07/05/2019
#ছিদ্রযুক্ত_বালতি_এবং_আমাদের_রোযা
পুকুরঘাট থেকে আপনি এক বালতি পানি আনতে গেলেন। হাঁটার সময় ঝাঁকুনিতে পানি যাতে উপচে না পড়ে সেজন্য বালতির উপর একটি ঢাকনা লাগালেন। কিন্তু বালতি নিয়ে যখন ঘরে ফিরলেন, তখন দেখলে অর্ধেক বালতি খালি অথবা পুরো বালতিতে কোনো পানি নেই।
এতো কষ্ট করে পানি ভর্তে করলেন, পানি যাতে না পড়ে সেজন্য ঢাকনা লাগালেন, কষ্ট করে বালতি বয়ে আনলেন, তবুও বালতিতে পানি নেই কেনো? কারণ, আপনি খেয়ালই করেননি যে, বালতিতে অনেকগুলো ছিদ্র ছিলো। বালতির সব পানি ছিদ্র দিয়ে পড়ে গেছে। যার ফলে পুরো কষ্টটাই বিফলে গেলো।
রোযা রাখাকে আমরা মনে করি কেবল না খেয়ে থাকা। রোযা আর উপোসের মধ্যে আমরা কোনো পার্থক্য রেখা টানি না। আমরা ধরেই নিয়েছি ফজরের ওয়াক্ত থেকে মাগরিবের ওয়াক্ত পর্যন্ত না খেয়ে থাকার নামই মনে হয় রোযা। অথচ রোযা মানে স্রেফ না খেয়ে থাকা নয়।
রোযা মাসে আমরা অনেকেই হেলায় সময় নষ্ট করি। অযথা বকবক করি। রোযা রেখে টাইম-পাস করার জন্য মুভি দেখি, আড্ডা দেই, গান শুনি, খেলা দেখি। আর আড্ডার বেশিরভাগ অংশ জুড়ে থাকে মিথ্যাচার আর অন্যের সমালোচনা (গিবত)। সারাদিন উপোস থাকার দরুন অনেক সময় মন-মেজাজ ভালো থাকে না। রাগের বশে কখনো কাউকে গালি দেই, কখনো বা মারামারি করি। এভাবে কোনোরকম কষ্ট করে দিন কাটিয়ে দিতে পারলেই মনে করি যে, আমিতো রোযা রেখে ফেলছি।
অথচ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ “কতো রোযাদার আছে, যাদের রোযার বিনিময়ে ক্ষুধা ছাড়া আর কিছুই জোটে না।” (সুনানে ইবনে মাজাহঃ ১৬৯০)
অর্থাৎ, স্রেফ উপোস থেকে দিন কাটানোর নামই রোযা নয়। রোযা রাখার সংযমটা প্রকাশ পাবে আমাদের কথাবার্তায়, আচার-আচরণে। রোযা রেখে যদি মিথ্যে কথা বলি, ফেসবুকে মিথ্যাচার ছড়াই, কমেন্ট বক্সে গালাগালি করি, সারাদিন আরেকজনে দোষ খোঁজায় ব্যস্ত থাকি, রিক্সা চালককে চড়-থাপ্পড় দেই, তাহলে আমার সেই রোযা রাখার মানেটাই বা কী? এই রোযা রেখে আমি তো স্রেফ উপোস থাকলাম!
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ “যে ব্যক্তি মিথ্যা বলা এবং সেই অনুযায়ী আমল ত্যাগ করেনি, তার এই পানাহার পরিত্যাগ করায় আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।” (সহীহ বুখারীঃ ১৯০৩)
আমাদের রোযা রাখা যেন বালতিতে করে পানি আনা লোকটির মতো না হয়। লোকটি কষ্ট করে পানি আনলো ঠিকই, কিন্তু ঘরে এসে দেখলো বালতিতে পানি নেই। বালতির উপরে ঢাকনা দিলেও এর চারপাশে ছিলো ছিদ্র। আমাদের রোযাও যেন স্রেফ উপোস থাকার জন্য না হয়; সকল ছিদ্র যেন বন্ধ থাকে। নতুবা দেখবো, কষ্ট করে রোযা রাখলাম ঠিকই, কিন্তু এই রোযার ফলে ক্ষুধার কষ্ট ছাড়া আর কিছুই পেলাম না!
আল্লাহ তাওফিকদাতা।