14/03/2026
খেজুরে আলাপ
আপনাদের নির্ঘাত মনে থাকিবার কথা কয়েক বৎসরকাল পূর্বে কোন এক মহান মনীষী- যিনি আবার সরকারের মন্ত্রীও ছিলেন, ইফতারে খেজুরের পরিবর্তে বরই খাইবার মন্ত্রণা দিয়াছিলেন। বলিবার অপেক্ষা রাখে না উনি দীন দুঃখী মানুষের জন্যই এই সৎ পরামর্শ প্রদান করিয়াছিলেন। অংগুর-খুরমা-খেজুর বড়লোকি খানা, উহা গলধঃকরণ করিলে গরিব প্রজাদের পেটে গোলযোগ বাধিতে পারে, এমন সৎ ভাবনা বঙ্গ দেশের রাজা উজির বৃন্দ ছাড়া কে আর ভাবিবে? এই মূল্যবান ফল গরিবের উদরে সহিবে না এই চিন্তা না করিয়াই সৌদি আরবের সরকার "King Salman Humanitarian Aid and Relief Center" এর মাধ্যমে দীন দুঃখী মানুষের মধ্যে বিতরণের জন্য কিছু বাকস খেজুর ফল পাঠাইয়া দিয়াছেন। সরকারের উজিরবৃন্দ তাহা বিলিবন্টক করিয়া দিয়াছেন বিভিন্ন অঞ্চলে।
কিন্তু প্যাঁচ লাগিয়াছে অন্য জায়গায়। নিকট অতীতে বঙ্গদেশে পুরাতন রাজা উজির উৎখাত হইয়াছে। নতুন নতুন রাজা উজিরের আগমন ঘটিয়াছে। তন্মধ্যে একজন হইয়াছেন জনাব আবুল হাসনাত। উনি রাখ ঢাক রাখিয়া কথা কহেন না, এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশের সাতবোন কে নিজের বোন বানাইয়া ফেলেন আবেগে। উনি উনার প্রজাদের মধ্যে খেজুর বিলাইয়া দিয়া তাহার হিসাব প্রকাশ করিয়া দিতেই অন্য রাজার প্রজারা চিল্লাইয়া একাকার করিতেছে আমিও তো গরিব দীন দুঃখী, তবে আমার খেজুর কই?
সেই দেশের উত্তরাঞ্চলের একজন অর্থশাস্ত্রের মাষ্টারমশাই ভাবিলেন আসলেও তো, এই খেজুর তো দেশের গরিবের মাঝেই যাওয়ার কথা। কতখানি যাইতেছে? উনি গণনা যন্ত্রে তথ্য উপাত্ত প্রবেশ করাইয়া দিয়া কিছুক্ষণ চুপ মারিয়া বসিয়া রহিলেন। কারণ ফলাফল ভয়াবহ। বিভিন্ন জেলায় খেজুর বিতরণে দারিদ্র্যকে মোটেই আমলে নেয়া হয় নাই।
নেয়া হইয়াছে জনসংখ্যা। তবুও তাহা সঠিক ভাবে নহে। জনাব আবুল হাসনাত ছাহেবের কুমিল্লা প্রথম হইয়াছে খেজুরের বাকস বরাদ্দে। যদিও কুমিল্লায় দারিদ্র্যের হার মাত্র ১৩.৪ শতাংশ, এবং জনসংখ্যার দিক দিয়া তৃতীয় বৃহত্তম। সর্বশেষ ২০২২ সালের সরকারি হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশের সর্বাধিক দরিদ্র জেলা মাদারীপুর, সেখানকার ৫৪.৪ শতাংশ মানুষ দরিদ্র, তাহারা পাইয়াছে মোট বরাদ্দের ১.৩ শতাংশ বা ১৫৭বাক্স। যদি দারিদ্র্যের হার অনুযায়ী বরাদ্দ হইত তাহলে মাদারীপুর পাইতো প্রায় ৪৮৭ বাক্স আর কুমিল্লা পাইতো ১২০ বাক্স। সরকার বাহাদুরকে কে বুঝাইতে যাইবে আঞ্চলিক দারিদ্র্যকে অস্বীকার করিয়া জনকল্যাণ সম্ভব নহে এবং ছোট ছোট নীতি নির্ধারণে এইসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করিলে দ্রুত জন উন্নয়ন সাধন হয়।
আপনারা কি বুঝিলেন? যাহা খুশি তাহা বুঝিতে পারেন কিন্তু উজির নাজির বৃন্দ ঠিকই আপনাদের ওকাত বুঝেন। উনারা বুঝেন গরিবের উদরে এইসব বাদশাহী উপঢৌকন খেজুর সহ্য হইবে না, তাই বেশিটাই চট্টগ্রাম কুমিল্লার মত ধনী অঞ্চলে পাঠাইয়া দিয়াছেন বেশি জনসংখ্যার নামে। শুধু দামী খাবার নয়, দরিদ্র অঞ্চলগুলিতে ভালোও রাস্তাঘাট, নগরীর সুযোগ সুবিধা, কলকারখানায় কর্মের সুযোগ কোন কিছুই সহ্য হইবে না। তাইতো উত্তরাঞ্চলে কোনবারই ঈদ আসিলে অভাবী মানুষ আর সাহায্যপ্রার্থীর সংখ্যা পূর্বের বছরের চেয়ে কমে না, বরং বাড়ে বৈকি।
যাই হোক, আমি আশাবাদী মানুষ। কোন সহৃদয়বান বাদশাহ বা শায়েনশাহ যদি ভবিষ্যতে দয়া করিয়া বরই ফল পাঠায়, আমি নিশ্চিত উহা আমাদের দরিদ্র অঞ্চলে আগে পৌঁছিবে, আমরা মন প্রাণ ভরিয়া বরাই খাইবো। ততক্ষণ পর্যন্ত অপেক্ষা করিয়া যাওয়া ছাড়া আর গতি নাই।
(নিচের চিত্রগুলো আপনাদের বুঝিবার সুবিধার জন্য দেয়া হইলো। সরকারি উপাত্ত অনুসারে প্রস্তুতকৃত। নাই কাজ তাই খই ভাজ মন্ত্রে উজ্জীবিত)
Dr. Khalid Imran (sir)
Associate Professor
Department of Economics (HSTU)