22/08/2026
ডা. দীপু মনির ফুটেজগুলো দেখতে সত্যিই খারাপ লাগে। তার অসুস্থ্য স্বামী পক্ষাগাতগ্রস্ত হয়ে উনাকে ট্রাইবুনালে দেখতে আসতেন। দীপু মনিকে ছাড়াই একাকীত্ব নিয়ে, দুঃখ নিয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন তার স্বামী ব্যারিস্টার তৌফিক নাওয়াজ।
এই দুঃসময়ের মধ্যেও দীপু মনি একটিবারের জন্য ধৈর্য্যহারা হননি। ভদ্র ও মার্জিত ভাষায় তিনি পুলিশ ও সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন।
এমন ভদ্র ও মাতৃসুলভ ব্যক্তিত্বে মুগ্ধ হয়ে কয়েক বছর আগে আমি দীপু মনির কাছে গিয়েছিলাম। সে সময় তিনি শিক্ষামন্ত্রী। তাকে জাহাঙ্গীরনগরের মাস্টারপ্ল্যান লঙ্ঘন এবং ১৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দের উপর দূর্নীতি নিয়ে আমি বিস্তারিত জানাই।
জানানোর পর তিনি ভদ্র এবং মার্জিত ছিলেন না। আমার মনে হচ্ছিলো উনি এক্ষুণি পারলে আমাকে মারেন। অথবা আমাকে কোন ভয়াবহ শাস্তির সম্মুখীন করেন। সেই চেহারার সাথে তার এই ভদ্র ও মার্জিত চেহারার বিন্দুমাত্র মিল নেই। আমার ইভেন তখন তাকে নারীও মনে হয়নি। মনে হচ্ছিলো সামনে বসে আছে পরাক্রমশালী কোন পুরুষ। আপনারা যারা আওয়ামী লীগের মন্ত্রীদের দেখেননি তারা বিএনপির এই সাধারণ মানুষ-মন্ত্রী দিয়ে তুলনাটা বুঝতে পারবেন না। লীগ মন্ত্রীদের পরাক্রম ও প্রোটোকল দেখেই আমাদের আধ মরা হবার যোগার হতো। ধমক দিলে আত্মা উড়ে যেতো।
উনি জোর করে আমার থেকে সরি আদায় করেন এবং স্বীকার করতে বাধ্য হই যে দূর্নীতি কিছুই হয়নি। আর মাস্টারপ্ল্যান লঙ্ঘন করে যেসব বেআইনী ভবনের পিলার বসে গেছে, তা তো আর উপড়ে তুলে ফেলা যাবে না। তাই ভবন নির্মাণ করাটাই ভালো কাজ হবে - এ বিষয়ে আমি একমত হতে বাধ্য হই। আমার ফোন নম্বর পর্যন্ত উনি রেখে দেন।
আমার পরে উনি যার সাথে কথা বলেন, তাৎক্ষণিক তার রুদ্রমূর্তি সরে গিয়ে আবার মায়াবী মুখটা তিনি ধারণ করেন। আমি তার গুণ দেখে মুগ্ধ হই।
চাঁদপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে দীপু মনির কয়েক শত কোটি টাকার দূর্নীতি নিয়ে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন খোদ চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক। সে সময় কেউ বুঝতে পারছিলেন না, এমন মায়াবতী মাতৃময়ী নারী এই কাজ কীভাবে করতে পারেন! ডিসি যেহেতু হিজাব পরেন, নিশ্চয়ই ডিসি জামায়াত সমর্থন করেন! পরে এই ডিসিকে বদলি করিয়েছেন দীপু মনি।
দীপু মনির স্বামী ব্যারিস্টার তৌফিক নাওয়াজ ছিলেন তার যোগ্য পার্টনার। ব্র্যাক, গ্রামীণ, গণস্বাস্থ্য ছিল তার শত্রু। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একক ও একচ্ছত্র উন্নয়ন ক্রেডিটের প্রধান ৩ প্রতিযোগী। ব্র্যাকের বিরুদ্ধে মামলা করে উনি হেরে যান। পরে গ্রামীণের বিরুদ্ধের মামলা করে অবশ্য জেতেন। কোর্টের কারণে না, শেখ হাসিনার ফোনের কারণে। এই রায়ের পর ইউনূসের প্রতিষ্ঠিত ব্যাংক থেকে ইউনূসকেই সরিয়ে দেওয়া হয়। দিবালোকের মতো মিথ্যাচার করে হাসিনা বলেন, এই ব্যাংক ইউনূস করেনি। এটা এরশাদ প্রতিষ্ঠা করেছে।
নাওয়াজ প্যারালাইজড হবার আগে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন বিখ্যাত শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক (তার সাথেও আমার তিক্ত অভিজ্ঞতা আছে। অন্য কোনদিন বলবো।)
একদিন মানিক বিমানে উঠলেন। বাঙলাদেশ বিমানের বিমান বালাকে বললেন আমার তো ইকোনমি সিট। কিন্তু আমি তো বিচারপতি। আমার সিট বিজ়নেস ক্লাসে উন্নীত করো। বিমান বালা সেটা করেন নাই। মানিক তখন ঢাকায় ফিরে বিমান বালাকে আদালত অবমাননার অভিযোগে অভিযুক্ত করে জেলের ভাত খাওয়ালেন। সেই মামলায় মানিকের হয়ে লড়াইটা করেছিলেন এই ব্যারিস্টার নাওয়াজ। ডেইলি স্টার মানিকের এই কাজ নিয়ে প্রতিবেদন করলে, দীপু মনির স্বামী স্টারের ব্যাপক সমালোচনা করেন।
আমার এখনও দীপু মনিকে দেখলে, তার কষ্ট দেখলে খারাপ লাগে। কিন্তু নিজেকেই বুঝ দিই, এই কষ্টটা তারা ডিজার্ভ করে। আল্লাহর প্ল্যান কে জানতো!
আজ কিনা দীপু মনি জেলে আর মির্জা ফখরুল বঙ্গভবনে!
© Irfan Sheikh