19/09/2019
প্রিয় ইমরান রাইহান ভাই!! আপনাকে আমরণ ভালোবাসার মতো একটি কবিতা এটি। আমার বিশ্বাস এটি আপনাকে বহুকাল বাঁচিয়ে রাখবে সবার অন্তরে।
:
:
আমি দিওয়ান-ই-আমে বেজে উঠা গালিবের সেই অমর সুর,
আমি হেরাত থেকে গজনীর পথে হেটেছি বহুদূর।
আমি খোরাসান থেকে খারিজম, বিশাল উপত্যকা,
আমি ফারগানা থেকে দিল্লীর পথে বাবরের পতাকা।
আমি পলাশী থেকে মহীশুর, পরাধীনতার কাহিনী,
আমি আফগান থেকে পানিপথ, শাহ আবদালীর বাহিনী।
আমি গৌড় থেকে সোনারগাঁ, বারো ভুইঁয়ার শাসন,
আমি লালদিঘী থেকে শাপলা চত্বর, আহমদ শফীর ভাষন।
আমি রায় থেকে নিশাপুরের পথে থেমেছি সরাইখানায়,
আমি রেশম পথের দুই ধারে বসেছি গাছের ছায়ায়।
সমরকন্দের সোনালী গম্বুজে, দেখেছি রোদের ঝলক,
আল হামরার প্রাসাদ দেখে পড়েনি চোখের পলক।
আমি দামেশকের বাজারে ঘুরেছি, হাজারো মানুষের ভীড়ে,
অবশেষে ক্লান্ত পাখির ন্যায়, ফিরে গেছি নিজ নীড়ে।
আমি গজনী থেকে মুলতান, সুলতান মাহমুদের বাহিনী,
আমি কুতাইবা বিন মুসলিমের সমরকন্দ বিজয়ের কাহিনী।
আমি আটলান্টিকের তীরে দাঁড়িয়ে উকবা বিন নাফের পাশে,
হারানো ঐতিহ্যের কথা ভাবলে এখন, দু চোখে জল আসে।
আমি কর্ডোভা, বাগদাদ আর গ্রানাডার কুতুবখানা,
আমি আগ্রা থেকে লাহোরের পথে আজো হই দিওয়ানা।
আমি ইমাম বুখারীর দরসে বসেছি নব্বই হাজারের সাথে,
আমি ইলমের সন্ধানে ছুটে চলেছি মধ্য এশিয়ার পথে।
আমি হাজারো মুহাদ্দিসের দেশ 'মা ওয়ারাউন্নাহার'
চলার পথে বাধা হয়নি সাগর কিংবা পাহাড়।
আমি ইবনে খালদুনের 'মুকাদ্দিমা', সুয়ুতির 'আল ইতকান',
আমি ইয়ামানের পথে মহান তাবেয়ী ত্বউস ইবনে কায়সান।
আমি 'বায়তুল হিকমাহ'র নীরব কক্ষে বসেছি জ্ঞান সাধনায়,
আমি কায়রোর মসজিদে জায়নামাজ বিছিয়ে প্রভুর আরাধনায়।
আমি দিল্লির 'রহিমিয়া', বাগদাদের 'নিজামিয়া',
আমি ভারতমনীষা আবুল হাসান আলী মিয়া।
আমি দিল্লির কুতুবমিনারে দাঁড়িয়ে উচ্চস্বরে দেই আজান,
আমি হেমস থেকে হিত্তিনের পথে উড়িয়ে যাই বিজয় নিশান।
আমি আবুল ফজলের তোষামোদ নই, আমি সিরহিন্দীর সাহসী উচ্চারণ,
আমি গোয়ালিয়র, আন্দামান, মাল্টা আর রেঙ্গুনে বীর মুজাহিদের কারাবরণ।
আমি আইয়ুবির 'সৈন্যবাহিনী', বলবনের 'ন্যায়পরায়ণতা '
আমি পরাধীনতার কালো আকাশে এক চিলতে স্বাধীনতা।
আমি সাদির 'গুলিস্তা', রুমির 'মসনবি' আর ফেরদৌসির 'শাহনামা',
আমি আব্দুল আজিজের সাহসী খুতবা, মাথায় বাধা আমামা।
আমি ইবনে তাইমিয়ার 'জিহাদি ফতোয়া', ইসমাইল শহীদের 'বালাকোটি চেতনা',
চে, লেনিন, মাও কিংবা ফিদেল নয়, সাইয়েদ আহমদ আমায় দেয় প্রেরণা।
আমি দজলা থেকে আমু দরিয়া, সেনাবাহিনী আগুয়ান,
আমি গাদ্দার 'আলকামা' নই, গোয়েন্দা 'আলী বিন সুফিয়ান'।
আমি নিজামুদ্দিনের খানকাহে যাই তাসাউফের সন্ধানে,
গৌড় গোবিন্দের প্রাসাদ ধ্বসে পড়ে, শাহ জালালের আজানে।
আমি তুঘলকের দরবারে কুতুবুদ্দিন মুনাওয়ারের কন্ঠ , 'আল আযমাতু লিল্লাহ',
আমি উবাইদুল্লাহ আহরারের সামনে বসা মহান সাধক 'খাজা বাকী বিল্লাহ'।
আমি আরব থেকে সিন্ধু এসেছি, মুসলিম বোনের আর্তনাদে,
রাজা দাহিরের প্রাসাদ কাপিয়েছি, 'আল্লাহু আকবার' নিনাদে।
আমি শিহাবুদ্দিন ঘুরির বাহিনী, পৃথ্বিরাজের সাথে লড়াই,
আল্লাহর উপর ভরসা করেছি, কখনো করিনি বড়াই।
আমি গজনী থেকে সোমনাথ, সুলতান মাহমুদের বাহিনী,
আমি ইখতিয়ারউদ্দিনের হাতে, নদীয়া বিজয়ের কাহিনী।
আমি জ্ঞানের মশাল জ্বালি, দূর করি অজ্ঞতার আঁধার,
আমি 'রুহবানুন ফিল লাইল, ওয়া ফুরসানুন ফিন নাহার'।
আমি ওয়ালিউল্লাহর হাদিসের সনদ,শাহ জাফরের কবিতা,
ষড়যন্ত্র কিংবা গাদ্দারী নয়, আমার অস্ত্র সরলতা ।
আমি ফজলে হক খয়রাবাদী, কাফনের কাপড়ে লিখি আজাদির ইতিহাস,
আমি দেওবন্দ, নদওয়া আর সাহারানপুরে হাদিস পড়ি বারোমাস।
আমি 'ঝড়োকা বারান্দা'য় দাঁড়িয়ে স্বাধীন সূর্য দেখি,
আমি 'রেশমি রুমালে' হাজারো গোপন বার্তা লেখি।
আমি ইলিয়াসের 'তাবলিগি মেহনত', থানভির 'তাজকিয়া',
আমি মাদানির 'জিহাদ', গাংগুহির 'ফতোয়ায়ে রশিদিয়া'।
আমি ইলমের পাহারাদার, নজর রাখি সবার উপর,
বিদাত কিংবা ইলহাদ, ঢুকতে দিই না দ্বীনের ভেতর।