17/04/2018
চীনে বাস চালক সরকারী নিয়োগপ্রাপ্ত, বাসগুলো ও সরকারী । বাসে যাত্রী থাকুক আর না থাকুক নির্দিষ্ট বিরতিতে তারা নির্ধারিত স্থান থেকে বাস ছাড়ে গন্তব্যস্থলের উদ্দেশ্যে । বাস থামানোর জন্য নির্ধারিত স্থান আছে, নির্ধারিত স্থানে রাস্তার উপড় বাস নাম্বার দেওয়া আছে, থামার সময় চালক ঠিক ঐ নাম্বার বরাবর এসে বাস থামায় যাত্রী উঠা-নামার জন্য, নির্ধারিত স্থান ছাড়া চালককে যতবার ই মামা-কাকা ডাকেন না কেন, সে বাস থামাবে না।
প্রতিটি বাসে ২ টা অথবা বড় বাস হলে ৩-৪ টা পর্যন্ত দরজা আছে, প্রতিটি দরজায় আছে স্বয়ংক্রিয় বাসভাড়া নেবার মেশিন, সবাই তাদের স্মার্ট কার্ড সেখানে উঠার সময় একবার স্পর্শ করে এবং নামার সময় একবার স্পর্শ করে। মেশিন টি স্বয়ংক্রিয় ভাবে নির্ধারিত ভাড়া কেটে নেয়। যাদের কাছে কার্ড থাকে না তাদের বাস ভাড়া দেবার জন্য একটি বক্স রাখা থাকে সেখানে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা বক্স এ ফেলে দিলেই ঝামেলা শেষ।
যারা স্কুল- কলেজ- বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করে তাদের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে আবেদনের মাধ্যমে ৫০ % মূল্যহ্রাসের কার্ড নেবার বাবস্থা রয়েছে। বাসে উঠে যাতে করে কোন প্রকার বাক্যব্যায়ের প্রয়োজন না হয়। তাছাড়াও বাসের মধ্যে রয়েছে নির্দিষ্ট পোশাক পরিহিত সাহায্যকারী, তারা যাত্রীদের সেবা প্রদানে সর্বদা নিয়োজিত।
প্রতিটি বাসে রয়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যাবস্থা, কিছু কিছু বাসে রয়েছে ফ্রি ইন্টারনেট ব্যাবস্থা। প্রত্যেকটি বাসে আছে কম-বেশি ৬ টি করে ভিন্ন রঙের সিট, যাকিনা বৃদ্ধ, গর্ভবতী মহিলা, ও অসুস্থ লোকদের জন্য সংরক্ষিত। এছাড়া হুইল চেয়ার নিয়ে যারা উঠবেন তাদের জন্য ও রয়েছে নির্ধারিত স্থান । প্রতিটি বাসের মধ্যে আছে কোথায় কোথায় বাসটি থামবে তার একটি বিস্তারিত তালিকা, বাস স্টেশেন ও একই ধরণের তালিকা টানানো থাকে । বাসটি থামবার জাইগায় যাবার আগেই চীনা ও ইংরেজি ভাষায় জাইগাটির নাম স্বয়ংক্রিয় রেকর্ডিং টেপ বাজিয়ে জানিয়ে দেয় চালক। কিছু কিছু বাসে আবার রয়েছে GPS সংযোগ, যার মাধ্যমে মোবাইলে APP দিয়ে দেখা যায় বাসটি এখন কোথায় আছে এবং আসতে কয় মিনিট সময় লাগবে। আর অবশ্যই থামবার জাইগায় এবং বাসের ভেতরে একাধিক ক্যামেরা থাকে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্য, চীনে ১৩৫ কোটি মানুষের জন্য ৭০ কোটি চেহারা সনাক্তকারী ক্যামেরা লাগান হচ্ছে। প্রতি ২ জনের জন্য গড়ে ১ টি করে ক্যামেরা।
এখানে কোন বাস দেখে মনে হয়না যে বাসটি ডেথ-রেস থেকে এসেছে, কোন বাসের রং ওঠা থাকে না, থাকে না বাসের গায়ে আগে থেকে লাগানো লোহার এঙ্গেল, যা দিয়ে টোকাই চালক গুলো রাস্তাকে রণক্ষেত্র বানাতে পারে । অনেক ক্ষেত্রে মহিলা চালক ও সহকারী দেখা যায়। কোন বাস চালক, জাইগা ছাড়া অ-জাইগাতে গিয়ে বাস থামায় না, স্বয়ংক্রিয় সিগনালিং সবাই মানতে বাধ্য, সিগনাল বাতি লাল হলে রাস্তায় লোক থাকুক আর নাই থাকুক কেও তাদের সীমানা অতিক্রম করবে না, করলেই তাদের জন্য রয়েছে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যাবস্থা। সে জন্য অনেক সময় মধ্য রাতে বিশাল বিশাল রাস্তায় কোন লোক না থাকার পরেও সিগনালকে সবায় সম্মান করে দাঁড়িয়ে থাকে। এখানে সকল প্রকার বাসের মালিক সরকার, সরকারের কোন নেতা এখানে নিজের নামে বাস চালায় না, কেও এখানে ট্রাফিক পুলিশ কে ১০ টাকা ঘুষ দিয়ে ম্যানুয়াল সিগনাল ফেলায় না, কেও এখানে বাস চালকের সাথে মারামারি করে না, করেনা অকথ্য ভাষায় গালাগালি, কোন বাস অতিরিক্ত যাত্রী ও বেশি টাকার আশায় রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকে না, যাত্রী উঠা নামার জন্য সবথেকে বেশি হলেও মাত্র ২০-৩০ সেকেন্ড সময় দেওয়া হয় । কোন বাসে আগে থেকে ডেথ রেস এ যাবার জন্য আলগা এঙ্গেল লাগান থাকে না। সবথেকে উল্লেখযোগ্য ও লক্ষণীয় একটি ব্যাপার হল রাস্তায় হাজার হাজার গাড়ী কিন্তু কেও হর্ন বাজায় না, রাস্তায় কেও কানে হেডফোন দিয়ে হেঁটে চল্লে গাড়িচালক তার পিছু পিছু ধীরে ধীরে চলতে থাকে, তিনি যে গাড়ী কিনে বিশাল কুতুবে পরিণত হয়েছেন সেটা তিনি হর্ন দিয়ে জানান দেন না।
বাংলাদেশে ২ বাসের ঘর্ষণে হাত হারানো ছেলেটির মৃত্যু অপ্রত্যাশিত ও দুঃখজনক, আমাদের দেশের বিদ্যমান যোগাযোগের পরিস্থিতি কিভাবে পরিবর্তন করতে হবে তার দিকনির্দেশনা উপরের লিখাতেই নিহিত আছে।
Courtesy Ahmed