08/09/2020
ড্রামা ক্লাব থেকে থিয়েটার ইউল্যাব ও একজন নাটক পাগল মাহবুব এর গল্প
"''প্রথম অংশ""
ইউল্যাবে আমি ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে MSJ বিভাগে ভর্তি হই । তখন ক্লাব জয়েন করা ছিল ম্যান্ডেটরী, কারন ৫ নম্বর যোগ হত । তখন প্রেসিডেন্ট ছিল MSJ বিভাগ এর শারমিন আক্তার পিংকী । ক্লাব ডে হল ও আমি ড্রামা ক্লাব জয়েন করলাম । নাটক পাগল আমি ছোট বেলা থেকেই, তাই দিধা ছাড়াই অংশ নিলাম নাটকের ক্লাবে। প্রথম সেমিস্টারে আমি সহ সদস্য সংখ্যা ছিল ১০ জন। ক্লাব এডভাইজার ইংরেজী বিভাগের তাহমিনা জামান ম্যাডামের দেখা করলাম । ম্যাডাম নতুন সদস্যদের নিয়ে মিটিং ডেকে নতুন কমিটি গঠন করে তিনি আমাকে প্রেসিডেন্ট নিয়োগ দিলেন ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ইংরেজি বিভাগের মেশকাত নাহার তানিয়া । আমরা দুজন মিলে দায়িত্ব নিয়ে মুচড়ে পড়ে থাকা ড্রামা ক্লাব কে নান্দনিক রুপে ফিরিয়ে আনার চেস্টায় লাগলাম ।
প্রথম সেমিস্টার শেষে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নতুন ক্লাব ডে তে আমার ও ম্যাডামের যৌথ পরিচালনায় জহির রায়হান এর "একুশে ফেব্রুয়ারী" গল্পটি নাটক হিসেবে রুপান্তর করে মঞ্চে উঠালাম, যেখানে "কাজী আনোয়ার হোসেন" চরিত্রটি আমি করি ও আমার স্ত্রীর চরিত্র করে তানিয়া । এ ছাড়াও অন্যান্য চরিত্রের কাল্পনিক অস্তিত্ব গুলোকে বাস্তবিক রুপ দেয় মামুন, সাথি, জেনি, আপু, এরশাদ, সাইফ ছাড়াও BBA বিভাগের অনেক সদস্য । তবে পুরো নাটকের মধ্যে অসাধারণ অভিনয় ছিল বন্ধু জুনায়েদ শাহরিয়ার খান এর, যার পাগল চরিত্রটি পুরো অডিটোরিয়াম কাপিয়ে দিয়েছিল । ক্লাব ডের সেরা পারফরম্যান্স হয় ড্রামা ক্লাব এর । নতুন করে সদস্য জয়েন করল প্রায় ৫৯ জন । আমি নতুন দের নিয়ে ভোটে আবারও প্রেসিডেন্ট হলাম । এরই মাঝে একটি নাটক "মগুর" পত্রিকায় আমি প্রকাশ করতে চাইলে একটি কার্টুন চরিত্র নিয়ে আমাকে ইউনিভার্সিটি থেকে বের করে দিতে চাইলো । তখন সকল ছাত্রছাত্রী সহ সকল ক্লাব এর আন্দোলনের মুখে আমার বহিস্কার আদেশ বাতিল করেন তখনকার ভিসি স্যার প্রফেসর রফিকুল ইসলাম । ২য় সেমিস্টারে আমি প্রেসিডেন্ট হিসাবে পুনরায় আসার পর একটি নাটক ওয়ার্কশপ করি যেখানে প্রায় ৭০/৮০ জন অংশ নেয় প্রশিক্ষণ এর জন্য । আসেন বরেন্য নাট্যদম্পতি তারিক আনাম খান ও নিমা রহমান । তার সাথে ছিলেন ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, খালেদ খান স্যার ও শাহিন ভাই । মজার অভিজ্ঞতা ছিল । এত জন অংশগ্রহণ করতে চাইল, এমন কি স্যার, ম্যাডাম গন পর্যন্ত আগ্রহ প্রকাশ করেন । আমি নিরুপাইয় ছিলাম যেহেতু আমাকে ৮০ জন সীমাবদ্ধ থাকতে আদেশ করেন খালেদ খান স্যার । অংশগ্রহণকারী সকলে সার্টিফিকেট পায় । উক্ত সার্টিফিকেট বিতরণ অনুস্টানের আগে আমি প্রস্তাব দেই ড্রামা ক্লাব কে থিয়েটার ইউল্যাব হিসেবে নামকরন করার জন্যে । কেন ড্রামা ক্লাব, থিয়েটার ইউল্যাব হবে সেই কারন দেখিয়ে বিশাল এপ্লিকেশন লিখি। ভিসি স্যার প্রফেসর রফিকুল ইসলাম ও খালেদ খান স্যার তা অনুমোদন করেন আর ড্রামা ক্লাব হয়ে যায় থিয়েটার ইউল্যাব । আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষনা দেয়া হয় জুলাই ২০০৭ এ । থিয়েটার ইউল্যাবের প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমার নাম প্রস্তাব করেন ক্লাব এডভাইজার তাহমিনা জামান ম্যাডাম । আমি মাহবুব ইমাম মজুমদার হই থিয়েটার ইউল্যাব এর প্রথম প্রেসিডেন্ট। থিয়েটার ইউল্যাব এর লোগো তৈরি করেন EEE বিভাগ এর ছাত্র রেসি গমেজ যিনি এখন জাপান প্রবাসী। আমি ওই দিন শপথ করেছিলাম নিজের জীবন যতদিন থাকবে, থিয়েটার ইউল্যাব এর সাথে থাকব । ইউনিভার্সিটি থেকে বের হয়ে গেলেও আড়ালে স্বপ্নের থিয়েটার ইউল্যাব এর পাশে থাকব । এই ছিল প্রথম অংশ।
আরও গল্প আছে যেখানে অভিনয়ে করতে করতে বেদম মার খেতে হয় সেই অভিজ্ঞতা ইউল্যাব মঞ্চ ছেড়ে শিল্পকলা একাডেমি হলে কিংবা মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর অভিনয় সেই গল্প ২য় অংশে। ******