সরকারি-বেসরকারি সকল চাকরির বিজ্ঞপ্তি

  • Home
  • Bangladesh
  • Gazipur
  • সরকারি-বেসরকারি সকল চাকরির বিজ্ঞপ্তি

সরকারি-বেসরকারি সকল চাকরির বিজ্ঞপ্তি সকল প্রকার চাকরির খবর-বিজ্ঞপ্তি, পরীক্ষার তারিখ, ফলাফল ও অন্যান খবর পেতে আমাদের সাথে থাকুন

জাপান কেন বিশ্বসেরা?জাপানে পড়তে যাওয়া এক ছাত্রী একদিন দেশে ফোন করে বলল, খুব লজ্জায় আছি!- কেন কী হয়েছে?"- ড্রইং ক্লাসে ড্...
31/07/2025

জাপান কেন বিশ্বসেরা?

জাপানে পড়তে যাওয়া এক ছাত্রী একদিন দেশে ফোন করে বলল, খুব লজ্জায় আছি!
- কেন কী হয়েছে?"
- ড্রইং ক্লাসে ড্রইং বক্স নিয়ে যাইনি।
- তো?
- জাপানি স্যার একটা বড় শিক্ষা দিয়েছেন।
- কী করেছেন?
- আমার কাছে এসে ক্ষমা চেয়েছেন! বলেছেন, আজ যে ড্রইং বক্স নিয়ে আসতে হবে, তা স্মরণে রাখার মতো জোর দিয়ে তিনি আমাকে বলতে পারেননি। তাই তিনি দুঃখিত।
- হুম।
- আমি তো আর কোনদিন ড্রইং বক্স নিতে ভুলব না। আজ যদি তিনি আমাকে বকতেন বা অন্য কোনো শাস্তি দিতেন, আমি হয়ত কোনও একটা মিথ্যা অজুহাত দিয়ে বাঁচার চেষ্টা করতাম!

জাপানি দল বিশ্বকাপে হেরে গেলেও জাপানি দর্শকরা গ্যালারি পরিষ্কার করে তবেই স্টেডিয়াম ত্যাগ করে।

এ আবার কেমন কথা?
এটা কি কোনো পরাজয়ের ভাষা! হেরেছিস যখন রেফারির চৌদ্দ গুষ্টি তুলে গালি দে। বলে দে, পয়সা খেয়েছে। বিয়ারের ক্যান, কোকের ক্যান, চীনাবাদামের খোসা যা পাস ছুঁড়ে দে। দুই দিন হরতাল ডাক। অন্তত বুদ্ধিজীবীদের ভাষায় এটা তো বলতে পারিস যে, খেলোয়াড় নির্বাচন ঠিক হয়নি, এতে সরকার বা বিরোধী দলের হাত আছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হেরে গিয়ে জাপানের সম্রাট হিরোহিতো আমেরিকার প্রতিনিধি ম্যাক আর্থারের কাছে গেলেন। প্রতীক হিসেবে নিয়ে গেলেন এক ব্যাগ চাল। হারিকিরির ভঙ্গিতে হাঁটু গেড়ে মাথা পেতে দিয়ে বললেন, "আমার মাথা কেটে নিন আর এই চালটুকু গ্রহণ করুন। আমার প্রজাদের রক্ষা করুন। ওরা ভাত পছন্দ করে। ওদের যেন ভাতের অভাব না হয়!"

আরে ব্যাটা, তুই যুদ্ধে হেরেছিস, তোর আত্মীয়স্বজন নিয়ে পালিয়ে যা। তোর দেশের চারদিকেই তো জল। নৌপথে কিভাবে পালাতে হয় আমাদের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নে। কোরিয়া বা তাইওয়ান যা। ওখানকার মীর জাফরদের সাথে হাত মেলা। সেখান থেকে হুঙ্কার দে।

সম্রাট হিরোহিতো এসব কিছুই করলেন না। তার এই আচরণ আমেরিকানদের পছন্দ হলো। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কুখ্যাত মহানায়কদের মধ্যে কেবলমাত্র হিরোহিতোকেই বিনা আঘাতে বাঁচিয়ে রাখা হলো।

২০১১ সালের ১১ই মার্চ। সুনামির আগমন বার্তা শুনে এক ফিশারি কোম্পানির মালিক সাতো সান প্রথমেই বাঁচাতে গেলেন তার কর্মচারীদের। হাতে সময় আছে মাত্র ৩০ মিনিট। প্রায়োরিটি দিলেন বিদেশি চাইনিজদের। একে একে সব কর্মচারীদের অফিস থেকে বের করে পাশের উঁচু টিলায় নিজে পথ দেখিয়ে গিয়ে রেখে এলেন। সর্বশেষে গেলেন তার পরিবারের খোঁজ নিতে। ইতিমধ্যে সুনামি এসে হাজির। সাতো সানকে চোখের সামনে পরিবার সহ কোলে তুলে ভাসিয়ে নিয়ে গেল সুনামি! আজও খোঁজহীন হয়ে আছেন তার পরিবার। ইস! সাতো সান যদি একবার বাঙালিদের সাথে দেখা করার সুযোগ পেতেন। তাহলে শিখতে পারতেন নিজে বাঁচলে বাপের নাম!

সাতো সান অমর হলেন চায়নাতে। চাইনিজরা দেশে ফিরে গিয়ে শহরের চৌরাস্তায় ওনার প্রতিকৃতি বানিয়ে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন।

নয় বছরের এক ছেলে স্কুলে ক্লাস করছিল। সুনামির সতর্ক সংকেত শুনে স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানাল এবং সব ছাত্রদের নিয়ে তিন তলায় জড়ো করল। তিন তলার ব্যালকনি থেকে সে দেখল তার বাবা স্কুলে আসছে গাড়ি নিয়ে। গাড়িকে ধাওয়া করে আসছে প্রলয়ংকারী জলের সৈন্যদল। গাড়ির স্পিড জলের স্পিডের কাছে হার মেনে গেল। চোখের সামনে নেই হয়ে গেল বাবা! সৈকতের কাছেই ছিল তাদের বাড়ি। শুনলো, মা আর ছোট ভাই ভেসে গেছে আরো আগে।

পরিবারের সবাইকে হারিয়ে ছেলেটি আশ্রয় শিবিরে উঠল। শিবিরের সবাই খিদে আর শীতে কাঁপছে। ভলান্টিয়াররা রুটি বিলি করছে। আশ্রিতরা লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। ছেলেটিও আছে সবার সাথে। এক বিদেশী সাংবাদিক দেখলেন, যতখানি রুটি আছে তাতে লাইনের সবার হবে না। ছেলেটির কপালে খাবার জুটবে না। সাংবাদিক তার কোটের পকেটে রাখা নিজের ভাগের রুটি দুটো ছেলেটিকে দিলেন। ছেলেটি ধন্যবাদ জানিয়ে রুটি গ্রহণ করল, তারপর যেখান থেকে রুটি বিলি হচ্ছিল সেখানেই ফেরত দিয়ে আবার লাইনে এসে দাঁড়াল।

সাংবাদিক কৌতূহল চাপতে পারলেন না। ছেলেটিকে জিজ্ঞাস করলেন, "এ কাজ কেন করলে খোকা?"

খোকা উত্তর দিল, বন্টন তো ওখান থেকে হচ্ছে। ওদের হাতে থাকলে, বন্টনে সমতা আসবে।তাছাড়া লাইনে আমার চেয়েও বেশি ক্ষুধার্ত লোক থাকতে পারে!

সহানুভুতিশীল হতে গিয়ে বন্টনে অসমতা এনেছেন, এই ভেবে সাংবাদিকের পাপবোধ হলো। ওই ছেলের কাছে কী বলে ক্ষমা চাইবেন ভাষা হারালেন তিনি।

যাদের জাপান সম্পর্কে ধারণা আছে তারা সবাই জানেন, যদি ট্রেনে বা বাসে কোনো জিনিস হারিয়ে যায়, আপনি নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন। ওই জিনিস আপনি অক্ষত অবস্থায় ফেরত পাবেন।

গভীর রাতে কোনো ট্রাফিক নেই, কিন্তু পথচারীরা ট্রাফিক বাতি সবুজ না হওয়া পর্যন্ত পথ পার হচ্ছেন না।

ট্রেনে বাসে টিকিট ফাঁকি দেওয়ার হার শূন্যের কোঠায়।

একবার ভুলে ঘরের দরজা লক না করে এক প্রবাসী দেশে গেলেন। মাস খানেক পর এসে দেখেন, যেমন ঘর রেখে গেছেন, ঠিক তেমনই আছে!

এই শিক্ষা জাপানিরা কোথায় পান?

সামাজিক শিক্ষা শুরু হয় কিন্ডারগার্টেন লেভেল থেকে।

সর্বপ্রথম যে তিনটি শব্দ এদের শেখানো হয় তা হলো:

*কননিচিওয়া* (হ্যালো): পরিচিত মানুষকে দেখা মাত্র হ্যালো বলবে।

*আরিগাতোউ* (ধন্যবাদ): সমাজে বাস করতে হলে একে অপরকে উপকার করবে। তুমি যদি বিন্দুমাত্র কারো দ্বারা উপকৃত হও তাহলে ধন্যবাদ দিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে।

*গোমেননাসাই* (দুঃখিত): মানুষ মাত্রই ভুল করে এবং সেই ভুলের জন্য ক্ষমা চাইবে।

এগুলো যে শুধু স্কুলে মুখস্ত করতে শেখানো হয় ব্যাপারটা তা নয়। বাস্তব জীবনেও শিক্ষকরা সুযোগ পেলেই এগুলো ব্যবহার করেন এবং শিক্ষার্থীদেরকেও করিয়ে ছাড়েন।

সমাজে এই তিনটি শব্দের গুরুত্ব কতটা তা নিশ্চয়ই অনুধাবন করতে পারছেন। এই প্র্যাকটিসগুলি ওরা বাল্যকাল থেকে করতে শেখে। কিন্ডারগার্টেন থেকেই স্বনির্ভরতার ট্রেনিং দেওয়া হয়।

আমাদের দেশের দিক নির্দেশকরা তাদের শৈশব যদি কোনও রকমে জাপানের কিন্ডারগার্টেনে কাটিয়ে আসতে পারতেন তাহলে কী ভালোটাই না হতো!

একজন আত্মনির্ভরশীল মানুষ হিসেবে বসবাস করার জন্য যা যা দরকার অর্থাৎ নিজের বইখাতা, খেলনা, পোশাক, বিছানা সব নিজে গোছানো, টয়লেট ব্যবহার করে নিজেই পরিষ্কার করা, খাবার খেয়ে নিজের খাবারের প্লেট নিজেই ধুয়ে ফেলা ইত্যাদি।

প্রাইমারি স্কুল থেকে জাপানি ছেলেমেয়েরা নিজেরা দল বেঁধে স্কুলে যায়। দল ঠিক করে দেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। ট্রাফিক আইন, বাস ট্রেনে চড়ার নিয়ম কানুন সবই শেখানো হয়।

আপনার গাড়ি আছে, বাচ্চাকে স্কুলে দিয়ে আসতে গেলেন, আপনার সম্মান তো বাড়বেই না, উল্টো আপনাকে লজ্জা পেয়ে আসতে হবে।

ক্লাস সেভেন থেকে সাইকেল চালিয়ে তারা স্কুলে যায়। ক্লাসে কে ধনী, কে গরীব, কে প্রথম, কে দ্বিতীয় এসব বৈষম্য যেন তৈরি না হয় সেজন্য যথেষ্ট সতর্ক থাকেন স্কুল কর্তৃপক্ষ।

ক্লাসে রোল নং ১ মানে এই নয় যে একাডেমিক পারফরম্যান্স সবচেয়ে ভাল। রোল তৈরি হয় নামের বানানের আদ্যাক্ষরের ক্রমানুসারে!

বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সমস্ত আইটেমগুলো থাকে গ্রুপ পারফরম্যান্স দেখার জন্য, ইন্ডিভিজুয়াল পারফরম্যান্সের জন্য নয়! ওখানে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের গুরুত্বের চেয়ে টিম ওয়ার্কের গুরুত্ব অনেক বেশি।

সারা স্কুলের ছেলেমেয়েদের ভাগ করা হয় কয়েকটি গ্রুপে। লাল দল, নীল দল, সবুজ দল, হলুদ দল ইত্যাদি। গ্রুপে কাজ করার ট্রেনিংটা ছাত্রছাত্রীরা পেয়ে যায় স্কুলের খেলাধুলা, ছবি আঁকা জাতীয় এক্সট্রা কারিকুলার এ্যাক্টিভিটি থেকে।

এই জন্যই হয়তো জাপানে তথাকথিত 'লিডার' তৈরি হয় না, কিন্তু এরা সবাই একত্রে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় লিডার!

সংগ্রহীত।

I have Needed PI if anyone has please contact.
02/03/2025

I have Needed PI if anyone has please contact.

18/10/2024
বাংলাদেশ ভ্রমণে আপনার স্কোর কত?  ৩০ পাইলে আপনি পাস ৪০ আপ করলে আপনি ট্রাভেলার 😍😘💁💕❤️✌️👍১. সাজেক - ৪২. ময়ুঙকপাল -২ ৩. রিসা...
12/09/2024

বাংলাদেশ ভ্রমণে আপনার স্কোর কত?
৩০ পাইলে আপনি পাস ৪০ আপ করলে আপনি ট্রাভেলার 😍😘💁💕❤️✌️👍
১. সাজেক - ৪
২. ময়ুঙকপাল -২
৩. রিসাং ঝর্ণা - ২
৪. তারেং- ১
৫. আলুটীলা -২
৬. বিছানাকান্দি - ২
৭. রাতারগুল - ২
৮. জাফলং - ২
৯. লালখাল - ২
১০. উৎমাছড়া -২
১১. সাদাপাথর -২
১২. তুরং ছড়া -২
১৩. মাধবকুন্ডু -২
১৪. মাধবপুর লেক-২
১৫. লাওয়াছড়া - ১
১৬. হাম হাম ঝর্ণা - ৩
১৭. চন্দ্রনাথ পাহাড় - ৩
১৮. নাপিত্তিছড়া ট্রেইল -২
১৯. খৈয়াছড়া- ২,, খৈয়াছড়া ৮ম স্টেপ -৪
২০. কমলদহ ট্রেইল - ২
২১. সোনাইছড়ি ট্রেইল -৩
২২. সুপ্তধারা, সহস্রধারা - ২
২৩. বাশবাড়িয়া -১
২৪. কুমিরা সি বিচ - ১
২৫. সন্দিপ - ২
২৬. কুয়াকাটা -৩
২৭. নিঝুম দ্বীপ -৩
২৮. চর কুকরি মুকরি - ৩
২৯. মনপুরা - ২
৩০. ভাসমান পেয়ারা বাজার -২
৩১. বিরিসিরি - ২
৩২. বারিক্কা টিলা -১
৩৩. টাংগুয়ার হাওর -৩
৩৪. শিমুল বাগান -২
৩৫. টেকেরঘাট -১
৩৬. নিলাদ্রি লেক -১
৩৭. কাপ্তাই লেক -২
৩৮. দুপ্পানি ঝর্ণা -২
৩৯. গাছকাটা ঝর্ণা-১
৪০. ণকাটা ঝর্ণা -১
৪১. দুমলং -৭
৪২. পতেংগা সি বিচ -২
৪৩. নারিকেল সি বিচ - ২
৪৪. মহেশখালি -২
৪৫. সেইন্ট মার্টিন -৫
৪৬. সোনারগাও - ১
৪৭. মৈনট ঘাট - ১
৪৮. মাওয়া ঘাট -১
৪৯. আড়িয়াল বিল -১
৫০. নীলগিরি -১
৫১. নিলাচল -২
৫২. স্বর্ম্মন্দির - ১
৫৩. মেঘলা -১
৫৪. অমিয়াখুম জলপ্রপাত -৭
৫৫. আলীকদম গুহা -৩
৫৬. কেওক্রাডং -৫
৫৭. জাদিপাই ঝর্ণা - 3
৫৮. চিম্বুক পাহাড় - ২
৫৯. দামতুয়া ঝর্ণা - ৩
৬০. তিনাপ সাইতার - ৪
৬১. নাফাখুম -৩
৬২. নাইক্ষংমুখ -১
৬৩. সাতভাইখুম -১
৬৪. ভেলাখুম -১
৬৫. দেবতাখুম -৩
৬৬. মহামায়া লেক ক্যাম্প - ২
৬৭. গুলিয়াখালি -১
৬৮. ক্রিস তং -৫
৬৯. সাকাহাফং - ১০
৭০. জোতলং - ৮
৭১. যোগী হাফং -৬
৭২. তাজিংডং - ৪
৭৩. ডিম পাহাড় -২
৭৪. তলাবং ঝর্ণা - ২
৭৫. রেমাক্রি - ৩
৭৬. সুন্দরবান - ৩
৭৭. কক্সবাজার -৩
৭৮. সোয়াচ অফ নো গ্রাউন্ড -২
৭৯. হরিংঘাট -২
৮০. বগাকাইন হ্রদ -২
৮১. লিলুক ঝর্ণা -৩
৮২. রিজার্ভ ফলস-৩
৮৩. নিকলী হাওর-২
৮৪. ঢিবির হাওর-২
৮৫. কালাপাহাড় -২
৮৬. মাতায়ন্তং-২
৮৭. দেবতাপুকুর-২
৮৮. হাজাছরা ঝরনা-২
৮৯. ষাটগম্বুজ -১
৯০. কংলাক তৈসা ঝর্না-৫
৯১. সীতা কুন্ডু-২
৯২. পাটুয়ার টেক -১
৯৩. রাঙামাটি -২
৯৪. শুভলং ঝর্ণা - ২
৯৫.বোদ্ধ বিহার- ২
৯৬.জাতীয় স্মৃতিসৈাধ-১
৯৭.বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্ক-১
৯৮.ভাওয়াল জাতীয় উদ্দান-১
৯৯.পানামা সিটি, সোনারগাও-১
১০০.আহসান মনজিল-১

15/08/2024

৫৫ বছরের আয়ুষ্কালের মধ্যে ৩৫ বছরে রাজনীতি, তার মাঝে ২৩ বছর (১৯৪৮-৭১) কেটেছে আন্দোলন-সংগ্রামে। মাত্র ৩ বছর ৭ মাস ৪ দিন ছিলেন বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের শাসনকর্তা।এর মাঝে সর্বমোট ৩ হাজার ৫৩ দিন কারাভোগ মানে প্রায় ৯ বছর, ১৯৩৯ সালে গোপালগঞ্জ মিশন স্কুলের ৮ম শ্রেণীর ছাত্র থাকাকালে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরোধে আন্দলোন ও কারাভোগ , ১৯৪৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে আন্দোলনের , ৫২-ভাষা আন্দোলন,পুলিশ বিদ্রোহ বিদ্রোহী পুলিশ বাহিনীর ওপর সেনাবাহিনীর নির্বিচারে গুলিবর্ষণের প্রতিবাদ, ৫৩ সালের শাসনতন্ত্রে বাংলার স্বায়ত্তশাসনের অন্তর্ভুক্তির আন্দোলন, ৫৪ সালের নির্বাচন এবং নির্বাচনের রায় বানচালবিরোধী আন্দোলন, ৫৮ সালের সামরিক শাসন জারি এবডো এবং প্রাডো আইনের মাধ্যমে ৬ বছরের জন্য রাজনীতিতে নিষিদ্ধ , ১৯৬২ সালে হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশনের রিপোর্ট বাতিলের দাবিতে ছাত্র আন্দোলনের ৬৩ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন, ৬৪ সালে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সৃষ্টি, ৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার উদ্যোগ গ্রহণ, ৬৬ সালে ৬ দফা আন্দোলন, ৬৭ সালে রাজনৈতিক কারণে ৬টি মামলার মোকাবেলা, ৬৮ সালে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রতিহতকরণ, ৬৯ সালে সামরিক শাসক আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান , ৭০ সালে নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসনে জয় লাভ, ৭১ সালে অসহযোগ আন্দোলনের নেতৃত্বদান এবং ২৫ মার্চ গভীর রাতে গ্রেফতার হওয়ার আগে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা। সর্বোপরি তার জীবনে এ ২৩ বছরের একটি দিনও আন্দোলন-সংগ্রাম ব্যতীত কাটেনি।এত বড় বিপ্লবী কে তার প্রাপ্য সম্মানটুকু দিতে হবে, তাকে ঈশ্বর বানিয়ে ফেলে, তার নাম বিক্রি করে দেশে স্বৈরাচারী শাসন চালানো যেমন ভুল, তার দীর্ঘ বিপ্লবের ইতিহাস অস্বীকার করাও ভুল, একটা জাতি তখনই বড় হতে পারে যখন সে তার সন্তানদের প্রাপ্য সম্মানটা দেয়, নিঃসন্দেহে বাংলদেশের ইতিহাসে সেরা সাহসী বিপ্লবীদের মাঝে একজন হলো মুজিব, তোমার বিপ্লব আর ত্যাগকে জানাই হাজার সালাম।

এই সেই পৃথিবী কাঁপানো ছবি যা তোলার পর ফটোগ্রাফার আত্মহত্যা করেছিলেন।ছবিতে একটি শকুন বসে আছে কঙ্কালসার শিশুটির মৃত্যুর অপ...
14/07/2024

এই সেই পৃথিবী কাঁপানো ছবি যা তোলার পর ফটোগ্রাফার আত্মহত্যা করেছিলেন।

ছবিতে একটি শকুন বসে আছে কঙ্কালসার শিশুটির মৃত্যুর অপেক্ষায়, যেন মারা গেলেই সে ঝাঁপিয়ে পড়বে খাবারের ওপর! তুলেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার ফটোগ্রাফার কেভিন কার্টার।

মৃতপ্রায় শিশুটি ১৯৯৩ সালের মার্চ মাসে এক মুঠো খাবারের সন্ধানে দুর্ভিক্ষপীড়িত সুদানের আয়োদ থেকে প্রায় আধা মাইল দূরে জাতিসংঘের একটি খাদ্য বিতরণ কেন্দ্রের দিকে এগোচ্ছিল।

এক পর্যায়ে সে উবু হয়ে মাটিতে মাথা রেখে নিথর হয়ে যায়। তখন একটা ক্ষুধার্ত শকুন লোলুপ দৃষ্টি হেনে শিশুটির মৃত্যুর পর তার মাংস খাওয়ার জন্য প্রতীক্ষা করতে থাকে।

এই ছবি ১৯৯৩ সালের ২৬ মার্চ The New York Times পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। ছবিটি সেই সময় সারা দুনিয়াব্যাপী ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। ১৯৯৪ সালে ফিচার ফটোগ্রাফির জন্য পুলিৎজার পুরস্কার জিতেছিল এই ছবি।

ফটোগ্রাফার কেভিন কার্টার পুলিৎজার পুরস্কার জেতার ৪ মাস পর মাত্র ৩৩ বছর বয়সে আত্মহত্যা করেন। পরে জানা যায় ছবিটি তোলার পর থেকেই তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।

ছবিটির বিষয়ে কেভিন কার্টার তাঁর ডায়রিতে লেখেন:
"হে সৃষ্টিকর্তা, আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে, আমি কখনোই আমার খাবার নষ্ট করব না তা যতই খারাপ স্বাদের হোক না কেন এবং আমি যতই ক্ষুধার্ত না হই কেন। আমি প্রার্থনা করি যে, তিনি এই ছোট্ট ছেলেটিকে রক্ষা করবেন, পথ দেখাবেন এবং তাকে তার দুঃখ থেকে মুক্তি দেবেন।
আমি আরো প্রার্থনা করি আমরা আমাদের চারপাশের পৃথিবীর প্রতি আরো সংবেদনশীল হব এবং আমাদের ভেতরের স্বার্থপরতা ও সংকীর্ণতা দ্বারা অন্ধ হয়ে যাব না। আমি আশা করি এই ছবি সর্বদা আমাদের জন্য উদাহরণ হিসেবে কাজ করবে যে, আমরা (শিশুটির তুলনায়) কতটা ভাগ্যবান এবং আমরা আমাদের জীবনধারণের খাবার কারণ ছাড়াই পেয়ে যাই এমনটা অবশ্যই মনে করব না।"

Revenge of Nature💔সবাই একবার পড়ুন।সিনেমাহল থেকে বের হয়ে দেখি আমার ছাত্রী একটা ছেলের সাথে হাত ধরাধরি করে বের হচ্ছে। আমাক...
14/05/2024

Revenge of Nature💔সবাই একবার পড়ুন।
সিনেমাহল থেকে বের হয়ে দেখি আমার ছাত্রী একটা ছেলের সাথে হাত ধরাধরি করে বের হচ্ছে। আমাকে দেখে আমার ছাত্রী চমকে গেলো। আমি কিছু না বলে চুপচাপ ওদের সামনে থেকে চলে গেলাম।

পরেরদিন যখন আমি আমার ছাত্রীকে পড়াতে যায় তখন ছাত্রীর বাবা আমার শার্টের কলার ধরে বলেছিলো, আমার এত সাহস কি করে হলো তার মেয়ের শরীরে হাত দেওয়ার আর বাজে ইঙ্গিত দেওয়ার..

আমি অবাক হয়ে ছাত্রীর বাবার কাছে জানতে চেয়েছিলাম আমার নামে এই নোংরা কথাটা কে বললো.

ছাত্রীর বাবা আমার ডানগালে থাপ্পড় মেরে বলেছিলো, এই কথাটা না কি আমার ছাত্রী নিজেই বলেছে।

ছাত্রীর বাসা থেকে বের হয়ে চিন্তা করতে লাগলাম, শহরের মেয়েরা স্মার্ট হয় কিন্তু এতটা স্মার্ট হয় জানতাম না। আমার অপরাধ ছিলো আমি আমার ছাত্রীকে বয়ফ্রেন্ড সহ সামনাসামনি দেখে ফেলেছিলাম। তাই আমার ছাত্রী আমার নামে তার বাবা মার কাছে নোংরা একটা জিনিস বানিয়ে বললো যাতে ওর বাবা মা আমাকে ভুল বুঝে। আর আমি কিছু বললেও যেন বিশ্বাস না করে...

তার কয়েকমাস পর ইন্টারনেটে ৮ মিনিটের একটা ভিডিও ভাইরাল হয়। ভিডিওটা আমার ছাত্রী ও তার বয়ফ্রেন্ডের। আমি তখন আকাশের দিকে তাকিয়ে শুধু মুচকি একটা হাসি দিলাম...

আমি যে মেসে থাকি সেই মেসে আমি বাদে সবাই স্মার্টফোন ব্যবহার করে। সহজ কথা বলতে গেলে আমি বাদে সবার পারিবারিক অবস্থা খুব ভালো। মেসে আমার রুম মেটের ৪ হাজার টাকা হারিয়ে গেলো। সবার ধারণা হলো আমি টাকাটা চুরি করেছি কারণ আমি সেদিন কমদামের একটা স্মার্টফোন কিনেছিলাম। পাশের রুমের এক বড় ভাই তিনি জোর গলায় বললেন, উনি না কি নিজ চোখে দেখেছেন আমি আমার রুমমেট মামুনের ব্যাগে হাত দিয়েছি। আমি তখন কিছু বললাম না কারণ আমার কিছু বলার মত পরিস্থিতি ছিলো না। বড় ভাইকে সবাই খুব মানতো আমি কিছু বললেও লাভ হতো না। আমি দোকানে গিয়ে দোকানদারের হাতে পায়ে ধরে ফোনটা ফেরত দিয়ে সেই টাকাটা আমার রুমমেটকে দিলাম।

চোরের অপবাদ নিয়ে যে মেস থেকে ৫ মাস আগে বের হয়ে গিয়েছিলাম আজ সেই মেসে বড় ভাই আমাকে খবর দিয়ে নিয়ে এসেছে। সবার সামনে বড়ভাই আমার হাত ধরে বললো, পিয়াস আমায় ক্ষমা করে দিস। আমি সেদিন ইচ্ছে করে তকে চোর বানিয়েছিলাম। আসলে সেদিন টাকাটা আমি চুরি করেছিলাম।

বড়ভাইয়ের ক্যান্সার ধরা পড়েছে। তার মাঝে মৃত্যু ভয় ঢুকে গেছে।

আমি বড়ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে শুধু মুচকি একটা হাসি দিলাম...

শ্রাবণী তার সামনে রাখা গ্লাসটা আমার মুখে ছুড়ে মেরে বললো, তোর মত ভিখারীর কি করে সাহস হয় আমাকে এইসব বলার? তুই ভালো ছাত্র ছিলি দেখে তোর নোট পাওয়ার লোভে তোর সাথে বন্ধুত্ব করেছিলাম আর সেই তুই কি না আমাকে আজ প্রেমের প্রস্তাব দিস...

সেই শ্রাবণীর খুব বড়লোক ছেলের সাথেই বিয়ে হয়েছিলো। কিন্তু বিয়ের ৩ বছর পর সে আজ আমার সামনে বসা। শ্রাবণী তার স্বামীর বিরুদ্ধে এক একটা নির্যাতনের কথা বলছে আর আমি এস আই আবুল বাশার পিয়াস সুন্দর করে নোট করছি।

কথাবলার এক পর্যায়ে শ্রাবণী আমায় বললো, সেদিন যদি তোর প্রস্তাবে রাজি হয়ে যেতাম তাহলে আমার কপালে আজ এত কষ্ট থাকতো না।

আমি কিছু না বলে শুধু নিচের দিকে তাকিয়ে মুচকি একটা হাসি দিলাম। যে হাসির অর্থ হলো, কেউ তোমার উপর অন্যায় করলে সে তার প্রতিদান পাবেই।

আজ একটা কথা খুব মনে পড়ছে,

দুনিয়াতে মানুষ মানুষকে ক্ষমা করে দিলেও, আল্লাহ তায়ালা প্রকৃতির মাধ্যমে সব হিসাব করে মানুষকে তা ফিরিয়ে দেয়...
সংগ্রহীত

একেই বলে গণতন্ত্র (Democracy)কোন এক হোস্টেলে ১০০ জন ছাত্র ছিল। তাদের টিফিনে প্রতিদিন "সিঙ্গাড়া" দেওয়া হত। কিন্তু ১০০ জন...
25/04/2024

একেই বলে গণতন্ত্র (Democracy)

কোন এক হোস্টেলে ১০০ জন ছাত্র ছিল। তাদের টিফিনে প্রতিদিন "সিঙ্গাড়া" দেওয়া হত। কিন্তু ১০০ জনের মধ্যে ৮০ জনই প্রতিদিন এই একই খাবার খেতে চাইতো না। তারা টিফিনে অন্য কিছু খাবারের জন্য হোস্টেল সুপারের কাছে আবেদন জানালো। কিন্তু বাকি ২০ জন প্রতিদিন সিঙ্গাড়াই খেতে চাইলো।

অবশেষে হোস্টেল সুপার ভোটের ব্যবস্থা করলেন এবং বললেন, যে খাবার সর্বাধিক ভোট পাবে সেই খাবারই প্রতিদিন টিফিনে দেওয়া হবে।

ভোটে দেখা গেলো, ওই ২০ জন ছাত্র প্রতিদিন সিঙ্গাড়ার পক্ষেই ভোট দিয়েছে।

বাকি ৮০ জন ভোট দিয়েছে ঠিক এভাবে -
ডালপুরি - ১৮ জন
পরোটা ও সবজি - ১৬ জন
রুটি ও ছোলার ডাল - ১৩ জন
মাখন পাউরুটি - ১১ জন
নুডুলস্ - ১০ জন
ভেজিটেবল রোল - ৭ জন
এগটোস্ট - ৫ জন

ফলাফলে সেই সিঙ্গাড়া সর্বাধিক ভোট পাওয়ায় টিফিনে প্রতিদিন সিঙ্গাড়া দেওয়াই চলতে লাগলো..!

¤ মরাল অফ দ‍্য স্টোরী হ'ল -
যতদিন ৮০ শতাংশ মানুষ নিজেদের স্বার্থপরতা নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত থাকবে, ততদিন ২০ শতাংশ মানুষই তাদের শাসন করবে।

21/04/2024

বহুদিন আগে আমার বাবা তার খালি জমিতে একটা গরিব পরিবারকে থাকতে দিয়েছিলেন।
বেশ কয়েক বছর পর বাবা বাড়ি করার জন্য জমিটা ছাড়তে বললে তারা ছাড়তে রাজি হলো না। পরে অনেক কসরত করে, টাকা পয়সা দিয়ে তাদেরকে সরানো হয়েছিল।
শুনে যা বুঝলাম, তাহলো একটা জমিতে অনেকদিন থাকলে নাকি তাতে তার অধিকার জন্মে যায়।
আমিতো অবাক। দয়া করে থাকতে দিয়েছে। কোথায় কৃতজ্ঞ হবে, তানা উল্টো দখল করে বসে আছে। ভাবলাম জমির ব্যাপারতো
তাই লোভ সামলাতে পারেনি।

আমি যেখানে থাকি সেখানে এক রিক্সাওয়ালা আছে আমার দেশি। বাজারে সে থাকলে আমি তার রিক্সাতেই আসি। বাজার থেকে আমার বাসা পর্যন্ত ভাড়া ৪০ টাকা ফিক্সড। তবে আমি নিয়মিত ৫০ টাকা দিতাম।

একদিন আমার কাছে খুচরা ৪৫ টাকা ছিলো। ঐ টাকাই দিলাম। টাকাটা দেয়ার সাথে সাথে একরকম চিৎকার করে উঠলো, “ আর ৫ টাকা ? " আমি কিছুক্ষন চুপ থেকে বললাম, " ভাড়াতো ৪০ টাকা, বাকি ৫ টাকা ফেরত দেন। "লোকটা হেসে বলল না সবসময়তো ৫০ টাকা দেন তাই কইলাম। ভাবলাম থাক গরিব মানুষতো, তাই এমন করলো।

আমার এক কলিগ। গর্ভবতী হয়ে অফিসে কাজ করেন, আমি তার কষ্ট দেখে তার একটা কাজের দায়িত্ব নিজে থেকেই নিলাম।
সে মাতৃত্বকালীন ছুটিতে গেলো। সে ফিরেও এলো। তাকে কাজটা ফিরিয়ে দিতে চাইলে সে গরিমসি শুরু করলো। ভাবটা এমন যে কাজটা আমারই ছিলো। এবার ভাবনাটা বদলালাম।

আসলে মানুষ একটা সুবিধা বেশিদিন ভোগ করলে সেটাকে তার অধিকার ভেবে নেয়।

ভুলে যায় --"It's facility, not right."

তাই শুধু সুবিধা দেয়া নয়, নেয়ার ক্ষেত্রেও সাবধান থাকা দরকার।
হিউম্যান বিহেভিয়ার খুব অদ্ভুত। এটা প্রায় সবার ক্ষেত্রেই কাজ করে।
টিউশনি করানোর সময় আন্টি প্রতিদিন নাস্তা দিতেন। হঠাৎ টানা ২-৩ দিন নাস্তা না দেয়ায় আমার খুব খারাপ লেগেছিল, আরে নাস্তাই দিল না।
পরে অবশ্য আমার নিজের আচরণে আমি নিজেই অবাক হই। আমার সাথে তো কখনো অভিভাবক এর নাস্তা নিয়ে চুক্তি হয়নি,
তারা তো আমাকে নাস্তা দিতে বাধ্য নন।
বরং নাস্তা দেয়ার জন্য আমার তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিৎ ছিল।

কোনটা অধিকার আর কোনটা অতিরিক্ত পাচ্ছি, সেটা বোঝা জরুরি।।

-সংগৃহিত

07/04/2024

দুই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে যুক্ত হলো ৯ সরকারি কলেজ। আমরা যদি সভ্য হতাম তাহলে কি করতাম? তাহলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ঢাকার বড় বড় ৭টি সরকারি কলেজকে যুক্ত করার ফলে এই ৭ কলেজ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার কতটা উন্নতি হয়েছে তার একটা বিশদ গবেষনা করে দেখতাম। এমন কোন গবেষণা কি হয়েছে যে এতে ৭ কলেজের কতটা উন্নতি হয়েছে। কিংবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার কি আদৌ কোন উন্নতি কিংবা অবনতি হয়েছে কিনা। আমাদের হুটহাট করে কোন কিছু করার অভ্যাস এখনো গেল না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ৭টি কলেজ নেওয়ার সিদ্ধান্তের আগে অনেক আলোচনা এবং অনেক পর্যালোচনার দরকার ছিল। সভ্য দেশ এমনই করে। কিন্তু আমাদের উঁচু মহলে কেউ একটা স্বপ্ন দেখলে হীরক রাজার দেশের মত করে বাস্তবায়নে লেগে পরে। আমাদের আগে অনার্স ৩ বছরের আর মাস্টার্স এক বছরের ছিল। হঠাৎ ক্ষমতাবান কেউ একজন বলল এখন থেকে ৪ বছরের অনার্স করতে হবে। ব্যস। হয়ে গেল। এতে যে শিক্ষার্থীরা ১ বছর বেশি পড়বে তার জন্য আমাদের যথেষ্ট শিক্ষক আছে কিনা, যথেষ্ট আবাসিক ব্যবস্থা আছে কিনা কেউ কিছু ভাবলো না। গণরুমের জন্ম ঠিক তখন থেকে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিজেই তার ঘানি টানতে পারছিল না অথচ তার উপর চাপিয়ে দিল তার চেয়ে ৩ কিংবা ৪ গুন ভার। আমি আমার বিভাগের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি আমার শিক্ষকরা কি পরিমান ব্যস্ত থাকে ৭ কলেজ নিয়ে। এই ব্যস্ততার কিছুটা কেরানির মত কাজ যেমন মিটিং করা, কে বা কারা প্রশ্ন করবে সিদ্ধান্ত নেওয়া আর বাকিটা প্রশ্ন করা, খাতা দেখা, প্রাকটিক্যাল পরীক্ষার ডিউটি করতে যাওয়া। কাউকে এক দিন কোন একটি কলেজে যাওয়া মানে ঐদিন সেই শিক্ষক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন ক্লাস বা অন্য কোন দায়িত্ব পালন করতে পারবে না। এতে নিজ বিভাগের ছাত্ররাও ওই শিক্ষকের সান্নিধ্য থেকে বঞ্চিত হয়।

উন্নত বিশ্বের উন্নত বিশ্ববিদ্যালয়ে কি করা হয়? তারা সর্বদা দেখে শিক্ষকদের মেধাকে কিভাবে সর্বোচ্চ ব্যবহার করা যায়। যেই কাজ একজন গ্রাজুয়েট দিয়ে করানো যায় সেটি একজন গ্রাজুয়েটকে টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট বানিয়ে তাকে দিয়ে করানো হয়। এতে ওই গ্রাজুয়েট ল্যাবে কাজ করে অভিজ্ঞতা অর্জন করে আবার আর্থিক সুবিধাও পায়। আর এই কাজে একজন অধ্যাপক যেই সময়টা দিতেন সেটা গবেষণা বা শ্রেণী কক্ষে পড়ানোতে দিতে পারে তাতে বিশ্ববিদ্যালয় তথা ছাত্ররা উপকৃত হয়। ভালো ভালো অধ্যাপকদের সময় বাঁচানোর জন্য পার্ট-টাইম শিক্ষক এবং adjunct শিক্ষকও নিয়োগ দেওয়া হয়। আর আমরা কি করছি নিজের বিভাগের বাহিরে অন্য কলেজে যাওয়া আসায় সময় অপচয় করাচ্ছি, পরীক্ষার ডিউটিতে অপচয় করতে বাধ্য করছি। What a waste of resource!

এমনিতেই আমাদের যথেষ্ট শিক্ষক নেই। সেই শিক্ষকদের যদি দৌড়ের উপর রাখি তাহলে শিক্ষকদের চিন্তার জাবর কাটার সময় কোথায়? গবেষণাতো এমন জিনিস না যে বলবেন এখন এই ঘন্টা সময় দিলাম চিন্তা করে একটা আইডিয়া বের করেন তারপর সেটার উপর কাজ করে জলদি কিছু গবেষণা করে আর্টিকেল প্রকাশ করুন। না। তা সম্ভব না। শিক্ষকদের প্রচুর ফ্রি সময় থাকতে হবে। সৃষ্টিশীল মানুষদের জাবর কাটার সময় না দিলে সৃষ্টিশীল কাজ হবে না। ফিজিক্যাল কাজ চাপিয়ে দিয়ে করানো গেলেও সৃষ্টিশীল কাজের জন্য প্রচুর ফ্রি টাইম দরকার ঠিক যেমন ব্রেইনের প্রচুর ফ্রি এবস্ট্রাক্ট স্পেস লাগে। আমরা ব্রেইনের নিউরণের যতটুকু সর্বোচ ব্যবহার করি আমাদের ঠিক ততগুলোই নিউরন থাকলে এখন আমাদের ব্রেইন যতটা কাজ করে তার মিলিয়ন ভাগের ১ ভাগও করতে পারতো না। ব্রেইনের জন্য প্রচুর ফ্রি স্পেস লাগে আর সৃষ্টিশীল মানুষের জন্য প্রচুর ফ্রি সময় লাগে।

আমাদের নীতিনির্ধারকরা এটাই বুঝে না। অনেক সময় বলে ও সারা দিনে মাত্র একটা ক্লাস? ৮ জন ছাত্রকে যে সুপারভাইস করছি ওইটা দেখেন না? রাতদিন ওদের সাথে ফোন, জুম্ ও মেসেঞ্জারে আলোচনা করছি ঐটা দেখেন না, রাতদিন বসে আর্টিকেল লিখছি ওইটা দেখেন না? ফ্রি টাইম দেখেই মাথায় পাগ উঠে আর সেই সময়টাকে যেন কাজে লাগাই তার জন্যই এই ব্যবস্থা তাই না? তাতেও যদি দেশের এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর লাভ হতো আপত্তি থাকতো না। ওই ৭ টা কলেজকে একটু উন্নত করতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কতটা ক্ষতি করলেন সেটাতো দেখছেন না। এমনিতেই শিক্ষকদের বেতন কম হওয়ায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পার্টটাইম পড়ায়। তার উপর ৭ কলেজ। তাহলে এইটাকে রেঙ্কিং-এ উপরে তুলবেন কিভাবে? একটা ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমপ্যাক্ট আর ৭টা মোটামোটি ভালো কলেজ ও ১টি তথৈবচ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক না। সত্যিকারের ভালো মানের একটি প্রতিষ্ঠানের ইমপ্যাক্ট বলে শেষ করা যাবে না। ধরুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যদি সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ সিঙ্গাপুরের মত হতো এই একটিই যথেষ্ট ছিল বাংলাদেশকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য। বাঁচার জন্য কেউ ডুবন্ত তরীতে উঠলে সেই তরী নিজেও ডুবে অন্যকেও ডুবায়।

Hassan Mamun

03/04/2024

ভারতে বর্তমানে ২৩টি আইআইটি আছে যেগুলো ভারতের উচ্চ শিক্ষাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। বাংলাদেশের বুয়েটকে কিছুটা আইআইটির সাথে তুলনা করা যায়। আইআইটিগুলো থেকে পাশ করে পৃথিবীর নানা দেশের বিশ্বসেরা প্রতিষ্ঠানে কাজ করছে যেমন Sundar Pichai যাকে সবাই চিনে, আছে Atish Dabholkar যিনি প্রফেসর আব্দুস সালামের হাতে তৈরী ICTP ইতালির ডিরেক্টর এইরকম আরো অসংখ্য আছে। এদের অনেকেই আমেরিকা বা ইউরোপের বড় বড় প্রতিষ্ঠানে কাজ করে একেকজন ভারতের অ্যাম্বাসেডরের মত ভারতের ইমেজ বিশ্বে উন্নত করছে। আমাদের বুয়েটও কম করছে না। বুয়েট থেকে পাশ করে যারা আমেরিকায় পিএইচডি করতে গিয়েছিল তাদের অনেকেই আমেরিকার বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় যেমন ক্যালটেক, ভার্জিনিয়া টেক, টেক্সাস টেকসহ আরো অনেক প্রতিষ্ঠানের খ্যাতিমান প্রফেসর হয়েছে। ভার্জিনিয়া টেকের প্রফেসর বাংলাদেশের অধ্যাপক সাইফুর রহমান IEEE-র প্রেসিডেন্ট ছিলেন গত টার্মে। বুয়েট এলামনাই অনেকেই IEEE-র ফেলো। বুয়েট গ্রাজুয়েট Sayeef Salahuddin এখন UC Berkeley বিখ্যাত অধ্যাপক। প্রফেসর ফজলে হোসেন বিশ্বে ফ্লুইড ডাইনামিক্স এর সেরা ৫ জনের একজন। এই বুয়েট থেকেই ফজলুর রহমান খান আমেরিকায় লেখাপড়া করতে গিয়ে স্থাপত্যের আইনস্টাইন হয়েছিলেন। এইরকম অসংখ্য নাম বলা যাবে। এখন আমরা কি চাই? এত ভালো ভালো না ভেবে তাকে থামিয়ে দিতে হবে?

বলা হচ্ছে বুয়েটে জঙ্গি ও ধর্মীয় উগ্রবাদী মানুষ তৈরী হচ্ছে। সাথে এইটাও বইলেন বুয়েট ওয়ার্ল্ড ক্লাস স্কলারও তৈরী করছে। গতকাল জানলাম ওদের ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ২০১৯ অক্টোবর থেকে বুয়েটের শিক্ষক হতে শুরু করে এবং ২০ জন শিক্ষক হয়। সেই ২০ জনের মধ্যে ৪ জন এখন এমআইটিতে পিএইচডি করতে যাচ্ছে, ১ জন UC বার্কলি, ২ জন যাচ্ছে ক্যালটেকে। বাংলাদেশের আর কোন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বলেনতো যে সেখান থেকে সর্বমোট এত জন ছাত্র এত ভালো ভালো জায়গায় লেখাপড়া করতে গেছে? বুয়েট ব্যতীত বাংলাদেশের প্রায় অন্যসব উচ্চশিক্ষার পাবলিক প্রতিষ্ঠানে ছাত্র রাজনীতি আছে। ছাত্র রাজনীতি কি সেইসব জায়গায় জঙ্গি ও ধর্মীয় উগ্রবাদী মানুষ তৈরী আটকাতে পেরেছে? ছাত্রলীগ ছাত্রদল কিভাবে এইসব থামাবে? তারা কি আদর্শভিত্তিক রাজনীতি করে? এদের দল যখন ক্ষমতায় থাকে এই সংগঠনগুলোর একেকজন ছাত্রনেতা একেকজন মনস্টার হয়ে উঠে। গেস্ট রুম টর্চার, জোর করে মিছিলে নেওয়া, ফাও খাওয়া ইত্যাদির কোন অপকর্ম কম করে? শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এইসব জারি রাখার লাইসেন্স দেওয়ার নামই ছাত্র রাজনীতি। জঙ্গি ও ধর্মীয় উগ্রবাদী মানুষ তৈরী থামাতে হলে দরকার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের প্রসার। আমাদের ক্ষমতাকেন্দ্রিক হাতের রাজনীতি যারা করে তারা কি এইসবে তোয়াক্কা করে?

ভারতে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সাইন্স বা IISc আছে যাকে বলা যায় ভারতের হার্ভার্ড বা অক্সফোর্ড অথবা কেমব্রিজ তার ওয়ার্ল্ড রেঙ্কিং হলো ২০০ থেকে ২৫০ এর মধ্যে। এটিই ভারতের সেরা বিশ্ববিদ্যালয় এবং এর কোন কোন বিভাগ যেমন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ হার্ভার্ড বা ক্যামব্রিজের চেয়েও ভালো। ২৩টি আইআইটি কিংবা IISc-তে ছাত্র রাজনীতি আছে? ভারতের রাজনৈতিক দলগুলোতো বলে না এইটা সংবিধান পরিপন্থী। তাদের কেউ কোর্টেও যাচ্ছে না। এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভারতের রাজনৈতিক দলগুলো এবং জনগণ মিলে আগলে রেখেছে। সেখানে দলীয় লেজুড়বৃত্তিক ও ক্ষমতাকেন্দ্রিক বা আদর্শভিত্তিক কোন প্রকার রাজনীতি নেই। কেউ সেইসব প্রতিষ্ঠানে রাজনীতি খোলার জন্য চাপও দিচ্ছে না। আবার পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় যাদবপুর ইউনিভার্সিটি আছে। সেটি আমাদের বুয়েটের মত একটি ইঞ্জিনীরিং ইউনিভার্সিটি। সেখানে রাজনীতি আছে বলে আইআইটিগুলোর ধারে কাছে নাই। বরং রাজনীতি আছে বলে আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বা বুয়েটের মতোই।

আমাদের ক্ষমতাসীন দল কেন ছাত্র রাজনীতি চায়? তারা ছাত্রদের দিয়ে কেমন রাজনীতি করায়? এইগুলো বুঝতে হবে। এরা রাজনীতি চায় কারণ কোন প্রকার অর্থ ব্যয় না করে বিনা পুঁজিতে লক্ষ লক্ষ কর্মী পায় যারা তাদের গদি ঠিক রাখতে জীবন দিবে। কতটা স্বার্থপর আমাদের রাজনীতিবিদরা কল্পনা করা যায়? কেবল এদের নিজের হীন স্বার্থে ছাত্র রাজনীতির প্রসার চায়। একই কারণে এরা জেলায় জেলায় পারলে থানায় থানায় বিশ্ববিদ্যালয় খুলতে চায়। যত বেশি বিশ্ববিদ্যালয় ততবেশি ছাত্র তাদের দল করবে। অন্যদের রাজনীতি থামিয়ে দিবে। মারামারি আর দখদারিত্ব করে সবকিছু নিয়ন্ত্রণে রাখবে। কেউ সরকারের বিরুদ্ধে কোন বিষয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে মেরেমুরে থামিয়ে দিবে। এমন স্বার্থপর রাজনৈতিক দল পৃথিবীর কোন সভ্য দেশে আছে?

গতবছর সরকার বাজেটে শিক্ষায় বরাদ্দ কমিয়ে জিডিপির মাত্র আবার বলি মাত্র ১.৭৬% বরাদ্দ দিয়েছিল। আমি তারপরদিন সংবাদপত্রে পড়েছি যে ওই বাজেট দেওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ আনন্দ মিছিল করেছে। এইটা কি কল্পনা করা যায়? আমরা দেখি এবং জানি আমাদের ছাত্ররা আবাসিক হলগুলোতে কত অমানবিকভাবে থাকে। কোথায় ছাত্রনেতাদের আন্দোলন করা উচিত জিডিপির অন্তত ৫.৫% শিক্ষায় বরাদ্দ দেওয়ার দাবিতে। আর এরা বরাদ্দ কমানোর পরেও আনন্দ মিছিল করে। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা লেখাপড়ার জন্য একটা টেবিল পায় না, একটা ঘুমানোর বিছানা পায় না, পুষ্টিকর খাবার পায় না এইসব নিয়ে কোন দাবি নেই। তাহলে কিসের ছাত্র রাজনীতি?

একটি দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ছাত্র রাজনীতি চাচ্ছে না। গতকালকের একটি ওপেন অনলাইন পোল দেখলাম সেখানে ৪০৪২ ভোটের মধ্যে ৯৯%ই ছাত্র রাজনীতি চায় না। বুয়েটে যদি তাদের সকল ছাত্রের মতামত নেওয়া হয় আমি নিশ্চিত সেখানকার কম করে হলেও ৯০% এর বেশি ছাত্রছাত্রী বলবে তারা ছাত্র রাজনীতি চায় না। আমি বর্তমান বুয়েটের অনেক ছাত্র শিক্ষকের সাথে কথা বলেছি। তাদের সবাই বলেছে গত কয়েকটা বছর দারুন কেটেছে। কোন সন্ত্রাস নাই, কোন প্রকার ঝামেলা নাই সব কিছু অসাধারণ সুন্দর পরিবেশে চলছে। আমরা কি অন্ধ? আমরা কি খারাপ যে নিজের স্বার্থের কারণে সমষ্টির ভালো হতে দিব না? বুয়েট আমাদের আইআইটি। বরং আমাদের অন্যান্য যেই সাইন্স & টেকনোলজি বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা কুয়েট, রুয়েট, চুয়েটকেও কিভাবে প্রথমে বুয়েট পরে আইআইটির মত করা যায় সেইদিকে দৃষ্টি দেওয়া উচিত।

গতকাল দেখলাম ক্ষমতাসীন দলের বড় বড় নেতা থেকে শুরু করে অনেকেই বুয়েটকে গালমন্দ করছেন। বলছেন এরা বিদেশে চলে যায়, দেশের সার্ভিস দেয় না। দেশকে কি সেইভাবে গড়ে তুলেছেন? আমাদের মেধাবীরা উচ্চ শিক্ষা শেষে যদি ফিরে আসে তাদের চাকুরীর ব্যবস্থা করতে পারবেন? ভারততো বলে না সুন্দর পিছাই কেন আমেরিকায় চলে গেল? অতীশ ধাবলকর কেন বিদেশে চলে গেল? বিদেশে গিয়ে এরা আরও বড় আকারে দেশকে সার্ভ করছে। ইন্টেলের বড় পদে কয়েকজন বাংলাদেশী হওয়ায় এখন ইন্টেলে অনেক বাংলাদেশী চাকুরী পাচ্ছে। পৃথিবীর যেকোন বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলে প্রচুর চাইনিজ পাওয়া যায়। কারণ চাইনিজরা বড় পদে গেলে চাইনিজ নিয়োগ দেয়। বেশি বেশি রেমিটেন্স আসে। দেশের সুনাম বাড়ে। দেশের সুনাম একটি বিশাল জিনিস। এইটা কেবল একটি দেশের স্কলাররাই বাড়াতে পারে। তাই এখনো সময় আছে। বুয়েটকে বাঁচান। ছাত্র বা শিক্ষক রাজনীতি আমাদের কোন সমস্যার সমাধান না। বরং এই দুই রাজনীতি আমাদের শিক্ষাকে ধ্বংস করেছে, অনেকের মৃত্যুর কারণ হয়েছে, অনেককে টর্চারের কারণ হয়েছে। এইসবের মাধ্যমে আমরা কত মেধাবীর মেধা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয়েছি কে জানে? তাই থামান প্লিজ। আপনারা যাকে ছাত্র রাজনীতি বলছেন সেটা আসলে ছাত্র রাজনীতি না। বুইড়াদের পিছে থেকে তোষামোদি শেখা। এতে বরং ছাত্রদের মেরুদন্ড ভেঙে যাচ্ছে। অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে ভুলে যাচ্ছে।

Hasan Mamun

21/03/2024

বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকার প্রথম ৫০ জনের মধ্যে ৩৪ জন সহ মোট ৬০০ জনই নটরডেম কলেজের শিক্ষার্থী। আমি আজ কয়েক বছর যাবৎ লক্ষ করছি বাংলা মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের মাঝ থেকে যারা আন্ডার গ্রাজুয়েট করতে কানাডা/আমেরিকায় যায় তাদের মধ্যে নটরডেম কলেজ শিক্ষার্থীর হার একই হবে। এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যালে ভর্তির ক্ষেত্রেও নটরডেম কলেজের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে। এরপর সেন্ট জোসেফ, হলিক্রস, ভিকারুন্নেসা নুন কলেজ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। বিভিন্ন অলিম্পিয়াডেও এরাই বেশি ভালো করে।

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাটা টিকিয়ে রেখেছে মিশনারি কলেজগুলো। কল্পনা করুন বাংলাদেশ থেকে যদি এই মিশনারি কলেজগুলো চলে যায় দেশের শিক্ষার মানের কি অবস্থা হবে? ইন ফ্যাক্ট সারা বিশ্বের ক্ষেত্রেও এটা সত্য। ভারত ও আফ্রিকাতেও উন্নত শিক্ষার জন্য খ্রীষ্টান চার্চগুলো এই ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। আমাদের ইসলামিক ফাউন্ডেশন বা ধর্ম মন্ত্রণালয় কি করে? আমাদের শিক্ষা মন্ত্রণালয় কি করে? স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত এরা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ক্ষতি ছাড়া কোন উন্নতি করেনি। ৭১ এ আমাদের স্বাধীনতার আগে আমাদের অনেক স্কুল কলেজ অনেক ভালো ছিল। আর ৪৭ এর আগে আরো ভালো ছিল।

আমি আমার জীবদ্দশায় দেখেছি ঢাকা কলেজ কত ভালো ছিল, দেখেছি বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় সরকারি জেলা স্কুলগুলো কত ভালো ছিল। একটা সময় ছিল আমাদের ক্যাডেট কলেজগুলো খুব ভালো করতো। সেখানেও ধস নেমেছে। এইগুলোর মান এখন তলানিতে। যেদিন থেকে স্কুল কলেজ পরিচালনার ক্ষমতা প্রধান শিক্ষক বা অধ্যক্ষের হাত থেকে মেনেজমেন্ট কমিটির হাতে গিয়েছে, স্কুল কলেজে নির্বাচন ঢুকে ম্যানেজমেন্ট কমিটি হয়েছে সেইদিন থেকে ধস নামা শুরু। তার উপর মন্ত্রণালয়ের খবরদারিতো আছেই। স্কুল কলেজ চলা উচিত প্রধান শিক্ষক বা অধ্যক্ষের নেতৃত্বে। প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষ নিয়োগ দিতে হবে যোগ্য শিক্ষকদের। তাহলেই কেবল শিক্ষার মান বাড়বে।

উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে বুয়েট যেই ভূমিকা রাখছে সেটাও অসাধারণ। সেখানকার শিক্ষক নিয়োগ ও সেখানকার discipline বাংলাদেশের অন্যান্য যেকোন প্রতিষ্ঠান থেকে বেটার আর তারই প্রতিফলন হচ্ছে প্রতি বছর বিশাল সংখ্যক ছেলেমেয়ে উচ্চ শিক্ষার্থে স্কলারশিপ বা অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ নিয়ে ইউরোপ আমেরিকায় যাচ্ছে। তাদের অনেকেই খুব ভালো করে বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্যাকাল্টি পজিশন পাচ্ছে, ওয়ার্ল্ড ফেমাস টেক কোম্পানিতে চাকুরী পাচ্ছে। বুয়েটের পরিবেশ আরো ভালো হওয়ার সুযোগ আছে। আর বাংলাদেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা কি বলব! সরকার যদি এইসব প্রতিষ্ঠানে রাজনীতি ইঞ্জেক্ট না করতো, ছেলেমেয়েদের একটু ভালো থাকা, খাওয়া ও লেখাপড়ার পরিবেশ দিত বাংলাদেশ বদলে যেত। আমাদের ছেলেমেয়েরা খুবই মেধাবী। আমরা তাদের মেধাকে কাজে না লাগিয়ে তাদের মেধার গণহত্যা করছি।

Kamrul Hasan Mamun

Address

Gazipur

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when সরকারি-বেসরকারি সকল চাকরির বিজ্ঞপ্তি posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share