21/05/2026
আর কত রামিসা? আর কত শিশু? শিশুদের নিরাপত্তা কোথায়?
বাংলাদেশে আজ শিশুদের শৈশব নিরাপদ নয়।
ঘরের পাশে, স্কুলের পথে, বাসার ভেতর, মাদ্রাসায় যেখানে একটি শিশুর সবচেয়ে নিরাপদ থাকার কথা, সেখানেই তারা ধর্ষণ, নির্যাতন ও হত্যার শিকার হচ্ছে। মেয়ে শিশু তো বটেই, ছেলে শিশুরাও আজ ভয়াবহ নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে আছে।
পল্লবীর শিশু রামিসার নির্মম মৃত্যু আমাদের বিবেককে নাড়া দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। একইভাবে মাদ্রাসার ১০ বছরের এক শিশু ছেলের ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাও আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় এই বর্বরতা কোনো একটি শিশুর, কোনো একটি পরিবারের, কোনো একটি এলাকার সমস্যা নয়। এটি পুরো দেশের শিশুদের নিরাপত্তার প্রশ্ন।
আজ রামিসা, কাল আরেক শিশু এভাবে আর চলতে পারে না।
শিশুর লাশের পর শুধু কয়েক দিন প্রতিবাদ, কয়েকটি পোস্ট, কয়েকটি মিছিল, তারপর আবার নীরবতা এই চক্র ভাঙতেই হবে।
আমরা এমন বাংলাদেশ চাই না, যেখানে শিশুরা ঘর, স্কুল, মাদ্রাসা বা সমাজের কোথাও নিরাপদ নয়।
আমরা এমন বিচারব্যবস্থা চাই না, যেখানে অপরাধীরা বিচার বিলম্বের সুযোগে আরও সাহস পায়।
আমরা এমন সমাজ চাই না, যেখানে ভুক্তভোগী পরিবারকে বারবার প্রমাণ করতে হয় যে তাদের সন্তানের জীবনও মূল্যবান ছিল।
আমাদের দাবি স্পষ্ট:
১. শিশু ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিটি মামলায় দ্রুত, স্বচ্ছ ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
২. রামিসাসহ সব শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় প্রকৃত অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
৩. তদন্তে কোনো গাফিলতি, প্রভাব খাটানো বা অপরাধীকে রক্ষার সুযোগ রাখা যাবে না।
৪. স্কুল, মাদ্রাসা, বাসাবাড়ি ও প্রতিটি এলাকায় শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।
৫. ভুক্তভোগী পরিবারকে আইনি, মানসিক ও সামাজিক সহায়তা দিতে হবে।
৬. ধর্ষক, খুনি এবং তাদের আশ্রয়দাতাদের সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে বর্জন করতে হবে।
শিশুরা কোনো পরিসংখ্যান নয়।
তারা কারও মেয়ে, কারও ছেলে, কারও ভাই, কারও বোন সবচেয়ে বড় কথা, তারা এই দেশের ভবিষ্যৎ।
একটি রাষ্ট্রের সভ্যতা বোঝা যায় সে তার শিশুদের কতটা নিরাপদ রাখতে পারে।
আজ আমরা নীরব থাকলে, আগামীকাল এই আগুন আমাদের দরজায়ও আসতে পারে।
তাই বলতেই হবে
শুধু রামিসা নয়, প্রতিটি শিশুর ন্যায়বিচার চাই।
ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।
শিশু হত্যার বিচার চাই।
নিরাপদ ঘর, নিরাপদ স্কুল, নিরাপদ মাদ্রাসা চাই।
নিরাপদ বাংলাদেশ চাই।
প্রতিটি শিশুর নিরাপদ শৈশব চাই।
#নিরাপদ_বাংলাদেশ_চাই
#শিশু_ধর্ষণ_ও_হত্যার_বিচার_চাই