25/07/2026
মদিনায় মসজিদে নববী থেকে ২ কিলোমিটারের মধ্যে এই স্থানেই রাসুলুল্লাহ (সা.) ১,০০০ ক্ষুধার্ত সাহাবিকে খাইয়েছিলেন সামান্য খাবারে!
মদিনায় গেলে অনেকেই হয়তো শুধু পরিচিত জায়গাগুলো ঘুরে চলে আসেন। কিন্তু মসজিদে নববী থেকে ২ কিলোমিটারের মধ্যে, সেলা পাহাড়ের কোণে নিরিবিলিতে দাঁড়িয়ে আছে ঐতিহাসিক ‘মাসজিদ বনি হারাম’ (Masjid Bani Haram)। বাহির থেকে একদম সাধারণ মনে হলেও এই স্থানটি খন্দকের যুদ্ধের এক অভাবনীয় অলৌকিকতার সাক্ষী!
তখন প্রচণ্ড ক্ষুধার কষ্টে পেটে পাথর বেঁধে পরিখা খনন করছিলেন সাহাবিরা। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ক্ষুধার্ত চেহারা দেখে সাহাবি জাবের (রা:) স্থির থাকতে না পেরে ঘরে ছুটে যান। ঘরে ছিল মাত্র ১ সা’ (প্রায় ২-৩ কেজি) আটার বার্লি আর একটা ছোট ছাগলের ছানা। স্ত্রী কষ্ট করে রান্না শেষ করতেই জাবের (রা:) চুপি চুপি গিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে নিচু স্বরে বললেন, "ইয়া রসুলাল্লাহ, অল্প খাবার তৈরি হয়েছে, আপনি সাথে দুই-একজনকে নিয়ে চলুন।" কিন্তু রহমতের নবী ﷺ একা খান কীভাবে? তিনি এক ডাকে পরিখার পুরো ১,০০০ ক্ষুধার্ত সাহাবিকেই খাবারের দাওয়াত দিয়ে দিলেন!
জাবের (রা:) তো ঘাবড়ে একাকার! কিন্তু রাসুলুল্লাহ (সা.) জাবের (রা:)-এর ঘরে পৌঁছেই তরকারির হাঁড়ি ও আটার খামিরে ফুঁ দিয়ে বরকতের দোয়া করলেন এবং তাঁর অনুমতি ছাড়া তা না খুলতে বললেন। এরপর ১,০০০ সাহাবি দলে দলে এসে পেট পুরে তৃপ্তি নিয়ে খেলেন। সবচেয়ে অলৌকিক বিষয় হলো, সবার খাওয়া শেষ হওয়ার পরও চুলার হাঁড়িতে তরকারি আর আটার খামির যেমন ছিল তেমনই রয়ে গেল! (বুখারি: ৪১০২)
আজও মদিনার বুকে শান্ত পরিবেশ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে এই মসজিদটি। পর্যটকদের ভিড় হয়তো এখানে কম, কিন্তু এই স্থানটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়—আল্লাহ যখন কোনো কিছুতে ‘বরকত’ দেন, তখন অতি সামান্য জিনিসই অসীম প্রাচুর্যে পরিণত হয়। পরের বার মদিনা সফরে গেলে এই স্থানটি ঘুরে আসতে ভুলবেন না!