আমার মেয়েও যেন বুঝতে পারে, এটা খারাপ নয়। যেকোনো পরিস্থিতিতে মিন্সট্রুয়েশন শুরু হলে সে যেন পরিবারের, আত্মীয়দের সরাসরি বলে সাপোর্ট নিতে পারে। আত্মীয়রা যেন কখনো আমার মেয়ের মিন্সট্রুয়াল পিরিয়ডে ভিন্নভাবে রিয়েক্ট না করে। পরিবার কিংবা পরিবারের বাইরের মানুষের ক্ষেত্রেও যেন একইভাবে তাকায়।

উপরের গল্পটি আমার বেস্টফ্রেন্ডের। তার পিরিয়ডের দিন শুরু হয়েছিল উৎকণ্ঠা দিয়ে। শেষ হয়েছিল আয়োজন আর আনন্দ দিয়ে।

কনকারেন্ট চিত্র দেখুন।

ছেলের খৎনা হয়েছে। পুরুষাঙ্গের গ্ল্যান্সের প্রিপিউস কেটে ফেলা হয়েছে। রক্তারক্তি কারবার। এই আনন্দে কয়েক কোটি টাকা খরচা করে বড়সড় বিয়েবাড়ির মতো খানাপিনার আয়োজন করেছে। পুরান ঢাকার বিয়ে স্টাইলে পিক-আপে স্পিকার তুলে হাইভল্যুমে সড়কে শো-ডাউন করেছে। আত্মীয় স্বজন আসছে, বাচ্চা একটা ছেলে একহাতে লুঙ্গি তুলে, ডানহাতে টিপু সুলতানের ভারী তরবারী নিয়ে মুখ বাঁকা করে স্টেজে দাঁড়িয়ে আছে। সবাই পেটভারী করে স্টেজে এসে বলছে- গেট ওয়েল সুন। এমন পরিবারকে আপনি দেখেছেন।

তাহলে মেয়ের মিন্সট্রুয়েশন কেন ট্যাবু হয়ে গেল?

এক মেয়ের বড়মামা সিডনী থেকে গত শীতে কল করেছে, মা, তোমার জন্য কী আনবো?

মেয়ে নোটপ্যাডে বিশাল লিস্ট করে হোয়াটস অ্যাপ করেছে। এই লিস্ট করার সময় আমি নিজেও ছিলাম। লিস্টের প্রথম তিনটা উপহার ছিল এমন-

১। স্যানিটারি ন্যাপকিন।

২। ভালো ব্রা-প্যান্টি

৩। ফিমেইল ট্রাউজার

প্রোডাক্টগুলো যখন এলিফেন্টরোডের এসএ পরিবহনে আসে, আমি রিক্সা ভরে তার বাসায় পৌছে দিয়েছি।

তিনটা প্রোডাক্ট দেখে আপনার মনে যাই আসুক, আমার মনে হয়েছিল- এই পরিবারটা কত চমৎকার। এরা মিন্সট্রুয়াল হাইজিন এবং সেক্স এডুকেশন ফ্যামিলি থেকে পেয়েছে। এরচেয়ে আশীর্বাদের আর কিছু নাই দুনিয়ায়। উপরের তিনটি প্রোডাক্টের প্রথম দুটো মেয়েদের শরীরের জন্য অতীব জরুরি। উল্টোপাল্টা হলে বড়সড় রোগ পর্যন্ত হয়ে যায়। কিছু রোগ এখনো পৃথিবীতে কিওরেবল নয়।

শুধুমাত্র স্যানিটারি ন্যাপকিন নিয়ে ব্লকবাস্টার সিনেমা হয়েছে ভারতে। সবচেয়ে বেশি আয় করা, ট্যাক্স দেওয়া, সেকিউরড স্টার্ডাম নিয়েও অক্ষয় কুমার পর্যন্ত প্যাডম্যানের মতো মুভিতে লিড রোল করে। ২০১৮ সালের সেরা মুভি ছিল- প্যাডম্যান।

সুস্থ্য জীবনের জন্য সিম্পল জিনিসগুলোর পরিবর্তন সবার আগে করতে হয়। শুধুমাত্র টয়লেট থেকে এসে সাবান বা ছাই দিয়ে হাত ধোয়ার ট্রেন্ড দিয়েই বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার চিত্র বদলে গেছে। লক্ষ মৃত্যু, স্বাস্থ্যখাতে বিলিয়ন ডলার অর্থ অপচয় এখন হচ্ছে না, শুধুমাত্র সাবান-ছাই ট্রেন্ড চালু করার জন্য।

আমি দুই বছর ধরে একটা এনজিও-র হয়ে লিখছি। তাদের জন্য অতি সামান্য একটা আর্টিকেল লিখলেই তারা আমাকে পেমেন্ট করে। সেই আর্টিকেল তারা পোস্ট দেয় তাদের পেইজ থেকে, তাদের নামে পত্রিকায় যায়।

ভাবুন তো, কী লিখি যার জন্য আমার এক ঘন্টার মূল্য তারা এত বেশি দেয়?

সাতটা টপিকের মাঝে তিনটা টপিকের নাম লিখি।

১। চাইল্ড এবিউজ

২। রিপ্রোডাকটিভ হেলথ

৩। মিন্সট্রুয়াল হাইজিন।

আপনি নিজেও জানেন না, মাসিকের (মিন্সট্রুয়েশন) সময় একটিমাত্র নোংরা, ত্যানা কাপড় পরে আমাদের মায়েরা তাদের নিজেদের মিন্সট্রুয়াল হাইজিনের যত্ন নিতো। এখনো গ্রামের মায়েরা এই কাজ করছে। আপনি তো ফেসবুকে আছেন, স্ট্যাটাস পড়ছেন, আপনি ভাবুন তো, আপনার বাড়িতে শুধুমাত্র পঞ্চাশের কম বয়স্ক আপনার মা থাকেন। বাড়িতে কখনো স্যানিটারি প্যাড দেখেছেন?

দেখেননি। কারণ আপনার কিংবা আমার মা স্যানিটারি প্যাড ব্যবহার করেন না। পুরাতন ত্যানা কাপড় পড়ে এই সময় পাড়ি দেন।

আপনি জানেন, আপনার কিংবা আমার মা ভ্যাজাইনাল ক্যানডিডিয়াসিস, ট্রাইকোমোনাস ইনফেকশন, হেপাটাইটিস-বি কিংবা জরায়ুমুখ ক্যান্সারের রিস্কে আছে? অলরেডি তাদের এসবের একটি রোগও হয়তো আছে, আপনি জানেন না। আপনাকে বলেনি। যখন বাচামরা অবস্থায় যাবে, তখন জানবেন। সেদিন কিছু করার থাকবে না।

লজিক্যালি ভাবুন তো এবার,

আপনার কিংবা আমার মা নোংরা ত্যানা কাপড় পড়ে পিরিয়ডের সময় যত্ন নিয়েছে মানে, তাদেরও মাসিক হতো। মাসিক হতো মানে তারা ফার্টাইল। সন্তান জন্মদানের সক্ষমতা আছে। আছে বলেই আমি আজ এই স্ট্যাটাসটা লিখছি, আপনি পড়তে পারছেন।

সন্তান হবার পর আপনার আমার প্রথম কর্তব্য কী?

অন্তত তাদের উপরের পাঁচটা রোগ যেন না হয়, যেন সুস্থ্য থাকে, এজন্য কয়বার তাদের জিজ্ঞসা করেছি মিন্সট্রুয়াল হাইজিনের ব্যাপারে?

এখনকার প্রেমিকদের কেউকেউ তো প্রেমিকার ন্যাপকিন কিনে দেয়। আই সয়্যার- লাল গোলাপের চেয়েও বড় উপহার হলো প্রেমিকার জন্য কেনা স্যানিটারি ন্যাপকিন।

আমার ছোট্ট একটা স্বপ্নের কথা বলে শেষ করি।

ডাক্তার হবার পর আমি প্রথম যে অনুভূতিটা পরিবারকে নিয়ে পেয়েছিলাম, সেটা শুনলে আপনি নাক কুচকেও ফেলতে পারেন।

আমি দেখেছি, প্রস্রাব আটকে যাবার কারনে তলপেট ফুলে কত বাবা ইউরোলজি ওয়ার্ডে আসে। ক্যাথেটার করা যায় না। চেতনানাশক ব্যবহার না করেই মোটা সুই ফুটিয়ে তলপেট ফুটো করে, ক্যাথেরটার ঝুলিয়ে দিয়ে কতজনের প্রস্রাব করেয়েছি, হিসেব করিনি। পুরুষ হবারও অনেক যন্ত্রণা আছে। পুরুষের টেস্টোস্টেরন যেমন পুরুষ বানায়, এই হরমোনই আবার পুরুষের প্রস্টেট বড় করে, বেশি বয়সে প্রস্রাব আটকে দেয়, কষ্ট দেয়, প্রস্টেটে ক্যান্সার বানিয়ে ছেড়ে দেয়।

যারা আমার গল্প পড়ে মুগ্ধ হয়েছেন, তারা কী জানেন, ভারতীয় উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ কবি রবীন্দ্রনাথ শেষ বয়সে প্রস্টেট বড় হয়ে যাবার কারণে কষ্ট পেয়েছেন বারবার?

কারণ প্রস্রাব আটকে যেত।

জোড়াসাকোয় যে ঘরে তিনি জন্ম নিয়েছিলেন, সেই ঘরেই তার প্রস্টেট অপারেশন করেছিল কিংবদন্তী ডাক্তার বিধানচন্দ্র।

জানেন কী?

পেনিসিলিন নামক সবচেয়ে কমদামী এন্টিবায়োটিক বাজারে পাওয়া যায় আজকাল, সেই পেনিসিলিনের অভাবে ইনফেকশন ছড়িয়ে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ মৃত্যুবরণ করেছেন?

অথচ তিনি জমিদার ছিলেন। বিশ্বযুদ্ধের সময় ইংল্যান্ড তাকে পেনিসিলিন দেয়নি। কয়েকটা পেনিসিলিনের অভাবে বিশ্বকবি মারা গেছেন।

যখন রেডিও-টিভি-পত্রিকারা তার মৃত্যুবার্ষিকীতে তার গান বাজিয়ে উদযাপন করে তখন আমার আফসোস হয়। গানের পাশাপাশি আজ বরং একটা অনুষ্ঠান হতে পারতো যেখানে ডাক্তাররা বলতেন, রবীন্দ্রনাথ অত্যন্ত পেইনফুল মৃত্যু পেয়েছিলেন। ডাক্তাররা অনুষ্ঠানের ফাঁকে বলতে পারতো, যে পুরুষরা রবীন্দনাথের মতোই রিস্কে আছেন!

কখনো এমন হয়নি। হবে না।

আমার বাবার ক্ষেত্রেও তো এমন হতে পারে।

মাঝরাত।

প্রস্টেট বেড়ে যাবার কারণে প্রস্রাব আটকে গেছে। প্রথমে কয়েকবার ওয়াশরুমে গিয়ে তিনি প্রস্রাবের চেষ্টা করবেন। বারবার ব্যর্থ হবেন। নিষ্ঠুর কিডনি কিন্তু প্রস্রাব তৈরি থামাবে না। প্রস্রাবে ব্ল্যাডার ফুলতেই থাকবে। ব্ল্যাডারের দেয়াল স্ট্রেস পেতে পেতে পেইনের পরিমাণ তীব্র থেকে তীব্রতর করবে। যখন জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণ হবে, ব্যাথা অসহনীয় হবে, তখন বাবা আমার পরিবারের কাউকে বলবেন, বাবারে আমি পিশাপ করতে পারছি না।

আমি তখন কী করবো?

হাসপাতাল অনেক দূর। মাঝরাত হয়েছে। ট্রান্সপোর্টের সুযোগ নেই। এখন তো কোভিড প্যাশেন্ট দিয়ে ভর্তি হাসপাতালগুলো। তাকে ক্যাথেটার করিয়ে প্রস্রাব করাব নাকি হাসপাতালে নিতে গিয়ে কোভিডে আক্রান্ত করে মারা যেতে সাহায্য করবো?

ডাক্তার হিসেবে আমার কাজ হলো- ক্যাথেটার এনে তাকে নিজ হাতে ক্যাথেটারাইজেশন করা প্রস্রাব করতে সাহায্য করা।

এটা হলো জীবন। নিজের বাবার প্রাইভেট পার্টে হাত রেখেও আপনার জীবন বাঁনোর চেষ্টা করতে হবে। যদি লজ্জা পান, আপনার বাবার যদি হাইড্রোনেফ্রোসিস হয়ে যায় কিংবা মারা যায়, এই অভিশাপ ও ভুলের জন্য আপনার জান্নাতপ্রাপ্তির সুযোগও আর থাকবে না। যতই ইবাদত বন্দেগী করেন। সুযোগ ছিল, বাঁচাননি।

আমরা শিক্ষা কম নিই, শিক্ষা দিই বেশি।

কিছুদিন আগে স্যানোরার এডে যখন আপন ভাই তার বোনকে ন্যাপকিন কিনে দিয়েছে, তখন আমাদের রাস্তায় নেমে মিছিল করে মিস্টিবিতরণ করা উচিৎ ছিল। অথচ আমরা ভয়ানক পার্ভার্টদের মতো সেটাকে নিয়ে নোংরামির চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে গেছি। ভাই কীভাবে এই কাজ করবে?

স্যানোর প্যাডে তো ইয়াবা-ওয়াইন মেশানো নাই। স্রেফ ডিজপোসেবল স্টেরাইল ইনগ্রেডিয়েন্ট।

এই মানুষগুলোই আবার মায়ের সেবা-যত্নের ব্যাপার আসলে সবার আগে ভয়েস রেইজ করে।

সব থামিয়ে দিন।

বাসায় ফিরে মাকে জিজ্ঞাসা করুন, মিন্সট্রুয়াল হাইজিন জানে কী না, বোনকে আগামীমাসের ইনকাম থেকে একটা লাল গোলাপের মতো ভালোবাসা মাখা আছে, এমন একটি স্যানিটারি প্যাডের কার্টুন উপহার দিন।

মাকে হয়তো জিজ্ঞাসা করতে পারবেন না, তারচেয়ে সহজ একটা উপায় শিখিয়ে দিই।

প্রত্যেক ছয় মাসে আপনার জমানো অল্প কিছু টাকা খরচ করে মাকে নিয়ে গাইনী স্পেশালিস্টের কাছে যান। যদি লজ্জায় কিছু নাও বলতে পারেন, বলুন- তোমার রুটিন চেক-আপের জন্য নিয়ে যাচ্ছি।

আপনি সিনারিও জানেন না।

গাইনী ফাইনাল এক্সামে আমার ভাগে যে বয়স্ক মহিলা ছিলেন, যার মাথায় হাত রেখে এক্সামিনেশন করে পরীক্ষায় পাশ করে ডাক্তার হয়েছি, সেই মহিলার ছিল ইউটেরাইন প্রোল্যাপ্স। ফোর্থ গ্রেড।

ভ্যাজাইনার মুখ দিয়ে জরায়ু বের হয়ে আসছে। সেই জরায়ুতে ঘা হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যেই হয়তো সেখানে ক্যান্সার জন্ম নিবে।

এই মায়ের কেন এই দশা ছিল?

প্রথম প্রথম ভ্যাজাইনার মুখ দিয়ে যখন জরায়ু বের হয়ে আসে, গ্রামের নারীরা সেটাকে হাত দিয়ে ভেতরে ঢুকিয়ে দেয়। আবার বের হয়ে আসে। একটা সময় আর ভেতরে রাখা সম্ভব হয় না। সেখানে ঘা হয়, ব্যাথা হয়, যন্ত্রণা হয়।

এই মা নিশ্চয় তার সন্তানকে গিয়ে বলবে না, তার কী অবস্থা চলছে!

যে মা তার সন্তানকে কখনো এসব শিক্ষা দেয়নি, সেই সন্তান কীভাবে জানবে?

ভাবুন তো, যে জরায়ুর ভেতরে আপনি-আমি-দুনিয়ার প্রতিটা মানুষ নয় মাস থেকে জন্ম নিয়েছি, সেই অঙ্গটার জন্য মা প্রচন্ড কষ্টে আছে। কাউকে বলতে পারছে না।

সমস্ত লজ্জা, ট্যাবু একদিকে সরিয়ে একবার, প্লিজ একবার ভাবুন তো- এই দৃশ্যটা...আপনার মায়ের ক্ষেত্রে... আমি নিশ্চিত এই অংশ পড়ার পর আপনার চোখের কোনায় জল চলে আসছে। আপনিও মানুষ তো। মানুষ হয়েছেন বলেই, আপনার মায়ের না বলা যন্ত্রণা আপনাকে কষ্ট দিচ্ছে। আপনার চোখে জল এনেছে।

সেক্স এডুকেশন পর্ন দেখে নয়, জেনে শিখুন। ইনফরমেশন আজকাল ওপেন। ক্লিক করলেই জানা যায়। যেদিন ভাই হয়েছেন, আপনার বোনের দায়িত্ব আপনার। বাবা-মা যদি লজ্জা পায়, বোন কাকে গিয়ে বলবে?

নিজে বোনের কাছে না যেতে পারলে রাস্তায় ইডিয়ট লোকজন আপনার বোনকে দেখে হাসবে। এই দৃশ্য আপনি নিতে পারবেন না।

যেদিন স্বামী হবেন, সেদিন আপনার স্ত্রীর মিন্সট্রুয়াল হাইজিনের দিকে আপনাকে খেয়াল রাখতেই হবে।

যেদিন মেয়ের বাবা হবেন, সেদিন ন্যাপকিনের মোড়কের আড়ালে প্রথম গোলাপটা যেন আপনিই আপনার মেয়েকে দিতে পারেন। সাত সাগর পেরিয়ে, একশো একটা লাল গোলাপ সংগ্রহের সুররিয়েল অনুভূতি সাহিত্যে আছে, বাস্তবে নাই।

শেষ হোক আজকের কথোপকথন।

আপনার জন্মের সময় আপনার বাবা শুধুমাত্র শুক্রাণুর মাধ্যমে ২৩ টা ক্রোমোজোম দিয়েছে কিন্তু আপনার দেহের রক্ত-মাংস-ব্রেইন-হরমোন সব আপনার মায়ের। আপনার দেহের প্রতিটা কোষ আপনার মায়ের।

সেই মায়ের, মায়ের মতোই বোনের ব্যাপারে গ্যাপ রাখবেন না।

তাদের যত্ন করুন। আড়ালে অবডালে রোগ জন্মাতে দিবেন না।

সেন্সটিভ ইস্যু হলে সবার আগে এগিয়ে যান। বাইরের লোকের হাসি থামানোর আগে নিজের কাজটা করুন। দেখবেন স্যানোরার স্যানিটারি ন্যাপকিনের আড়ালেও একশ একটা লাল পদ্ম ফুটে আছে।

ট্যাবু ভাঙ্গুন!!
♥ধন্যবাদ💗

Address

Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Cognizance for sagacity-বিজ্ঞতা জন্য জ্ঞান posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share