06/05/2019
ক্যাম্পাসের ছোট ভাই বোনদের টাইমলাইন এখন জনৈক শিক্ষক ও ছাত্রের প্রাক্তন প্রেমিকার (বর্তমানে উনিও শিক্ষক) বিয়ে নিয়ে হাস্যরসাত্মক পোস্টে ভরপুর। এই বিয়ের পিছনে অনুঘটক আবার এক প্রভাবশালী শিক্ষক।
তা সেই মহান শিক্ষকের ভাবনাটাই বা কি প্রভাবশালী শিক্ষকের ঘটকালিতে গদগদ হয়ে যাকে বিয়ে করল তার প্রেমিক যে তারই ছাত্র সে কথা বেমালুম ভুলে গেল। কদিন পরে এক্সপেরিমেন্ট ফিল্ডগুলোর আইলে যখন নবদম্পতি হাঁটতে গিয়ে ছবি তুলবে, তখন তো আইলগুলোও হতভম্ব হয়ে যাবে। কারণ আইলগুলোতে কদিন আগেও অন্যকারো স্মৃতি মাখামাখি হয়েছিল।
ক্যাম্পাসে বেশ কিছুদিন ধরে খুব বাজে একটা চর্চা শুরু হয়েছে। অবিবাহিত শিক্ষক ও সেকশন অফিসার, চাকরিতে যোগদান করেই লেভেল ওয়ান/টু এর ছাত্রীদের সাথে ফেসবুক কে আশ্রয় করে সম্পর্ক গড়ে তুলে কদিন পড়েই ধুপ করে বিয়ে করে ফেলে। এতে করে সেই শিক্ষকের প্রতি ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষকসুলভ সম্মানের পরিবর্তে দুলাভাই সুলভ মশকারা করে প্রাতিষ্ঠানিক সম্মান নষ্ট করে দিচ্ছে। সেকশন অফিসারও যে সম্মানের পাত্র সে জায়গাটা এমনিতে অনেক আগেই নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এইসব কর্মকান্ডে তাদের সম্মান এমএলএসএস পর্যায়ে নেমে গেছে।
আবার অবিবাহিত শিক্ষক আর অবিবাহিত শিক্ষিকাদের বিয়ে দিয়ে প্রভাবশালী কিছু শিক্ষক হজ্জ্বের সওয়াব আদায় করছে বলে ধারণা করছেন। কিন্তু তারা যে ক্যাম্পাসে শিক্ষকমন্ডলীর পরিবেশ নষ্ট করছেন তা হয়তো বুঝছেন না।(উল্লেখ্য যে, প্রভাবশালী শিক্ষকদের কেউ কেউ দুদিন আগেও নিজেদের মেয়ের বিয়ে নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন। যদু মধু কদু দিয়ে পার করতে চেয়েছিলেন। আল্লাহর অশেষ রহমতে ভাল পাত্র যদিওবা ক্যাম্পাসের ছাত্র কে দিয়েই মেয়েকে পাত্রস্থ করলেন। এখন কিনা অন্যের মেয়ের বিয়ের ঠিকাদারি নিজ কাঁধে তুলে নিয়ে দোজাহানের কামিয়াবি হাসিল করছেন।)
জেনেটিক্সের পরিভাষায় যত পরিবারের থেকে দূরে বিয়ে করা যায়, ততো ভাল ব্রিড পাওয়া যায়। সেই আলোকে একই ক্যাম্পাসের একই পেশার দুজনের মাঝে সম্পর্ক ক্যাম্পাসের পরিবেশই নষ্ট করছে।
আমার মতে নিয়ম হওয়া উচিত,
(i) স্বামী-স্ত্রী অথবা বাবা মেয়ে/ছেলে/ভাগিনা/ভাতিজার মাঝে একজন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করবে। এক পরিবারের একই ব্লাডের একজন চাকরিরত থাকলে অন্যজন জয়েন করতে পারবে না।
(ii) অবিবাহিত শিক্ষক/ সেকশন অফিসার ক্যাম্পাসের কোন ছাত্রীকে বিয়ে করতে চাইলে মাস্টার্সের রেজাল্ট হওয়ার পর হল ত্যাগের পর বিয়ে করতে পারবে। তার আগে নয়। মেয়ের পরিবারের বেশি তাগাদা থাকলে ন্যূনতম অনার্স পাশের পর সার্ক ট্যুর সমাপন্তে হল ত্যাগের পর বিয়ে করবে। বিয়ের পর সেই অনার্স পাস ছাত্রী আর এই ক্যাম্পাসে কোন কোর্সে ভর্তি হতে পারবে না।
(iii) আবার অবিবাহিত কোন শিক্ষক/শিক্ষিকা বা সেকশন অফিসারকে মেয়ে জামাই /ছেলের বউ বানানোর কোন প্রচেষ্টা চালানো যাবে না।
যদি চাকরি করতে হয় তাহলে ডিভোর্স দিয়ে দুজনে চাকরি করবে এক প্রতিষ্ঠানে। দুজন এক সাথে নয়।
এই বিষয়গুলো মেনে চললে ক্যাম্পাসে যেমন ভ্যারিয়েশন থাকবে। প্রতি পরিবারে একজন চাকরিরত থাকায় খুব ক্ষুদ্রপরিসরে বেকারত্ব হ্রাস পাবে।
আর প্রভাবশালী শিক্ষকরা যদি ঘটকালি বজায় রাখেন শিক্ষক আর ছাত্রের প্রাক্তন প্রেমিকার মাঝে, তাহলে এই ক্যাম্পাস কেয়ামত পর্যন্ত বিশ্ব র্যাংকিং দূরে থাক এশিয়ার র্যাংকিং এ আসতে পারবে না। নেপাল ভূটান মালদ্বীপ আফগানিস্তান মিয়ানমারের বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পাবে শেকৃবি অন্তত না।
পুনশ্চঃ
ভাল রেজাল্ট করে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক পেলেই যে কেউ ভাল ও সৎ মানুষ হবে তার গ্যারান্টি নেই। সেই শিক্ষাটা ভিন্ন। তারা কখনো বেটার অপশন খুঁজে না। যারা বানরের মত বেটার অপশনের খোঁজে এ ডাল থেকে ও ডাল লাফিয়ে বেরায়, সময়ও তাদের একদিন লাত্থি দিয়ে নিকৃষ্ট অপশনে পরিণত করে।
টাইম ইজ দ্যা বেস্ট হিলার..........
©কৃষিবিদ সেলিনা পারভিন বিজলী