Bangladesh Institute of Science & Technology

Bangladesh Institute of Science & Technology Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Bangladesh Institute of Science & Technology, Community College, 122, New Kakrail, Shantinagor, Dhaka-1000, Bangladesh., Dhaka.

09/12/2025
রোকেয়া নামা - (পর্ব : ৩)‘অলংকার না badge of slavery’ প্রবন্ধে বেগম রোকেয়া যেসব কথা লিখেছেন, সেসব থেকে বাছাইকৃত উদ্ধৃতিগু...
09/12/2025

রোকেয়া নামা - (পর্ব : ৩)

‘অলংকার না badge of slavery’ প্রবন্ধে বেগম রোকেয়া যেসব কথা লিখেছেন, সেসব থেকে বাছাইকৃত উদ্ধৃতিগুলো আপনাদের খেদমতে পেশ করছি
_______________

দুই. “আমাদিগকে প্রতারণা করিবার নিমিত্ত পুরুষগণ ঐ ধর্মগ্রন্থগুলিকে “ঈশ্বরের আদেশপত্র” বলিয়া প্রচার করিয়াছেন... পুরাকালে যে ব্যক্তি প্রতিভাবলে দশজনের মধ্যে পরিচিত হইয়াছেন, তিনিই আপনাকে ঈশ্বরপ্রেরিত দূত কিংবা দেবতা বলিয়া প্রকাশ করিয়া অসভ্য বর্বরদিগকে শাসন করিতে চেষ্টা করিয়াছেন। ক্রমে যেমন পৃথিবীর অধিবাসীদের বুদ্ধি বিবেচনা বৃদ্ধি হইয়াছে, সেইরুপ পয়গম্বরদিগকে (ঈশ্বরপ্রেরিত মহোদয়দিগকে) এবং দেবতাদিগকেও বুদ্ধিমান হইতে বুদ্ধিমত্তর দেখা যায়!”
_____________

অর্থাৎ, নারীদের প্রতারিত করতে পুরুষরা তাওরাত, ইঞ্জিল, কুরআনসহ সকল আসমানী কিতাবকে আল্লাহর নাযিলকৃত আদেশগ্রন্থ বলে প্রচার করে। আদতে সেগুলো আল্লাহর নাযিলকৃত আসমানি কিতাব নয়।
এবং, পয়গম্বর বা নবীরা মহান আল্লাহর প্রেরিত দূত নয়। বরং তারা সবাই ছিল ভণ্ড, প্রতারক, মিথ্যা নবুয়তের দাবিদার। নিজেদের সময়কার অসভ্য বর্বর মানুষদের মধ্যে সবচাইতে চতুর ও বুদ্ধিমান ছিলেন তারা। তাই কুটিল বুদ্ধি খাটিয়ে তারা নিজেদের পয়গম্বর বলে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন!
বেগম রোকেয়ার মতে, এর প্রমাণ হল—যুগে যুগে মানুষ আগের যুগের মানুষদের চাইতে বেশী জ্ঞান অর্জন করেছে। তাই সেই সময়কার সবচে চতুর পয়গম্বর বা নবীদেরকেও সময়ের পরিক্রমায় আগের যুগের নবীদের চাইতে বেশী বুদ্ধিমান দেখা গেছে (উদাহরণস্বরূপঃ তিনি বলতে চেয়েছেন, ইবরাহিম আঃ-এর সময়ের মানুষদের যে জ্ঞান ছিল, তার চাইতে পরবর্তী সময়ের ঈসা আঃ, মুহাম্মাদ সাঃ-এর আমলের মানুষদের জ্ঞান ছিল আরও বেশী। তাই, সমসাময়িক আপডেটেড জ্ঞান কাজে লাগিয়ে তারা নিজেদের সময়কার অধিক জ্ঞানী মানুষদেরকেও বোকা বানাতে পেরেছেন। সেজন্যই দেখা যায়, ইবরাহিম আঃ-এর তুলনায় ঈসা আঃ, মুহাম্মাদ সাঃ অধিক জ্ঞানী )!
[চলবে]

লেখা : সাজিদ হাসান
বিস্তারিতঃ https://www.facebook.com/photo?fbid=1180295164192687&set=a.376230151265863

রোকেয়া নামা - (পর্ব : ৩)

‘অলংকার না badge of slavery’ প্রবন্ধে বেগম রোকেয়া যেসব কথা লিখেছেন, সেসব থেকে বাছাইকৃত উদ্ধৃতিগুলো আপনাদের খেদমতে পেশ করছি
_______________

দুই. “আমাদিগকে প্রতারণা করিবার নিমিত্ত পুরুষগণ ঐ ধর্মগ্রন্থগুলিকে “ঈশ্বরের আদেশপত্র” বলিয়া প্রচার করিয়াছেন... পুরাকালে যে ব্যক্তি প্রতিভাবলে দশজনের মধ্যে পরিচিত হইয়াছেন, তিনিই আপনাকে ঈশ্বরপ্রেরিত দূত কিংবা দেবতা বলিয়া প্রকাশ করিয়া অসভ্য বর্বরদিগকে শাসন করিতে চেষ্টা করিয়াছেন। ক্রমে যেমন পৃথিবীর অধিবাসীদের বুদ্ধি বিবেচনা বৃদ্ধি হইয়াছে, সেইরুপ পয়গম্বরদিগকে (ঈশ্বরপ্রেরিত মহোদয়দিগকে) এবং দেবতাদিগকেও বুদ্ধিমান হইতে বুদ্ধিমত্তর দেখা যায়!”
_____________

অর্থাৎ, নারীদের প্রতারিত করতে পুরুষরা তাওরাত, ইঞ্জিল, কুরআনসহ সকল আসমানী কিতাবকে আল্লাহর নাযিলকৃত আদেশগ্রন্থ বলে প্রচার করে। আদতে সেগুলো আল্লাহর নাযিলকৃত আসমানি কিতাব নয়।
এবং, পয়গম্বর বা নবীরা মহান আল্লাহর প্রেরিত দূত নয়। বরং তারা সবাই ছিল ভণ্ড, প্রতারক, মিথ্যা নবুয়তের দাবিদার। নিজেদের সময়কার অসভ্য বর্বর মানুষদের মধ্যে সবচাইতে চতুর ও বুদ্ধিমান ছিলেন তারা। তাই কুটিল বুদ্ধি খাটিয়ে তারা নিজেদের পয়গম্বর বলে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন!
বেগম রোকেয়ার মতে, এর প্রমাণ হল—যুগে যুগে মানুষ আগের যুগের মানুষদের চাইতে বেশী জ্ঞান অর্জন করেছে। তাই সেই সময়কার সবচে চতুর পয়গম্বর বা নবীদেরকেও সময়ের পরিক্রমায় আগের যুগের নবীদের চাইতে বেশী বুদ্ধিমান দেখা গেছে (উদাহরণস্বরূপঃ তিনি বলতে চেয়েছেন, ইবরাহিম আঃ-এর সময়ের মানুষদের যে জ্ঞান ছিল, তার চাইতে পরবর্তী সময়ের ঈসা আঃ, মুহাম্মাদ সাঃ-এর আমলের মানুষদের জ্ঞান ছিল আরও বেশী। তাই, সমসাময়িক আপডেটেড জ্ঞান কাজে লাগিয়ে তারা নিজেদের সময়কার অধিক জ্ঞানী মানুষদেরকেও বোকা বানাতে পেরেছেন। সেজন্যই দেখা যায়, ইবরাহিম আঃ-এর তুলনায় ঈসা আঃ, মুহাম্মাদ সাঃ অধিক জ্ঞানী )!
[চলবে]

লেখা : সাজিদ হাসান

#সীরাহ #রোকেয়া_নামা

রোকেয়া নামা - (পর্ব : ২)নিজের জীবদ্দশায় ভারত-বাংলার মুসলিম নারীদের প্রথম ও সবচে বড় যে ক্ষতি বেগম রোকেয়া করেছেন, সেটি হল—...
09/12/2025

রোকেয়া নামা - (পর্ব : ২)

নিজের জীবদ্দশায় ভারত-বাংলার মুসলিম নারীদের প্রথম ও সবচে বড় যে ক্ষতি বেগম রোকেয়া করেছেন, সেটি হল—তিনিই এ অঞ্চলের মানুষদের সর্বপ্রথম ইরতিদাদ বা ধর্মত্যাগের পথ দেখান। তার আগে সরাসরি এ জঘন্য কাজের আর কোন উদাহরণ সম্ভবত ভারতবাসী দেখেনি।
১৩১০ বঙ্গাব্দের বৈশাখ, ইংরেজিতে মে ১৯০৩। ওই সময় বেগম রোকেয়ার বয়স সর্বোচ্চ ২৩ অথবা ২৪। গিরিশচন্দ্র সেন সম্পাদিত ‘মহিলা’ নামের পত্রিকায় তিন ধাপে রোকেয়ার ‘অলংকার না badge of slavery’ প্রবন্ধটি প্রকাশিত হয়। এই প্রবন্ধতে বেগম রোকেয়া যেসব কথা লিখেছেন, সেগুলো থেকে বাছাইকৃত উদ্ধৃতিগুলো আপনাদের খেদমতে পেশ করছি—

এক. “দিদীমাদের মুখে শুনি যে, নারী নরের অধীন থাকিবে, ইহা ঈশ্বরেরই অভিপ্রেত— তিনি প্রথমে পুরুষ সৃষ্টি করিয়াছেন, পরে তাহার সেবা শুশ্রূষার নিমিত্ত রমণীর সৃষ্টি হয়। কিন্তু একথার আমার সন্দেহ আছে। কারণ দিদীমাদের এ জ্ঞান পুরুষদের নিকট হইতে গৃহীত।”
________

মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে বলেছেন,

"স্মরণ কর, তোমার প্রতিপালক যখন ফেরেশতাদেরকে বললেন, ‘আমি যমীনে প্রতিনিধি সৃষ্টি করছি’; তারা বলল, ‘আপনি কি সেখানে এমন কাউকেও পয়দা করবেন যে অশান্তি সৃষ্টি করবে ও রক্তপাত ঘটাবে? আমরাই তো আপনার প্রশংসামূলক তাসবীহ পাঠ ও পবিত্রতা ঘোষণা করি’। তিনি বললেন, ‘আমি যা জানি, তোমরা তা জান না’।

এবং তিনি আদাম (আ.)-কে সকল বস্তুর নাম শিক্ষা দিলেন, তারপর সেগুলো ফেরেশতাদের সামনে উপস্থাপন করলেন এবং বললেন, ‘এ বস্তুগুলোর নাম আমাকে বলে দাও, যদি তোমরা সত্যবাদী হও’।"
(সূরা বাকারা ৩০-৩১)
"তিনিই তোমাদেরকে এক ব্যক্তি হতে সৃষ্টি করেছেন আর তাত্থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন যাতে সে তার কাছে শান্তি পায়। যখন সে স্ত্রীর সাথে সঙ্গত হয় তখন সে লঘু গর্ভধারণ করে আর তা নিয়ে চলাফেরা করে। গর্ভ যখন ভারী হয়ে যায় তখন উভয়ে তাদের প্রতিপালক আল্লাহকে ডেকে বলে, ‘যদি তুমি আমাদেরকে (গঠন ও স্বভাবে) ভাল সন্তান দান কর তাহলে আমরা কৃতজ্ঞ থাকব।"
(সূরা আরাফ-১৮৯)
___________

কিন্তু বেগম রোকেয়া বলেন, তিনি এটি বিশ্বাস করেন না। অর্থাৎ, বেগম রোকেয়ার মতে, আল্লাহ যে আদম আঃ-কে প্রথমে সৃষ্টি করেছেন, তারপর আদম আঃ-এর শান্তির জন্য সৃষ্টি করেছেন হাওয়া আঃ-কে, কুরআনের এই আয়াতগুলো পুরুষদের বানানো মিথ্যা গল্প।

(চলবে)

লেখা : সাজিদ হাসান
বিস্তারিতঃ https://www.facebook.com/photo?fbid=1180247684197435&set=a.376230151265863

রোকেয়া নামা - (পর্ব : ২)

নিজের জীবদ্দশায় ভারত-বাংলার মুসলিম নারীদের প্রথম ও সবচে বড় যে ক্ষতি বেগম রোকেয়া করেছেন, সেটি হল—তিনিই এ অঞ্চলের মানুষদের সর্বপ্রথম ইরতিদাদ বা ধর্মত্যাগের পথ দেখান। তার আগে সরাসরি এ জঘন্য কাজের আর কোন উদাহরণ সম্ভবত ভারতবাসী দেখেনি।
১৩১০ বঙ্গাব্দের বৈশাখ, ইংরেজিতে মে ১৯০৩। ওই সময় বেগম রোকেয়ার বয়স সর্বোচ্চ ২৩ অথবা ২৪। গিরিশচন্দ্র সেন সম্পাদিত ‘মহিলা’ নামের পত্রিকায় তিন ধাপে রোকেয়ার ‘অলংকার না badge of slavery’ প্রবন্ধটি প্রকাশিত হয়। এই প্রবন্ধতে বেগম রোকেয়া যেসব কথা লিখেছেন, সেগুলো থেকে বাছাইকৃত উদ্ধৃতিগুলো আপনাদের খেদমতে পেশ করছি—

এক. “দিদীমাদের মুখে শুনি যে, নারী নরের অধীন থাকিবে, ইহা ঈশ্বরেরই অভিপ্রেত— তিনি প্রথমে পুরুষ সৃষ্টি করিয়াছেন, পরে তাহার সেবা শুশ্রূষার নিমিত্ত রমণীর সৃষ্টি হয়। কিন্তু একথার আমার সন্দেহ আছে। কারণ দিদীমাদের এ জ্ঞান পুরুষদের নিকট হইতে গৃহীত।”
________

মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে বলেছেন,

"স্মরণ কর, তোমার প্রতিপালক যখন ফেরেশতাদেরকে বললেন, ‘আমি যমীনে প্রতিনিধি সৃষ্টি করছি’; তারা বলল, ‘আপনি কি সেখানে এমন কাউকেও পয়দা করবেন যে অশান্তি সৃষ্টি করবে ও রক্তপাত ঘটাবে? আমরাই তো আপনার প্রশংসামূলক তাসবীহ পাঠ ও পবিত্রতা ঘোষণা করি’। তিনি বললেন, ‘আমি যা জানি, তোমরা তা জান না’।

এবং তিনি আদাম (আ.)-কে সকল বস্তুর নাম শিক্ষা দিলেন, তারপর সেগুলো ফেরেশতাদের সামনে উপস্থাপন করলেন এবং বললেন, ‘এ বস্তুগুলোর নাম আমাকে বলে দাও, যদি তোমরা সত্যবাদী হও’।"
(সূরা বাকারা ৩০-৩১)
"তিনিই তোমাদেরকে এক ব্যক্তি হতে সৃষ্টি করেছেন আর তাত্থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন যাতে সে তার কাছে শান্তি পায়। যখন সে স্ত্রীর সাথে সঙ্গত হয় তখন সে লঘু গর্ভধারণ করে আর তা নিয়ে চলাফেরা করে। গর্ভ যখন ভারী হয়ে যায় তখন উভয়ে তাদের প্রতিপালক আল্লাহকে ডেকে বলে, ‘যদি তুমি আমাদেরকে (গঠন ও স্বভাবে) ভাল সন্তান দান কর তাহলে আমরা কৃতজ্ঞ থাকব।"
(সূরা আরাফ-১৮৯)
___________

কিন্তু বেগম রোকেয়া বলেন, তিনি এটি বিশ্বাস করেন না। অর্থাৎ, বেগম রোকেয়ার মতে, আল্লাহ যে আদম আঃ-কে প্রথমে সৃষ্টি করেছেন, তারপর আদম আঃ-এর শান্তির জন্য সৃষ্টি করেছেন হাওয়া আঃ-কে, কুরআনের এই আয়াতগুলো পুরুষদের বানানো মিথ্যা গল্প।

(চলবে)

লেখা : সাজিদ হাসান

#সীরাহ #রোকেয়া_নামা

29/09/2021

প্রীতিলতা চরিত্রে পরিমনি: কে এই প্রীতিলতা?

মহান বিপ্লবী হিসেবে প্রীতিলতাকে উপস্থাপনের একটা অসুস্থ চর্চা এদেশে রয়েছে। বলতে গেলে শক্ত প্রচেষ্টাই আছে। তারই অংশ হিসেবে 'প্রীতিলতা' নামে মুভি রিলিজ হতে চলেছে বঙ্গদেশে। ছবিতে প্রীতিলতা চরিত্রে অভিনয় করছে সময়ের আলোচিত ভালগার অভিনেত্রী পরিমনি।

প্রীতিলতাকে নিয়ে সেক্যুলার মহল যেভাবে ঢাক ঢোল পেটায় এরফলে তাকে মহান স্বাধীনতাকামী মনে করে বসা অস্বাভাবিক নয়। পাঠ্যবইয়ের পাতায় প্রীতিলতাকে যেভাবে বিপ্লবী হিসেবে তুলে ধরা হয় তাও যথার্থ বলার সুযোগ নেই। সহজ ভাষায় বললে প্রীতিলতা উদার মানবতাবাদী তো ননই সেক্যুলারও ছিলো না, সে ছিল একজন উগ্র সাম্প্রদায়িক হিন্দু জঙ্গি। প্রীতিলতা বিচ্ছিন্নতাবাদী রামপন্থী সূর্য সেনের কর্মী হিসেবে কাজ করতেন। যাদের মূল লক্ষ্য ছিল ভারতভূমে রামরাজত্ব প্রতিষ্ঠা, যার জন্য তাদের প্রথম টার্গেট ছিল চট্টগ্রামে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা। তাই তারা সশস্ত্র জঙ্গি গোষ্ঠী গড়ে তোলা।

তাদের লক্ষ্য সম্পর্কে ভারতের বিখ্যাত কমিউনিস্ট নেতা মোজাফফর আহমাদ লিখেছেন যে, বাংলাদেশের সন্ত্রাসবাদী বিপ্লবী আন্দোলন নিঃসন্দেহে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন ছিল। কিন্তু তা হিন্দু উত্থানেরও আন্দোলন ছিল। উদ্দেশ্য ছিল হিন্দুরাজের পূণঃপ্রতিষ্ঠা।‌[১]

আর এ কাজ করতে ডাকাতি, লুটপাট ও জনভোগান্তিমূলক কার্যক্রম শুরু করে। তাদের দলে মুসলিমদের কোন ঠাঁই ছিল না। 'বন্দে মাতরম' ছিল তাদের মূল শ্লোগান। ছাত্র ও যুবকদের নৈতিক উন্নতির জন্যে নিয়মিত ব্যায়াম, গিতা পাঠ, রামকৃস্ন-বিবেকানন্দের বই ও বঙ্কিমচন্দ্রের চরম মুসলিম বিদ্বেষী“আনন্দমঠ” ইত্যাদি পড়ানো হতো।[২]

কলামিস্ট খন্দকার হাসনাত করিম লিখেছেন,”

“সূর্যসেন যে বিদ্রোহের সুচনা করেন, ভারতের আজাদি অপেক্ষা রামরাজত্ব প্রতিষ্ঠার ইচ্ছাই তার প্রধান চেতনা ছিল। তাছাড়া এই বিপ্লবী তৎপরতার পুরোটাই ছিল লালা লাজপত রায়, বালগঙ্গাধর তিলক, বিপিন পালের দেখানো উগ্র জঙ্গি হিন্দু পুনর্জাগরনের সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। চট্টগ্রামের এই বিপ্লবিদের মন্ত্র ছিল “বন্দে মাতরম”। সুতীব্র সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছিল তাদের “বিপ্লবের” অবলম্বন।

বিপ্লবিদের মুখে মুখে উচ্চারিত হত,”বাহুতে মা তুমি শক্তি,হ্রদয়ে তুমি মা ভক্তি,তোমারি প্রতিমা গড়ি মন্দিরে মন্দিরে,ত্বংহি দুর্গা/দশপ্রহরনধারিণী…ইত্যাদি।

স্বদেশী বা সন্ত্রাসবাদি আন্দোলনের চরিত্র সম্পর্কে আরো স্পষ্ট ও সুন্দরভাবে বলেছেন ভারতের কমিউনিস্ট পার্তির প্রতিষ্ঠাতা মুজাফফর আহমাদ। তিনি তার লেখা ”কম্যুনিস্ট পার্টি ও আমার জীবন” বইতে লিখেছেন, ”বিখ্যাত সন্ত্রাসবাদী দল ”অনুশীলন” লিখিত ঘোষণাপত্রে সমিতির একটি উদ্দেশ্য ছিল মুসলমানদের পদানত করে রাখা এবং প্রত্যেক সন্ত্রাসবাদী দলের শর্ত ছিল ”অহিন্দুদের প্রবেশ নিষেধ”।[৩]

আর এই সাম্প্রদায়িক আদর্শ প্রতিষ্ঠায় তারা জনবিচ্ছিন্ন গুপ্তহত্যা ও লুন্ঠনের কার্যক্রম শুরু করে। যেমন: চট্টগ্রাম কোর্টের ট্রেজারী থেকে পাহাড়তলীতে অবস্থিত আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে কারখানার শ্রমিক ও কর্মচারীদের বেতন নিয়ে যাওয়া হতো। ১৯২৩-এর ১৩ ডিসেম্বর টাইগার পাস এর মোড়ে সূর্য সেনের গুপ্ত সমিতির সদস্যরা প্রকাশ্য দিবালোকে বেতন বাবদ নিয়ে যাওয়া ১৭,০০০ টাকার বস্তা ছিনতাই করে।

তাদের হাতে ইংরেজদের পাশাপাশি দেশীয় মুসলিমরাও খুন হয়। ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দে পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাব দখলের দায়িত্ব পড়ে প্রীতিলতার উপর। সে ১৫ জনের একটি বিপ্লবী দল পরিচালনা করেন। প্রীতিলতার দলটি ক্লাবটি আক্রমণ করে এবং পরবর্তীতে পুলিশ তাদেরকে আটক করে। পুলিশের হাতে আটক এড়াতে প্রীতিলতা সায়ানাইড খেয়ে আত্মহত্যা করেন। এভাবে উগ্র সাম্প্রদায়িক আদর্শ প্রতিষ্ঠা লক্ষ্যে আত্মহত্যা করে মারা যায় প্রীতিলতা। এই সন্ত্রাসী আন্দোলনে স্বাধীনতা ও দেশপ্রেম মূখ্যছিল না। বঙ্গভঙ্গে মুসলিমদের উপকার হওয়ার হিন্দুদের একটি অংশ ইংরেজ বিরোধী সশস্ত্র বিদ্রোহ করে, তারই অংশ হিসেবে সূর্যসেন সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সূচনা। আর প্রীতিলতারা সে আদর্শের জন্য মারা যায়। এই আদর্শ গণমানুষের মূল্যবোধকে ঘৃণা করতে শেখায়, মুসলিমদের ক্ষতি করতে শেখায়।

এই সব জঙ্গিদের প্রমোট করা জাতির জন্যই ক্ষতিকর। আর যখন ভারতে মুসলমানরা রামপন্থীদের হাতে চরম নির্যাতিত সে সময় পূর্বের এক রামরাজত্বপন্থীকে আইডল হিসেবে উপস্থাপন অবশ্যই অশনি সংকেত।

তথ্যসূত্র:
১. “স্বাধিনতা সংগ্রামে চট্টগ্রাম” পূর্নেন্দু দস্তিদার,পৃষ্ঠা ১০৪
২.“স্বাধিনতা সংগ্রামে চট্টগ্রাম” পূর্নেন্দু দস্তিদার,পৃষ্ঠা ১৮
৩. ভারত কি করে ভাগ হলো, গ্রন্থে উদ্ধৃত,বিমলানন্দ শাসনামল,পৃষ্ঠা ১০৬

13/04/2019

ইইমোশনাল ব্ল্যাকমেইলের শাস্তি কি আছে বাংলাদেশে???

23/03/2019

অবশেষে বিয়ে হল সেই যুগলের। সুখে থাকো পৃথিবী।

08/08/2017

B +ve blood B +ve blood dorkr. Urgent. If anybody is willing to donate please call @ 01854378263 .

Address

122, New Kakrail, Shantinagor, Dhaka-1000, Bangladesh.
Dhaka
1000

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Bangladesh Institute of Science & Technology posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The University

Send a message to Bangladesh Institute of Science & Technology:

Share