পরিক্রমা

পরিক্রমা কষ্টের জন্য দুনিয়ায় আসা।কষ্টই যদি না পেলাম, আসলাম কেনো? মুসলিম সকলকে বন্ধুত্ব ভালবাসা দিয়ে কাছে টানে

কিছু দিন পর ফার্মাসিতে কাবিননামা কার্ড ছাড়া কনডম ও দিবে না 😌
25/04/2026

কিছু দিন পর ফার্মাসিতে কাবিননামা কার্ড ছাড়া কনডম ও দিবে না 😌

07/03/2026

এক ফটোগ্রাফার তার দোকানের বাইরে একটি বোর্ড টানিয়ে দিল।
তাতে লেখা ছিল, ১০০ টাকায় আপনি যেই রকম ঠিক সেই রকমই ছবি তোলা হয়।
২০০ টাকায় আপনি আপনার নিজের সম্পর্কে যা ভাবেন সেরকম আর ৩০০ টাকায় আপনি নিজেকে দুনিয়ার সামনে যেভাবে প্রেজেন্ট করতে চান তেমন ছবি তোলা হয।

অনেক মানুষ স্টুডিওতে আসতো।
ছবিও তুলত।
ক্যামেরার সামনে সুন্দর সুন্দর হাসি দিয়ে পোজ দিতো ছবি তোলার জন্য।

কিন্তু সেখানে সবচেয়ে আজব জিনিস কি ছিল জানো?

মৃত্যুর সময় সেই ফটোগ্রাফার তার ডাইরিতে লিখে গিয়েছিল, আমি আমার জীবনে হাজার হাজার ছবি তুলেছিলাম। কিন্তু এমন একজন মানুষও খুঁজে পাইনি যে কিনা ১০০ টাকা দামের আসল ছবি তুলতে চায। সবাই চাইতো ৩০০ টাকা দামের নকল ছবি।

আমরাও আমাদের সমাজে প্রতিনিয়ত ঠিক এই একই দৃশ্য দেখতে পাই।
লোক দেখানো হাসি
লোক দেখানো সম্পর্ক
এগুলি আমাদের দৈনন্দিন কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়াও এর বাইরের নয়।
এখানে তো আরো বেশি মিথ্যা আর নকলের ছড়াছড়ি।

এইসব সোশ্যাল মিডিয়াতে আমরা মানুষের সেই ৩০০ টাকা দামের নকল ছবি দেখে, নিজেদের ১০০ টাকা দামের আসল জীবনকে বিরক্তিকর মনে করি। আমরা আমাদের আসল জীবনের প্রতি এতটাই বিরক্ত হই যে, আমাদের সত্যি সত্যি যা কিছু আছে সেটার আনন্দটুকু নিতেও আমরা ভুলে যাই।
আমরা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতেও ভুলে যাই।
আর কথায় কথায় শুধু অভিযোগ করি।

তাই এখন থেকে কারো চমকপ্রদ জীবন দেখে তোমার যদি মনে হয়,
বাহ ,তার কাছে তো সবকিছুই আছে।
তাহলে মনে রাখবে, আসল ছবিতো ১০০ টাকার, কিন্তু দেখতে দেখায় ৩০০ টাকার মত।

তাই সোশ্যাল মিডিয়ার মিথ্যা জীবন দেখে নিজের জীবনের আনন্দটুকু নষ্ট করে দিও না।

আল্লাহ তোমাকে যা কিছু দিয়েছে তাই নিয়ে খুশি থাকবে এবং কঠোর পরিশ্রমের দ্বারা জীবনের উন্নতি নিয়ে আসবে।

কারো দেখাদেখি কোন কিছু করতে যেও না।
🌐 এতে শুধু তোমার নিজের ক্ষতি ডেকে আনবে।।।। 🌐

শুভেচ্ছান্তে
অদিতি মোতাহারুন্নিসা
এডভোকেট
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট

07/03/2026

মায়ের সঙ্গে ট্রেনে চড়ে নানাবাড়ি যাচ্ছি। সামনের সিটে এক মেয়ে ও তার মা বসে আছে। হঠাৎ মা ফিসফিসিয়ে বললো ,
“ মেয়েটার দিকে এভাবে তাকাচ্ছিস কেন? পছন্দ হয়েছে? দাঁতগুলো একটু এলোমেলো , নাহলে বাকিসব ঠিক আছে। বিয়ে হয়েছে নাকি জিজ্ঞেস করবো খোকা? ”

আমার অস্বস্তির সীমা রইল না। মায়ের সঙ্গে সবসময়ই বন্ধুর মতো সম্পর্ক। সামনের সিটের মেয়েটাও চোখ নামিয়ে নিয়েছে। মেয়েটা মায়াবী চেহারার। আহামরি সুন্দরী নয় কিন্তু চেহারায় আকর্ষণ আছে। তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছে করে, চাইলে অবশ্য কথাবার্তা বলা যায়। কারণ কিছুক্ষণ আগে স্টেশনে তাদের সঙ্গে সামান্য কথা হয়েছে।

আমি মাকে বললাম ,
“ এভাবে কথা বলছো কেন? ওরা শুনতে পেলে কি ভাববে বলো তো? ”

বা বললো ,
“ কিছু ভাববে না। তোর দিকে কীভাবে বারবার তাকাচ্ছে দেখেছিস? আমার তো মনে হয় তোর জন্য আর পাত্রী খুঁজতে হবে না। ”

“ চুপ করো না। এখন ফাজলামো করার সময়? তুমি জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে থাকো৷ প্রকৃতি কতো সুন্দর দেখেছো? ”
“ মেয়েটা তারচেয়ে বেশী সুন্দর তাই না? ”
“ কে বলছে তোমাকে? ”
“ সুন্দর নাহলে তুই প্রকৃতি না দেখে মেয়েটার দিকে তাকাচ্ছিস কেন? ”

আমি হেসে দিলাম। আমার আটান্ন বছর বয়সী মা-ও হাসতে লাগলো। বেশিরভাগ সময় আমরা এভাবেই কথা বলি৷ বাবা মারা গেছে চার বছরের একটু বেশি। তারপর থেকে আমি আর মা দু'জন মিলে দেশের কতো যায়গায় ঘুরলাম। সাজেক, কক্সবাজার, সেন্ট মার্টিন, সিলেট, বান্দরবান মোটামুটি সবখানেই আমি আর আমার মা দুজন মিলে ভ্রমণ করেছি৷
আমাদের চার ভাইবোনের মধ্যে আমার সঙ্গেই মায়ের সবচেয়ে ভালো সম্পর্ক। সবার বড় আপু কিন্তু তার বিয়ে হয়ে গেছে সে স্বামীর সাথে বাস করে অস্ট্রেলিয়া। আপুর পরে দুই ভাই, দু'জনই বিয়ে করেছেন। শুধু আমার বিয়েটাই এখনো বাকি আছে।

মেয়েটা আবার তাকাচ্ছে। আমি আড়চোখে মা'র দিকে তাকিয়ে দেখি তিনি বাহিরে তাকিয়ে আছে। মেয়েটার মা চোখ বন্ধ করেছেন। ঘুমিয়ে নাকি জেগে ঠিক বোঝা যাচ্ছে না। মেয়েটার দিকে তাকিয়ে সামান্য হাসলাম।

কিছুক্ষণ আগে স্টেশনে তাদের সঙ্গে পরিচয়। ট্রেনে ওঠার আগে আমি মায়ের ছবি তুলছি। বিভিন্ন এঙ্গেলে দাঁড় করিয়ে ছবি তোলা শেষ করতেই হঠাৎ এই মেয়েটা এসে বললো ,

“ যদি কিছু মনে না করেন তাহলে আমার মায়ের সঙ্গে আমার একটা ছবি তুলে দিবেন? ”

দেখলাম পাশেই এক ভদ্রমহিলা দাঁড়িয়ে আছেন। সময় লাল রঙের স্যুটকেস। আমি কিছু বলার আগেই মা বললো ,

“ অবশ্যই দেবে। খোকা তাড়াতাড়ি তাদের ছবি তুলে দে। ট্রেন ছাড়ার সময় হয়ে যাচ্ছে। ”

আমি কতগুলো ছবি তুলে দিলাম। মেয়েটার মা সম্ভবত একটু লাজুক ধরনের মানুষ। তিনি মনে হয় অস্বস্তি ফিল করছিলেন। তবুও প্রতিটি ফ্রেমে খুব ভালো ভালো ছবি উঠলো৷
মেয়েটা ছবিগুলো চেক করে আমার দিকে তাকিয়ে ধন্যবাদ দিয়ে সামান্য হাসলো৷ আমি আর মা আমাদের ব্যাগপত্র নিয়ে আমাদের বগির দিকে এগিয়ে গেলাম।
নানাবাড়ি যাচ্ছি বলে মায়ের আজকের দিনটা সবচেয়ে আনন্দের দিন। এর আগে অনেকবার আমরা ভ্রমণ করেছি৷ কিন্তু আজকের মতো এত হাসিখুশি কোনদিন মা'কে দেখিনি।
চল্লিশ বছর পরে মা তার বাবার বাড়িতে যাচ্ছে।
আনন্দ তো হবেই তাই না?

বাবা মারা গেছে বছর চারেক আগে। তারপর থেকে মা মাঝে মাঝে নানাবাড়ির গল্প করতেন।
গত সপ্তাহে হঠাৎ মা বললো ,
“ চল্লিশ বছর ধরে বাবার বাড়ি যাই না। একবার নিয়ে যাবি খোকা? মৃত্যুর আগে একবার বাড়িতে যেতে ইচ্ছে করছে। জীবনের সতেরোটা বছর আমি ওই গ্রামে ছিলাম। আজ চল্লিশ বছরে না জানি কতো পরিবর্তন হয়ে গেছে। ”

বলতে বলতে মা কেঁদে উঠলেন। মা'কে সচারাচর কাঁদতে দেখিনি। আমার দেখা হাসিখুশি মানুষের মধ্যে মা সবার উপরে। কষ্ট সবার থাকে। কিন্তু মা একটু আলাদা, প্রচুর কষ্টের মধ্যে মা চুপচাপ শুয়ে থাকেন। কারো সঙ্গে কথা বলেন না। কান্না করে কষ্ট প্রকাশ করেন না৷
আমাদের সঙ্গে সর্বদা হাসিখুশি থাকতে মা খুব পছন্দ করেন। ভাবিরা সবসময় বলেন, এরকম শাশুড়ী সবার ঘরে ঘরে দরকার।

মায়ের কথা শুনে আমি বললাম ,
“ তুমি তো জানো সেখানে গেলে কেউ তোমাকে আশ্রয় দিবে না। মামারা কেউ তোমাকে পছন্দ করে না। গিয়ে কী করবে মা? ”

মা বলেন ,
“ আশ্রয়ের দরকার নেই। তুই আর আমি দুজন মিলে যাবো। সারাদিন ঘোরাঘুরি করে আমার মা-বাবা দাদা-দাদীর কবরস্থান আর আমাদের পুরনো বাড়িঘর দেখে চলে আসবো৷ ”

আজ থেকে চল্লিশ বছর আগে বাড়ির টিউশন মাস্টারের হাত ধরে রাতের আঁধারে ঢাকা শহরে পালিয়ে এসেছিল মা৷ বাবা ছিল সেই টিউশন মাস্টার। সেই চল্লিশ বছর আগে বাড়ি থেকে বের হয়ে আসা তরুণী মেয়েটা আজ আটান্ন বছরে জীবন পার করছে কিন্তু আর নিজের বাড়িতে যেতে পারেনি।

মায়ের আগ্রহ দেখে আমি বললাম ,
“ ঠিক আছে, অফিস থেকে ছুটি নিয়ে তোমাকে নানাবাড়ি ঘুরিয়ে আনবো৷ কিন্তু শর্ত হচ্ছে তুমি ভাইয়া বা আপু কাউকে বলতে পারবে না। ”

মা আমার দুই গালে কপালে চুমু দিয়ে বললো ,
“ লক্ষি বাপ আমার, আমি কাউকে বলবো না। তুই ছুটি ম্যানেজ কর। ”

তারপর আর কি, ছুটি নিয়ে আমরা রওনা দিলাম কুষ্টিয়ায়। মা বলতেন কুষ্টিয়ায় রবীন্দ্রনাথের যে কুঠিবাড়ি সেটা নাকি তাদের বাড়ি থেকে খুব কাছেই। ভাবলাম একই সময়ে লালনের আস্তানা আর রবীন্দ্রনাথের কুঠিবাড়িও দেখা হয়ে যাবে।

ছবি তুলে ট্রেনে উঠে যখন সিটে বসলাম তখন দেখি সেই মা মেয়ে দুজনেই আমাদের সামনে মুখোমুখি বসেছেন। ট্রেনের মাঝখানে যে চারটা সিট মুখোমুখি থাকে সেখানেই সিট পড়েছে।

সামান্য কিছু ছবি তুলে দিলেই তাদের সঙ্গে গায়ে পড়ে বারবার কথা বলা যায় না। সিটে বসার পরে সামান্য পরিচয় হয়েছে। সেটাও কেবলমাত্র আমি আর মা নানাবাড়ি যাচ্ছি এটুকু বলার মাধ্যমে আর মেয়েটা বললো ,
“ আমি আর মা-ও মামাবাড়ি থেকে বেড়িয়ে আসলাম। এখন যাচ্ছি নিজেদের বাড়িতে। ”

মেয়েদের সঙ্গে কথা বলে সুন্দর সম্পর্ক করার জ্ঞান আমার ছিল না। এজন্যই জীবনে তেমন গুরুত্বপূর্ণ প্রেমের সূচনা হয়নি। তবে আমাদের ভার্সিটির এক মেয়ের সঙ্গে মাস ছয়েক কথা বলেছিলাম প্রেম করবো বলে। কিন্তু সেখানে বিরাট ছেঁকা খেয়েছিলাম পরে, কারণ সেই মেয়ে একসঙ্গে তিন চারটা বয়ফ্রেন্ড সামলাত।
তারপর থেকেই আমার যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে৷

____________________

কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশনে নামলাম। মেয়েটা ও তার মা এখানেই নেমেছে। আমি ঢাকা থেকেই আসার আগে কীভাবে কোথায় যাতায়াত করতে হবে সেই বিষয় হালকা ধারণা নিয়ে এসেছি৷ তবুও কথা বলার বাহানায় মেয়েটার কাছে বললাম ,

“ আমরা আসলে অনেক বছর পরে কুষ্টিয়ায় এসেছি। এখান থেকে শিলাইদহ কীভাবে যাবো বলতে পারবেন? ”

মেয়েটা উত্তর দেবার আগেই তার মা বললো ,
“ আমরাও শিলাইদহে যাবো৷ শিলাইদহের কোন গ্রামে যাবেন? ”

মা কাছেই ছিলেন। তিনি বললেন ,
“ দড়ীগ্রাম, আমার বাবার নাম ছিল মাহবুবুর রহমান মুন্সি। আমার বড়ভাইয়ের নাম আব্দুল মালেক মুন্সি। আর ছোটভাই আব্দুস সালেক মুন্সি। আমাদের কুটিবাড়ি যাবার উপায় বললে হবে। তারপর যেতে পারবো৷ ”

মহিলা ও মেয়েটা একে অপরের দিকে তাকিয়ে রইল। মহিলা বললেন ,
“ আপা আপনার নাম কী? ”
“ আমার নাম মরিয়ম। ” জবাব দিল মা।

মহিলা এবার বিস্মিত হয়ে তাকিয়ে রইল। আমি বুঝতে পারলাম নিশ্চয়ই কোনো একটা গন্ডগোল আছে। কিন্তু সেটা কি তা জিজ্ঞেস করার আগেই মহিলা বললেন ,
“ আপা আমি আপনার ছোটভাই আব্দুস সালেক মুন্সির স্ত্রী। ”

মা এবং আমি স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকি। মহিলা, মানে ছোট মামি তখন মাকে হাতটা জড়িয়ে ধরে ফুপিয়ে কেঁদে ওঠে। এভাবে এতটা পথ আমরা একসাথে এসেছি কিন্তু পরিচয় জানা ছিল না। আমি মেয়েটার দিকে তাকিয়ে বললাম,
“ তোমার নাম কি? ”

মা আর মামি আলাদা কিসব বাড়ির কথা বলতে লাগলো। আমার প্রশ্ন শুনে মেয়েটা বললো ,

“ কল্পনা। আপনি? ”

“ মোহসীন, মোহাম্মদ মোহসীন। ”

পরিচয় পেয়ে ভালো লাগলো। স্টেশনের কাছেই রেন্ট এ কারের প্রাইভেট কার ভাড়া পাইলাম। যেহেতু আমরা চারজন তাই একটা কার ভাড়া করে নিলাম। সিএনজি নিয়েও যাবার নাকি ব্যবস্থা আছে। খরচ তুলনায় কম হবে। কিন্তু তবুও কারে জার্নিটাই বেছে নিলাম।

মা মামি আর কল্পনা পিছনের তিন সিটে৷ আমার স্থান হলো ড্রাইভারের পাশে৷ সামনের গ্লাসে আমি বারবার কল্পনার দিকে তাকিয়ে রইলাম। মাঝে মাঝে দুজনের চোখাচোখি হলো গ্লাসেই৷ আমি মুচকি হাসতাম, কিন্তু সে হাসতো কিনা বোঝা যেত না।

একসময় মা বললো ,
“ আপনার ছেলেমেয়ে ক'জন ভাবি? ”

মামি দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন ,
“ আমার একটাই ছেলে ছিল আপা৷ কিন্তু আল্লাহ তাকে একবছর আগে পৃথিবী থেকে নিয়ে গেছে।”

একটাই ছেলে মানে? তাহলে কল্পনা কে?
মনে মনে এটাই ভাবছি। আমার ভাবনার প্রশ্নটা মা করে দিল। মা বললো ,
“ তাহলে ও কে? ”

এবার মামি যেটা বললো তা শোনার মোটেই ইচ্ছে আমার নাই। কিন্তু সত্যি তো সবসময় সত্যিই থাকে। মামি বললো ,
“ ছেলের মৃত্যুর ছ'মাস আগে তাকে বিয়ে দিছিলাম। কল্পনা আমার ছেলের বউ৷ আপনার ভাইপোর বউ আপা। ”

আমি এটা আশা করি নাই৷ স্টেশন ও ট্রেনের মধ্যে সারাক্ষণ তাদের কথোপকথনে এটা মনে হয় নাই যে এরা শাশুড়ী বউমা।
মামির পরিচয় পেয়ে ভেবেছিলাম মামাতো বোন পাইছি। কিন্তু এখন মামাতো ভাইয়ের বউ শুনে মনটাই ভেঙ্গে গেল।

এরপর তারা সারাক্ষণ বকবক করতে করতে এলো ঠিকই কিন্তু আমার মন খারাপের মুহূর্তে আর কিছুই মাথায় ধরেনি। গাড়ি মামা বাড়ির সামনে যখন পৌছালো তখন বেলা তিনটা।

_______________

ছোটমামা ছোট মামি দুজনেই খুব খুশি হলেও বড় মামা আর বড় মামি খুব বাজে ব্যবহার শুরু করলেন। তাদের বকাবকি শুনে আমি নিজেও বাধ্য হয়ে বলেছিলাম ,
“ আপনাদের বাড়িতে খেতে আসিনি। কিছুক্ষণ থাকবো তারপর সন্ধ্যা হলেই আবার শহরে চলে যাবো। রাতের রিটার্ন টিকেট করা আছে, ট্রেনে আবার ঢাকায় ফিরবো। ”

ছোট মামা বললেন , কোনোভাবে আজকে যাওয়া হবে না। বড় মামা না মানলে কিছু না। তিনি আমাদের রাখবেন। মামিও মায়ের হাত ধরে বললেন , আসছেন যখন দুটো দিন থেকে যান আপা৷ আমি বিয়ের পর থেকে আপনার কথা শুনছি। কিন্তু কোনদিন দেখিনি। আপনি যাবেন না। আমাদের সঙ্গে থাকবেন।

বড় মামা থাকে নিচতলায় আর ছোটমামা দোতলায় থাকে। অনেক পুরনো বাড়ি। আমরা দুপুরের খাওয়া করলাম। ফ্রেশ হয়ে কিছুক্ষণ বসতে না বসতেই কল্পনা মেয়েটা কল্পনার মতো খাবার হাজির করলো।

খাওয়া দাওয়া শেষ করে মা'কে নিয়ে কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি করলাম। তারপর মামার সঙ্গে চলে গেলাম বাজারের দিকে। বাজারের মসজিদে মাগরিবের নামাজ পড়লাম। নামাজের পড়ে একটা হোটেলে আমি আর মামা গেলাম হালকা নাস্তা করতে। নাস্তাটা মজার ছিল। মায়ের জন্য পার্সেল নিতে ইচ্ছে করছিল। অর্ডার দিলাম। পার্সেল রেডি হচ্ছিল ঠিক সেই মুহূর্তে মামার নাম্বারে কল আসে৷
মামা কথা বলতে বলতে কেমন উন্মাদ হয়ে গেলেন। তারপর পাগলের মতো আমার দিকে তাকিয়ে বললেন ,
“ তাড়াতাড়ি বাড়িতে চলো খোকা। ”

আমার বুকটা ধুকধুক করে উঠলো। মায়ের জন্য পার্সেলটা হাতে নিয়ে দ্রুত দৌড়াতে লাগলাম। একটা ভ্যান নিয়ে মামার বাড়িতে গেলাম। এবং সেখানে গিয়ে আমি আমার জীবনের সবচেয়ে ভালো বন্ধুর সমাপ্তি পেলাম।

মামাবাড়ির চিলেকোঠার ঘরে মায়ের মৃতদেহটা পরে আছে। জানা গেল সন্ধ্যা বেলা সে ছাদে উঠেছিল। নামাজের পরে মামি মা'কে খুজে না পেয়ে ছাদে গিয়ে খোঁজাখুজি করেন। আর কিছুক্ষণের মধ্যে চিলেকোঠার ঘরে মায়ের মৃতদেহ তারা দেখতে পায়।

আমি চোখের সামনে মায়ের চিরনিদ্রায় শায়িত দেহটার দিকে তাকিয়ে রইলাম। মায়ের গলায় তার শাড়ির আঁচল পেঁচানো। যে বা যারা মা'কে খুন করেছে তারা আমার মায়ের শাড়ির আঁচল দিয়েই তাকে ফাঁস দিয়েছে।

চল্লিশ বছর পরে মাকে তার বাড়িতে নিয়ে এলাম। কিন্তু কোনদিন ভাবিনি তাকে আর ফিরিয়ে নিতে পারবো না।
কে মারলো মাকে? আমরা তো কোনো সম্পত্তির লোভে আসিনি। মা তার ভাগের ধন-সম্পদের ভাগ চাইতে আসেনি। তাহলে কেন মারলো তাকে?

05/03/2026

ব্যাংকে গিয়ে স্লিপে ২ টাকা লিখে, কাউন্টারে জমা দিয়েছি। স্লিপ হাতে কাউন্টারে বসে থাকা আপু হা করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। উনি জানতে চাইলেন, 'আপনি ব্যাংক থেকে ২ টাকা উত্তোলন করতে চাইছেন?’

আমি বললাম, 'জ্বি।'

'দুই টাকা?'

'জ্বি।'

'সিরিয়াসলি?'

'জ্বি।'

উনি স্লিপ রেখে কাউন্টারের বাইরে বের হয়ে এলেন। আমার হাত ধরে পাশের কেবিনে নিয়ে বসালেন।

২০ মিনিট পর দুজন সাদা শার্ট পড়া লোক এসে আমাকে ধরে নিচে নিয়ে যেতে লাগলো। বের হওয়ার সময় চোখাচোখি হলো সেই কাউন্টারের আপুর সাথে। উনার চোখ চিকচিক করছে। উনি এগিয়ে এসে আমার কাধে হাত রেখে বললেন, 'সাবধানে থাকবেন।'

আমি নিচে চলে এলাম। নিচে নামতেই একটা এম্বুলেন্স প্যা পো করে বাজতে শুরু করলো। সাদা শার্ট পড়া আরেকজন লোক এম্বুলেন্স থেকে বের হয়ে আসলেন, আর আমাকে বললেন, 'আপনি ব্যাংক থেকে ২ টাকা উত্তোলন করতে আসছেন?'

আমি বললাম, 'জ্বি। একাউন্টে আছেই ৬১৩ টাকা। আমি একটা লেবেনচুষ কিনবো, আমার লাগবে ২ টাকা।'

লোকটা পিছনের পকেট থেকে একটা ওয়াকিটকি বের করে বলতে লাগলেন, 'পাগলের অবস্থা ভালো না। পাবনা পর্যন্ত আনসার বাহিনীর এনভয় লাগবে, ব্যবস্থা করেন, ওভার...'

আমি কৌতুহল আটকাতে না পেরে বললাম, 'আমরা পাবনা যাচ্ছি?'

'জ্বি।'

'ইয়ে!'

পাবনার পাগলাগারদে আমাকে রাষ্ট্রপতি লেভেলের পাহাড়া দিয়ে নিয়ে আসা হলো। এখানে অদ্ভুত সব মানুষ। একজন দেখলাম দেয়ালের সাথে কথা বলে। আমি একদিন জানতে চাইলাম, দেয়াল কি আপনার কথার উত্তর দেয়? উনি বিরক্ত হয়ে বলেছিলেন, 'দেয়ালের কি মুখ আছে যে উত্তর দিবে? দেয়ালের আছে কান। ওর কাজ শুধু শুনবে।' আমি 'ও' বলে চলে আসি। উনার কথায় যুক্তি আছে। আরেকজন আছে সে বালতি উল্টো করে তার উপর দাঁড়িয়ে বক্তৃতা দেয়। উনার মতে, দেশে বিপ্লব আসা দরকার। উনাকে ২৪ এর জুলাই-আগস্টের আপডেট দেয়ার পরও উনি সুর বদলালেন না। রোজ বিপ্লবের পক্ষে তার ভাষণ জারি থাকলো।

কয়েকমাস পর এক সাদা শার্ট পড়া মেয়ে এসে আমাকে গেটের বাইরে নিয়ে গেলো। আমি জানতে চাইলাম, কি হচ্ছে আমার সাথে? তিনি জানালেন, আমাকে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। আমি পাগল না।

কিন্তু পাগলাগারদ থেকে আমার মধ্যেও বিশ্বাস ঢুকে গেছে যে আমি পাগল। এখন আমি যে পাগল না, সেই কথা আমার বিশ্বাস হচ্ছে না। আমি সেই মেয়েকে বললাম, 'আমি যে পাগল না, তার প্রমাণ কি?'

উনি বললেন, 'এক জুলাই নেতার স্ত্রী যদি ব্যাংক থেকে ২ টাকা উত্তোলন করতে পারে, একই কাজ করতে চাওয়া একজন ব্যক্তিকে পাগল বলা উচিত হবে না। আপনাকে পাগলাগারদ রাখলে উনাকেও পাগলাগারদ আনতে হবে৷ নেতার জন্য সেইটা সুখকর বিষয় নয়। নেতা হলেও ছেলেটা কচি, বউ ছাড়া থাকতে পারবে না।'

কথায় যুক্তি আছে। আমাকে ঢাকা ফেরত আনা হলো।

আমি ঢাকায় এসেই সেই ব্যাংকে গিয়ে পৌঁছালাম। আমার হাতে স্লিপ। এই স্লিপ দিয়ে ৩ টাকা উঠাবো, এক পাতা ইন্সট্যান্ট কফি কিনে খাবো। পাগলাগারদে কফি সার্ভ করে না, এইটা এক যন্ত্রণা।

স্লিপটা কাউন্টারের সেই মেয়ের সামনে রাখলাম। উনি স্লিপ পড়েই আমার দিকে তাকালেন। আমাকে দেখেই উনার চোখ ছলছল করে উঠলো। উনি কান্নামাখা কন্ঠে আমায় বললেন, 'কোন চুতিয়া তোরে ছাড়লো?'

বাড়িওয়ালা বললেন, তুমি প্রতিদিন আমার মেয়ের দিকে তাকিয়ে থাকো কেন? তুমি কি জানো আমার মেয়ে বিধবা? ওর বিয়ের আটদিন পরে স্ট্রোক...
05/03/2026

বাড়িওয়ালা বললেন, তুমি প্রতিদিন আমার মেয়ের দিকে তাকিয়ে থাকো কেন? তুমি কি জানো আমার মেয়ে বিধবা? ওর বিয়ের আটদিন পরে স্ট্রোক করে ওর স্বামী মারা গেছে। একটা বিধবা মেয়েকে কেন বিরক্ত করছো তুমি?

কথাটা শোনামাত্র বুকের মধ্যে যেন ধাক্কা লাগলো। মেয়েটা চমৎকার। সুন্দরী, আর মায়া মায়া চেহারা। আমি রোজ সকালে তাকে ছাঁদে দেখি৷ আবার অফিস থেকে ফিরে দেখি সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত অব্দি ছাদের উপর পায়চারি করে। কখনো সাহস করে কথা বলতে পারিনি। অবশ্য আমি এ বাসায় ভাড়া উঠেছি মাত্র সপ্তাহ খানিক আগে। এ বাসায় আমি ভাড়া নেবার একটা বড় কারণ আছে। পেশাগত কারণেই এখানে আসা, কিন্তু কেন এসেছি সেটা এরা কেউ জানে না।

বললাম, আপনি তাকে আবার বিয়ে দেবার চেষ্টা করে দেখেননি? নাকি সবকিছু তার নিজের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন?

– তাইশা (আঙ্কেলের মেয়ে) একটা ছেলেকে পছন্দ করতো। তাকেই বিয়ে করতে চেয়েছিল। কিন্তু আমার কাছে সেই ছেলেকে নিজের একমাত্র মেয়ের জন্য যোগ্য মনে হয়নি। তাই তড়িঘড়ি করে আমি অন্য ছেলের সঙ্গে ওর বিয়ে ঠিক করি।

- আপনার তো আর দ্বিতীয় কোনো মেয়ে নেই তাই না আঙ্কেল?

- হ্যাঁ! তাইশাই আমার একমাত্র মেয়ে। বড় দুই ছেলে স্পেনে থাকে। আমার মেয়েকে যতটা রাগি মনে করো, সে কিন্তু ততটা রাগি নয়। ওর মতো মিশুক মানুষ খুব কমই আছে জগতে।

- তাইশার সেই প্রেমিকার কোনো খোঁজ জানেন? মানে আপনার মেয়ের এরকম পরিস্থিতিতে সেই ছেলের সাপোর্ট দরকার ছিল। সাপোর্ট পেলে সে হয়তো এতটা ডিপ্রেশনে যেত না।

আঙ্কেলের মুখটা বিমর্ষ হয়ে গেলন। একমাত্র মেয়ের এক্স বয়ফ্রেন্ডের কথা জিজ্ঞেস করাতে কেমন যেন বিব্রত হয়ে গেলেন।

মুহুর্তের মধ্যে গম্ভীর হয়ে তিনি বললেন,
- আমার মেয়ে গতকাল রাতে তোমার কথা জিজ্ঞেস করলো তাই তোমাকে ডেকে আমার মেয়ের কথা জানালাম। তুমি তো জানো তোমার অফিসের ম্যানেজারের অনুরোধে তোমাকে আমি আমার বাসা ভাড়া দিয়েছি।

- জ্বি তা ঠিক আছে, কিন্তু আপনি হঠাৎ করে প্রসঙ্গ পরিবর্তন করে এসব কেন বলছেন?

- তোমার নামটা যেন কি?

- শাকিল আহমেদ রুদ্র, সবাই রুদ্র বলে ডাকে।

- শোন বাবা রুদ্র, পারিবারিক আর পাবলিক বলে দুটো বিষয় আছে। সব মানুষের মধ্যেই কিছু গোপন বিষয় আছে। আর সেগুলো পাবলিকের কাছে বলা যায় না বা প্রকাশ করতে হয় না।

- ঠিক আছে, ব্যক্তিগত বিষয় জিজ্ঞেস করার জন্য আমি দুঃখিত।

- এবার তুমি আসতে পারো।

কিছু রহস্য নিয়ে বাড়িওয়ালার সামনে থেকে বের হয়ে এলাম। আমি থাকি ছাদে। বাড়িটা তৈরি করার সময় ছাদের এক প্রান্তে দুটো রুম করা হয়েছে। তার মধ্যে একটা রুম স্টোর হিসেবে ব্যবহার করেন বাড়িওয়ালা। আর একটা রুম খালি, আমি সেখানেই থাকি। রুমে এসে অফিসড্রেস চেঞ্জ করে জানালার পাশে বসলাম। একটু পরেই মাগরিবের আজান দিবে। আজানের পরেই তাইশা ছাদে আসবে। সম্ভবত নামাজ পড়ে তারপর আসে। মনে মনে আজ তাইশার সঙ্গে কথা বলার প্রতিজ্ঞা করলাম। খাটে বসেই জানালা দিয়ে বাহিরে তাকিয়ে অপেক্ষা করছি কখন আসে।

মোবাইলে রিং বাজতেই ঘুম ভেঙ্গে গেল। অফিস থেকে এসে ক্লান্ত ছিলাম তাই জানালার পাশে বিছানায় কখন ঘুমিয়ে গেছি বুঝতে পারিনি। মোবাইল হাতে নিয়ে দেখি চট্টগ্রাম থেকে আমার বন্ধু রাশেদ কল করেছে। রিসিভ করে কানের কাছে ধরলাম।

- হ্যাঁ বন্ধু বল।

- কিরে কতবার কল দিলাম, রিসিভ করিস না কেন জানতে পারি?

- ঘুমিয়ে ছিলাম।

- তুই নাকি গতকাল আমার সেই পুরনো হাসপাতালে গিয়ে আমার খোঁজ করেছিস? আচ্ছা রুদ্র, তুই কি এখনো সেই একরাতে দেখা হওয়া মেয়েটাকে খুঁজে বেড়াচ্ছিস?

- তোকে কে বললো?

- আমি নাহয় হাসপাতাল থেকে চলে এসেছি কিন্তু আমার কিছু সহকর্মী তো আছে। তাদের মধ্যেই একজন তোকে চিনতে পেরেছে।

কথা বলতে বলতে জানালার দিকে চোখ গেল। তাইশা ছাদে দাঁড়িয়ে আছে। আমি রাশেদকে বললাম,

- দোস্ত আমি তোকে একটু পরে কল দেবো।

- কেন এখন কি হয়েছে?

- আরে বুঝতেই তো পারছিস, ঘুম থেকে উঠেছি তাই ওয়াশরুমে যেতে হবে।

- আচ্ছা ঠিক আছে যা তাহলে।

মোবাইল কল কেটে দিয়ে দরজা খুলে বাহিরে বের হলাম। আস্তে আস্তে তাইশার কাছে গিয়ে একদম কাছাকাছি দাঁড়িয়ে রইলাম। কি বলে প্রথম কথা শুরু করবো সেটা মনে মনে সাজাচ্ছি।

আমাকে অবাক করে দিয়ে তাইশা বললো,

- সন্ধ্যাবেলা ঘুমের অভ্যাস ভালো না, শরীর অসুস্থ হয়ে যাবে। তারচেয়ে বরং অফিস থেকে ফিরে ছাদে বসে থাকবেন। শহর জুড়ে সন্ধ্যার আগমনে আস্তে আস্তে অন্ধকার হবার দৃশ্য দেখবেন।

আমি কোনো কথা খুঁজে না পেয়ে বললাম,

- আপনি কেমন আছেন?

- আমি তো ভেবেছিলাম আপনি শুধু জানালা দিয়ে উঁকি দেওয়া ছাড়া আর কিছু পারেন না। এখন তো দেখি মেয়েদের সঙ্গে কথাও বলতে পারেন।

- আসলে একটা কথা জানার খুব ইচ্ছে।

- কি কথা?

- সরাসরি বলবো নাকি ভূমিকা, প্রসঙ্গ তারপর মূল বক্তব্য।

- ভূমিকা আর প্রসঙ্গ অলরেডি শেষ হয়ে গেছে। এবার মূল বক্তব্য শুরু করতে পারেন।

- আপনার বাবার কাছে আপনার সম্পর্কে কিছু কিছু কাহিনী শুনলাম। সবকিছুর মধ্যে আমার শুধু আপনার এক্স বয়ফ্রেন্ডের কথা জানতে ইচ্ছে করছে।

- ওর কথা কেন? আর কি কি জানতে চান?

- মানে সে কোথায় আছে, আপনি তার সঙ্গে বিয়ে করবেন না বলে কীভাবে মিটমাট করেছেন। সে আপনাকে পাবে না জেনে কিরকম আচরণ করেছিল? আপনার হাসবেন্ড মারা যাবার পর সে কি যোগাযোগ করেছে?

তাইশা মুখ ঘুরিয়ে বললো,
- আজই আপনার সঙ্গে আমার প্রথম কথা শুরু। আর আজই আপনি এতকিছু জিজ্ঞেস করছেন?

- আপনার বাবার কাছে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি অদ্ভুত আচরণ করেছেন। তাই আরো বেশি আগ্রহ দেখা দিচ্ছে। আর আমি একবার একটা বিষয় আগ্রহী হলে সেটা শেষ নাহলে কোনকিছু ঠিক মতো করতে পারি না।

- সে আমার বিয়ের আগেই মারা গেছে। আশা করি তার পরের প্রশ্ন গুলোর আর কোনো উত্তর দিতে হবে না।

প্রায় দুই মিনিটের মতো চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলাম। তারপর বললাম,

- কীভাবে মা!রা গেছে?

- এক্সি!ডেন্টে।

- এক্সি!ডেন্ট নাকি হ!ত্যা?

- মানে?

- না কিছু না।

- আপনার প্রশ্ন করা শেষ হয়েছে?

- জ্বি। আরেকটা কথা, তার নাম কি ছিল?

- নিয়াজ হাসান। এবার কি আমরা প্রসঙ্গ পাল্টে কথা বলতে পারি?

- জ্বি।

- বাবার কাছে শুনলাম আপনি এখনো বিয়ে করেননি। আপনার চাকরি, তারপর বাকি সবকিছু তো ঠিকঠাক আছে। তাহলে বিয়ে করতে আর কতো দেরি? নাকি কারো জন্য অপেক্ষা?

- বিয়ে না করেই তো বেশ ভালো আছি।

- কিন্তু এই-যে বাসা ভাড়া নিতে গিয়ে কতটা ঝামেলা পোহাতে হয়। এরচেয়ে তো বিয়ে করে পরিবার নিয়ে থাকা ভালো।

- আপনার স্বামী যেদিন মারা গেলেন সেদিন আপনি কোথায় ছিলেন? বাবার বাড়িতে নাকি শশুর বাড়িতে।

- আবার সেই প্রসঙ্গ?

- রাগ করলেন?

তাইশা তার মোবাইলের স্ক্রিনে তাকিয়ে বললো,

- আমার নাস্তা করার সময় হয়ে গেছে। প্রতিদিন এই সময়ে নাস্তা করে তারপর আবার ছাদে আসি। আপনার সঙ্গে পরে কথা হবে।

- ঠিক আছে।

তাইশা চলে গেল, বাবা মেয়ের দুটো ভিন্ন চরিত্র আবিষ্কার করলাম। তাইশার বাবা নিয়াজ হাসান এর কথা শুনে গম্ভীর হয়েছিল। আর তাইশা চলে গেল তার স্বামীর কথা শুনে। দুজনের এই গম্ভীর হবার রহস্যের সঙ্গে কারণ কি আলাদা নাকি একই বুঝতে পারছি না।

তাইশার সঙ্গে আর দেখা হলো না। কারণ কিছুক্ষণ পরেই বৃষ্টি নামলো। আমিও আর দাঁড়িয়ে না থেকে দ্রুত রুমের মধ্যে গিয়ে বসলাম। রাতে আমার শুকনা খাবার ছাড়া আর কিছু খাওয়া হয় না। তাই রাতের খাবার শেষ করে বিছানায় বসে বসে খোলা জানালা দিয়ে বাহিরে তাকিয়ে রইলাম৷ মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে, ভেজা শহরের দিকে তাকিয়ে কিছু সময়ের জন্য নিজের দায়িত্ব যেন ভুলে গেলাম।

প্রায় ঘন্টা খানিক পরে বৃষ্টি কমলো। বৃষ্টি নামার একটু পরেই বিদ্যুৎ চলে গিয়েছে। আমি একটা মোমবাতি জ্বালিয়ে বসে রইলাম কিছুক্ষণ। রুমের মধ্যে তখন হালকা গরম লাগছিল। বৃষ্টির কারণে গরম কমার কথা কিন্তু তেমন কমলো না।

যেহেতু বৃষ্টি হয়েছে তাই বাহিরের বাতাস ছিল খুব ঠান্ডা। জানালার গ্লাস এক সাইডে সরিয়ে দিয়ে শুয়ে পড়লাম। ছোট্ট একটা রুম, জানালার পাশেই খাট। জানালা দিয়ে হালকা বাতাস প্রবেশ করছে রুমে। রাশেদের কাছে আর কল করা হলো না।

কখন ঘুমিয়েছি জানি না, কিন্তু শরীরের মধ্যে তীব্র জ্বালাপোড়া অনুভূতি হবার সঙ্গে সঙ্গে ঘুম ভেঙ্গে গেল। সম্পুর্ণ শরীর জ্বলে যাচ্ছিল, হঠাৎ করে বুঝতে পারলাম আমার পায়ে কোনো শক্তি পাচ্ছি না। মুখ দিয়ে শুধু বাঁচাও বাঁচাও শব্দ করলাম।

এমন সময় জানালার সামনে কারো ছায়ামূর্তি দেখতে পেলাম। কেউ একজন দাঁড়িয়ে আছে সেখানে। ছায়ামূর্তি বললো,

- কেমন লাগছে সাহেব? খুব কষ্ট তাই না?

কণ্ঠটা তাইশার, আমি অবাক হয়ে জানালার দিকে তাকিয়ে রইলাম। সমস্ত শরীরে ব্যথা। অচেতন হবার অবস্থা। তাইশা আবার বললো,

- আমার এক্স বয়ফ্রেন্ড এখানে এই রুমেই ভাড়ায় থাকতো। আপনি এখন যেভাবে মারা যাচ্ছেন, ঠিক সেভাবেই তাকেও খু!ন করেছিলাম। মৃত্যুর পরে ওপাড়ে ভালো থাকবেন সাহেব। বিদায়।

চলবে...

গল্প:- টু-ফাইভ-এইট-জিরো
পর্ব:- এক (০১)

লেখা:-
মোঃ সাইফুল ইসলাম (সজীব)

15/02/2026

ক্যালকুলেশনের দুই বাটন।
১/ জিতাতেই হব!
২/ হারাতেই হবে!

ঢাকা ১৭ আসন,
ঢাকা ০৮ আসন,
ঠাকুরগাঁও আসন।
এই তিনটাতে জিতাতেই হবে,তারেক রহমান,মির্জা আব্বাস,ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্মানিতকে।

ঢাকা ১৩ আসন,
বরিশাল ৫ আসন,
পঞ্চগড় আসন।
এই তিনিটাতে হারাতেই হবে মুফতি ফয়জুল করীম,মাওলানা মামুনুল হক,সার্জিস আলম জনাবকে।
(সংসদে বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর, যৌক্তিক বক্তব্য ও সত্যবাদী ব্যক্তি থাকলে বাকিদের অবস্থা লেজেগোবরে এক হয়ে যাবে।)

এদিকে জমিয়ত কেনো বিএনপির সাথে থেকেও হারলো?
ওদিকে জামাতের সাথে থাকা খেলাফতের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব কেনো হারলো?
কারণ কওমীর প্রতিনিধিত্ব করে এমন কেউ যেনো জিততে না পারে,সেজন্য গুপ্ত ভাবে আলোচনায় কওমীকে সমাধিত করার দায়িত্ব নিয়েছে উভয় বিএনপি জামাত।
এই কথার যুক্তি কি?
বিএনপির খুব প্রয়োজন ছিলো একটি শক্তিশালী বিরোধীদলের। এই প্রয়োজন বিশ্বস্ত বন্ধুর হাতে ছেড়ে না দিলে,জনাব তারেক রহমানের ভয় এবং আশংকার জায়গা ছিলো মৌলবাদের উত্থান নিয়ে।যেমনটি লন্ডনে থাকা অবস্থায় প্রকাশ করেছিলোম।বিশ্বস্ত বন্ধুকে জনগণের সামনে বিরোধী শত্রু হিসাবে ছেড়ে দিলো জামাতকে।
অর্থাৎ যেই লাউ সেই কদূ হয়েই নাটক সাজানো হলো মানে জামাতকে ভোট দেয়া মানে বিএনপিই সেটা পেলো।জনগণ বুঝলো না ফলে ইসলামিস্ট সেজে নেয়া ভোটারগণ জামাতকে বেছে নিলো।ফলে মৌলবাদের উত্থান ঠেকানো গেলো।সাপ মরলো, লাঠিও ভাঙ্গলো না হিসাবে বিএনপি সাথে নিলো জমিয়তকে।
জমিয়তকে ৪টি আসন দিলো এমন এমন জায়গায়, যেখানে তারা জিততে পারবে আশা করে কিন্তু জিততে পারবে না বা জিতানো দেয়া যাবেনা।তাই শক্তিশালী অবস্থান নিয়ে বিএনপি থেকে পদত্যাগ করে বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়ে নির্বাচন করলো কোথাও কোথাও। আর কোথাও জামাত জোটকে এই ক্ষমতা দেয়া হলো।অবশেষে ভূমিধস হারা পার্টি হয়ে থাকলো জমিয়ত।এগুলো হেন্ডেল করার দায়িত্ব স্বয়ং জনাব তারেক রহমানের। পিএস সালাউদ্দিন সাহেব। নির্বাচনের আগে টুপি পাঞ্জাবী পড়ে আলেম দরবার কম দৌড়ান নাই তিনি।
দোয়া নেয়া উদ্দেশ্য নয় বরং আলেমদের মাঝে বিভেদ অনৈক্য পয়দা করা, তারা যেনো এক হতে না পারে।তাই হলো পরিকল্পিত ভাবে।

আপনারা কওমী প্রতিনিধিত্ব কারীরা বিএনপির সাথে বন্ধুত্ব করুন বা জামাতের সাথে নির্বাচনী জোটে থাকুন, সংসদে জেতে দেয়া হবে না হিসাবেই ক্যালকুলেশন করা ছিলো আগ থেকেই।

ওদিকে ইসলামী আন্দোলন বেশ আত্ত্বতৃপ্তির পলিটিক্স করে দেখালো।প্রথমে ওয়ান বক্স পলিসি পরে সমঝোতার নির্বাচন। ইসলাম, দেশ, মানবতার পক্ষে যারাই থাকতে চাইবে, তাদেরকেই সাথে নিবে কিন্তু সমঝোতার রাজনীতিতে কেউ প্রধান থাকবেনা। প্রধান কেনো থাকবে না তার একটা কারণও আছে।কওমীর একটি বড় অংশ চরমোনাইকে বিশ্বাস করে না।এটাই বাস্তব।চরমোনাই পীর সাহেব বারবার ঐক্যের আহবান করে,আর তারা বলে এই আহবান তাদের নিজের ফায়দার জন্য। কলকাঠি তাদের হাতেই থাকবে।সম্ভবত পীর সাহেব চরমোনাই এই কারণেই আস্থার জায়গা তৈরি করতে সমঝোতার নির্বাচনী এলায়েন্সে কেউকে প্রধান না করার পলিটিক্স নিয়ে আসেন।যা হোক! সবাই মিলে পরামর্শ ভিত্তিক নির্বাচন করবে।প্রথমত দেশব্যাপি ইতিবাচক সারা ফেলেছিলো এই নতুনত্ব ওয়ানবক্স সমঝোতা নির্বাচনী এলায়েন্স ।কিন্তু বেশিদিন টিকে থাকতে পারলোনা ইসলামী আন্দোলন নিজেই।জামাত কথা দিয়েছে মৌলবাদ কঠোরতা থেকে সরলতায় নিয়ে আসবে ইসলামী আন্দোলনকে।কাকে কথা দিয়েছে তাতো সবাই জানেন।কথা রক্ষায় কিছু ভূমিকা তো পালন করতেই হবে।নিজেকে মডারেট ইসলাম প্রমাণিত করার দায়িত্বও তাদের উপর বর্তায়।শরীয়া বাস্তবায়ন না করার ঘোষণা, মরহুমা খালেদা জিয়ার ঐক্যের পাটাতনে বসে জাতীয় সরকার গঠনের বক্তব্য আর অপরাপর ৭ভাইকে না বলে এনসিপিকে জোটে একক স্বীদ্ধান্তে নিয়ে এসে ৩০টা আসন দিয়ে দেয়া ও বৈঠকের নির্ধারিত সময়ে পাত্তা না দেয়া ইসলামী আন্দোলনকে,০০.০১পার্সেন্ট বলে ইসলামী আন্দোলন এর আমীরকে অসম্মান করার কারণগুলো সামনে এনে ভিতরে শুরু হলো টানটান অবস্থা। এমতাবস্থায় আত্বমর্যাদা, ইসলাম দেশ মানবতার কল্যাণের দিকে লক্ষ করে পীর সাহেব চরমোনাই কার ফায়দা হবে কার ক্ষতি হবে সেদিকে আর খেয়াল রাখলেন না।এই খেয়াল না রাখা ইসলামিক দিকে দিয়েই তিনি করেছেন।ভুল করেননি আমরা মনে প্রাণে বিশ্বাস করেছি।
ফলে প্রকাশ্য ফায়দা হলো বিএনপির। আদদে তারাতো একই, তাই ক্ষতি কারো হয়নি বরং কিছু মিথ্যা খবর ছড়িয়ে কলুষিত করতে মরিয়া হয়ে উঠলো তারা। এই কাজের গুরু দায়িত্ব পালন করলো দরিদ্র ছন্নছাড়া "আমার দেশ " পত্রিকা । খবর দেয় জামাত, প্রচার করে "আমার দেশ"। প্রধানমন্ত্রীত্ব চাওয়া ইত্যাদি মিথ্যা বানোয়াট কথা কে দিলো তাদেরকে? অবশেষে নিজের শক্তি জানান দিলো ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। অনেক আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিলো আইএবি দলটি।
সেখানে একটা সীট না পেলেও কম কিসে।তবে পেয়েছে একটা আসন।
নির্বাচনের ফল প্রকাশ হলো।
২.৭০পার্সেন্ট ভোট পড়েছে হাতপাখা মার্কায়। এই পার্সেন্ট একমাত্র ইসলামী আন্দোলন এর।অন্যদের পার্সেন্ট বেশী হলেও তা কিন্তু তাদের দলের নিরেট হিসাব নয়।জোটবদ্ধতা আর আওয়ামী লীগ এর ভোট ভাগাভাগি দুই মেরুতে।
সারাদেশে ৭জন নারী সংসদ সদস্য হতে পারলেও ৭জন কওমী ধারার আলেম সংসদ সদস্য হতে পারলো না।বরং পারতে দেয়া হয়নি।

এখন একটু অতীতের দিকে নিয়ে যাই আপনাকে!
জনাব তারেক রহমান তখন সরকারের কেউ নন।লন্ডনে থাকেন।তিনি তার মায়ের মুমূর্ষু অবস্থাতেও,
দেশে আসাকে নিরাপত্তাহীনতা ও একক স্বীদ্ধান্ত নয় বলে অপারগতা প্রকাশ করলো। জানান দিলো ভিডিও বার্তার মাধ্যমে। তখন ভাবসাবে অনলাইন প্রধানমন্ত্রী বলে অনেকে মনে করেছিলো।যেদিন হাদি হত্যা হলো, সেদিন রাতেই মির্জা ফখরুল ইসলাম (যদিও ইসলাম নামটা তার নামের সাথে বেমানান ভিন্ন কারণে) আলমগীর বললেন জনাব তারেক রহমান আগামী ২৫ডিসেম্বর/ দেশে আসবেন।
একদিকে মির্জা আব্বাসের জন্য কঠিন ছিলো একজন তরুনকে ঢাকা ৮আসনে হারানো।অন্যদিকে জনাব তারেক রহমান হাদি হত্যার মাধ্যমেই কেমন যেনো নিরাপত্তা ফিরে পেলো।আরো অতীত ঘাটলে আমরা দেখতে পারি যে,
জনাব তারেক রহমান দেশে আসার প্রতিবন্ধক ছিলো আওয়ামী লীগ।রাজনীতি না করার মুচলেকা ইত্যাদি। যার কারণে ২৪ইং জুলাই পরবর্তী বারবার লন্ডন টু ইন্ডিয়া গোপন বৈঠক হয়।আলোচনা সেই উচু লেভেলের হয়েছে।যাতে আগামীতে জনাব তারেক রহমান দেশে আসতে পারেন।প্রধানমন্ত্রী হবেন।বিনিময়ে আওয়ামী লীগ এর রাজনীতির পথ খুলে দিবেন বিএনপি। এরই ধারাবাহিকতায় আওয়ামী লীগ এর সাথে চুক্তি হয় বিএনপির।আর বিএনপির সাথে চুক্তি হয় জামাতের।বিএনপি জামাতকে বিরোধী শক্তিশালী দল হিসাবে বাস্তবায়ন করবে।কিভাবে জনগণের ভোট নিবে সেটাও ঠিক করা হয় গোপনে। উত্তরবঙ্গে কয়েকটি জেলাতে ঢালাওভাবে আওয়ামী লীগ ভোটাররা ভোট দিবে জামাতকে।দক্ষিণবঙ্গে দিবে বিএনপিকে।গণভোটে হ্যাঁ দিতে বলেছেন জনাব তারেক রহমান। এটা ফর্মালিটি রক্ষা মাত্র।গোপনে না ভোটের ক্যাম্পেইন করতে বলা হয়েছে বিএনপির নেতৃবৃন্দকে।যার প্রমাণ অনলাইনে আছে।হিসাব করে দেখলে বুঝা যায় জামাত জোট সবাই হ্যাঁ ভোট দিলে সেটার পার্সেন্ট যা দাঁড়ায় ,না ভোটের সব বিএনপির উপর বর্তায়। এ ব্যাপারে তাদেরকে কেউ কিছু বলতে যেনো না পারে সেজন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচনের আগে বলেই দিয়েছেঃ গণভোটে জনগণ কোন পক্ষে থাকবে, তার ক্যাম্পেইনের দায়িত্ব বিএনপির না।

একদিকে নারী ৭জন সংসদ সদস্য অন্যদিকে কওমী প্রতিনিধিত্ব কারী প্রধানতম ব্যক্তিত্ব সংসদে যাইতে না দেয়ার পরিকল্পিত প্লান বাস্তবায়ন।
এরপরও কওমী প্রতিনিধিত্ব কারী ইসলামী দলগুলোর ঘুম না ভাঙ্গলে কি করার?
প্রতিবছর হাজার হাজার আলেম বের হচ্ছে। কর্মসংস্থানের কোন মাথাব্যথা নেই। নাম মাত্র বোর্ড খুলে বসেছে। এতো বোর্ড পরিক্ষা দিয়ে মেধা যাচাই করে তাদেরকে বিদেশেও পাঠানো যাচ্ছেনা তাদের সার্টিফিকেট নিয়ে।মসজিদ মাদরাসা ছাড়া দ্বিতীয়.....নাই!
যদি কখনো ঘুম ভাঙ্গে,
তাহলে শীর্ষ আলেমগণ সর্ব প্রথম মনে করবে, আমরা বিচ্ছিন্ন থাকলে আমাদের ক্ষতি। আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব কারীদের উপর ভবিষ্যত প্রজন্ম আল্লাহর লা'নতের দিবে।আমরা হয়তো বেয়াদবি হবে ভয়ে কিছু বলবো না।
হয় এক হোন,না হয় পরিকল্পিত ভাবে তাদের মাঝে আজীবনের জন্য ঢুকে পড়ুন।তবুও ভবিষ্যত প্রজন্মকে অন্ধকার থেকে উত্তলন করুন।
আবারও বলছি: ৭ নারীর বিপরীতে ৭ আলেম সংসদে নাই। কিন্তু মাঠগরম করা রাজনীতি দলের অভাব আমাদের নাই।
(উল্লেখিত পর্যালোচনার পর)
জনগণের সাথে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হলো কিনা বলবো না।কিন্তু আমাদের কওমীদের সাথে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে কিনা প্রশ্ন রেখে গেলাম।

06/01/2026

Address

Dhaka
5420

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when পরিক্রমা posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share