03/05/2025
আমাকে পঙ্গুত্বের হাত থেকে বাঁচতে সাহায্য করুন
‘’আমি মোঃ সৌরভ ইসলাম, রংপুর জেলাধীন কাউনিয়া উপজেলার টেপামধুপুর ইউনিয়নের রাজীব সঠিবাড়ীর একজন বাসিন্দা এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এন্ড টেকনোলজি (বি ইউ বি টি ) এর একজন নিয়মিত ছাত্র সেইসাথে IsDB-BISEW আইটি স্কলারশিপ প্রোগ্রাম, রাউন্ড: ৪৭,( ACAD) কোর্সটি সম্পন্ন করে দক্ষতার সাথে প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকুরী ও ফ্রিল্যান্সিং করতাম।
আমি বিগত জুলাই ২০২৪ সালে বাংলাদেশে হওয়া গনঅভ্যুথানে,শুরু থেকেই সম্মুখ সারির একজন যোদ্ধা হিসেবে যোগদান করি এবং দুর্ভাগ্যবশত ১৯ জুলাই মিরপুর ১০ এ আমার ডান হাঁটুতে গুলবিদ্ধ হই। (হাঁটুর সামনে দিয়ে লেগে ভিতরের হাড় ফেঁটে গুঁড়ো হয়ে হাঁটুর পেছন দিয়ে বের হয়ে যায়)
গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর আমার সহযোদ্ধারা আমাকে প্রথমে আল হেলাল হাসপাতাল,মিরপুর ও পরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থা গুরুতর হওয়ায় আমাকে পঙ্গু হাসপাতালে রেফার করে। কিন্তু সেই সময় দেশের ভয়াবহ বিশৃংখল রাজনীতির বাঁধার কারনে পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি হতে ব্যর্থ হই।
পরে তাৎক্ষণিক ভাবে ইবনেসিনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিজের আসল নাম পরিচয় গোপন করে ভর্তি হই এবং বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ডাঃ হামিদুল হক রাশেদ স্যারের তত্ত্বাবধানে ১৯/০৭/২৪ ইং তারিখে প্রথম অপারেশন সম্পন্ন হয়। এর কয়েকদিন পর ছুটি দিলে রংপুরে আমার গ্রামের বাড়িতে যাই।
সরকার পতনের পর আবারো ১০ আগষ্ট, ২০২৪ ইং তারিখে অধ্যাপক ডাঃ পারভেজ আহসান স্যারের তত্বাবধান ইবনে সিনা হাসপাতালে Open communited fracture of Medial Condyle of Rt Femur due to gun shot injury নিয়ে ভর্তি হই এবং ১১ আগষ্ট, ২০২৪ ইং তারিখে ORIF by Cannulated Cancellous screw followed by External Illizarov Ring Fixator অপারেশন সম্পন্ন হয়।
হাসপাতাল থেকে বাড়িতে যাওয়ার পর আবারও অবস্থার অবনতি হয় এবং ঢাকা (CMH) হাসপাতালে ২৭/০৮/২৪ থেকে ৩১/০৮/২৪ চিকিৎসা নেই এবং বাড়ী ফিরে যাই। কিন্তু বাড়িতে যাওয়ার কিছুদিন পর আমার পায়ে একাধিকবার ইনফেকশন হয়। ইনফেকশন গুরুতর হওয়ায় আবার ১৪ দিন দিনের জন্য ইবনেসিনা হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিতে হয়।
২ মাস পর ১২ অক্টোবর ২০২৪ ইং তারিখে পুনরায় ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি হই এবং ১৩ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে আমার পায়ের রিং (ইলিজারভ ফিক্সেটর) খুলে দেয়া হয়।
রিং খোলার পর আমার পায়ে প্লাস্টার করে দেয়া হয় এবং ০৭ দিন পর প্লাস্টার খুলে দিলে দেখা যায় আমার হাঁটু পুরোপুরি স্টিফ হয়ে গেছে এবং চিকিৎসক আমাকে ফিজিওথেরাপি নিতে পরামর্শ দেন। এই সময়ের মধ্যে চিকিৎসা বাবদ আমার প্রায় ৩-৪ লক্ষ টাকা খরচ হয়ে যায়।
প্রায় ১০-১৫ দিন ফিজিওথেরাপী নেয়ার পরও আমার পায়ের স্টিফনেস না কমায় এবং চিকিৎসা ব্যয় কুলাতে না পারায় আমরা জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর) এ ভর্তি হওয়ার সিদ্ধান্ত নেই এবং ০৫ নভেম্বর ২০২৪ ইং তারিখে পঙ্গু হাসপাতালে Rt Knee Stifness নিয়ে ভর্তি হই।
এরপর ১২ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে বোর্ড এর সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমার Arthoscopic artholysis of Rt knee অপারেশন সম্পন্ন হয় এবং তার পর থেকে ফিজিও থেরাপী চলতে থাকে।
ফিজিও থেরাপী নেওয়ার সময় আমার হাঁটু ফুলে যাওয়া ও তীব্র ব্যথা হলে আমি বার বার আমার ইউনিট প্রধান সহ অন্যান্য চিকিৎসক কে বিষয়টি অবহিত করলেও তারা বিষয়টিকে উপেক্ষা করে যান এবং কোন রকম পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়াই আমাকে ফিজিও থেরাপী বন্ধ রাখতে পরামর্শ দেন। উল্লেখ্য পঙ্গু হাসপাতালে আমার অপারেশন পরবর্তী থেরাপী নেওয়ার পর পায়ের স্টিফনেস কিছুটা কমে প্রায় ৭০-৮০° এর মত ( flextion) আসে।
কিন্তু মার্চ ৩১,২০২৫ ইং তারিখে আমি ঈদের ছুটিতে বাড়িতে গেলে আমার হাঁটু মাত্রাতিরিক্ত ফুলে যায় এবং ব্যথা সহ অসহ্য যন্ত্রণা হতে থাকে। সেদিন রাতেই আমি আমার ইউনিট প্রধানকে ম্যাসেজে ক্ষতস্থানের ছবি পাঠাই এবং তার পরামর্শ মোতাবেক ওষুধ এবং রেস্ট নিতে থাকি।
ঈদের পর হাসপাতালে ফিরে এলে পায়ের অবস্থা আরো খারাপ হয়ে যায়। তখন আমি আমার ইউনিট প্রধান এর অনুমতি নিয়ে এভারকেয়ার হাসপাতালে বাংলাদেশের প্রসিদ্ধ হাঁটু বিশেষজ্ঞ ডাঃ এম আলী স্যারকে দেখাই।
স্যার বেশ কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করে আমাকে আমার পায়ের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বুঝিয়ে বলেন এবং পরবর্তী চিকিৎসা পরিকল্পনা প্রদান করেন।
: Displaced non united Hoffa’s fracture with united medial femoral condyle fracture with secondary early osteoarthritis (rt knee).
: Sequential-
• -BMAC application + physiotherapy+
• -Stem cell transplantation.
• -Uni-compartmental (Partial) /total knee replacement.
সকল রিপোর্ট ও ফাইলপত্র দেখে পঙ্গু হাসপাতালের পরিচালক মহোদয়, বিশিষ্ট হাঁটু বিশেষজ্ঞ ডাঃ এম আলী,ডাঃ ফরিদ উদ্দিন, ডাঃ ওয়াকিল আহমেদ ও ডাঃ সালাম ইবনে সারওয়ার সহ অন্যান্য স্যারদের নিয়ে একটি বোর্ড গঠন করেন।
বোর্ড এর চিকিৎসকগণ আমার বয়স, বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎতের কথা চিন্তা করে উল্লেখিত পরিকল্পনা মোতাবেক ধাপে ধাপে প্রথমে BMAC Cellular Injection বা বনমেরু থেকে কালচার করে ০৩মাসে তিনটি ইঞ্জেকশন ডোজ দিবেন এবং তারপর আবারও পরীক্ষা করে দেখবেন কোনো উন্নতি হয়েছে কিনা, উন্নতি না হলে তারা পরবর্তীতে Uni-compartmental (Partial) knee replacement এর জন্য নির্দেশনা দেন। উল্লেখ্য যে, Partial knee Replacement বাংলাদেশে করা হয় না। এই অপারেশন সিঙ্গাপুরে ভালো হয় বলেও তারা জানান। এবং আমার এই সকল চিকিৎসাগুলি সব অত্যন্ত জটিল ও ব্যয়বহুল।
উল্লেখ্য যে, আমি আমাদের ০৯ সদস্যের পরিবারে সবার ছোট এবং আমার ৮০ বছরের বয়োবৃদ্ধ কৃষক বাবার অন্যতম অবলম্বন ছিলাম।
”সরকার থেকে আমাদের যে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে তা কেবলই নামে মাত্র এবং চোখে ধুলি দেওয়ার মত। আমারা আমাদের সু–চিকুৎসার জন্য বারবার সরব হলেও, এই দেশের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, অপ-রাজনীতি এবং কতিপয় সুবিধাবাদীদের জন্য এখন দেশের বোঝা এবং তাদের রাজনীতির শিকারে পরিণত হয়েছি।“
আমি পড়াশোনার পাশাপাশি দীর্ঘ ০৫ বছর নাভানা ফার্নিচার, নাদিয়া ফার্নিচার সহ অন্যান্য প্রাইভেট কোম্পানিতে একজন সিনিয়র প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর ও ইন্টেরিয়র ডিজাইনার হিসেবে কর্মরত ছিলাম এবং পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং করতাম। কিন্তু আহত হওয়ার পর আমি আমার একমাত্র ল্যাপটি বিক্রি করতে বাধ্য হই, চাকুরী হারাই ও বেকার হয়ে যাই।
আমার দরিদ্র পরিবারের পক্ষে আমার চিকিৎসা খরচ বহন করা অসম্ভব হয়ে পড়ায় আমাদের অল্পকিছু আবাদি জমি যা ছিল তাও বন্ধক রাখতে হয়েছে।
এই পর্যন্ত আমি জুলাই ফাউন্ডেশন থেকে ১ লক্ষ টাকা এবং সরকার থেকে ১ লক্ষ টাকা ছাড়া আর কোন সাহায্য সহযোগিতা পাই নি। কয়েক দফায় আমি একটি ল্যাপটপের জন্য বিভিন্ন জায়গায় আবেদন করেও সেটি পাইনি যাতে অন্তত ফ্রিল্যান্সিং করে হলেও সাধারণ জীবিকা নির্বাহ করতে পারি।
সকল চিকিৎসকদের মতামত এই যে, দ্রুত সময়ের মধ্যে চিকিৎসা করানো না গেলে আমার হাঁটু পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যেতে পারে এবং আমি সারাজীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে যেতে পারি।
“যে দেশের জন্য আমি আমার জীবনের পরোয়া না করে হায়েনার সম্মুখে দাঁড়িয়ে নেতৃত্ব দিয়েছি এবং আমার পা হারিয়েছি,সেই দেশ এবং দেশের মানুষের কাছে আবেদন আমার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করে আমাকে পঙ্গুত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি দিন।“
অতএব সার্বিক দিক বিবেচনা করে, আপনাদের পরিবারের একজন শিক্ষার্থী, জুনিয়র/সিনিয়র ভাই বা একজন দরিদ্র মেধাবী জুলাই যোদ্ধা হিসেবে দেশে এবং বিদেশে দ্রুত সময়ের মধ্যে আমার সু-চিকিৎসা নিশ্চিত করতে ও বর্তমান আর্থিক স্বচ্ছলতার জন্য অনুদান প্রদানে যেন আপনাদের মর্জি হয়।
নিবেদক,
আপনাদেরই স্নেহের ‘জুলাই যোদ্ধা’
মোঃ সৌরভ ইসলাম
কেস আইডি-১০২০৬
গেজেট নং-৭৬০
মোবাইল: +8801997-845312
ইমেইল : [email protected]
ব্যাংক হিসাব সহ যাবতীয় তথ্যাদি নিচে প্রদান করা হলো:-
√•স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক-(মোঃ সৌরভ ইসলাম)
∆ হিসাব নং: 24321849301
∆ রাউটিং নং: 215261726 (গুলশান ব্রাঞ্চ ঢাকা-নর্থ)
∆বিকাশ/নগদ/রকেট নম্বর (পার্সোনাল): 01997-845312.
বার্তা প্রেরক : Shifat Hasan (ভিক্টিম নিজে)