22/12/2025
ওসমান হাদী মুক্তিযুদ্ধকে স্বীকার করতেন না। ওনার সমস্ত বক্তব্য জুড়ে থাকতো শুধু একটা দেশের বিরোধীতা; অন্য আরেকটা দেশ নিয়ে ওনার কোনো অসুবিধা ছিল না। যুদ্ধাপরাধীদেরকে মনে করতেন শহীদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার গেইট চার রাজাকারের নামে রাখার দাবি জানিয়েছিলেন। যুদ্ধাপরাধীদের রায়ে যেনো রাস্ট্রপক্ষের আপিলের বিধান থাকে, সেই দাবিতে গড়ে ওঠা গণজাগরণ মঞ্চকে টেক্কা দিতে ”ইনকিলাব মঞ্চ” করেছিলেন (এসব তথ্যের প্রমাণ ওনার বক্তব্যেই আছে। সেসব বক্তব্য অনলাইনে পাওয়া যায়)। রবীন্দ্রনাথকে ঠেকাতে যেমন নজরুল, আরজ আলীকে ঠেকাতে আরিফ আজাদ, রোকেয়াকে ঠেকাতে যেমন কখনো আয়েশা কখনো ফয়জুন্নেছা, ৭১ কে ঠেকাতে যেমন ২৪ লাগে, এটা সেই প্রজেক্ট। জামাতের যে কয়েকটা বড় বড় প্রজেক্ট হয়েছে তার মধ্যে ইনকিলাব মঞ্চ একটি। জামাত এমন এক রাজনৈতিক দল, যার কোনো কাল্ট নাই, ওদের সমস্ত লিডারই বিতর্কিত। ওসমান হাদী সেই কাল্ট হয়ে উঠতে পারলেন। সংসদ ভবনের সামনে জানাজা হলো, নজরুলের পাশে হলো কবর। মধ্যবিত্তের চোখ থেকে জল পড়ল। দ্যোদুল্যমান বহু তরুণকে ভেড়ানো গেলো দলে। এই সুযোগে সেক্যুলারদের বড় বড় প্রজেক্ট (প্রআলো, স্টার, ছায়ানট) ধ্বংস করে দেয়া হল। শুধু একটা প্রজেক্টে জামাতের রাজনীতি বহুগুণ এগিয়ে গেল। সেই প্রজেক্টের স্ক্রিপ্টে হাদীর মৃত্যুই লেখা ছিল।
#বাংলাদেশ