14/07/2020
※ মহাবিশ্বের মহা ঘনঘটা~মহাবিপদের অশনি সংকেত ¤□
বিজ্ঞান ভিত্তিক(NASA, NOAA) মহাজাগতিক বিশ্লেষণ
--------------○~~~~~•---------
"কী ঘটতে যাচ্ছে !"(প্রেক্ষিত বাংলাদেশ)
☆ গ্রাম হবে শক্তিশালী, সংকটে শহর!■
বিষয়টি একটু জটিলই।থাকতে হবে ধৈর্যের সাথে,(সময় না হলে শেষের ২/৩ টি প্যারা দেখতে পারেন) ধারণা নিতে হবে Solar Cycle 25, Sunspot, Solar Minimum, Cosmic rays, Electro-Magnetism Power & Polarity etc সম্পর্কে।
সূর্য : সূর্যই সকল শক্তির উৎস, পৃথিবীর ।সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরছে আমাদের পৃথিবী। পৃথিবীকে কেন্দ্র করে চন্দ্র ।আবার সূর্য ঘুরছে ছায়াপথে।ছায়াপথও আবার ..... জটিল সমীকরণে।চন্দ্র, পৃথিবীর ঘূর্ণন সম্পর্কে জানতে পারলেও বিজ্ঞানীরা খুবই সামান্য জানতে পারছেণ সূর্য,ছায়াপথ, বা তারও পর অন্যান্য মহাবিশ্বের গতিপ্রকৃতি ।কিন্তু সবকিছুরই প্রভাব রয়েছে আমাদের এই নশ্বর পৃথিবীর উপর।
Solar Cycle 25:
এর সাধারণ স্থিতিকাল 11.1 বছর যা সর্বনিম্ন 9 থেকে 14 বছরের মধ্যে হয়ে থাকে। এই সময়ে সে পজিটিভ থেকে নেগেটিভ এবং পরবর্তী পর্যায়ক্রমে নেগেটিভ থেকে পজেটিভ মেরুকরণে আবর্তিত হয়। দু'টি পর্যায়বৃত্তে অর্থাৎ 22 বছর পরপর সে মূল অবস্থানে ফিরে।আর এখানেই ঘটে থাকে Solar Minimum ও Solar Maximum। ঘটনার সাথে জড়িত থাকে Sunspots.
1908 সালে George Ellery Hale এক গবেষণায় দ্যাখেন যে, Sunspot সাংঘাতিক ভাবে পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের উপর প্রভাব বিস্তার করে থাকে।1609 সালে Galileo Galilei, Christoph Scheiner প্রথমে সানস্পট অবলোকন করেন।1893 সালে Samual Heinrich Schwabe পর্যায়কাল গণনা করেন। এ নিয়ে আরো কাজ করেছেন Christian Horrebow, Rundetaarn, Rudolf Wolf, Walter Maunder, Richard Carrington।। এদের মধ্যে Wolf Effects ও Maunder effect ও তাদের ভবিষ্যৎ বানী মিলে যায়।
Solar Minimum ও Solar Maximum:
যে সময়ে সূর্য সবচেয়ে কম কিরণ দেয় সেটাই ন্যূনতম সূর্য । আর যে সময়ে সবচেয়ে বেশি কিরণ দেয় সেটিই সর্বোচ্চ সূর্য।এই সময়ে সূর্যের অভ্যন্তরীণ সানস্পট সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চে থাকে। Solar minimum ও Solar maximum এ সূর্যকিরণের পার্থক্য ০.১ % পর্যন্ত লক্ষ্য করা যায়।
Sunspots:
এটি সূর্যের অভ্যন্তরীণ ঘটনা। এর এক একটির আয়তন পৃথিবীর সমান হতে পারে। এর অভ্যন্তরে তাপমাত্রা থাকে প্রায় ৪৭৮০ কেলভিন।বৃত্তের চারদিকে চৌম্বকীয় ওয়েভ থাকে।এটি কম সংখ্যক থাকলে সূর্য কম বিচ্ছুরিত হয়। বেশী থাকলে বেশি।
April 2020 (+/- 6 months) -এ Solar 24 থেকে Solar 25 প্রবেশ করছে বা করবে। এসময়ে ন্যূনতম সানস্পট থাকবে।ফলে সূর্য কম কিরণ দিবে। Solar Electromagnetic power -এ বেশ তারতম্য ঘটবে।সূর্য দুর্বল থাকায় অন্যান্য ছায়াপথ থেকে মহাজাগতিক রশ্মি (Cosmic rays) সূর্যের উপর বেশ প্রভাব বিস্তার করবে।অনেকটা বাড়ির কর্তা দূর্বল হলে বাইরের উৎকট ঝামেলা পরিবারকে ভোগ করার মত।এই রশ্মি গুলো পৃথিবীর তরঙ্গের উপর নানাবিধ ব্যতিচার/ ব্যাঘাত সৃষ্টি করে। ফলে পৃথিবীর রেডিও সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রভাব থাকে PM2.5 & PM10 এগুলো আবার ফিশন বিক্রিয়ার মাধ্যমে (14)C, (10)Be এর সাহায্যে UV, EUV& X-ray উৎপন্ন করে।
এই উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন মহাজাগতিক রশ্মি পৃথিবীতে প্রবেশ করে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে সংঘর্ষ ঘটায়।অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন কে বিয়োজিত করে cloud condensation nuclei তৈরী করে ফেলে।মহাকাশে বিদ্যমান সমগ্র জলকণাকে সে সঙ্গী করে নেয়, নতুনকে আহবান করে এবং সমুদ্র বা নিকটবর্তী জলাধার থেকে তা বাস্পাকারে ছুটে যায়। ফলে অধিক জলকণা সমৃদ্ধ মেঘমালার সৃষ্টি হয়।এই কারণে সাংঘাতিক ধরণের বৃষ্টিপাত হয়। বন্যা যা হবে একটু দীর্ঘমেয়াদী।
ভয়াবহ বন্যা(কোথায়):
প্রচণ্ড বৃষ্টিপাতের কারণে ভয়াবহ বন্যায় আশংকা থেকে যায়। এই সময়ে সংগঠিত সৃর্যগ্রহণ এলাকায় এর প্রভাব ব্যাপক থাকে কারণ এই এলাকার বায়ুমণ্ডল বেশী বিক্ষিপ্ত(ionised) থাকে।তাহলে তো বুঝতেই পারছেন কোথায় ঘটতে পারে এটি।
ফিরে যান 22 বছর আগের ঘটনায় । 1998 !!!
কি মিলে যায় পূর্বোক্ত Solar Cycle 25 আর ঐ সালের সাথে। আরও একটু মনে করার চেষ্টা করুন।
Diamond Ring!! কোন সালে, কোথায় ঘটেছিল এটি । আল্লাহ আমাদেরকে রক্ষা করুন।সেদিন বুয়েটের সিভিল বিল্ডিং য়ের ছাদে দাঁড়িয়ে দেখেছিলাম। হিরণ পয়েণ্টে নেমেছিল দলে দলে পর্যটকরা ।তারপর কতদিন পর যে বন্যা হয়েছিল ও কতদিন যে বন্ধ ছিল বুয়েট সহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান বন্যার কারণে তা অবশ্য মনে নেই। তবে মনে আছে, সূর্য গ্রহনের কয়েক মাসের মধ্যেই সবাই মিলে রুটি বানিয়ে অন্যান্য ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছি অসংখ্যবার।এবারো ঘটে গেল একই ঘটনা ঠিক এর কাছাকাছিতেই ন্যৃনতম সূর্য,ও সূর্য গ্রহন একই সময়ের কাছাকাছি। ২২ বছরের হিসাবের একই পুনরাবৃত্তি।
হ্যাঁ, এটাই মহাজাগতিক বিস্ময়।আর তারপর এবার হচ্ছে Grand Solar Minimum(GSM) (2020_2055)যা প্রতি দূ'শ বছর পর পর ঘটে। শংকাটাও তাই একটু বেশী এ কারণেই।তার উপর করোনা।Maunder minimum (1645~1715)। কী ভয়ঙ্কর অবস্থাই না হয়েছিলো ইংল্যান্ডে The grreat flood and great femine)1314~1317 সালে। ইউরোপে The little ice age ও হয়েছিল এ সময় টাতে।
শীতের প্রভাব:
ন্যূনতম সূর্য থাকায় পৃথিবী থাকবে শীতল। শীতের তীব্রতা ও দীর্ঘতা বাড়বে। করোনা পাবে বাড়তি সুবিধা।হতে পারে আগ্নেয়গিরির অগ্যুৎপাত। বাড়তে পারে বৈশ্বিক শৈত্যতা।
কী হতে পারে করোনার:
পূর্বেই বলেছি Solar Cycle 24 ও Solar Cycle 25 এর ট্রানজিশন পিরিয়ড নভেম্বর ২০১৯ থেকে অক্টোবর ২০২০।এর সময় প্রকৃতিতে অনেক ঘটনাই ঘটে, যা দেখা যায় না।সূর্যেরসপ্রকোপ কম না অনেক নাটের গুরু লাটাই নাচাতে থাকে দীর্ঘদিন প্রায় দু/তিন বছর যাবৎ।কোন মহামারিই দুই-আড়াই বছরের বেশী তীব্রতা দেখাতে পারে না । ততক্ষণে আসল সূর্যিমামা জেগে উঠে।আর আমাদেরকে অক্টোবর পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করতেই।এই শেষ, এই শেষ বলার কোন সুযোগ নেই।এটা ভয়ঙ্কর হয়ে থাকবে শীতের প্রারম্ভে ও শীতকাল জুড়ে ।গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে লাতিন আমেরিকান দেশ যেমন: ব্রাজিল, মেক্সিকো এবং অস্ট্রেলীয়ার দিকে।সম্ভবতঃ ওদের এখন যা বর্তমান, আমাদের তাই ভবিষ্যত ।তাই সতর্ক থাকুন সবসময়।শত্রুকে দুর্বল ভাবা অনুচিত ।যে কোন মুহূর্তে সর্ব শক্তিতে আঘাত হানতে পারে।সতর্ক সর্বোচ্চ সর্বগ্রে ।আর সমস্যা না হলে তো সবাই রক্ষা পেলাম।
গ্রামীণ ও শহরের অর্থনীতি:
পূরেই বলেছি মহাজাগতিক রশ্মি বায়ুর অক্সিজেন ও নাইট্রোজেনের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে।ফলে এ দু'টি মৌল নাইট্রেট লবন বৃষ্টির মাধ্যমে মাটিতে উদ্ভিদের খাদ্যের যোগান দিচ্ছে।হয়ে উঠছে সবুজ ময়।ফুল-ফলের সমারোহ। জলাশয়ে বাড়ছে ফাইটো-প্লাঙ্কটন ও জুও-প্লাঙ্কটন।প্রাণী ও মাছের খাবার পর্যাপ্ত ।মাছ, শাক সব্জি, খাদ্য শষ্যের ফলন ভাল হবে ।
কিন্ত শংকা হচ্ছে বন্যার ফলে তা ঘরে তলতে না পারা। সুতরাং ধরেই নিতে পারেন সামনের ফসল নষ্ট হচ্ছে।
কৃষক কিছুটা আচ করতে পেরে খাদ্য শস্য সব বিক্রি করছে না যদিও ফলন হয়েছ যথেষ্ট।
সরকার মজুদের জন্য স্থানীয় বাজার হতে ক্রয়ের জন্য খাদ্য শস্য পাবে না।
বিদেশ থেকে আনার জন্য সফল হবে বলে মনে হয় না।কারণ কেউ মজুদ নষ্ট করতে চাইবে না।কিন্তু পেতে পারে খাদ্য শষ্য ব্যতীত পেয়াজ, রসুন,আদা, জাতীয় ইত্যাদি।
মানুষ শহরে আসে মুলত কর্মসংস্থান, পড়ালেখা, চিকিৎসার জন্য। এ ব্যবস্থা গুলো সামনে হবে দুর্বল। শহরে বিশেষ করে ঢাকাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে আসবে। Economic divident এর কারণে তরতাজা মানুষের করোনা পরবর্তী স্বাস্থ্যসেবা খুব বেশি প্রয়োজন হবে না বলে আমার বিশ্বাস।
আমাদের করণীয় :
সম্ভাব্য দূর্যোগ মোকাবিলায় পূর্ব প্রস্তুতি ।মানসিকভাবে।সামনে ফসলহানি হচ্ছে ভেবে পরিকল্পনা।বর্তমান মজুদেই চলতে হবে সামনের এক বছর।ভাত একবেলা, রুটি একবেলা, সব্জি একবেলা। একটু অভ্যাসে রাখুন, কাজে দিবে।
বাড়ির আঙিনা মাটি দিয়ে উচু করে (বন্যার পানি থেকে রক্ষা পেতে) সব্জি চাষ করুন যাতে এক দেড় মাসের মধ্যে খেতে পারেন। চাষে অবশ্য অবশ্যই গোবর ব্যবহার করবেন, ব্যবহার করবেন না কোন রাসায়নিক সার।খান প্রচুর। কেন ? এতে দেহে রোগ প্রতিরোধের ব্যবস্থা সুদৃঢ় হবে।।
-----------''''-------
বাকীগুলো আপনিই ঠিক করুন।
MN Islam
F-8855