29/05/2026
আলোচনা হচ্ছে কে সেরা? প্রাইভেট নাকি ঢাবি!
রাজনৈতিক ভণ্ড, বাটপার, নৈতিকতাশূন্য ধান্ধাবাজ তৈরির ধারেকাছেও কখনো প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় যেতে পারবে না!
একটু উদাহরণ দেই। আমি অনেক গল্প শুনেছি— চাঁনখারপুল, নীলক্ষেতের হোটেলে খাবার খেয়ে বিল না দেওয়া, রাতে বের হয়ে ছিনতাইয়ের মতো কাজকারবার করা, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গাঁজা খেয়ে রাজা ভাব নিয়ে চলা— একেবারেই নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। কিছুদিন আগে "ইউনিভার্সিটি অব চাঁনখারপুল" নামে একটা সিনেমা নির্মাণ করা হয়েছে। সেটাতে ঢাবির ছেলেদের বন্ডামির বাস্তবতা তুলে ধরা হয়েছে। আসলেই! আপনি আশ্চর্য হবেন তাদের সাথে কথা বলে। এরা এগুলোকে অপরাধই মনে করে না!!
নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীর ছাগল চুরির বিষয়টাও এখানে আনা যায়!
এবার আসল কথা বলি।
জুলাইয়ে রাজপথে সরকার পতন শুধু আমাদের উদ্দেশ্য ছিল না। একই সাথে সরকার পতনের পর একটি নিয়মতান্ত্রিক, দায়িত্বশীল ও নিরাপদ রাষ্ট্র গঠন করাও আমাদের উদ্দেশ্য ছিল।
১৫ জুলাই থেকে ঢাবির ছাত্রনেতাদের সাথে আলোচনা করে আমরা ব্লকেড কর্মসূচি শুরু করি। তারপর থেকে নিয়মিত আলোচনা, সিদ্ধান্ত ও সমন্বয়ের মাধ্যমে রাজপথে ছিলাম। দেশের মিডিয়া ও দেশবাসী সবকিছুর সাক্ষী।
১৭ জুলাই গায়েবানা জানাজা শেষে কফিন মিছিলে আমরাও ছিলাম, আহত হয়েছি। সেখানে সেদিন বলেও এসেছি— ঢাকার পূর্ব পাশ কীভাবে অচল করতে হয়, আমরা করবো।
(লেজ গুটিয়ে পালানো পরে ঢাবি)
১৮ জুলাই আমাদের রাজপথের লড়াইয়ের সাক্ষী দেশের মানুষ। সকাল ৮ ঘটিকায় এসি রাজন নামের এক পুলিশ কর্মকর্তা আমার সাথে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে বলে, "আপনারা যদি বের হন, আজকে কিন্তু গুলি করবো।"
সেই ভিডিও দেশের মানুষ দেখেছে। প্রগতি সরণির সেই লড়াইয়ে আমাদের আহত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১০ হাজারেরও বেশি ছিল। পুলিশকে পরাজিত করে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটির ছাদ থেকে হেলিকপ্টারে পালাতে বাধ্য করেছি— দেশের মানুষ সাক্ষী।
১৮ তারিখ রাতে, এমনকি ১৯ তারিখেও ১ দফার বিষয়ে বলেছি। তারা তখনও এমন কিছু ভাবছে না বলে জানিয়েছিল।
আন্দোলন চলমান। ২৭ তারিখ তাদেরকে ডিবি তুলে নিয়ে যায়। তাদের মোবাইলের তথ্য থেকে এবং তাদের দেওয়া বক্তব্য থেকে আমাকে ধরার জন্য পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালায়।
এমনকি আমার সাথে কথা বলা একজন শিক্ষার্থী আন্দোলনকারী বোনকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায় ডিবি। তাকে নির্যাতন করা হলেও সে আমাকে নিরাপদ রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে।
৩ আগস্ট দুপুর ১২টায় প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পক্ষ থেকে ১ দফা ঘোষণা ও সেনাবাহিনীসহ দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিয়েছি। তাদের পদত্যাগ করতে বলেছি, সরকারকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছি।
তারপর শহীদ মিনারে আমাদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে ১ দফা ঘোষণা করা হয়। আমরা সেখানে উপস্থিত ছিলাম।
৪ আগস্ট রাতে দেশের সংবিধান আগুনে পুড়িয়ে বিপ্লবের সর্বোচ্চ ঘোষণা দিয়ে ভিডিও বার্তা দিয়েছি। বিপ্লব সফল না হলে হয়তো ফাঁসি হতো!
কিন্তু ৫ আগস্টের পর ঢাবির ছাপরিদের নোংরা রাজনীতি একটি সফল বিপ্লবকে ব্যর্থতায় রূপ দেয়।
প্রথমত, সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত তারা এককভাবে নিয়ে নেয়, কোনো আলোচনা ছাড়া। আমাদের কাছ থেকে সব বিষয় গোপন রাখা হয়।
আমি এমনটা কেন চিন্তা করবো না যে এরা ভণ্ড?
আমাদের সোজাসাপ্টা বিশ্বাস ছিল— আমরা সবাই পরিবর্তনের পক্ষে তরুণ শক্তি। কিন্তু এরা তরুণের শরীরে এত পচা গন্ধযুক্ত রক্ত কীভাবে বহন করে, আমার বুঝে আসে না!
দেশের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা ছিল— টেন্ডারবাজি, বদলি বাণিজ্য, নিয়োগ বাণিজ্যসহ নানা অনিয়ম রুখে দিয়ে নতুন রাষ্ট্র গঠন করা। কিন্তু এরা সরকারি অপকর্মগুলোই সগৌরবে করেছে।
এরা ঢাবিয়ান!
দেশের মানুষের রক্ত ঝরানো ও শহীদদের রক্তের সাথে টাটকা বেইমানি করেছে। এরা অবৈধ সব সুযোগ-সুবিধা ও অফার গ্রহণ করেছে।
এরা রাজনৈতিক দল করেছে আগের সব অপকর্ম অব্যাহত রেখে আওয়ামী লীগের জায়গা দখল করার জন্য।
আমাদের উদ্দেশ্য ছিল দেশের জনগণের মুক্তির পথ তৈরি করা। কিন্তু এরা সেই পথ অবরুদ্ধ করে দেশের মানুষকে আবারও একই ফ্যাসিবাদী কাঠামোর দিকে ফিরিয়ে নিয়েছে।
এগুলোও তো ঢাবির সফল দিক হিসেবেই ধরা যায়!
প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দ্বারা দেশের জনগণের সাথে এমন প্রতারণামূলক কাজ হবে বলে মনে করি না।
পরিশেষে এটাও যোগ করি— বাংলাদেশের সচিবালয়কে দেশের হৃদপিণ্ড বলা হয়। সেখানে আগুন লাগানোর মতো সিদ্ধান্ত কারা নিয়েছে, সঠিক তদন্ত হলে প্রমাণ বেরিয়ে আসবে। সত্য অবশ্যই সামনে আসবে।
এই যে এমন মানসিকতার নোংরা রাজনৈতিক নেতা ঢাবি উৎপাদন করে, এখানেও তো ঢাবি এগিয়ে!
তাহলে আমরা কি ঢাবিকে সেরা না বলে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সেরা বলতে পারি?
তোমরা ঢাবিকে কীভাবে পিছিয়ে রাখবে বলো, ভাইয়েরা আমার?
উল্লেখ্য: অনেক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী আছেন যারা অত্যন্ত মেধাবী ও ন্যায়পরায়ণ। তবে তারা বঞ্চিত।
✍🏿 H H Shanto (NSU Student)