05/09/2019
পরীক্ষা খারাপ হয়েছে/জিপিএ কম আসবে; এই নিয়ে যারা চিন্তিত
(লেখাটা মন দিয়ে পড়ো, জীবন বদলাবে)
"গত বছর আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে স্বর্ণপদক জয়ী বাংলাদেশের আহমেদ জাওয়াদ চৌধুরী এসএসসি তে গোল্ডেন এ প্লাস পায় নি। তবে তার এই গণিত অলিম্পিয়াড দিয়ে সে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুল-ফ্রি তে পড়াশোনা করতে পারবে। তার এই পদকএর ফলে সে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ ছাড়াই ভর্তি হতে পারবে।"
উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দেয়ার পর যারা জিপিএ নিয়ে চিন্তায় মগ্ন থাকে তাদের চেয়ে বেশি সফলতা অর্জন করে ঐ সমস্ত মানুষগুলো - যারা ভাবে, আমার যা আছে তা দিয়েই আমি সব জয় করনো ইনশাআল্লাহ।
বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রোগ্রামের সাথে আমি বিগত তিনবছর ধরে জড়িত। এই তিনবছরে আমার ছাত্রছাত্রীরা দেশসেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে এখন। তাদের নিয়ে দুর্গম দিন গুলোতে চলার পথে অনেককেই দেখেছি মাঝপথে হাল ছেড়ে দিতে, আবার কাউকে দেখেছি সেই মাঝপথ থেকে স্বপ্ন দেখেই আজ সেপ্নের স্বর্ণশেখড়ে আরোহণ করে বসে আছে।
এবার আসি নিজের কথায়,
২০১৫ সাল, কুমিল্লা বোর্ডে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে মাত্র ৩.৫৮ পেয়ে পাশ করি। ৩.৫৮; বাহ কি লুথা মার্কা রেজাল্ট! কিন্তু এই রেজাল্ট নিয়েই থেমে থাকিনি। সেসময়ে বেশ কয়েকটা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিয়েই সিদ্ধান্ত নিলাম আমি পুনরায় উচ্চ মাধ্যমিকে মানোন্নয়ন পরীক্ষা দেবো। একই সাথে আমার অনার্স ও চলমান ছিল তখন। ইম্প্রুভমেন্ট দিচ্ছি, ভর্তির পড়াশোনা করছি আবার অনার্স ও চলছে। সমস্যা হচ্ছিলো, ২০১৫ এর ইন্টারের সিলেবাস কিন্তু ২০১৬ তে এসে চেঞ্জ হয়ে গেছে। আমাদের সময়ের হৈমন্তি আর বিলাসী এসে ধাক্কা খেয়েছে অপরিচিতা আর চাষার দুঃখে।
যাইহোক, সে বছর রেজাল্ট ইম্প্রুভমেন্ট হল, আবার এডমিশনে অংশ নেই আমি। স্বপ্নের ঢাবি সহ বেশ কয়েকটা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাই। ঢাবিতে খ ইউনিটে আমি আশানুরুপ তালিকায় থাকতে পারিনি বলে ভাল ডিপার্টমেন্ট এ ভর্তি হবার যোগ্যতা ছিল না। তাতে কি? সাস্টে লোকপ্রশাসন পড়ছি। মাথায় রেখো, স্বপ্ন কেবল ঢাবিতে থেমে থাকে না ভাই।
একটা বিশ্ববিদ্যালয় তোমাকে ৫-৬ বছর ভাল সময় দিবে- কিন্তু একটা বিষয় তোমাকে সারাজীবন সময় দিবে।
ঢাবিতে প্রত্যাশিত ফলাফল না পাবার ফলে ভেঙ্গে পড়িনি। বরং এখান থেকে জিদ ধরে আরো ভাল প্রস্তুতি নিয়ে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে ভাল পজিশনে ছিলাম।
নিজের ভেতর এখন প্রশ্ন জাগবে- ইন্টারের পরীক্ষা খারাপ হয়েছে। জিপিএ কম আসবে, এই জিপিএ নিয়ে আমি আমার কাঙখিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবো? অবশ্যই পারবে।
শোন, জিপিএ মানুষকে কিছু দেয় না, বরং যেখানে আছো, যে অবস্থায় যে জিপিএ নিয়ে আছো তাতেই স্বপ্ন দেখো। স্বপ্ন মানুষকে পথ দেখিয়ে নিয়ে যায়। যারা প্লাস বা গোল্ডেন পায় এদের শরীরে একটা ভাব থাকে। সেটা হল, 'আমিতো পাইয়া গেছি প্লাস, পড়াশোনা করছি অনেক, এখন আর কিছু করার দরকার নাইন, চান্স ও হইয়া যাবিবো।" ভাই, দিনশেষে এই ছেলেটাই লুথাদের দলে থাকে আর বিজয়ী হয় আমার মত ৩.৫৮ এর কাছের মানুষ গুলো।
শিক্ষাজীবনের দীর্ঘ ১২ বিছর কাটিয়ে এসেছো। এখন নিজের প্লাটফর্ম শক্ত করার সময়। এই বয়সে এসে থেমে থাকবে কেন? নিজেকে বদলানোর সময় এখনি। যদি কিছু পেতে চাও তাহলে বদলে যাও।
জীবনে অনেকটাকার বই কিনেছো। এতোদূর এসে থেমে যাবে কেন? থেমে যাবার নাম স্বপ্ন পূরণ নয়, সবাই যেখানে থেমে যায় তুমি সেখান থেকে শুরু কর।
তোমাদের মধ্যে অনেকেই আছো প্রেমে ছ্যাকা খেয়ে অবস্থা খারাপ। উপন্যাসের শেষ পাতার মত তোমরাও ভাবছো- জীবনের শেষ অধ্যায়টা বুঝি এখানেই শেষ! ধুর মিয়া, শেষ মানে কি? জীবন কেবলই তো শুরু। শোন, তুমি আজ যে এক্স নিয়ে কাঁদছো- সে আসলে তোমার না, তাই কাঁদছো। আমরা নিজের জিনিসের জন্য কাঁদিনা। যা আমাদের থাকে না বা যার অভাব ভোগ করি তারজন্যই কাঁদি। তুমি আজ যে এক্স নিয়ে কাঁদছো- সে আসলে কিছুই না রে ভাই। মাথায় রেখো, ইংরেজি বর্ণমালায় একটা X ছাড়াও আরো বাকি ২৫টা লেটার আছে। So, you've 25 alternative way to move. এবং এটাই কার্যকরী সময় নিজেকে সে ২৫টা পন্থায় সাজিয়ে তোলার।
আবারো নিজের কথায় আসি-
তিনবছর আগে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির স্বনামধন্য কোচিং গুলোতে আমি সিভি জমা দিয়ে বলেছিলাম, 'ভাই আমাকে ক্লাস নেয়ার সুযোগ দেন।' তারা সময় দেয় নি। আজ তারাই আমাকে ফোন দিয়ে বলে, 'ভাই আসেন, ক্লাস নেন। অন্যদের চেয়ে প্যামেন্ট বেশি পাবেন।"
একটা সময় কোচিং এ সেমিনারে স্যারদের বক্তৃতা আর মোটিভেশন শুনতে বসে থাকতাম। আর এখন আমার বক্তৃতা, মোটিভেশন এসব শুনতে শতশত শিক্ষার্থী ভিড় জমায়।
ইচ্ছা ছিল ডাক্তার হবো- পড়াশোনা করেছি মানবিক বিভাগে। মেডিকেল পরীক্ষার্থীরাই এখন আমার কাছে পড়তে আসে। আমার ছাত্রছাত্রীরাই ঢাবি, বুয়েট আর মেডিকেলে পড়ে।
বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির জন্য বাজারে আমার নিজেরই কয়েকটা বই ও আছে( সাস্ট সিক্সার্স- শাবিপ্রবি প্রশ্ন ব্যাংক[A & B unit] এবং 'শালবন- কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি গাইড')। আর এ-সব কিছুই দীর্ঘ শ্রমের ফসল।
যাইহোক্য বেশি কিছু বললাম না, আমার টাইমলাইন ঘুরলেই দেখতে পাবেন। আমি মানবিক বিভাগের ছাত্র কিন্তু দেশ সেরা মেডিকেল কোচিং ও তাদের সেমিনারের বক্তা হিসেবে আমাকে দাওয়াত করে নিয়ে যায়।
জীবন কখনো জিপিএ তে থেমে থাকেনা। অন্যরা 'পারবে না'- বলে যেখানে থেমে গেছে আপনি সেখান থেকেই শুরু করেন। বস্তুত সত্য কথা, বাংলাদেশের সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়া পরীক্ষার্থীদের মধ্যে সিংহ ভাগই গ্রামের সন্তান।
পায়ে গুলি খেয়ে যদি আহত মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করতে পারে তাহলে আপনি কেন পারবেন না কম জিপিএ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় ভাল করতে? - নিশ্চয় পারবে, কারণ তুমি এই মুক্তিযোদ্ধাদের দেশেরই সন্তান। তোমার জম্ম হয়েছে রক্ত ঝরানো এই মাটিতেই।
মনে রাখবে, NO মানে 'না'- নয়। NO মানে Next Opportunity.
তাহলে তুমি পিছিনে থাকবেন কেন? দেখিয়ে দাও - তুমিও পারো আর তোমাকেই দিয়েই হবে -