বৃটিশ শাসিত পূর্ববঙ্গের অবহেলিত জনগণের চেতনার জাগরণকে এগিয়ে নেবার ক্ষেত্রে এবং তৎপরবর্তী বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের বুদ্ধিভিত্তিক এবং রাজনৈতিক ক্ষেত্র নির্মাণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা অনস্বীকার্য। কিন্তু দেশের জন্ম এবং বিকাশের কৃতিত্ব যদি এই বিশ্ববিদ্যালয় দাবি করে সেক্ষেত্রে বর্তমান সময়ে একটি বৃহৎ অংশে বুদ্ধিবৃত্তিক শূন্যতারও আমাদের দায় রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র
সংসদ ও তার শাখা হল সংসদ বন্ধ হয়ে যাবার পর থেকে শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাদক্ষতার বাইরে ভিন্ন ক্ষেত্রে জ্ঞানীয় ও বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তন লেখনীর মাধ্যমে প্রকাশের সুযোগ সেই অর্থে নেই এবং একারণে একটি বুদ্ধিবৃত্তিক শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু আনন্দের বিষয় এটাই যে প্রকাশিত না হলেও সময় ও নদীর স্রোতের মত মানুষের চিন্তা কখনও থেমে থাকে নি যার প্রমাণ বর্তমান সময়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বা ব্লগে আমাদের শিক্ষার্থীদের মুক্তচিন্তা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে অবস্থানসূচক লেখনী। আমরা এই সংগঠনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের যেকোনো বিষয়ে মুক্তচিন্তা, আলোচনা, সমালোচনার ক্ষেত্র প্রস্তুত এবং নিয়মিত একটি বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক ত্রৈমাসিক পত্রিকার দ্বারা এই চিন্তাগুলির বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে চাই। এই প্রয়াসের পাশাপাশি মানবতার ধর্মে দীক্ষিত হয়ে আমরা বিভিন্ন মানবতাধর্মী কাজে অংশ নিতে চাই। শিক্ষার্থীদের ব্যক্তি পর্যায়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনেক মানবতাবাদী কাজ হলেও সেগুলোকে অনেক সময় একটি সাংগঠনিক চর্চা না থাকায় বড় পরিসরে বা পরিকল্পিত উপায়ে করা যায় না তাই আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিকল্পিত ও সংগঠিতভাবে সকল শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে কিছু জনসেবামূলক কাজের উদ্যোগ নিতে যা শিক্ষার একটি মূল উদ্দেশ্যও বটে।