04/07/2024
সদ্য এস এস সি পাশকৃত ছাত্র/ছাত্রী ভাই বোন এবং অভিভাবকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি:
এ বছর যারা আপনারা এস এস সি পাশ করলেন তাদের কে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি।
এখন হয়তো সবাই এইচ এস সি পাশ করে উচ্চ শিক্ষা নেয়ার জন্য স্বপ্ন দেখছেন।এ স্বপ্ন সবাই দেখে কিন্তু বাস্তব বড় নির্মম।আপনারা আপনার আশে পাশের প্রতিবেশি বড়ভাই ,আত্মিয় স্বজনের দিকে তাকালে বুঝতে পারবেন উচ্চ শিক্ষা নিয়ে কতজন প্রতিষ্ঠিত হতে পেরেছে।লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বছরে মাত্র ২০০০বা ২৫০০ জন বি সি এস ক্যাডার এবং বাকি ১০০০/১৫০০ জন ননক্যাডার হিসেবে চাকরি পায়।বাকি সবার ভবিষ্যত অনিশ্চিত। কাউকে ছোট করার জন্য বলছি না। এদেশে বর্তমানে অফিস সহায়ক (পিওন) এর প্রায় সব চাকরিই উচ্চ শিক্ষিতদের দখলে চলে গেছে।উপায় নেই ,বয়স শেষ অথবা বয়স ধরে রাখার জন্য এই পদে চাকুরীরত থেকে চাকুরী বদলানোর নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।উচ্চশিক্ষিতরা সবাই এই আলো ছায়ার পিছনে ছুটতেছে। ৩২ বছর ধরে শুধু লেখাপড়া করার লোক একমাত্র বাংলাদেশেই আছে।
এবার মূল প্রসংগে আসি।
আপনারা যারা মধ্যবিত্ত ,নিম্নমধ্যবিত্ত বা নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান ,আপনাদের কাছে অনুরোধ আপনারা সরাসরি ৪ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং , কৃষি ডিপ্লোমা,নার্সিং বা মেডিকেল টেকনোলজি যে কোন বিষয়ে ভর্তি হয়ে চার বছর পর পরিবারের পাশে অনায়াসে দাড়াতে পারেন।সরকারি চাকরি পেলেই ১০ম গ্রেডে দ্বিতীয় শ্রেনীর চাকরি বা বেসরকারি পর্যায়ে সন্মানজনক চাকরি পেতে পারেন।আপনি চাইলেই চাকরির পাশাপাশি উচ্চতর ডিগ্রি ও নিতে পারেন।
আপনাদের জ্ঞাতার্থে বলতে চাই আমি ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করার পর একটা আন্তর্জাতিক এন জি ও তে চাকরি করা অবস্থায় বি এস এস (পাশ) ডিগ্রি এবং পরবর্তীতে সরকারি চাকুরীরত অবস্থায় বি এস সি ইন (সিভিল ) ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি অর্জন করি(যদিও এ ডিগ্রি আমার চাকরি জীবনে কোন কাজে আসে নাই একমাত্র ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি ছাড়া)।
বর্তমানে উচ্চ শিক্ষার জন্য শুধুমাত্র ডুয়েট আছে সরকার নতুন ৪টি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপন করছে যার ২টিতে শুধুমাত্র ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরা ডুয়েটের ন্যায় উচ্চ শিক্ষা অর্জন করবে।প্রয়োজনীয় ক্রেডিট ওয়েবার দিয়ে দুই বা আড়াই বছরের মধ্যে ডিগ্রি ইঞ্জিনিয়ারিং এর সুযোগ এর জন্য আইডিইবির আন্দোলন অব্যাহত আছে।
সরকারি ,বে সরকারি , স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ,পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ,টি এস সি ,টিটিসি এবং বিভিন্ন এম পি ও ভূক্ত বেসরকারি স্কুলে / মাদ্রাসায় ট্রেড ইনস্ট্রাক্টর হিসেবে চাকরি পাওয়ার বিরাট সুযোগ আছে।
বা আপনি চাইলে উদ্যোক্তাও হতে পারেন আপনার দক্ষতা দিয়ে।
সরকার ঘোষনা করেছে কারিগরি শিক্ষা হবে মূলধারার শিক্ষা। এবং কারিগরি শিক্ষার হার ২০৩০ সালের মধ্যে ৩০% এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৫০% করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার ।পর্যায়ক্রমে সকল মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং মাদ্রাসায় কমপক্ষে ২টি করে ট্রেড ৬ষ্ঠ শ্রেনী থেকে চালু করবে।প্রতিটি ট্রেডে কমপক্ষে ২ জন করে শিক্ষক নিয়োগ হবে সরাসরি ১৬০০০/- টাকা স্কেলে অর্থাৎ সিনিয়র শিক্ষক হিসেবে। তারজন্য শিক্ষক নিবন্ধন পরিক্ষায় উত্তির্ন হতে হবে NTRCA থেকে।বর্তমানে বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রায় চৌদ্দ হাজার শিক্ষক কর্মরত আছে। ইচ্ছা করলে বাড়ি বসে যেকোন বিদ্যালয়ে এই শিক্ষকতা করা সম্ভব।
আগামীদিনের স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে হলে মিড লেভেল ইঞ্জিনিয়ারদের ডিমান্ড হবে সবচেয়ে বেশি।আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স এর যুগে মেশিন লার্নিং ছাড়া কোন কাজ হবে না।এজন্য প্রত্যেককে অত্যন্ত দক্ষ হতে হবে।
বর্তমানে এ দেশে হুন্দাই কোম্পানি যে গাড়ি তৈরীর কারখানা চালু আছে।সেখানকার প্রায় ৩৫০ জন চাকরিজীবি ডিপ্লোমা প্রকৌশলী। ঢাকা মেট্রোরেলের ইনস্টলেশন ,অপারেশন এবং মেইনটেইনেন্স এ প্রচুর ডিপ্লোমা প্রকৌশলী উচ্চ বেতনে নিয়োজিত আছে।
বিদেশেও ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের প্রচুর ডিমান্ড আছে।সেজন্য সবাইকে দক্ষ এবং যে দেশে যাবে সে দেশের ভাষায় দক্ষতা অর্জন করলেই আপনাকে কেউ রুখতে পারবে না।
তাই আসুন আমরা কারিগরি শিক্ষা গ্রহণ করি এবং দেশ মাতৃকার কল্যানে ঝাপিয়ে পড়ি।
তাই আসুন আমরা আমাদের সন্তানদের দক্ষ করে গড়ে তোলার জন্য কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করি।
আসুন স্লোগান দেই
"একটাই লক্ষ্য
হতে হবে দক্ষ।"
মোঃ সিরাজুল ইসলাম
যুগ্মসাধারণ সম্পাদক ,আইডিইবি
ও
সভাপতি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতি
এবং সহকারী প্রকৌশলী ইইডি।