25/09/2021
আসসালামু আলাইকুম
আশা করি সকলে ভালো আছো।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খ-ইউনিটের পরীক্ষা আগামী ২ অক্টোবর, ২০২১ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে।
পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে বাকি রয়েছে মাত্র ছয় দিন ।
আর খ-ইউনিট এর পরীক্ষার্থীদের জন্য শেষ মুহূর্তে এসে "কী করনীয়?" এবং "কী করনীয় নয়?" সে বিষয়ে কিছু পরামর্শ। এই পরামর্শ গুলো করো কাছে অপ্রাসঙ্গিক মনে হতে পারে কিংবা কারো কাছে খুবই গুরত্বপূর্ণ মনে হতে পারে। এই পরামর্শ গুলো যদি অন্তত একজন পরীক্ষার্থীর ও উপকারে আসে এতেই আমাদের সার্থকতা।
শেষ সময়ে এসে আমরা অনেক বেশি হতাশ এবং বিচলিত হয়ে পড়ি। এই অবস্থায় সবাই অনেক বেশি চিন্তা কাজ করে এবং মনে বিভিন্ন প্রকার ভয় কাজ করে। ভালো থাকতে পারাটা অনেকের কাছে কঠিন হয়ে পড়ে।
গত এক থেকে দেড় বছর তোমরা অনেক পড়েছো, অনেক জেনেছো এবং অনেক শিখেছো কিন্তু অনেকেরই মনে হতে পারে যে কিছুই তো পড়ি নি, কিছুই তো শিখতে পারেনি অথবা যা পড়েছি, শিখেছি সেগুলো কি পরীক্ষায় আসবে নাকি আসবে না। এমন নানা প্রশ্ন মাথায় ঘুরপাক খেতে থাকে। তাই, এমন চিন্তা নিরসনে সবার জন্য কিছু পরামর্শ।
১. অনেক বড় একটি সময় ধরে তোমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিপারেশন নিচ্ছো এবং তুমি যা পড়েছো তোমার প্রতিদ্বন্দ্বী যারা রয়েছে তারাও ঠিক একই বিষয় পড়েছে সেজন্য ঘাবড়ানোর কোনো প্রয়োজন নেই। প্রতিদ্বন্দ্বী যতই ভালো হোক না কেন তোমাকে তোমার লক্ষ্যে অবিচল থেকে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করে যেতে হবে।
২. পরীক্ষার অন্তত তিন থেকে চারদিন আগে সমস্ত প্রিপারেশন শেষ করা জরুরি। পরীক্ষার ঠিক দুই দিন আগ থেকে ভালো করে ঘুম যাওয়া, খাওয়া-দাওয়া করা, পরিমিত বিশ্রাম নেওয়া, হাঁটাহাঁটি করা এবং নামাজ/ প্রত্যেকের ধর্মীয় উপাসনা করা, খুঁটিনাটি বিষয় গুলো তে একটু চোখ বুলিয়ে নেওয়া এবং সৃষ্টিকর্তার কাছে বেশি বেশি প্রার্থনা করা।
৩. পরীক্ষার আগের রাতে দ্রুত ঘুমাতে যাওয়া।
৪. প্রবেশপত্রে উল্লেখিত নির্দেশিকা অনুযায়ী পরীক্ষার হলে যে যে কাগজপত্রগুলো নিয়ে যাওয়া বাধ্যতামূলক সেগুলো ভালোভাবে যাচাই করে পরীক্ষার আগের রাতেই ফাইল গুছিয়ে ফেলা।
৫. পরীক্ষার দিন ঘুম থেকে তাড়াতাড়ি ওঠা এবং পরীক্ষার হলে তাড়াতাড়ি পৌঁছানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করা।(*মনে রাখতে হবে যে, স্বাভাবিক সময়ে পরীক্ষার হলে পৌঁছাতে যতক্ষণ সময় লাগে পরীক্ষার দিন তারচেয়েও বেশি সময় লাগবে সেজন্য সে দিকটা বিবেচনা করে তাড়াতাড়ি পরীক্ষার হলের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া।)
৬. বাসা থেকে বের হওয়ার পূর্বে সকল কাগজপত্র এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সবকিছু ঠিক আছে কিনা সেটা আরও একবার যাচাই করে নেওয়া।
৭. যদি কোন কারনে কোন প্রয়োজনীয় জিনিস কিংবা প্রবেশপত্রে উল্লিখিত কোন ডকুমেন্টস নিতে ভুল হয়ে যায় সে ক্ষেত্রে উদ্বিগ্ন না হয়ে হলের আসে পাশে পরীক্ষার্থীদের সহায়তা করার জন্য বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা থাকবেন তাদের সহায়তা নেওয়া।
৮. পরীক্ষার হলে যাওয়ার সময় যদি কোন সংক্ষিপ্ত হ্যান্ডনোট থাকে সেটি নেওয়া যেতে পারে। কেননা বিভিন্ন সময় দেখা যায় যে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করতে অনেক দেরি হয়। সে সময়টুকুতে সংক্ষিপ্ত হ্যান্ড নোটটি এক নজরে দেখে নেয়া যেতে পারে। তবে যদি কারো মনে হয় যে না নেয়ায় ভালো সে ক্ষেত্রে নেয়ার প্রয়োজন নেই।
৯. পরীক্ষার হলে প্রবেশের পর নিজের আসন খুঁজে বসে পড়া। আসন খুঁজে পেতে সমস্যা হলে কারো সাহায্য নেওয়া। আসন খুঁজে পাওয়ার পর, বসে স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করা। প্রয়োজনে Stress কমাতে পাশের করো সাথে দু-একটি কথা বলা। তবে পরীক্ষা চলাকালীন করো সাথে কোন প্রকারের কথা বলা যাবেনা। এতেই ক্ষতির আশঙ্কাই বেশি।
১০. OMR বা উত্তর পত্র দিয়ে দেয়ার পর খুব ঠান্ডা মাথায় রোল নাম্বার পূরণ করা। ধারণা করা হয়ে থাকে যে প্রত্যেকটি নির্দিষ্ট রুমের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ খাতা প্রদান করা হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে কারো যদি কোন ওএমআর ভুল হয়ে যায় তাকে দ্বিতীয় একটি প্রদান নাও করা হতে পারে। সেজন্য খুবই সচেতন হয়ে ওএমআর শিট পূরণ করা।
১১. সময়ের প্রতি খুবই সচেতন হতে হবে কেননা লিখিত পরীক্ষায় "সময়" একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বহন করে সেজন্য সময়ের প্রতি সকলেরই খেয়াল থাকা জরুরি।
১২. প্রশ্ন যে অংশ থেকেই সহজ মনে হয় সে অংশ থেকেই উত্তর দেয়া শুরু করা।
১৩. পরীক্ষার হলে কোন সমস্যা হলে সাথে সাথে ইনভিজিলেটর এর সাথে কন্ডাক্ট করা।
১৪. পরীক্ষার হলে বসে কোন রকম চিন্তা করা যাবে না। সবসময় মনে রাখতে হবে যে সৃষ্টিকর্তা সব সময় আমার সাথে রয়েছেন এবং তিনি যেটা ভালো মনে করেন সেটাই হবে সুতরাং আমার কোন চিন্তা নেই। আমার পরীক্ষা ইনশাআল্লাহ ভালো হবে।
সবার জন্য শুভ কামনা।
"যদি লক্ষ্য থাকে অটুট
বিশ্বাস হৃদয়ে
হবেই হবে দেখা
দেখা হবে বিজয়ে।"
মোঃ হাবিবুল্লাহ
আইন বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
(৬৩ তম, 'খ' ইউনিট, ২০১৯-২০ সেশন।)