28/09/2025
কোথায় ‘র’ কোথায় ‘ড়’
—- নন্দদুলাল দে
‘আষাঢ়’, ‘রাঢ়’, ‘গাঢ়’, ‘গূঢ়’,
‘প্রৌঢ়’, ‘দৃঢ়’, ‘রূঢ়’, ‘মূঢ়’,
‘আরূঢ়’, ‘বিমূঢ়’, ‘নবোঢ়া’ ছাড়া ‘লীঢ়’ আর ‘ঊঢ়’ থাক,
এই কয়টা শব্দে ‘ঢ়’
বাকী সবেই ‘র’ বা ‘ড়’,
কোথায় ‘র’ কোথায় ‘ড়’ সেটাই দেখা যাক।
পোষাক ‘পরে’, কাগজ ‘পড়ে’,
গুণিন ওঝা মন্ত্র ‘পড়ে’,
‘চর’ যদি বা ‘ধরা’ ‘পড়ে’ খায় সে ‘চাপড়’ ‘চড়’,
সময় বোঝায় আগে ‘পরে’,
গাছের থেকে পাতা ‘পড়ে’,
আপন ‘করে’ পাই না ‘যারে’ সেই হয়ে যায় ‘পর’।
বেতের ‘ঝুড়ি’, বটের ‘ঝুরি’,
রাস্তায় ‘ঘুরি’, ‘ওড়াই’ ‘ঘুড়ি’,
‘সড়’ করে চায় কেউ যদি বা লুকিয়ে খেতে ‘সর’,
‘চোর’ হয়ে ঢোকে করতে ‘চুরি’,
চোখে ‘পড়ে’ যায় রঙীন ‘চুড়ি’,
‘ধর’ বললে ভয়ের চোটে পালিয়ে বাঁচায় ‘ধড়’।
‘আতুর’ যদি ‘আঁতুড়’ ‘ঘরে’
‘অন্ধকারে’ কাঁদে ‘তোড়ে’,
‘তাড়া’ দিও না, বুঝিও ‘তারে’, আস্তে ‘ধীরে ধীরে’,
হাল বোঝাবে ‘নারীর’ ‘নাড়ি’
নইলে হাটে ভাঙবে ‘হাঁড়ি’,
‘তড়িৎ’ আলো জ্বললে ‘ত্বরিত’ ‘নীড়’ ভাসবে ‘নীরে’।
গরু ‘চরাতে’ নদীর ‘চড়া’,
‘মরা’ মানুষ সে তো ‘মড়া:,
‘গড়গড়িয়ে’ ‘গড়ের’ মাঠে খায় কে ‘গড়াগড়ি’?
কাজ করলে হাতে ‘কড়া’,
চুরি করলেও ‘হাতকড়া’,
‘করাকরির’ কী আর থাকে আইনে ‘কড়াকড়ি।
‘আমরা’ যখন খাই ‘আমড়া’,
বিষম ‘তাড়া’ দেয় ‘দামড়া’,
ভয় পেয়ে তো ‘শিরদাঁড়াটা’ করেই ‘চড়চড়’,
‘শিরিশির’ যেন করে ‘কোমর’
‘শরীর’ ‘জুড়ে’ ব্যথার ‘কামড়’,
‘হড়বড়িয়ে’ পায়ে ‘মোচড়’, বুকেতে ‘ধড়ফড়’।
‘বাড়ি’ থেকে ‘বেরোতে’ চাও,
তবে কোথাও ‘বেড়াতে’ যাও,
‘পাড়া’ ঘুরে ‘ডহর’ ছেড়ে ‘দূর’ ‘শহরে’ ‘পাড়ি’,
কারও ‘দ্বারে’ ‘দাঁড়িও’ না,
‘খারাপ’ কিছু ‘মাড়িও’ না,
‘মারামারি’ ‘এড়িয়ে’ যেও, করো না ‘বাড়াবাড়ি’।
‘ঝড়ে’ ভাঙুক ‘তরু’ ‘মড়মড়’,
‘ঝরে’ ‘ঝরুক’ পাতা ‘মর্মর’,
‘হাড়গোড়’ সব ভেঙে গেলেও মানবে নাকো ‘হার’,
‘শরীর’ যদি করে ‘জ্বরজ্বর’,
মনখানা তো হয় নাকো ‘জড়’,
‘সওয়ার’ পিঠে ‘ঘোরাতে’ কি ‘ঘোড়ার’ লাগে ‘ভার’?
বিয়ের ‘বর’ সুন্দর ‘বড়’,
‘দর’ হাঁকাতে ভীষণ ‘দড়:,
‘ভারা’ বেঁধে ‘ভাড়ার’ টাকায় বিরাট ‘বাড়ি’ ‘গাড়ি’,
ওস্তাদ সে ‘ছোরা’ ‘ছোঁড়ায়’
দিনে ‘মোড়া’ ফুলের ‘তোড়ায়’
রাতের বেলায় ‘ভর’ হয় তার খায় সে যখন ‘তাড়ি’।
‘ধড়া’ ‘চূড়োয়’ দেখতে খাসা,
‘গরু’ ‘চরানো’ মুখের ভাষা,
‘আড়’ ‘মাগুর’ আর ‘মৌরলা’ নামের মাছে ‘রুচি’ তার,
‘খাড়া’ হলেও হাতদুটো ‘জোড়’,
মুখের কথায় দারুণ ‘জোর’,
নদীর ‘পাড়ে’ বসে ভাবে কোথায় নদীর ‘পার’।
সংগ্রহ