18/08/2021
না, আমি আমার সেশনজট বা চাকরির বয়স পার হয়ে যাওয়া নিয়ে চিন্তিত না। ইউনিভার্সিটি খোলা থাকলে অ্যাকাডেমিক পড়াশোনায় হাতি-ঘোড়া মাইরা দিতাম, এই দাবিও আমি করি না।
আমার আফসোস, যে বয়সে আমার মাসে একবার ট্যুর দেওয়ার কথা, রিসার্চ এর জন্য প্রফেসরের পিছে পিছে ঘুর ঘুর করার কথা, রাতজেগে টং দোকানে বসে চা খাওয়ার কথা, ক্যাম্পাসের আম-কাঁঠাল চুরি করার কথা, উইকেন্ড এ দল বেঁধে খাইতে যাওয়ার কথা, রাত জেগে কার্ড খেলার কথা, সেই বয়সে আমার পৃথিবী আটকে গেছে জুম আর গুগলের পর্দায়। এই দুঃখ আমি কোথায় রাখি?
হল লাইফ, ক্যাম্পাস লাইফ মানে তো পড়াশোনা না। হল লাইফ মানেই হৈচৈ, আনন্দ আর উৎসবের স্মৃতি, ডিপ্রেশনের মন খারাপ করা মুহূর্ত, তুমুল ব্যস্ততায় কেটে যাওয়া একেকটা দিন মিলিয়ে তৈরি হওয়া অদ্ভুত সব গল্প, সুন্দর কিছু স্মৃতি। দূরপ্রবাসে নিঃসঙ্গ একটা জীবনে এই স্মৃতিগুলোই হতো আমার সঙ্গী।
অথচ কিছুই হইলো না। জুম, গুগল মিট আর গুগল ডকের ক্লাসরুমে পড়া হয়তো হয়, গল্প তো আর তৈরি হয় না!
অনলাইনে সেমিস্টারের পর সেমিস্টার ঝড়ের গতিতে শেষ হচ্ছে। সেশনজটে পড়তে হয়তো হবে না আমার। আমেরিকার আপকামিং সেশনটাও হয়তো আমি ঠিকঠাকমতোই ধরে ফেলতে পারবো। বন্ধু-বান্ধবদের মধ্যে যারা বিসিএস দেবে, তারাও হয়তো ঠিক সময়েই বিসিএস দিতে বসে যাবে।
সবকিছু ঠিক থাকলো। ক্যারিয়ার ঠিক থাকলো। হায়ার স্টাডিজ ঠিক থাকলো। জিআরই, টোফেল, বিসিএস... সবকিছুই ঠিক থাকলো।
শুধু আমাদের জীবনের সেরা ৪ টা বছরের যে সুন্দর স্মৃতিগুলো তৈরি হওয়ার কথা ছিলো, ঐ স্মৃতিগুলো আর কখনও তৈরি হইলো না। সিগারেটের ধোঁয়া উঠা আসরগুলো আর জমলো না, হেড লজে গানের আসরেও আর বসা হইলো না। মিডের পর মিড গেলো, বাট পরীক্ষার পর চিল করতে আমাদের আর সালনা যাওয়া হইলো না... এই দুঃখ আমরা কেমনে ভুলবো?
সময়ের ক্ষতিপূরণ আমরা অনলাইনে পেয়েছি। কিন্তু চার বছরের রঙিন ক্যাম্পাস লাইফের ক্ষতিপূরণ আমাদের কে দেবে? আমাদের জীবন ঠিক থাকলো, কিন্তু সেই জীবনে যথেষ্ট গল্প তৈরি হইলো না, এই আফসোস আমরা কেমনে ভুলি?
গ্র্যাজুয়েশন এর সার্টিফিকেট আমরা যথাসময়ে ঠিকই পাবো, কিন্তু গল্পগুলা? গল্পগুলা তো আর পাইলাম না...
লেখাঃ সাদিকুর রহমান খান