25/08/2026
বিএমইউর সম্মানিত কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার এর
বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত কোষাধ্যক্ষ ও অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিটোম্যাটারনাল মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার এর বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট ২০২৬ইং তারিখে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিল্টন হলে অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে এই বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও আচার্য এর অনুমোদনক্রমে গত ১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ইং তারিখে অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পান। তিনি ১৯৬১ সালের ২৮শে আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন। সে হিসাবে তিনি আগামী ২৮ আগস্ট ২০২৬ইং তারিখে দীর্ঘ চাকুরী জীবন থেকে অবসরে (পিআরএল) যাবেন বিধায় এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএমইউ এর মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী।
অনুষ্ঠানে মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, ফিটোম্যাটারনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার অত্যন্ত সততা, আন্তরিকতা, বিশ্বস্ততা ও দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কঠিন সময়ে তিনি সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক বিষয়গুলো তিনি একটি সুশৃঙ্খল পর্যায়ে নিয়ে এসেছেন। বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের চিকিৎসাসেবা ও চিকিৎসা শিক্ষাখাতে তাঁর বিশেষ অবদান রয়েছে।
সম্মানিত কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার বলেন, বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৩ বছরসহ আমি আমার ৩৭ বছরের কর্মজীবনে চেষ্টা করেছি সঠিক সময়ে অফিসে উপস্থিত হওয়ার এবং সঠিক সময়ে প্রস্থান করার। বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৪ সালের ১লা সেপ্টেম্বর কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করি। কোষাধ্যক্ষের প্রধান দায়িত্ব আর্থিক বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়ায় আমাকে বিভিন্ন সময় একটু কঠিন হতে হয়েছে। আর্থিক বিধি বিধান ও আইন অনুযায়ী আমি দায়িত্বপালনের চেষ্টা করেছি। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিগত সময়ে যারা বিভিন্নভাবে বহু বছর বঞ্চিত ছিল তাদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আমি আমার দায়িত্বপালনকালে অর্থ ও হিসাব অফিস এবং অডিট দপ্তরের সব সময় প্রয়োজনীয় সহায়তা পেয়েছি। আমি দায়িত্ব পালনের শুরুতে যে ভঙ্গুর ও অনিয়মে ভরপুর আর্থিক বিষয়গুলো ছিল তা একটি শৃঙ্খল পর্যায়ে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছি। সকলে ঐক্যবদ্ধ থাকলে ও সম্মলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে অনেক কঠিন বিষয়ও সমাধান করা করা সম্ভব হয়।
সম্মানিত উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, সম্মানিত কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার সবসময় স্পষ্ট কথা বলতেন। তিনি তার বক্তব্যে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মরত সকলকে সমালোচনার পরিবর্তে কাজে অধিকতর মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মোঃ আবুল কালাম আজাদ বলেন, সম্মানিত কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার একজন গুণী চিকিৎসক। তিনি সৎ ও ধৈর্যশীল। চিকিৎসাসেবা ও প্রশাসনে তাঁর অবদানকে আমরা সবসময় স্মরণে রাখব।
সুন্দর এই অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার এর বর্ণাঢ্য, বৈচিত্র্যময় কর্মজীবন নিয়ে একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনসহ বিভিন্ন অফিস ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে সম্মানিত বিদায়ী কোষাধ্যক্ষ মহোদয়কে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয় ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) জনাব খন্দকার শফিকুল হাসান রতন এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. মোঃ নজরুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মোঃ আবুল কালাম আজাদ, উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মোঃ মুজিবুর রহমান হাওলাদার, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মোঃ মোস্তফা কামাল, প্রক্টর অধ্যাপক ডা. শেখ ফরহাদ, মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. শামীম আহমেদ, বেসিক সাইন্স ও প্যারাক্লিনিক্যাল সাইন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মোঃ সাইফ উল্লাহ মুন্সী, ডেন্টাল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. সাখাওয়াৎ হোসেন সায়ন্ত, মেডিক্যাল টেকনোলজি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. আবু হেনা চৌধুরী। আরো বক্তব্য রাখেন পরিচালক (মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগ) মোঃ মাসুদ রানা, অতিরিক্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোঃ আকতারুজ্জামান, উপ-রেজিস্ট্রার ও সম্মানিত কোষাধ্যক্ষ মহোদয়ের একান্ত সচিব সাবিনা ইয়াসমিন, অফিসার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোঃ ইয়াহিয়া খান।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন মাননীয় উপাচার্য মহোদয়ের একান্ত সচিব-১ অধ্যাপক ডা. মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, প্রধান প্রকৌশলী মোঃ জাফর ইকবাল, অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার ডা. সাইফ উদ্দিন নিসার আহমেদ, অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার মোঃ হাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) মোঃ মাসুদ আলম, অতিরিক্ত পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) নাছির উদ্দিন ভূঁঞা, অতিরিক্ত পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) মোহাম্মদ বদরুল হুদা, সহকারী অধ্যাপক ডা. মাহমুদ মান্নান, মাননীয় উপাচার্য মহোদয়ের একান্ত সচিব-২ উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোঃ লুৎফর রহমান, উপ-রেজিস্ট্রার (কর্মকর্তা) মোঃ মারুফ হোসেন, উপ-রেজিস্ট্রার এটিএম আমিনুল ইসলাম, উপ-রেজিস্ট্রার মোঃ আনিছ উর রহমান, উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোঃ হুমায়ুন কবীর, সহকারী পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) মোহাম্মদ আবু নাজির, কর্মকর্তা মোঃ জাকির হোসেন, শামীম আহম্মদ, মোহাম্মদ আশিকুর রহমান, অডিট এন্ড একাউন্টস অফিসার মোঃ আব্দুল মতিন, অডিট অফিসার সুমাইয়া সরকার স্বর্ণা, পিওটু রেজিস্ট্রার সৈয়দ তাহিয়াতুর রহমান সুজন, পিওটু ট্রেজারার মোঃ ইলিয়াস খাঁন প্রমুখসহ বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।
অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার ১৯৮৫ সালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রী অর্জন করেন। বিএএফ শাহীন স্কুল এবং হলি ক্রস কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ১৯৯৫ সালে ডিজিও ডিগ্রী এবং ১৯৯৮ সালে বিসিপিএস থেকে এফসিপিএস ডিগ্রী অর্জন করেন। তিনি ১৯৮৭ সালে চিকিৎসক হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি ২০০৩ সালে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস এন্ড গাইনী বিভাগে তাঁর শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন। অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিটোম্যাটারনাল মেডিসিন উইং এ ২০০৬ সালে সহযোগী অধ্যাপক ও ২০১৫ সালে ফিটোম্যাটারনাল মেডিসিন বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার ২০২০ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত উক্ত বিভাগের বিভাগীয় প্রধান চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। গুণী এই শিক্ষক এর জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রায় অর্ধশত প্রকাশনা রয়েছে। তিনি বিভিন্ন সময়ে গবেষণা কার্যক্রমে গাইড হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন সম্মেলনে প্রবন্ধ উপস্থান করেছেন। অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার বিসিপিএস, অবসট্রেটিক্যাল এন্ড গাইনেকোলজিক্যাল সোসাইটি অফ বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ সোসাইটি অফ কল্পোস্কপি এন্ড সার্ভিক্যাল প্যাথলজি এর আজীবন সদস্য। এছাড়াও তিনি ফিটোম্যাটারনাল মেডিসিন সোসাইটি অফ বাংলাদেশ এর সহ সভাপতি এবং বাংলাদেশ প্যারিনেটাল সোসাইটির কার্যকরী সদস্য।
সম্পাদনা: ডা. মোঃ সাইফুল আজম রঞ্জু। ছবি: মোঃ আরিফ খান। নিউজ: প্রশান্ত মজুমদার।