21/11/2019
Subject Review last part
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় -Intstitute of Leather Engineering and Technology-১৫০টি:
যেখানে তিনটি ডিপার্টমেন্টে (লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং-৫০টি, লেদার প্রোডাক্ট ইঞ্জিনিয়ারিং-৫০টি, ফুটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং-৫০টি) করে সীট রয়েছে।
*কুয়েট- ৬০টি:
যেখানে,(লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং-৬০টি) সীট ।
***অর্থাৎ, মাত্র ২১০ জন প্রতি বছর এ সাবজেক্ট পড়ার সুযোগ পাচ্ছে আর পাস করে বের হচ্ছে যা সেক্টরের চাহিদার তুলনায় খুবই কম। তাছাড়া এই ডিপার্টমেন্টের ল্যাব ও পরিচালনার অন্যান্য খরচ খুব বেশি হওয়ায় প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি গুলিতে এই ডিপার্টমেন্ট নেই আর ভবিষ্যতে চালু হওয়ার সম্ভাবনাও কম। এজন্য, জব সেক্টরে গিয়ে জব পাওয়ার কম্পিটিশনের চিন্তা প্রায় নেই বললেই চলে।
***বাংলাদেশে প্রস্তুতকৃত চামড়ার গুণগতমান ভালো হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারেও এর বেশ কদর রয়েছে।বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি দেশে প্রায় সাড়ে চার হাজার ছোট জুতা ও চামড়াজাত পণ্য তৈরির কারখানা রয়েছে।এসব প্রতিষ্ঠানে প্রক্রিয়াজাত চামড়া ও জুতার পাশাপাশি নানা ধরনের চামড়াজাত পণ্য তৈরি হচ্ছে।.ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড যুদ্ধ চলায় আর বাংলাদেশে লেবার কস্ট কম হওয়ায় নানান বড় বড় বিদেশি লেদার প্রোডাক্ট ও ফুটওয়্যার কোম্পানিগুলো এ দেশে তাদের ইন্ডাস্ট্রি স্থাপন করছে । যেমন Gucci, Tommy Hilfiger, Timberland, Picard, Adidas, Nike, Puma এর মতন বড় বড় ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি।বর্তমানে চীন,কোরিয়া সহ বিভিন্ন উন্নত দেশগুলো তাদের লেদার ও ফুটওয়্যার বিজনেসগুলোকে স্হানান্তর করছে বাংলাদেশে।তাছাড়া এখনই ৫০ টির মতো বিদেশি কোম্পানি আছে যারা চামড়াজাত পণ্য উৎপাদন করে। বিদেশি ফুটওয়্যার ইন্ড্রাস্ট্রি আছে 200 এরও অধিক।কিন্তু এসকল industry এর জন্য যে পরিমান দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার দরকার তা fulfill করতে পারছে না বাংলাদেশ। ফলশ্রুতিতে বিদেশ থেকে Leather Engineer বাংলাদেশে আনা হচ্ছে। তাই বুঝতেই পারছ নিজেকে একজন দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে গড়ে নিতে পারলে তোমার জন্য উজ্জ্বল ভবিষ্যত্ অপেক্ষা করছে। এজন্য তুমি দেশে থেকেই নিজের পছন্দ মতো বিদেশি কোম্পানিতে চাকরি করে, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারবে এবং ক্রমাগত দেশের অর্থনৈতিক অবস্হার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবে।
***এই সাবজেক্টের নাম শুনে অনেকে কর্মক্ষেত্র নিয়ে নাক ছিটকায়। অনেকে না জেনেই ধরে নেয় যে একজন Leather Engineering স্টুডেন্ট এর কাজ হয়তো শুধু ট্যানারিতে। কিন্তু এটা পুরোপুরি ভুল ধারণা। একজন লেদার ইঞ্জিনিয়ার যে সকল সেক্টরে job করতে পারে তা দেখা যাক:
• As Leather Engineer
• As Chemical engineer
• In Footwear Industry
• In Leather Products Industry
• In Leather Products Development Industry
• In Polymer Industry
• In Dyeing Industry
• Waste Management Industry
• Renewable Energy
***তুমি যদি অত্যধিক পরিশ্রমী এবং সংযমী হতে পারো তবেই লেদার সেক্টরে উন্নতি করতে পারবে। তোমাকে পরিশ্রম করে অর্জন করে নিতে হবে কোনো কিছুই আপনাআপনি হবে না। তোমার ইচ্ছা এবং আন্তরিকতা থাকতে হবে। Dedicated হতে হবে পড়ালেখা, সেক্টর এবং তোমার কাজেএর প্রতি আর এ ধরনের মানসিকতা নিয়ে এগোতে পারলে 5-6 বছরের মধ্যে 6 ডিজিট পর্যন্ত স্যালারি পাওয়া কঠিন কিছু না।
***শুধুমাত্র লেদার সেক্টরেই নয় বিসিএস,নির্বাচন কমিশন,এনএসআই, জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো,লেদার রিসার্স ইন্সটিটিউট,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এলএসবিপিসি,অর্থ মন্ত্রণালয়াধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ইত্যাদি ক্ষেত্রে চাকরির যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।তাছাড়াও শিক্ষকতারও বড় সুযোগ রয়েছে ।কারণ বাংলাদেশে চামড়া শিল্পের উন্নতির সাথে সাথে লেদার ইঞ্জিনিয়ার গ্র্যাজুয়েটের ঘাটতি মেটাতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এই ডিপার্টমেন্ট খোলা হবে তাই সেখানে শিক্ষকতার যথেষ্ট সুযোগ থাকবে।
***এখন আসা যাক Leather Engineering বিভাগে যেসব subject গুলো পড়ানো হয় তার সম্পর্কে।অনেকেই সাবজেক্টের নাম শুনে ভাবতে পারে এই ডিপার্টমেন্টে শুধু চামড়া নিয়েই পড়ানো হয়, কিন্তু তা একেবারেই ভুল। এই সাবজেক্টে একটি প্রফেশনাল ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সের প্রায় সব সাবজেক্ট পড়ানো হয়। এর পাশাপাশি লেদার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের এসব Core subject গুলো পড়ানো হয়
*Biochemistry of proteins, *principles of Pre-Tannage,*Analytical chemistry of pre –Tanning materials, *Biotechnology of Leather manufacture,*Mechanics Leather Machines, *Methods of leather manufacture,* Post tanning operations, *Analytical Chemistry of Post tanning & finishing agents,*Analytical Chemistry of leather, *Footwear Engineering and Leather products Engineering.
***এই বিষয় গুলো ছাড়াও চার বছরের কোর্সের এই ডিপার্টমেন্ট টিতে প্রথম ২ বছরে ডিপার্টমেন্টল সাবজেক্ট এর পাশাপাশি-
*Basic Electrical Engineering, *Computer fundamental and programming , *computer aided graphics design, *Basic Mechanical Engineering, ইত্যাদি বিষয়গুলো সহ *Inorganic and Organic Chemistry, *Mathematics, *Physics, *Accounting,* English, and *Economics সাবজেক্ট গুলোও পড়ানো হয়।
***Leather Engineering এ B.Sc Engineering পাশ করার পর শিক্ষার্থীরা Leather Engineering এ M.Sc করার পাশাপাশি Chemical Engineering , Industrial Engineering, environmental science ইত্যাদি ডিপার্টমেন্ট এও M.Sc Engineering পড়তে পারে।
***Higher studies এ ব্যাপক সম্ভাবনা। আমাদের অনেক সিনিয়র আপু ভাইয়ারা এখন দেশের বাহিরে পড়াশুনা করছেন। সাধারণত Environmental science, chemical engineering, material science, polymer science, designing এগুলোতে আপনি সহজেই higher studies এর জন্য apply করতে পারবে। Leather নিয়ে higher study করতে চাইলে China, Canada, Australia, Germany and England এ স্কলারশিপের সুবিধা রয়েছে।
***সব ডিপার্টমেন্টেই মোটামুটি কিছু না কিছু সমস্যা থাকে। কোনও ডিপার্টমেন্ট ই স্বয়ংসম্পূর্ণ নয় আর বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটাই স্বাভাবিক। ঠিক তেমনি এই ডিপার্টমেন্টের একটি অন্যতম সমস্যা হল ইনস্টিটিউটের ক্যাম্পাস মেইন ক্যাম্পাস থেকে কিছুটা দূরে হাজারিবাগে অবস্থিত। মেইন ক্যাম্পাস থেকে গাড়িতে প্রায় পনেরো থেকে বিশ মিনিটের মত দূরত্। প্রধানত এজন্যই ভালো সাবজেক্ট হওয়া সত্ত্বেও এই ইনস্টিটিউটের সাবজেক্ট গুলোর অবস্থান এতদিন পিছনের দিকে ধরা হয়ে আসছে। কিন্তু এই বছর থেকে মেইন ক্যাম্পাসে যাতায়াতের জন্য লেদার ইনস্টিটিউটের নিজস্ব দুইটি বাস চালু করা হয়েছে। তাই আগে যাতায়াতের সমস্যা থাকলেও এখন নিয়মিত বাস চলাচল করায় ওই সমস্যা আর নেই বললেই চলে। ইনস্টিটিউটের খারাপ দিক এর মধ্যে বলা যেতে পারে প্রথম কিছু দিন মেইন ক্যাম্পাস থেকে ডিপার্টমেন্ট দূরে হওয়ায় অনেকে কিছুটা হতাশ হয়ে পড়ে কিন্তু কিছুদিন পর সে হতাশা কেটে যায় । কারণ, ডিপার্টমেন্ট ঢাকা ভার্সিটির অন্যান্য ডিপার্টমেন্ট এর মত মেইন ক্যাম্পাসের মধ্যে না হলেও ভার্সিটি লাইফ অন্যান্য সকল ঢাবিয়ানদের মতোই উপভোগ করে এবং ভার্সিটির সকল প্রোগ্রামে অন্যান্য ডিপার্টমেন্টের স্টুডেন্টদের মতোই অংশগ্রহণ করে। আর নিয়মিত মেন ক্যাম্পাস আর ILET ক্যাম্পাসে যাতায়াতের ফলে দূরত্বটা বেশ কমে আসে মনে হয়। আর ভর্তি হওয়ার পর ক্যাম্পাসে আসলে সেক্টরের বড় ভাইয়া আপুদের অবস্থান দেখতে পাবে আর এই সাবজেক্টের অন্যান্য স্কোপ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবে, তখন আর কোনও ডিপ্রেশন থাকবে না। একটু পিছনের দিকে সিরিয়াল থেকেও এত ভাল সাবজেক্টে পড়লে এসব নিয়ে কোনও ডিপ্রেশনে থাকার কথাও না।
***এবার আসা যাক অন্যান্য সুযোগ সুবিধার কথায়-
*ক্যাম্পাসের পাশেই ছেলেদের জন্য স্বতন্ত্র হল এবং মেয়েদের জন্য হোস্টেল আছে যেখানে শুধু Institute এর শিক্ষার্থীরাই থাকতে পারে।এ জন্য প্রথম বর্ষ থেকেই এখানে ভালোভাবে থাকার সুযোগ সুবিধা পাবে। ফলে থাকার জন্য আলাদা কোনো ঝামেলা পোহাতে হয় না।
*তোমার যদি উদ্যোক্তা হওয়ার ইচ্ছা থাকে তাহলে লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং তোমার জন্য হবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ডিপার্টমেন্ট। যেহেতু ট্রেড যুদ্ধের সুবাদে এ দেশে চামড়া খাতে বৈদেশিক ইনভেস্টম্যান্ট প্রতি বছর বৃদ্ধি পাচ্ছে, তার সাথে তাল মিলিয়ে দিন দিন বাংলাদেশে নতুন নতুন চামড়ার ইন্ডাস্ট্রির প্রয়োজনীয়তাও বাড়ছে । এজন্য, চামড়া শিল্পে কোন লেদার ইঞ্জিনিয়ারের চাকুরির যথেষ্ট অভিজ্ঞতা অর্জনের পর নিজের ইন্ডাস্ট্রি দেবার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
***শ্রমবাজার তুলনামূলক কম হওয়ায় এবং কাঁচামাল প্রাচুর্যতার কারণেই বর্তমানে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের শক্তিশালী ক্ষেত্র হয়ে দাঁডিয়েছে এই সেক্টরটি।বাংলাদেশে এই সেক্টরে যে পরিমাণ দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার প্রয়োজন,বর্তমানে রয়েছে তার তুলনায় অনেক কম। তাই সামনের দিনগুলোতে লেদার ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য এক অপার সম্ভাবনা অপেক্ষা করছে।তাই লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং সাবজেক্টে পড়ালেখার মাধ্যমে তুমিও হয়ে উঠতে পারো এ সেক্টরের একজন দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার এবং গড়তে পারো তোমার উজ্জ্বল ক্যারিয়ার।