13/08/2022
প্রতিষ্ঠিত ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার,জব প্রত্যাশী ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং স্টুডেন্ট ,পলিটেকনিক-টেক্সটাইল -মেরিন ইন্সটিটিউটে বর্তমান স্টুডেন্ট, সকলের জন্য ক্ষতিকর, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সকে ০৪ বছর থেকে ০৩ বছর করা হলে যে সকল সমস্যা হবে.......
১.পেশাগত ভাবে নিজেকে পরিচয় দিতে হবে তখন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার নয়,সুপারভাইজার বা টেকনিশিয়ান বা ফোরম্যান বা মেকানিক।
২. চাকরি ক্ষেত্রে তখন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের ফিক্সড ১০ম গ্রেড থাকবে না,তখন ১৪তম-১৬ তম গ্রেডে নেমে আসবে। কারন (যেমন :১০ম -১৩ম গ্রেড ২য় শ্রেনী সাধারণ জেনারেল শিক্ষায় অর্নাস বা ডিগ্রি ছাড়া কর্মকর্তা নয়, তখন এই পদ গুলো বি এস সি ইন্জিনিয়ারিং এর পদ সৃষ্টি হবে, নতুন করে পদ সৃজন করবে )
৩. চাকুরির ক্ষেত্রে উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদও থাকবে তবে তখন এখানে বি এস সি ডিগ্রি ইঞ্জিনিয়ারিং এপ্লিকেশন করার সুযোগ পাবে ( যেমন. বর্তমানে সাধারণ অনার্স করার পর ১ম শ্রেনীর ৯ম গ্রেড এবং ২য় শ্রেনীর ১০ম গ্রেড এপ্লিকেশন করে এমন.......১১ম, ১২তম,১৩তম) আর ডিপ্লোমা ইন্জিনিয়ারিং জন্য সার্কুলার পাবেন সুপারভাইজার / ফোরম্যান/মেকানিক/টেকনিশিয়ান এসব পোস্ট।
৪. এখন আছেন ২য় শ্রেণির কর্মকর্তা তখন হবেন ৩য়/৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী।(সুপারভাইজার / ফোরম্যান/মেকানিক/টেকনিশিয়ান)
৫. পড়াশোনার মান থাকবে না, সিলেবাস শর্ট হবে, জ্ঞানের পরিধি এবং দক্ষতা কমে যাবে । বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিজের মর্যাদা ক্ষুন্ন হবে। সামাজিক মর্যাদাও হ্রাস পাবে সুপারভাইজার হিসেবে।
৬.চাকরি প্রমোশন পেয়ে তখন কোনদিনই সহকারী প্রকৌশলী হতে পারবেন না,তখন সাব এসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারিং পদে প্রমোশন পেতেই আপনার জীবন শেষ হয়ে যাবে,যেমন বর্তমানে বৈষম্য এটা আরো বৃদ্ধি পাবে,সর্বোস্থরে বৈষম্য শিকার হবেন।
৭. বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গুলো তখন আরো কম টাকা সেলারী অফার করবে, সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এ প্রজেক্ট বা মেইনট্যানেন্স ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে সুযোগ থাকবে না। নিজের স্কিল উন্নতি করার সুযোগ নষ্ট হয়ে যাবে।
বি দ্র : সরকারি -বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে, প্রযুক্তি
বিশ্ববিদ্যালয়ে, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলো থেকে,
বিএসসি একাডেমি(মেরিন) গুলো থেকে প্রতি বছর অনেক স্টুডেন্ট বের হচ্ছে, সুতারং এই ১০ম শ্রেণীর SAE পোস্টে সবার নজর আর সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত লোক গুলোও অপছন্দ করে ডিপ্লোমা পড়ে 16k,35k,39k,48k পর্যন্ত বেসিক সহ্য করতে পারে না।
উল্লেখ যে প্রতি উপজেলা একটা TTC, নতুন করে টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ,পলিটেকনিক সহ বিভিন্ন ইনস্টিটিউট সহ সরকা অনেক প্রতিষ্ঠানে অনেক ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পোষ্ট বর্তমানে রয়েছে ( ১০ম গ্রেড), সামনে এসব এ নতুন নিয়োগ আসবে তাই উল্লেখযোগ্য হারে সবাই আমাদের পেছনে, সরকার যতো কারিগরি শিক্ষায় জোর দিবে ততই ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং লাগবে পদ সৃষ্টি হবে, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং লোকবল বাড়বে এটা অনেকের সহ্য হবে না। হয়তো এভাবে ঘুমালে কোন একদিন সকালে পেপারে দেখবেন ৩ বছর করে ফেলেছে কাজেই সবাই সচেতন থাকাটা জরুরি বিষয়।
আমাদের দূর্বলতা :
১.কারিগরি ও মাদ্রাসা অধিদপ্তর থেকে আলাদা করে শুধু কারিগরি অধিদপ্তর করার জন্য চেষ্টা করা। আর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের ন্যায় আমাদের অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং পরিচালক নিয়োগ বা পদোন্নতি নিশ্চিত করা যেমন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক একজন পেশাগত ডাক্তার হোন। আমাদের পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট অধ্যক্ষ থেকে বা পি এস সির চেয়ারম্যান নিয়োগের মতো যোগ্য কোন টেকনিক্যাল পারসন খুঁজে নিয়োগ নিশ্চিত করা, সেটা যতোদিন না হবে মাঝে মধ্যে নতুন নতুন সমস্যা হাজির হবে।
যেমন : রাতের অন্ধকারে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট,ক্রাফট ইন্সট্রাক্টর নিয়োগ এমন করে টেকনিক্যাল পোষ্ট গুলো আস্তে আস্তে হারিয়ে যাবে জেনারেলদের হাতে।
২. আইডিবি সদস্য হওয়া, আইডিবি কার্যক্রমে ইন্সটিটিউটের ছাত্র থেকে যুক্ত হওয়া। ( যদি তাদের কার্যক্রম অপছন্দ হয় তবুও তার পরিচয় বহন করাটা দরকার,পেশাগত বৈষম্যে প্রতিবাদের একমাত্র স্থান আমাদের )।
৩.প্রত্যেক পলিটেকনিক - টেক্সটাইল -মেরিন ইনস্টিটিউটগুলোতে শক্ত এলামনাই এসোসিয়েশন নিশ্চিত করা যেমনটা বুয়েট, চুয়েট, রুয়েট, কুয়েট রয়েছে তাহলে যেকোন হটকারি সিদ্ধান্তে প্রতিবাদ সহজ হবে এবং চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে পরিচিতি বাড়বে।
৪.মাঝে মধ্যে যুক্তিক নতুন নতুন দাবি করা যেমন : বিভাগীয় শহর এবং কারিগরি অধিদপ্তরে পরিচালিত কলেজগুলোতে ডুয়েটের মতো শুধু ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ভর্তি নেওয়া। ল্যাব-টেকনিশিয়ান, শিক্ষক নিয়োগে টেকনিক্যাল পারসন্স নিয়োগ ( নন ডিপার্টমেন্ট বাদে),ল্যাব- আধুনিকায়ন এবং উচ্চতর ট্রেনিং ব্যবস্থা, প্রতি ডিপার্টমেন্ট অনুযায়ী বাইরের প্রতিষ্ঠানের মতো সেকশন ভাগ করে থিউরি ক্লাসে সর্বোচ্চ (25-30)জন,এবং ল্যাব ক্লাসে ১০-১৫ জন করে হাতে কলমে শিক্ষার জন্য পরিবেশ সৃজন করা,উন্নত লাইব্রেরি এবং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিবেশ সৃজন করা, ৬ মাসের সেমিস্টার এবং বিশ্বে বিভিন্ন পলিটেকনিক্যাল, ইউনিভার্সিটি, ইন্সটিটিউট সাথে এবং বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রি সাথে যুক্ত রিসার্চ যুক হওয়া, যেমন বুয়েট ওয়ালটনের রিসার্চ যুক্ত ইত্যাদি।
৫.অতিবিলম্বে বুয়েট,চুয়েট, রুয়েট, কুয়েট বা দেশের অন্য উচ্চ শিক্ষার ন্যায় ভর্তির বয়স নির্দিষ্ট করা, গুচ্ছ পদ্ধতিতে সরাসরি পরীক্ষার মাধ্যমে মেধাবী শিক্ষার্থী ভর্তি করানো।
৬.শিক্ষার মান নিশ্চিতই এ ইজিসির মতো আইডিবি এবং কারিগরি বোর্ড এবং অধিদপ্তরের সদস্যের সমন্বয় করে কমিটির মাধ্যমে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান (ইনস্টিটিউট) , ল্যাব সহ শিক্ষার উপকরণ - পরিবেশ সঠিক করা, , ব্যাঙের ছাতার মতো অপ্রত্যাশিত প্রতিষ্ঠান গুলো অন্যথায় অফকরে দেওয়া।
৭. ইন্ডাস্ট্রিতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং নিশ্চিত করা, অপ্রত্যাশিত বাংলা প্রকাশনীর বই বাদে ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যায় সিলেবাস অনুযায়ী বিভিন্ন ইংরেজি রাইটারের বই ফলো নিশ্চিত করা এবং ক্রেডিট হিসেবে শিক্ষা কার্যক্রমকরে নির্দিষ্ট ক্রেডিট করার পর বাকি ক্রেডিট কমপ্লিট করলে বি এস সি ইঞ্জিনিয়ারিং সমমান ডিগ্রি দেওয়া।
ক্রেডিট: আবুল খায়ের
অ্যাসিস্ট্যান্ট চিফ ইঞ্জিনিয়ার
বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড