28/08/2020
( প্রায় তিন বছর আগের লিখা)
মাস্টার্সের পরপর নিউ এজ দৈনিকে আমি কাজ শুরু করি ৮ হাজার টাকা বেতনে। টাকার অংকে পরিমাণটা বেশ কম হলেও আমি চাকরিটা লুফে নিয়েছিলাম মূলত দুটি কারণেঃ ১। বেকার থাকার চাইতে এই চাকরি ভালো ২। সংবাদপত্রে কাজ করার সুবাদে অনেক মানুষকে চিনবো। পরবর্তীতে বেতন বেড়ে হয়েছিলো ১২ হাজার টাকা। টাকার হিসেবে ৪ হাজার টাকা বাড়লেও যে দুটি কারণে আমি চাকরি নিয়েছিলাম তার প্রায় অনেকাংশই আমার পূরণ হয়েছিলো। এরপরেই আমি প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করি। সাথে চলছিলো নিউ এজে কাজ। সকাল থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত প্রাইম এশিয়াতে ক্লাস নিতাম আর ফেরার পথে নিউ এজে ঢুকে বিকাল ৪টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত সংবাদের কাজ করতাম।সপ্তাহে ৬ দিন আমি কাজ করতাম সকাল ৮টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত। মাসের ইনকাম ১২ হাজার থেকে বেড়ে হলো ৪০ হাজার। এটা ২০১৩ সালের কথা। তারপরেই হঠাৎ করে ত্রিশালের কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাক পাই ২০১৪ সালে। সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি- তাই হাতছাড়া করা যাবেনা ভেবে যোগদান করলাম। সেই ৪০ হাজার টাকার আয় কমে হয়ে গেলো ৩৩ হাজার টাকা। আয় কমলো ৭ হাজার টাকা কিন্তু পরিসর হলো আরো বড়। দুমাস কাজ করার পর পারিবারিক কারণে ওটা ছাড়তে হলো। ভাগ্যের সুপ্রসন্ন দৃষ্টিতে ডাক পেলাম ইস্টওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে। পার্মানেন্ট ফ্যাকাল্টি পজিশনে ইস্টওয়েস্টে যোগদান করার পরের মাসেই অ্যাডজাঙ্কট ফ্যাকাল্টি হিসেবে যোগ দিলাম নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। মাসের ইনকাম এক লাফে বেড়ে হলো ১লাখ ২০ হাজার টাকা। আয় বাড়ার চাইতেও যেটা বাড়লো তা হলো আত্মোপলব্ধি। শিক্ষার্থীরা আমাকে সাহায্য করলো নিজেকে আবিষ্কার করতে। বেশ ভালোই চলছিলো। তারপর হুট করেই প্রজাতন্ত্রে কাজ করবো ভেবে যোগ দিলাম বিসিএসে। মাসের আয় ধপাস করে কমে হয়ে গেলো ২৮ হাজার টাকা। ভাবা যায় এক লাখ ২০ হাজার থেকে আয় কমে ২৮ হাজার হওয়া?! আয় কমে গেলো। বেড়ে গেলো দায়িত্ব, বেড়ে গেলো নিজেকে প্রমাণের ক্ষেত্র। বৈচিত্রময় এক চাকরি। আজ মন্ত্রি মহোদয়কে রিসিভ করছি তো কাল হাইওয়ে দুর্ঘটনায় উত্তেজিত জনতা সামলাচ্ছি, আবার দেখা গেলো পরশু পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্ন আনতে যাচ্ছি। সেই সাথে আছে ম্যাজিস্ট্রেসিঃ কোর্টে বসা, মোবাইল কোর্ট করা, কবর থেকে লাশ উত্তোলন- বিচিত্রের শেষ নেই যেনো।
এতোকিছু লেখার উদ্দেশ্য হলো কোন কাজে আপনি শুধু বেতন বা টাকা হিসাব করে করতে গেলে বেশ ক্লান্ত হবেন। কাজের প্রাথমিক উদ্দেশ্য জীবিকা নির্বাহ হলেও আমি মনে করি অন্যতম একটি উদ্দেশ্য হলো মানুষের সাথে পরিচয়, নিজেকে মেলে ধরা কিংবা অনেক বৈচিত্রতার মুখোমুখি হওয়া।
আজ আপনি যে চাকরিটা ৫ হাজার টাকা বেতন বলে করছেন না দেখা গেলো সেই চাকরির সুবাদে আপনি এমন কিছু পেলেন যা টাকার মূল্যে হিসাব করা যায়না। তাই যারা সদ্য পাশ করেছেন তারা যেই চাকরিই পান শুরু করে দিন। মনে রাখবেন যত দেরি করে চাকরিতে ঢুকবেন তত দেরিতে আপনি এন্ট্রি লেভেল পোস্টে যাবেন। তার চেয়ে কম বয়সে এন্ট্রি লেভেলে ঢুকলে বয়সের সাথে অভিজ্ঞতার ঝুলিও বড় হবে আর আপনি উপরের পজিশনেও এপ্লাই করতে পারবেন। কাজকে ছোট করে দেখা মানে নিজের যোগ্যতা না বাড়ানোর উপায় করে দেওয়া।
লিখা কৃতজ্ঞতা..
আরাফাত মোহাম্মদ নোমান (স্যার)
৩৫তম বিসিএস প্রশাসন
সহকারী সচিব - প্রেষনে যুক্তরাজ্যে অধ্যয়নরত
লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স এন্ড পলিটিকাল সাইন্স